চলো যাইঃ চড়িদার মুখোশ, ঝরনা আর পাখি পাহাড় - বাবিন




বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ঠাকুরকে ডাকছিলাম কারণ, চক্রধরপুর প্যাসেঞ্জারে হাওড়া থেকে পুরুলিয়া পর্যন্ত ওয়েটিং লিস্ট দেখেও বুক ঠুকে অনলাইনে যে টিকিটটা কেটেছিলাম, সেটা তখনও ওয়েটিং লিস্টে এক নম্বরে রয়েছে একজনও কি টিকিট ক্যানসেল করবেন না? তাহলেই যে আমার যাত্রা নিশ্চিত হয়ে যায়! শুনেছি অনলাইনে কাটা টিকিট কনফার্ম না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বাতিল হয়ে যায় আর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ফেরত চলে যায় অর্থাৎ, ওই টিকিট নিয়ে যদি ট্রেনে চড়ি তাহলে বিনাটিকিটের যাত্রীর মতো সুলুক করা হবে আমার সঙ্গে!
তবে শেষমেশ সন্ধে পাঁচটা নাগাদ খবর পেলাম, টিকিট কনফার্ম হয়ে গেছে! রাত এগারোটায় ট্রেন ধীরেসুস্থে লটবহর গুছিয়ে নিয়ে রাত ন’টা নাগাদ বেরিয়ে পড়লাম রাসবিহারী মোড়ে বচ্চন সিংজীর ধাবায় ঢুকে আয়েশ করে মটন কষা আর রুমালি রুটি দিয়ে ভোজনপর্ব সাঙ্গ করে রওনা দিলাম হাওড়া স্টেশনের উদ্দেশ্যে
আমার ছিল আপার বার্থ রাতও হয়ে গেছে তাই ট্রেনে উঠেই রেল কোম্পানির দেওয়া বিছানাপত্র পেতে একটি গল্পের বই নিয়ে শুয়ে পড়লাম আমার আবার বরাবরের অভ্যাস, খাওয়া আর শোবার সময় একটি গল্পের বই চাইই চাই
খুব ভোরে ঘুম ভাঙ্গে আমার সাড়ে পাঁচটায় উঠে মোবাইলে একবার ম্যাপ দেখে চক্রধরপুর প্যাসেঞ্জারের সময়সারণীর সঙ্গে মিলিয়ে নিলাম হিসেব মতো আমরা আদ্রার কাছাকাছি রয়েছি। ট্রেন ঠিকঠাক চলছে বেড়াতে যাবার সময় আমি বরাবর ট্রেনের সময়সারণীর প্রিন্ট-আউট নিয়ে নিই ওয়েবসাইট থেকে। এটা খুব কাজে দেয়
সাড়ে ছ’টায়, মোটামুটি সঠিক সময়েই পৌঁছে গেলাম পুরুলিয়া ট্রেনেই ফ্রেশ হয়ে গিয়েছিলাম ঝকঝকে তকতকে স্টেশনের বাইরে দেখলাম একটি সুলভ কমপ্লেক্সও রয়েছে চটপট এক কাপ চা, দুটো বিস্কুট আর আনন্দবাজার পত্রিকার সঙ্গে সকালের সূচনা হল চা খেতে খেতেই একটি গাড়ির মালিকের সঙ্গে কথাবার্তা সেরে ফেললাম বাপিদা (ফোন নম্বরঃ ৯৭৪৯৬৮৩৩৪৮) প্রথম সুযোগেই বলে দিল, দু’হাজার টাকায় আমাকে অযোধ্যা, বাঘমুন্ডি, পাখি পাহাড়, চড়িদা, আপার-লোয়ার ড্যাম ইত্যাদি সমস্ত ঘুরিয়ে দেখাবে শেষমেশ দেড় হাজারে রফা হল ওঁর বেশ কয়েকটি গাড়ি আছে আমার সঙ্গে দিলেন মারুতি ওমনি ভ্যান আর ড্রাইভার চন্দনকে
শহর ছেড়ে গাড়ি বাইরে বেরোতেই চোখ জুড়িয়ে গেল চতুর্দিকে সবুজের সমারোহ কোথাও ধানের ক্ষেত তো কোথাও সবজি বাগান মাঝে মাঝে শাল-পিয়ালের বন এই রাস্তা সোজা চলে গেছে ঝাড়খন্ড-রাঁচি-জামশেদপুর বেশ কিছুটা যাবার পর ডানদিকে একটা বাঁক নিল গাড়ি তক্ষুনি নজরে পড়ল বাঁদিকে কুয়াশা ঢাকা পাহাড় উত্তেজিত হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, “আমরা কি এই পাহাড়েই উঠব?”
চন্দন সায় দিয়ে বলল, “হ্যাঁ, আমরা ওই পাহাড়েই উঠব
দূর থেকে


