গল্পঃ সাহেবি স্কুলের ভূত - বাবিন



       
দূর থেকে স্কুলবাড়িটাকে দেখে কেন জানি আমার গাটা ছমছম করতে লাগল যদিও কোনও কারণ নেই তার শুনেছিলাম, ভয় জিনিসটা এইরকমই ছোঁয়াচে অথচ প্রথম যখন এই ছোট্ট পাহাড়ি শহরটার সেরা স্কুলে মেয়েকে ভর্তি করাতে গিয়েছিলাম, তখন কিন্তু গথিক স্থাপত্যে তৈরি এই বাড়িটা দেখে ভারি মুগ্ধ হয়েছিলাম শুনেছিলাম, ইংরেজ আমলে তৈরি এই স্কুলটা সাহেবরাই এই শৈলশহরটা তৈরি করেছিল তাদের ছেলেমেয়েরা এই স্কুলে পড়ত এককালে আজকাল পয়সাওয়ালা পরিবারের ছেলেমেয়েরা এইখানে আসে আমার স্ত্রীর ভারি শখ মেয়েকে কনভেন্ট স্কুলে পড়াবে সরকারি কলেজের অধ্যাপককে আর যাই হোক পয়সাওয়ালা মোটেই বলা চলে না তবুও ওর পীড়াপীড়িতেই মেয়েকে এই স্কুলে ভর্তি করিয়েছিলাম
মেয়ে যখন বাড়িতে ফিরে ঘটনাটা প্রথমবার বলে, আমরা হেসেই উড়িয়ে দিয়েছিলামযে কেউ উড়িয়ে দেবেকারণ, দিনেদুপুরে এমন দৃশ্য যে আজকাল দেখা সম্ভব সেটা কেই বা বিশ্বাস করবে? আমি এই শহরের একটা কলেজে বায়ো-সায়েন্স পড়াই। সবকিছুকেই বিজ্ঞানের চোখে দেখতে ভালোবাসিতাই মেয়েকেই একটু অতিরিক্ত কল্পনাপ্রবণ ভেবে বকেঝকে দিলামওর মাকে বলে দিলাম টিভিতে আজগুবি সিরিয়ালগুলো দেখা বন্ধ করে দিতে
যদিও আমার মেয়ের বয়স দশ, তবুও ওর পাকা পাকা কথা শুনলে অবাক লাগে ওদের বয়সে আমরা কত সরল আর বোকা ছিলামওর বেশ কয়েকটি বন্ধু আছে যারা মাঝে মাঝেই ফোন করে এটা সেটা গপ্পো করেসেইদিনের পর থেকে মাঝে মাঝেই শুনতাম বন্ধুদের সঙ্গে অদ্ভুত ওই ঘটনাটা নিয়ে আলোচনা করছেআমি বা আমার স্ত্রী দু’জনেই ব্যাপারটাকে অগ্রাহ্য করতে লাগলামভেবেছিলাম বাচ্চাদের ব্যাপার তো, কয়েকদিনেই ওরা অন্য কোনও নতুন বিষয়ে মজে যাবে
কিন্ত আমাদের ভুলটা দিন পনেরোর মধ্যেই ভেঙে গেলএবার মেয়ে আতঙ্কিত হয়ে প্রায় কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরলআমি কলেজ থেকে ফিরতেই ওর মা চিন্তিত সুরে বলল, তুমি একবার মেয়ের স্কুলে যাও তোব্যাপারটাকে এত হালকাভাবে নিলে আর চলবে না নির্ঘাৎ কেউ ওর সঙ্গে বদমাইশি করছে
এতদিন গুরুত্ব দিইনি, এবার মেয়ের পাশে বসে ওর পিঠে হাত বুলিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, “সত্যি করে বল তো টুপুর, কী হয়েছিল ভয় পাস না, আমি তো আছিসব খুলে বল
মুখ দেখে মনে হল ও ভীষণ ভয় পেয়েছে

