জ্ঞানবিজ্ঞানঃ মানুষ নিয়ে মহাকাশে ভারতের নতুন স্বপ্ন - দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য



নতুন শতাব্দীর প্রথম সতের বছরে ভারত কিন্তু মহাকাশবিদ্যেয় বেশ অনেকদূর এগিয়েছে। এস, এইখানে তার একটা হিসেবনিকেশ দেখা যাক।
মঙ্গল অভিযানের খবর তো তোমরা সব্বাই জান। জয়ঢাকের খবরের কাগজের পাতায় এই লিংকে তার খবর পাবে। সে অভিযানটা করতে ভারতের যা খরচ হয়েছিল, হলিউডের ‘গ্র্যাভিটি’ সিনেমাটা বানাতে তার চেয়ে এক কোটি ত্রিশ লক্ষ পাউন্ড বেশি খরচ হয়েছ। তবে শুধু মঙ্গল অভিযান নয়, আরও অনেক সব রঙিন পালক উঠেছে এখন আমাদের মহাকাশ গবেষণাকেন্দ্র ইসরোর টুপিতে। এইবারে তাদের কিছু খবর।

যাচ্ছ কোথা?

বাবা-মার স্মার্টফোনে জিপিএস দেখেছ? যাতে ড্রাইভিং ডিরেকশান দেয়? ওইটে কাজ করে কী করে বলো দেখি? মহাকাশে সাতাশখানা কৃত্রিম উপগ্রহ নিয়ে একটা জাল তৈরি করে রেখেছে নাসা। এর কাজ হল পৃথিবীর বুকে তোমার অবস্থান নির্ণয় করে তোমাকে জানানো কিংবা তুমি যেখানে আছো সেখান থেকে অন্য কোনও জায়গায় যাবার পথনির্দেশ দেয়া। ফোনের নির্দিষ্ট অ্যাপটা অন করলে তার বেতার সংকেত ধরে নিয়ে এই উপগ্রহরা ফোনটার অবস্থানের সংকেত পাঠাতে থাকে ফোনের পর্দাতে।
এই জিপিএস-এর মতনই ইউরোপিয়ানদেরও নিজেদের উপগ্রহজাল পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবার পথে এগোচ্ছে, যার নাম ‘গ্যালিলিও’, অথবা চীনাদের নিজস্ব জাল বেদৌ (১০টা উপগ্রহ। এখন সেটাকে বাড়িয়ে ৩৫টা করা হচ্ছে)। রয়েছে রাশিয়ানদের নিজস্ব জাল ‘গ্লোনাস’।
ভারত এইবারে তার একেবারে নিজস্ব একটা এই পথনির্দেশক উপগ্রহজাল তৈরি করবার কাজ হাতে নিয়েছে। এর নাম Indian Regional Navigation Satellite System বা সংক্ষেপে IRNSS। বিভিন্ন কক্ষপথে সাতখানা উপগ্রহ বসিয়ে এই জালটা তৈরি করা চলেছে। গোটা ভারত আর তাকে ঘিরে থাকা ১৫০০ মাইল আন্তর্জাতিক এলাকার মধ্যে যেকোনও জায়গায় অবস্থান জানিয়ে দেবে IRNSS নামের এই উপগ্রহজাল। সাতটার মধ্যে তিনখানা থাকবে ভারত মহাসমুদ্রের ওপরে।

প্রথম উপগ্রহটা মহাকাশে যায় জুলাই, ২০১৩-তে। পরের বছর এপ্রিল আর অক্টোবরে দুই আর তিন নম্বর উপগ্রহ মহাকাশে যায়। গত ২৮ মার্চ ২০১৫ তারিখে এই সিরিজের চার নম্বর নজরদার মহাকাশে গিয়েছে। এরপর ২০১৬ সালের ২০ জানুয়ারি, ১০ মার্চ আর ২৮ এপ্রিল বাকি তিনটে উপগ্রহকেও মহাকাশে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। আমাদের নিজেদের শক্তিশালী রকেট পি.এস.এল.ভি. একের পর এক এই প্রোগ্রামের উপগ্রহদের পৌঁছে দিয়েছে মহাকাশে।
সাতটা উপগ্রহের মধ্যে চারটে বসেছে জিওসিনক্রোনাস কক্ষপথে (ভূসমলয় কক্ষপথ। এই কক্ষপথে বসানো উপগ্রহ দিনের নির্দিষ্ট সময়ে কোনও একটি নির্দিষ্ট জায়গার ওপর দিয়েই ঘুরে যায়) আর তিনটে বসেছে জিও স্টেশনারি কক্ষপথে (ভূ-নিশ্চল কক্ষপথ। এটি আসলে একটা বিশেষ ভূসমলয় কক্ষপথ সেখানে পৃথিবীর সাপেক্ষে উপগ্রহটা একই জায়গায় স্থির থেকে যায়)
এই মুহূর্তে দেশজুড়ে গড়ে তোলা হচ্ছে নানান জায়গায় তাদের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা। ২০১৮ সালের মধ্যে পুরো যোগাযোগ-জালটা তৈরি হয়ে যাবে। একেবারে আমাদের নিজস্ব। আর তখন, বাবা বা মায়ের মোবাইলে হয়তো বিদেশি ‘জিপিএস’-এর বদলে চলে আসবে আমাদের নিজস্ব ‘আর্নস’। তাতে আমাদের নিজেদের ভাষাতে হয়তো শোনা যাবে—“সামনে একশো মিটার এগিয়ে বাঁদিকে বাঁক নিন—”
অন্যের ওপর ভরসা না করে নিজেদের জিনিস ব্যবহার করতে পারবার মজাটাই আলাদা।