পাহাড়ে সূর্যোদয়
হাঁ করে দেখতে লাগলাম গাড়ির জানালা দিয়ে, ধূসররঙা ওই পাহাড় আমাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে!
বেশ খানিকক্ষণ যাবার পর আবার একটি মোড়ে এসে গাড়ি বাঁদিকে বাঁকলো এইখানে বেশ কয়েকটি জলযোগের দোকান দেখে দাঁড়াতে বললাম আটটা বাজে গরম গরম লুচি আর ঘুগনি অনেকদিন পর এরকম স্বাদ পেলাম মনে হল পেটপুরে খেয়ে দেয়ে আবার যাত্রা শুরু হল এবার গাড়ি পাহাড়ি পথে উঠতে শুরু করল এঁকে বেঁকে পাহাড়ি ছোটো নদীর সেতু পার হয়ে আমরা উঠতে শুরু করলাম অযোধ্যা পাহাড়ে বেশ কিছুটা উপরে উঠবার পর চন্দন আচমকা একটি জায়গার গাড়ি দাঁড় করিয়ে দিল
“দাদা, এটা হল ভিউ পয়েন্ট,” চন্দন আমাকে ইশারা করে দেখাল, “এখান থেকে নিচের একটা চমত্কার ভিউ পাবেন
তাকিয়ে দেখি সত্যিই তাই! নিচে পাক খেতে খেতে পাহাড়ের গায়ে গায়ে রাস্তাটা কীভাবে উপরে উঠে এসেছে এখান থেকে চমত্কার দেখা যাচ্ছে এখানে বসে এই স্বর্গীয় দৃশ্য উপভোগ করার জন্য সরকার বাহাদুর কয়েকটি বেঞ্চি বানিয়ে রেখেছেন কিছু সময় আমিও বসে গেলাম চতুর্দিক জনমানবহীন বহু নিচে কিছু আদিবাসী মহিলা গল্প করতে করতে উপরের দিকে হেঁটে হেঁটেই আসছেন চন্দন বলল, ওরা নাকি কাঠ কুড়োতে আসছে জঙ্গলে এখানকার স্থানীয় পুরুষরা জনমজুরের কাজ করে আর মেয়েরা জঙ্গল থেকে কাঠ সংগ্রহ করে নিয়ে যায় সেসব বিক্রি করে ওদের সংসার চলে
অযোধ্যা পাহাড়ে ওঠার পাকদণ্ডী
আবার চড়া শুরু হল ঘুরতে ঘুরতে আমরা পৌঁছে গেলাম পাহাড়ের মাথায় হিলটপ এখানে এসে আমি একটু ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম আমরা আদৌ পাহাড়ে উঠেছি তো? কারণ, সবই তো সমতলভূমির মতো লাগছে চাষের ক্ষেত, পাকা বাড়ি, হাসপাতাল সবই রয়েছে শুধু বোর্ডে লেখাহিলটপ’ দেখে মালুম হচ্ছে আমরা অযোধ্যা পাহাড়ের উপরেই রয়েছি একটি চমত্কার সরকারি গেস্ট হাউসনীহারিকা’ রয়েছে (ফোন নম্বরঃ ০৩২৫২-২২৫৭২৬) শুনলাম ওখানে দিব্যি থাকা যায় কেয়ারটেকারকে বললে বনমোরগের ঝোল-ভাত খেয়ে আরাম করে রাত্রিবাস করা যায়
নীহারিকা
আমার তো তেমন পরিকল্পনা নেই, তাই এগিয়ে গেলাম রাম মন্দিরের দিকে এই লজটির ঠিক পেছনদিকেই রয়েছে মন্দির অযোধ্যা যাব আর রাম মন্দির যাব না তাই কি হয়? এখানে বেশ কিছু গাড়ি রয়েছে যাঁরা নীহারিকায় থাকবেন তাঁরা এখান থেকে গাড়ি বুক করে কাছাকাছি দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখতে পারবেন
অযোধ্যার রাম মন্দির
রাম মন্দিরের মূর্তি

রাম মন্দিরের দেওয়াল চিত্র

জটায়ু বধ

এরপর আমরা এগিয়ে গেলাম ময়ূর পাহাড়ের দিকে এখানে পাথরের ওপর পা ফেলে ফেলে হেঁটে উঠতে হল প্রায় তিরিশ-চল্লিশ ফুট ছোটো পাহাড় এর মাথায় আর একটি ছোটো রাম মন্দির রয়েছে এখান থেকে চতুর্দিকের চমত্কার একটি দৃশ্য পাওয়া যাচ্ছে এখানেও সুদৃশ্য বেঞ্চ পাতা বেশ কিছু ছবি তুলে আবার ফিরে এলাম গাড়িতে
ময়ূর পাহাড়ে
ময়ূর পাহাড়ে একটু বিশ্রাম