প্রিন্সিপ্যালের সঙ্গে দেখা করতে হলে আগে থেকে সময় চেয়ে নিতে হয়তাই স্কুলে ফোন করে ব্যাপারটা হালকা করে জানিয়ে বললাম, প্রিন্সিপ্যালের উপস্থিতিতে ওই এলাকাটার সিসি টিভির রেকর্ডিং দেখতে চাই আমিআমাকে জানতে হবে আমার মেয়ে ঢোকার আগে ও পরে আর কোন কোন মেয়ে ওই ওয়াশরুমে ঢুকেছিলআমি আগামীকাল কলেজে ছুটি নিয়ে স্কুলে যাব
প্রাইভেট স্কুলের একটা ভালো ব্যাপার যে অভিভাবকদের কথা মনোযোগ সহকারে শোনা হয় ওরাও অতি ভদ্রভাবে এবং যথেষ্ট লজ্জিত সুরে জানাল, আপনার মেয়ের অসুবিধার জন্য আমরা দুঃখিত আপনি আগামীকাল সকাল এগারোটা নাগাদ স্কুলে আসুন
স্কুলে যেতেই আমাকে খাতির করে একজন পিওনের সঙ্গে প্রিন্সিপ্যালের ঘরে পৌঁছে দেওয়া হলউনি নিজের রুমে ছিলেন না তখন পিওন আমাকে বসতে বলে এসি চালিয়ে দিয়ে চলে গেল খুব সুন্দর সাহেবি স্টাইলে সাজানো ঘরটি কাঠের মেঝে, কাঠের দেওয়াল মেঝেতে পুরু কার্পেট দেওয়ালে বেশ কিছু ছবি উপর থেকে ঝুলন্ত মৃদু বাদামি আলোতে ঘরে একটি আলো-আঁধারির পরিবেশ আমি গদি-আঁটা চেয়ারে আরাম করে বসে মনে মনে খানিকটা তর্কবিতর্কের জন্য তৈরি হচ্ছিলামকারণ আমি জানি যে, স্কুলের সুনাম অক্ষুন্ন রাখার জন্য এই সমস্ত আজগুবি বোগাস ব্যাপারকে ওরা ধামাচাপা দেবার চেষ্টা করবেঅবিশ্যি আমারও বিশ্বাস, এটা কোনও দুষ্টু মেয়ের কারসাজি কিন্তু কাদের কীর্তি সেটা আমাকে জানতে হবে পরবর্তীকালে আর কেউ যাতে আমার মেয়ের সঙ্গে এইধরনের মশকরা না করে সেটা নিশ্চিত করাও এই সাক্ষাত্কারের উদ্দেশ্য
তিরিশ সেকেন্ডের মধ্যেই রুমের লাগোয়া রিফ্রেশ রুম থেকে যে মহিলা বেরিয়ে এলেন তাঁকে দেখেই আমার মনের মধ্যের লড়াই করার ইচ্ছেটা চলে গেল শুনেছিলাম, প্রিন্সিপ্যাল এক মারাঠি ভদ্রমহিলা সুনন্দা থুবে কিন্তু ভদ্রমহিলাকে দেখে ব্রিটিশ বলে ভুল হওয়া মোটেই অস্বাভাবিক নয় অপূর্ব সুন্দরী বললে যেন কিছু কম বলা হয় ধবধবে ফর্সা রং টানা টানা নাক একঢাল চুল বোধহয় এইমাত্র স্নান করে বাড়ি থেকে এসেছেন, চুল ভিজে ছিল বলে এখনও বাঁধতে পারেননি কিন্তু সেই অসামান্য রূপের মধ্যেও কোথাও যেন একটা বিষণ্ণতা লুকিয়ে আছে আপনা থেকেই একটা শ্রদ্ধার ভাব বেরিয়ে এল অন্তর থেকে যথাসম্ভব ভদ্র ও বিনীত ভঙ্গিতে ওঁকে সমস্যার কথাটা খুলে বললাম