চলো দূর মহাকাশে যাই


জিএসএলভি


লম্বায় চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ মিটার দানবিক রকেটটা তার আকাশমুখী যাত্রা শুরু করল। তার দুটো ধাপ পুড়ে যাবার পর তৃতীয় ধাপে এসে অতিশীতল তরল অক্সিজেন আর হাইড্রোজেন মিশে যে জ্বালানি তৈরি করল, তার ধাক্কা তার অতিকায় এক থেকে আড়াই টন ওজনের স্যাটেলাইটকে মাথায় তুলে দৌড় শুরু করল গভীর মহাকাশের দিকে।
এই তিন নম্বর ধাপের ইঞ্জিনের নাম হল ক্রায়োজেনিক ইঞ্জিন। মানুষের রকেট-প্রযুক্তির চূড়ান্ত উন্নত স্তর। অকল্পনীয় প্রযুক্তিগত দক্ষতা লাগে এই ইঞ্জিনকে গড়ে তুলতে। এই ইঞ্জিন তৈরি না করতে পারলে মানুষবাহী মহাকাশযান তৈরি করা সম্ভব হয় না। অবশেষে ভারত সে ইঞ্জিন বানিয়ে ফেলেছে নিজেদের গবেষণাগারে। আকাশে যেতে শুরু করেছে আমাদের নিজস্ব জিএসএলভি রকেট। ২০১৪-র জানুয়ারি মাসে আমাদের যে অষ্টম জিএসএলভি রকেটটা ১৯৮২ কেজি ওজনের যোগাযোগ উপগ্রহ জিস্যাট-১৪কে নিয়ে  মহাকাশে গেল, সেটি সম্পূর্ণ ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি প্রথম ক্রায়ো-ইঞ্জিনের ব্যবহার করেছে সাফল্যের সঙ্গে।


আরও ভারী, আরও বড়ো--এলভিএম ৩ বা জিএসএলভি মার্ক ৩

এলএমভি থ্রির মহাশক্তিমান ক্রায়ো-ইঞ্জিন                                            এলএমভির উৎক্ষেপণ