ময়ূর পাহাড়ে রাম মন্দির
এবার আমরা আবার বেশ কিছুক্ষণ ধরে জঙ্গলের পথে ছুটতে লাগলাম শালের জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে পাহাড়ের বুকে তৈরি করা কংক্রিটের, কখনও পিচের সেই রাস্তা মাঝে মাঝেই ভিজে গেছে চুঁইয়ে আসা জলের ধারায় কে জানে কোথা থেকে এল এই জল, আর কোথায়ই বা গেছে আমি নীরবে সেই চিন্তাতেই মশগুল
খানিক পরে আবার এক পাহাড়ের গায়ে গাড়ি দাঁড় করিয়ে চন্দন বলল, “একটু সাবধানে দেখুন, এই পাহাড় কেটে কেটে পাথর নিয়ে গিয়েই তৈরি করা হয়েছে ড্যাম
এখান থেকেই পাথর কেটে ড্যাম বানানো হয়েছে
সত্যিই তাই! দেখি সামনে যে পাহাড়টি রয়েছে তার গা ঘেঁষে গভীর এক খাদ দেখে মনে হচ্ছে কত সহস্র বছর ধরে না জানি এই খাদে বৃষ্টির জল জমতে জমতে এক গভীর হ্রদের সৃষ্টি করেছে কালচে সবুজ সেই জলের দিকে তাকালে বেশ ভয়ই করে অতলান্ত তার আহ্বান বিপজ্জনক খাদের দিকে চেয়ে ভাবছিলাম, মানুষ কত পরিশ্রমের দ্বারা আমাদের জন্য এই সুগম পথ তৈরি করেছে!
এরপর চন্দন আমাকে নিয়ে গেল বামনি ফলসের কাছে ঝরঝর করে একটানা শব্দ হয়ে চলেছে কোথাও এটা বুঝতে পারলেও তার উত্স বুঝতে পারলাম না এখানে বেশ কয়েকটি খাবারের দোকান রয়েছে চন্দন আমাকে ইশারা করল দোকানগুলির পেছনদিকে এগিয়ে গেলাম বেশ ছোটো একটি নালার মতো জলের স্রোত রাস্তার পাশ দিয়ে গিয়ে খাড়াভাবে বেশ কিছুটা নিচে পাথরের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে তারই শব্দ পাহাড়ের গা দিয়ে পাথর কাটা রাস্তা সিঁড়ির মতো নেমে গেছে তড়বড় করে এগিয়ে গেলাম এমনভাবে ঝরনার গা ঘেঁষে নিচে নামার অভিজ্ঞতা আমার আগে কখনও হয়নি শিশুর মতো আনন্দে লাফিয়ে লাফিয়ে নামতে থাকলাম বেশ কিছুটা নামার পর একটা চাতালমতো জায়গা এল এখান থেকে ঝরনাটা বেশ ভালোভাবে উপভোগ করা যাচ্ছে আরও খানিক নিচে নামার পর ঝরনাটা তৈরি করেছে একটা বিশাল হ্রদ বইতে পড়েছিলাম, বিন্দু বিন্দু জল মিলে তৈরি করে সিন্ধু আজ কথাটার প্রকৃত অর্থ হৃদয়ঙ্গম করলাম ওই একটি ছোটো নালার মতো জল ঝরনা হয়ে বয়ে এসে একটি এত বড়ো হ্রদ তৈরি করেছে!
বামনি জলপ্রপাত