উনি আমার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থেকে বেশ পরিষ্কার, সাহেবদের মতো অ্যাকসেন্টে ঝরঝরে ইংরেজিতে বললেন, এত বড়ো স্কুল, বুঝতেই পারছেন সবাইকে আমার পক্ষে চেনা সম্ভব নয় আপনার মেয়েকে আমি ঠিক চিনি না তবে এই যে ঘটনাটার কথা বলছেন এরকম অভিজ্ঞতা তো আগে কেউ কখনও বলেনি
আমি দৃঢ় সুরে বললাম, “বুঝতে পারছি ঘটনাটা চাউর হলে আপনাদের স্কুলের বদনাম হবে কিন্তু আমিও আমার মেয়ের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত যে ও মিথ্যে বলছে না আর আমি এটাও বলছি না যে ঘটনাটা ভৌতিক আমার ধারণা, কোনও সিনিয়ার স্টুডেন্ট আমার মেয়েকে ভয় দেখাচ্ছে সেই কারণেই গত কালকের দুপুর বারোটা নাগাদ সিসি টিভির ফুটেজটা একটিবার দেখতে চাই
প্রিন্সিপ্যাল নিজের চেয়ারটা একটু টেনে এগিয়ে এসে আমার চোখে চোখ রেখে জিজ্ঞেস করলেন, কী দেখেছে আপনার মেয়ে?
সাহস পেয়ে আমি বলতে থাকলাম, কিছুদিন আগে আমার মেয়ে, অহনা ওর মাকে বলেছিল, স্কুলের বন্ধুদের মুখে ও শুনেছে ডরোথি নামে একটি মেয়ে নাকি এখানে আত্মহত্যা করেছিলএই গল্পটা শোনার পরদিন আমার মেয়ে টিচারকে বলে ক্লাসের মাঝেই একবার ওয়াশরুম যাবে বলে বের হয় মেয়ের মুখেই শুনেছি, ওদের ওয়াশরুমে ঢুকলে লম্বা প্যাসেজ আর তার দু’পাশে চারটে চারটে মোট আটটা পৃথক পৃথক টয়লেটওয়াশরুমে ঢুকে ও দেখে বাঁদিকের একটি টয়লেটের দরজা খোলাএকটি মেয়ে বসে কমোডের ওপরপরনে স্কুলের ইউনিফর্ম
“অদ্ভুত ব্যাপার এই যে দুবছর আগে স্কুলের ইউনিফর্মের রং এবং প্যাটার্ন বদলানো হয়অথচ এই মেয়েটি পুরনো প্যাটার্নের ইউনিফর্ম পরেমাথায় লম্বা চুলসেই চুল মুখের ওপর নামানোতাই ওর মুখটা দেখা যাচ্ছে নাহাত-পা ধোঁয়া ধোঁয়া মতোঅহনা প্রচন্ড ভয় পেয়ে দৌড়ে বেরিয়ে আসেপরে বন্ধুদের সঙ্গে ফিরে গিয়ে আর ওই মেয়েটিকে দেখতে পায়নি
গতকাল ওয়াশরুমে ঢুকে ও আবার মেয়েটিকে দেখতে পায়মেয়েটি ভেতরে প্যাসেজের সামনেই দাঁড়িয়েলম্বা চুল দিয়ে মুখটি ঢাকাআর ওর হাত-পা ধোঁয়া ধোঁয়া মতো, আবছা
লম্বা কথা বলে আমি একটু থেমে দম নিয়ে আবার বলতে থাকি, দেখুন ম্যাডাম, আমি বলছি না যে এটা ভৌতিক ব্যাপার কিন্তু আমার মেয়ে প্রচন্ড আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে আমার পাক্কা বিশ্বাস কোনও সিনিয়ার স্টুডেন্টের দুষ্টুমি এসব কাইন্ডলি যদি সিসি টিভি...”
প্রিন্সিপ্যাল আমাকে থামিয়ে দিয়ে বিষণ্ণ সুরে বললেন, জানেন, ডরোথি বলে একটি মেয়ে সত্যিই পড়ত এই স্কুলেবছর তিন আগে ও ক্লাস টেনের ফাইনাল দিয়েছিলখুবই হাসিখুশি ছিলসামান্য পাগলাটে গোছেরওকিন্তু কীভাবে বা কেন মারা গেছে সেটা আজও সবাই জানতে পারেনিআমি কিন্তু জানি কারণটা