অবশ্য এক বা দু’টনের মহাকাশযান মানুষ নিয়ে মহাকাশে যেতে পারে না। তার জন্য চাই আরও ভারী উপগ্রহ। সেইজন্য ভারত এবার তৈরি করতে শুরু করেছে এই শ্রেণীর রকেট, যা কিনা লম্বায় ৪৩ মিটারের কিছু বেশি। এ পরীক্ষার উদ্দেশ্য হল, শেষপর্যন্ত দশ টন অবধি ওজনের মহাকাশযানকে আকাশে নিয়ে বসানো। ২০১৪-র ডিসেম্বরের ১৮ তারিখে আমাদের দ্বিস্তর এলভিএম ৩-এক্স/কেয়ার রকেটের প্রথম সফল পরীক্ষা হয়ে গেল। এই অভিযানেই সফল পরীক্ষা হল উপগ্রহটিকে অভিযানশেষে অক্ষতদেহে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনবার দ্বিতীয় পরীক্ষাও। প্রথমটা হয়েছিল ২০০৭ সালে। এই কাজটা না করা গেলে, বুঝতেই পারছ, মানুষ নিয়ে মহাকাশে যাওয়া সম্ভব নয়। ব্যাপারখানা বলি। মহাকাশ থেকে যখন কোনও উপগ্রহ পৃথিবীর বাতাসে ফের এসে ঢোকে তখন বাতাসের সঙ্গে ঘষা লেগে তার তাপমাত্রা এমন বেড়ে যায় যে তা পুড়ে ছাইই হয়ে যায় প্রায়। ফলে ওর মধ্যে মানুষ বসে থাকলে, বুঝতেই পারছ—
তাই মানুষবাহী হতে গেলে সে উপগ্রহের শরীরটা এমন করে গড়তে হবে যাতে অমন ভয়ংকর উত্তাপকেও রুখে দিতে পারে তার দেয়াল, যাতে ভেতরে এক ফোঁটাও গরম না ঢোকে। এই প্রযুক্তিটা কবজায় আনা কিন্তু সহজ ব্যাপার নয়।
তা, ঘটনা হল, এর মাথায় বসানো প্রায় চার টনের উপগ্রহটা নিখুঁতভাবে আকাশে উড়ে তারপর রকেট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ঘন্টায় উনিশ হাজার কিলোমিটার বেগে আবহমণ্ডলে ঢুকে আসে। তার বাইরের তাপমাত্রা তখন উঠে গিয়েছিল ষোলোশো ডিগ্রি সেলসিয়াসে। অথচ জল ফোটে একশো ডিগ্রিতে। তার ওপরে যা চাপ তৈরি হয়েছিল তা হল পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণের তেরো গুণ বেশি।
কিন্তু তার সুরক্ষাব্যবস্থা একে রুখে দিতে পেরেছে। বহাল তবিয়তে, ভেঙেচুরে পুড়ে-টুরে না গিয়েই বঙ্গোপসাগরের জলে নেমে আসতে সক্ষম হয়েছে কেয়ার নামের এই উপগ্রহ। আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের ১১১ মাইল দূরে সমুদ্র থেকে তাকে উদ্ধার করে এনেছেন ভারতীয় বিজ্ঞানীরা। এখন তার ওপরে আরও পরীক্ষানিরীক্ষার কাজ চলছে জোরকদমে। এর ফলে আরেকটা বিরাট ধাপ পার হল ভারতের নিজস্ব মনুষ্যবাহী মহাকাশযানের স্বপ্ন।
গত ৫ জুন ২০১৭ তারিখে জিএসএলভি মার্ক থ্রির প্রথম সফল উড়ান হয়ে গেল। শ্রীহরিকটা থেকে উড়ে গিয়ে তা  প্রায় সোয়া তিন টন ওজনের ভারতীয় উপগ্রহ জি-স্যাট ১৯কে ভূসমলয় কক্ষপথের দিকে সফলভাবে এগিয়ে দিয়েছে। তবে এ রকেট চার টন পর্যন্ত উপগ্রহকে ভূসমলয় কক্ষপথে প্রতিষ্ঠা করতে পারবে।

নিজেদের যানে মহাকাশে ভারতীয়দের পাঠাবার স্বপ্নটা কাগজে কলমে দেখা শুরু হয়েছিল ২০০৭ সালে। তাকে বাস্তবায়িত করবার জন্য তিনটে জিনিসের দরকার ছিল।
১। দু’জন মানুষ নিয়ে মহাকাশে যাবার মতন ভারী উপগ্রহকে বইবার উপযোগী রকেট।
২। মানুষ বাঁচতে পারে এবং তাকে নিয়ে পৃথিবীতে ফেরত আসতে পারে এমন উপগ্রহ তৈরি করা।
৩। মহাকাশচারীদের প্রশিক্ষণ।
প্রথম আর দ্বিতীয়টার কাজ যে অনেকটাই এগিয়ে গেছে সে তো দেখলেই। এইবারে তা আরও দ্রুতগতিতে এগোবে।
বাকি রইল তিন নম্বর ব্যাপারটা। ইসরো, ভারতীয় বায়ুসেনা ও রাশিয়ান মহাকাশ সংস্থার যৌথ প্রচেষ্টায় ব্যাঙ্গালোরের কাছে ভারতীয় মহাকাশচারীদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেবার প্রতিষ্ঠান তৈরির পরিকল্পনা শুরু হয়ে গেছে। পাশাপাশি জোরকদমে চলেছে মহাকাশযানের জীবন সুরক্ষা উপকরণ, উপগ্রহের থেকে জরুরি নিষ্ক্রমণ ব্যবস্থা এইসব নিয়ে খুঁটিনাটি পরীক্ষা।
আসলে ২০১৭ নাগাদই মানুষসহ মহাকাশ অভিযানের পরিকল্পনা ছিল আমাদের। সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয় দ্বাদশ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায়। কিন্তু ২০১০ সালে আমাদের নিজস্ব আর রাশিয়া থেকে ধার করা ক্রায়ো-এঞ্জিন নিয়ে দু-দুটো জিএসএলভি অভিযান ব্যর্থ হবার ফলে সেটা একটু পিছিয়ে যায়। জিএসএলভি  রকেট অভিযানের এই নতুন সাফল্যের পর এবার ফের তা জোরকদমে এগোচ্ছে। আশা করা হচ্ছে পরের টার্গেট হবে ২০২১ সাল।