বামনির ছন্দে

বামনি প্রপাত

বামনির জলে এই হ্রদের সৃষ্টি
আঙ্কল! আঙ্কল!
আওয়াজ শুনে একটু বিস্মিত হয়েই ঘুরে তাকালাম দেখি একটি বছর দশেকের ছোট্ট ছেলে আমার দিকে সকরুণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে কাছে গিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, কী হয়েছে?
হিন্দিতে ছেলেটি যা বলল তার অর্থ, বাবা-মাকে ছেড়ে একলা একলা এই চড়াই বেয়ে নিচে নেমে এসেছিল সে ঝরনা দেখতে। কিন্তু এখন আর উপরে ওঠার মতো সাহস হচ্ছে না নিচের দিকে তাকালেই ভয়ে মাথা ঘুরে যাচ্ছে পা ফসকে পড়লেই ব্যস, দফারফা হয়ে যাবে
আমি মৃদু হেসে তার হাতটি ধরলাম তারপর দু’জনে গল্প করতে করতে উপরে উঠতে লাগলাম মনে হতে লাগল, আমিও যেন ওরই মতো দশমবর্ষীয়ই হয়ে গেছি
পাপাই, সেই ছেলেটিকে তার বাবা-মার জিম্মায় দিয়ে বিদায় জানিয়ে, ঝরনাকে নিজের মতো বইতে দিয়ে আমরা আরও অনেকটা পাড়ি দিয়ে চলে গেলাম বাঘমুন্ডি ড্যাম এখানে দুটি ড্যাম আছে আপার আর লোয়ার প্রথমে পড়ল আপার ড্যাম জাপানি প্রযুক্তি আর অর্থ সহায়তায় তৈরি এই বাঁধে বৃষ্টির জল ধরে রাখার জন্য এক বিশাল জলাধার রয়েছে সুন্দর করে সাজানো গোছানো এবং রেলিং দিয়ে এর অনেকটা ঘেরা এখানে পিকনিক করা নিষেধ জলে কোনওরকম নোংরা ফেলা যাবে না
আপার ড্যামের সামনে


আপার ড্যাম

আপার ড্যামের এই অংশে পিকনিক করা যায়

জাপানি প্রযুক্তির টারবাইন
এরপর ড্যামের ওপরের রাস্তা দিয়ে আমরা আবার নামতে শুরু করলাম পাশের পাহাড়ে এখানে রয়েছে লোয়ার ড্যাম শুনলাম টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উত্পাদনের সময় উপরের বাঁধ থেকে নিচের বাঁধে জল নামতে থাকে পরে আবার এই নিচের জল উপরে তোলার জন্য আলাদা কলকব্জা আছে
লোয়ার ড্যাম পেছনে


লোয়ার ড্যাম

লোয়ার ড্যামের কিছুটা অংশ

লোয়ার ড্যামের ওপর থেকে
লোয়ার ড্যামের কোলে এক চমত্কার পিকনিক স্পট গড়ে উঠেছে অন্তত গোটা পঞ্চাশেক বাস দাঁড়িয়ে এখানে সবাই হইহই করে রান্নাবান্না নিয়ে ব্যস্ত কাছে বেশ কয়েকটি মন্দিরও রয়েছে ড্যামের এক প্রান্তে স্নান করার জন্য ঘাট করা আছে এখানে আমরা কিঞ্চিত চা পান করে নিলাম
এখানে বেশ কয়েকটি মন্দির আছে


আরেকটি মন্দির

লহরিয়া বাবার মন্দির

আরও একটি মন্দির

আবার একটি মন্দির

এখানে ঘাট করা, স্নানের জন্য
এবার আমাদের গন্তব্য চড়িদা চড়িদা ছৌ নাচের মুখোশের জন্য বিখ্যাত এখানে কাগজের মন্ডের উপর রং করে বাহারি মুখোশ বানানো হয় খুবই সস্তা মাত্র পঞ্চাশ টাকা থেকে শুরু করে আড়াই-তিন হাজারেরও মুখোশ আছে নির্ভর করে মাপ আর কারুকার্যের সূক্ষ্মতার উপর বাড়ির জন্য গোটা পাঁচেক মুখোশ বগলদাবা করে আবার চন্দনের গাড়িতে চেপে বসলাম
চড়িদা


মুখোশের দোকান

নানারকম মুখোশ

মুখোশের রকমসকম

হাজারো মুখোশ
আমাদের শেষ দর্শনীয় স্থান ছিল পাখি পাহাড় শিল্পী চিত্ত দে’র তত্ত্বাবধানে বেশ কিছু শিল্পী একটি ছোটখাটো পাহাড়কে খোদাই করে তার গায়ে নানান পাখির ছবি আঁকার কাজ করে চলেছেন সেই ১৯৯৬ সাল থেকে অসাধারণ সেই শিল্পকর্মকে আইফোনের ক্যামেরায় বন্দী করে আর পুরুলিয়ার এই রোমাঞ্চকর স্মৃতিকে বুকে আঁকড়ে ধরে ফিরে চললাম চন্দনের গাড়িতে
পাখি পাহাড়ের কারুকার্য
নাহ্‌, এই এক সফরেই পুরুলিয়া আমাকে ভালোবাসার বন্ধনে বেঁধে ফেলেছে আবার ফিরে আসতে হবে, খুব শিগগির
_____

2 comments:

  1. আগেও পড়েছিলাম আবার পড়লাম খুব ভালো লাগলো| এই শীতেই পুরুলিয়া যেতে হবে| - সৌগত সেনগুপ্ত

    ReplyDelete