আমি হতবাকস্কুলের প্রিন্সিপ্যালই যদি এমন কথা বলেন তাহলে...
আমি বললাম, তার মানে? আপনি কি বলতে চান ডরোথির ভূত... আপনি কী বলছেন জানেন?
আমার বিস্ময়কে অগ্রাহ্য করে ভদ্রমহিলা বলে চললেন, ডরোথি বড্ড একা ছিল ওর কোনও বন্ধু ছিল না আপনার মতোই এক ভদ্রলোক সপরিবারে এই শহরে আসেন চাকরিসূত্রে তাঁরও একটিই মেয়ে ছিল, সুজান এই স্কুলেই পড়ত ডরোথির সঙ্গে সুজানের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে দু’জনের কেউ কাউকে ছেড়ে থাকতে পারত না অথচ ভদ্রলোকের ছিল বদলির চাকরি দুবছর পর তিনি অন্য কোথাও চলে যান এই শহর ছেড়ে ডরোথি আবার একা হয়ে গেল ওকে কেউ বুঝত না বোঝার চেষ্টাও করেনি এই বন্ধু-বিচ্ছেদের ব্যথা ও সহ্য করতে পারে না
ভদ্রমহিলা ছলছল চোখে শূন্যের দিকে তাকিয়ে কথাগুলো বলছিলেন এবার আমার দিকে পূর্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললেন, “কাল আপনি ফোন করার পর কথাটা আমার কানে আসে আপনার মেয়ের ছবি আমি ফাইল খুলে দেখলাম অবিকল সুজানের মতো দেখতে!”
আমার মেয়েকে সুজানের মতো দেখতে! স্তম্ভিত হয়ে আমি বলার চেষ্টা করি, দেখুন ম্যাডাম, সবকিছুরই একটা ব্যাখ্যা থাকে, বিজ্ঞানের বাইরে তো কিছু হয় না!
উনি ক্লান্ত সুরে ঘাড় নাড়তে নাড়তে বললেন, “উঁহু, এমনও অনেক কিছু আছে যার ব্যাখ্যা পাওয়া যায় নাবিশ্বাস না হয় আপনি নিজের চোখেই দেখুন
উত্তেজিতভাবে প্রিন্সিপ্যাল ম্যাডাম আমার দিকে দুটি ফাইল এগিয়ে দিলেন প্রথম ফাইলের ওপর লেখা ডরোথির নাম মলাট উল্টাতেই চোখের সামনে ভেসে উঠল একটি উজ্জ্বলবর্ণা হাসিখুসি লম্বাচুলের মেয়ের ছবি নিচে নাম লেখা ডরোথি পরের ফাইলটা সুজানের মলাট খুলতেই ভিরমি খাবার জোগাড়! টুপুরের মুখ অবিকল বসানো মেয়েটির!
স্খলিত পদে প্রিন্সিপ্যালের ঘর থেকে বেরিয়ে আসছিলাম পেছন থেকে করিডরে কেউ আমার নাম ধরে ডাক দিলেন, মিস্টার শ!
ঘুরে তাকিয়ে দেখি লম্বা, কঠিন মুখের অধিকারিণী শ্যামলা এক মহিলা আমার দিকে চেয়ে আমি জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকাতেই উনি বললেন, “সরি, একটু লেট হয়ে গেল আসুন, ভেতরে আসুন আসলে সকালে ক্লাসগুলো ঠিকঠাক শুরু হল কি না আমাকে একবার নজরদারি করতে হয় তো
“আপনি?” আমি বিহ্বল হয়ে প্রশ্ন করি