আর একটা কথা
সাহেবরা এখনও অনেকেই তো আমাদের আদিম মানুষ বলে ভাবে। তাই তারা অনেকেই রেগেমেগে বলে, ভারত আবার এইসব কেন করে? ও তো ভিখিরি আর দুষ্টু লোকেদের দেশ। আবার আমাদের নিজেদের দেশের অনেক বড়ো মানুষও কম বোকা আর মুখ্যু নয়। তোমার চেনাশোনা অনেক লোককেও দেখবে, কেমন মুখ বাঁকিয়ে বলে, এ মা, ছি ছি, আমাদের মতো গরিব দেশ এইসব বড়োলোকদের শখটখ কেন করে? তেমন কোনও বোকা মানুষকে ফের যদি এমন কথা বলতে শোনো তাহলে কী করতে হবে বলে দিচ্ছি। তাকে এই নিচের কথাগুলো বলবেঃ
১৯৬৯ সালে ভারতীয় মহাকাশ সংস্থা ইসরো প্রতিষ্ঠিত হয়। ৪৫ বছরের মধ্যে ১০০টির ওপরে রকেট উৎক্ষেপণ করেছে সে সাফল্যের সঙ্গে। নিজস্ব উপগ্রহ ছাড়াও অন্যদেশের উপগ্রহ ছোঁড়বার জন্য রকেট ভাড়া দিয়ে এখন ভালো রোজগার হয়ে ভারতের। আমাদের তৈরি যান পৌঁছে গেছে চাঁদে আর মঙ্গলে। আমাদের যোগাযোগ উপগ্রহ, দূরসংবেদী উপগ্রহ, আবহাওয়া উপগ্রহদের জন্য এ দেশের সব জায়গার সঙ্গে সব জায়গার যোগাযোগ বজায় থাকে, চাষীরা প্রয়োজনীয় আবহাওয়ার পূর্বাভাস পান, কম খরচে মাটির তলায় কোথায় কোন খনিজ লুকিয়ে আছে তার খবর মেলে, কোথায় বা মাটির নিচে জলের ভাণ্ডার আছে তার খোঁজ বের করে গরিব চাষীদের জল জুগিয়ে তাদের খেতে ফসল বাড়ানো হয়, কোথায় জঙ্গলে দাবানল লেগে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি পুড়ে যাবার জোগাড় হয়েছে তার খবর নিয়ে সেই সম্পত্তি রক্ষা করা হয়। এছাড়া ভয়ংকর সব প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম ইঙ্গিত দিয়ে তারা লক্ষকোটি মানুষের প্রাণও রক্ষা করে; যেমন করেছে কিছুদিন আগে যখন ফিলিন নামে ঘুর্ণিঝড় হঠাৎ করেই হানা দিয়েছিল আমাদের উপকূলে সেই সময়।
নিজেদের মহাকাশ অভিযানে দক্ষতা না থাকলে আমাদের এইসব কাজ করবার জন্য বিরাট পরিমাণ টাকাপয়সা দিয়ে বড়োলোক দেশেদের তৈরি উপগ্রহদের ভাড়ায় খাটাতে হত। তাতে টাকা খরচ হত নিজেদের রকেটে যত হচ্ছে তার অনেকগুণ। আর সেইজন্যেই তো অনেক বড়োলোক দেশের এত রাগ আমাদের এইসব এগিয়ে চলার ব্যাপারে। আমাদের সস্তার রকেট তৈরি হবার ফলে তাদের অনেক লোকসান হয়ে যাচ্ছে যে!  ভাবো একবার, একটা মার্কিন সিনেমা তৈরি যা খরচ তার থেকে অনেক কম টাকায় আমরা মঙ্গলে মহাকাশযান পাঠিয়ে দিলাম! পৃথিবীর কোনও দেশ এমনটা ভাবতে পারবেই না।
আসলে উন্নততর বিজ্ঞানের চর্চা কিন্তু গরিব মানুষদেরই বেশি উপকারে আসে, সেইটে মন রেখ। কারণ, একমাত্র উন্নত বিজ্ঞানের চর্চাই পারে গরিব মানুষের কাছে সস্তায় আধুনিক সুযোগসুবিধে তুলে দিতে। সে কাজ করবার আর কোনও অস্ত্রই এত কার্যকরী হয় না।
সেই কাজটা এত সাফল্যের সঙ্গে আমাদের দেশ করে চলেছে। এই কথাটা ভাবলে ভারতের মানুষ বলে যা একখানা গর্ব হয় না!

_____

ছবিঃ আন্তর্জাল

No comments:

Post a Comment