আমি সুনন্দা থুবে ভদ্রমহিলা করমর্দনের জন্য হাত বাড়িয়ে বলেন, প্রিন্সিপ্যাল, জোসেফ কনভেন্ট স্কুল
আমি হাঁ করে ওঁর মুখের দিকে চেয়ে বাঁ-হাতটি প্রিন্সিপ্যালের রুমের দিকে বাড়িয়ে বলি, তাহলে উনি কে ছিলেন?
ভদ্রমহিলা আমার দিকে অদ্ভুত দৃষ্টিতে চেয়ে বলেন, কে? কার কথা বলছেন?
ভদ্রমহিলার সঙ্গে প্রিন্সিপ্যালের রুমে ঢুকে হতচকিত আমি বোঝার চেষ্টা করি ব্যাপারটা কিন্তু মাথায় কিস্যু ঢোকে না ঘর খালি কেউ নেই ওখানে অথচ এইমাত্র আমি বেরিয়েছি রুম থেকে আমার দৃষ্টিকে ফাঁকি দিয়ে কেউ ওই ঘর থেকে বেরুতে পারবে না ওয়াশরুমের দরজা খোলা পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি ওখানেও কেউ নেই
উনি বোধহয় আমার বিভ্রান্ত দৃষ্টির অর্থ বুঝতে পেরে আবার বললেন, “আপনি কি অন্য কারও সঙ্গে আমাকে গুলিয়ে ফেলেছেন? আমিই এই স্কুলের প্রিন্সিপ্যাল আপনি কাল ফোন করেছিলেন হ্যাঁ, আপনি ঠিকই ধরেছেন আর বলবেন না, ওসব স্কুলের সিনিয়ার স্টুডেন্টদের দুষ্টুমি আর কি আমি বলে দিয়েছি, কেউ আর আপনার মেয়ের সঙ্গে দুষ্টুমি করবে না তবে আমি আপনার মেয়েকেও বলে দিয়েছি, তুমি একা একা একদম ওয়াশরুমে যাবে না যখনই যাবার দরকার হবে, সঙ্গে আরও দু-তিনজন বন্ধুকে নিয়ে যাবে
নজর পড়ে দেয়ালে টাঙানো অপরূপ সুন্দরী এক মহিলার ছবির দিকে আশ্চর্য, আগে জানি না কেন খেয়াল করিনি! সেইদিকে আঙুল তুলে আমতা আমতা করে জিজ্ঞেস করি, ইনি?
একজন পিওন এসে আদেশের অপেক্ষা করছিল প্রিন্সিপ্যাল তাকে দুকাপ চা আনতে বলে আমার দিকে ফিরে বললেন, উনি আগে এই স্কুলের প্রিন্সিপ্যাল ছিলেন ভেরি স্যাড কেস, স্যার
একটু থেমে আনমনে টেবিলে উপুড় হয়ে পড়ে থাকা ফাইলদুটো নাড়াচাড়া করতে করতে বলেন, “একটিই মেয়ে ছিল স্বামী অনেকদিন আগেই মারা গিয়েছিলেন মেয়েটিও সবসময় মনমরা হয়ে থাকত বেশিদিন বাঁচেনি ক্লাস টেনে পড়তে পড়তেই... মেয়ের শোকে ভদ্রমহিলাও...”
অজ্ঞান হয়ে যাবার আগে আমার মুখ থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বেরিয়ে এল, “আমি জানি, ওঁর মেয়ের নাম ডরোথি!
চেয়ারে কাত হয়ে এলিয়ে পড়তে পড়তে আবছা শুনতে পাচ্ছিলাম প্রিন্সিপ্যাল সুনন্দা থুবে নিজের চেয়ার ছেড়ে উঠে এসে আমার ওপর ঝুঁকে পড়ে প্রায় চিত্কার করে বলছেন, “মিঃ শ, মিঃ শ! হোয়াট হ্যাপেন্ড? মিঃ শ! আর ইউ ওকে? হাউ ডু ইউ নো দ্যাট ডরোথি? স্ট্রেঞ্জ!”
_____

অলঙ্করণঃ মানস পাল

15 comments:

  1. বাঃ বেশ ভয় ধরানো গল্প!

    ReplyDelete
    Replies
    1. ধন্যবাদ। খুব ভাল লাগল

      Delete
  2. Replies
    1. থ্যাঙ্কিউ পরাগ।

      Delete
  3. গল্পের সাবলীল ও সুন্দর বর্ণনা শক্তি পাঠক কে টেনে নিয়ে গেছে শেষ অবধি । যারা মিথ্যে ভয় পেতে ভালবাসেন তাঁদের ভালো লাগবে।
    যে শরীর মৃত্যুর পর ধংস হয়ে যায় তা কোনোভাবেই পুনর্গঠিত হতে পারে না মাত্রই জঠর ছাড়া । আমরা ভুত বলে যা দেখি সেই গুলি self induced hallucination. গল্পে সেই পরিবেশ ও রচিত হয় নি । এই ভাবে নিজে বিভ্রান্ত হয়ে বাচ্চাদের কেন বিভ্রান্ত করেন? আত্মা কে অনুভব করা যায় দেখা যায় না। যা দেখা যায় সে গুলি নিজে নিজে রচিত হ্যালুসিনেসন মাত্র । আপনার গল্পে নিছক ভয় না দেখিয়ে এই সত্য টা দেখালেই শিশু দের কল্যান হতো।

    ReplyDelete
  4. ধন্যবাদ। মনোযোগ সহকারে পডার জন্য ধন্যবাদ। মনে রাখব আপনার কথাটি

    ReplyDelete
  5. খুব নতুন কোন বিষয় ভাবনা না পেলেও কথনভঙ্গি ও বর্ণনা সাবলীল হওয়ায় পড়তে মন্দ লাগেনি। তবে ডরোথির description অনেক টা বিখ্যাত হলিউডি ছবি grudge এর বাচ্চা প্রেতাত্মাটির সাথে মিলে গেছে।

    ReplyDelete
    Replies
    1. এই গল্পটির ৯০% সত্যি ঘটনাকে আশ্রয় করে লেখা। ডরোথীর নামটি কল্পিত স্থান পরিবর্তিত কিন্তু ঘটনাটি সত্যি এবং স্কুলের প্রিন্সিপ্যালই সমর্থন করেছিলেন। অহনা বা টুপুর আমারই কন্যা। তাই মিল যদি থেকে থাকে তবে তা কাকতালীয়। প্রসঙ্গত বলি ছায়াছবি আমি খুবই কম দেখি আর বিদেশী ছবি তো কালেভদ্রে। ধন্যবাদ আপনাকে মন দিয়ে গল্পটি পডার জন্য।

      Delete
  6. This comment has been removed by the author.

    ReplyDelete
  7. This comment has been removed by the author.

    ReplyDelete
  8. গল্পের সাবলীল ধারা......ভাষা এবং বর্ণনা ভীষণ ভালো... বেশ ভয় পাওয়ার মত।

    ReplyDelete
  9. আরেকটা সুন্দর গল্প।আপনার গল্পের বৈচিত্র অসাধারন।শেষ অবধি পড়ে যেতে হয়।বেশ শিহরণ জাগানো গল্প।

    ReplyDelete
    Replies
    1. ধন্যবাদ। চেষ্টা করব আরো ভাল গল্প উপহার দিতে।

      Delete
  10. হরর মুভির স্বাদ পেলাম গল্পে। বিশেষ করে মৃত মেয়েটির বর্ণনা দারুণ।

    ReplyDelete