প্রবন্ধঃ একটি ছবি ও একটি গ্রামের গল্প - অরিন্দম দেবনাথ

 

যতদূর পর্যন্ত দৃষ্টি চলে খালি পাহাড় আর পাহাড়। কোনওটা উঠে গেছে সেই আকাশের কাছাকাছি আবার কোনওটা খানিক বেঁটেযেন সমুদ্রের উথালপাতাল ঢেউ। ছোটো-বড়ো-মাঝারি সব আকারের পাহাড় মিলেমিশে এক হয়ে গেছে চায়নার সাইচুন প্রদেশে। এই পাহাড়শ্রেণী হেংদুয়ান পর্বতশ্রেণী নামেও পরিচিত। সাইচুন প্রদেশের অনেকটাই আবার তিব্বত মালভূমির অংশ। সবুজ গাছে ছাওয়া অধিকাংশ পাহাড়ের চূড়া মেঘে ঢেকে থাকে বছরভর। কিছু পাহাড়চূড়ায় আবার চির বরফের রাজ

সাইচুন ( Sichuan ) প্রদেশের ঝাউজিউ ( Zhaojue ) কাউন্টির উঁচুনিচু পাহাড়শ্রেণীর মাঝে আধুনিক সভ্যতা থেকে সন্তর্পণে লুকিয়ে থাকা একটা গ্রাম আতুলএর ( Atuleer ) ইয়াঞ্জি নদী উপত্যকা থেকে সোজা উঠে যাওয়া ৮০০ মিটার এক খাড়া পাহাড়ের মাথায় খোঁচের মতো খানিক সমতল জমি। এই একফালি সমতল জমিটাই হল আতুলএর। গ্রামের শেষসীমা থেকে পাহাড় আবার সোজা উঠে গেছে আকাশ পানে। গ্রামের তিনদিকের সমতল ভূমি আচমকাই ঝাঁপ দিয়েছে শূন্যে। সমুদ্রতল থেকে ৪৬০০ ফুট উঁচুতে গ্রামটা যেন একটা হাতলহীন চেয়ার। বাইরের দুনিয়ার কাছে সম্পূর্ণ অজানা এই গ্রাম। এমনকি ওই বহু নিচে যে সরু ফিতের মতো ইয়াঞ্জি ( Yangtze ) নদী বইছে তার আশেপাশের আধা শহর ইয়ানশান-এর ( Liangshan ) কেউ কেউ এই গ্রামের অস্তিত্ব জানলেও এই গ্রামে পা রাখার হিম্মত দেখায় নাএই গ্রাম পরিচিত ওদের কাছে ক্লিফ ভিলেজ নামে - ঝুলন্ত গ্রাম। ওই গ্রামে যেতে হলে যেতে হবে স্বর্গের ঝুলন্ত সিঁড়ি বেয়ে। উপত্যকার লোকেদের কাছে এই মইপথ পরিচিত হেভেনস ল্যাডার নামে। এই স্বর্গের সিঁড়ির মাথায় আতুলএর ঝুলন্ত গ্রাম।

এই স্বর্গীয় মইপথ কিন্তু মোটেই স্বর্গীয় সুখের যাত্রাপথ নয়। একবার ওই সিঁড়ি থেকে হাত-পা ফসকালে স্বর্গের বদলে সোজা পাতালে পতন। এই যাত্রাপথ শুধু ভয়াবহই নয়, অত্যন্ত বিপজ্জনকআটশো মিটার পাহাড়ের খাড়া দেওয়ালে ১৭টা লতা-বাঁশ-কাঠের মই আছে, যেগুলোর দুটো প্রায় একশো মিটার করে লম্বা। আবার অনেক জায়গায় কোনও মইও নেই। পাথরের খাঁজ ধরে রীতিমতো শিলারোহণ করে এগোতে হয় সেখানে। এ-পথে যাতায়াত করতে গিয়ে পাহাড়ের ঢালু গা বেয়ে গড়িয়ে  পড়ে মৃত্যুও হয়েছে অনেক গ্রামবাসীর। এই গ্রামের বেশ কিছু শিশু নিচের নদী উপতক্যার একটা স্কুলে পড়তে যায়। গ্রাম থেকে ওই মই পথ বেয়ে স্কুলে যেতে প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় লাগে আর ফিরতে লাগে আরও বেশি সময়, প্রায় আড়াই ঘণ্টা।

ওই ঝুলন্ত গ্রাম কবে কীভাবে পত্তন হয়েছিল কেউ জানে না। বর্তমানে ওই গ্রামে বসবাসকারি ৭২টি ইয়ি ( Yi ) সম্প্রদায়ের পরিবারের বাসিন্দারা জানে, তাদের কোনও আদিপুরুষ এই দুর্গম খাড়া পাহাড়ের মাথায় সম্ভবত শত্রুর আক্রমণ থেকে বাঁচতে বহুবছর আগে ঘাঁটি গেড়েছিলেন। তারপর পাহাড়ের একফালি ঝুলন্ত সমতলে গড়ে তুলেছিলেন এই গ্রাম। গ্রীষ্মের সময় এখানকার আবহাওয়া মনোরম থাকলেও, শীত আর বর্ষায় ঝুলন্ত গ্রামের মানুষজন এই গ্রাম ছেড়ে অন্য কোথাও যাবার কথা ভুলেও ভাবে না। শীতে প্রবল তুষারপাত হয় এখানে। এই গ্রামের সামান্য সমতল জমি চলে যায় বরফের তলায়। ঘরবাড়ি  ঢেকে যায় দুধসাদা বরফে। আর বর্ষায়! পাহাড়ের গা বেয়ে তোড়ে নামতে থাকে জলের ধারা। ঝুলন্ত গ্রাম জেগে থাকে চরম অনিশ্চয়তায়। বিপদটা আরও বাড়ে যদি গ্রামের কেউ মারাত্মক অসুস্থ হয়ে যায়। ডাক্তার তো দূরের কথা, সামান্য একটা দোকান পর্যন্ত নেই এই গ্রামে। কাজেই গ্রামবাসীরা নিজেরাই চেষ্টা করে নিজেদের মতো করে রুগীকে সুস্থ করে তুলতে। একান্ত বাধ্য হলে রুগীকে পিঠে বেঁধে ওই খাড়াই মই বেয়ে নামিয়ে নিয়ে আসতে হয় নিচের আধা শহরে।

গ্রামের লোকজন খুব গরিব। আলু আর ভুট্টার চাষ করে বরফমুক্ত সময়ে। সেই চাষের জমিটাও তাদের ওই একচিলতে গ্রামকাজেই গ্রামের লোকেদের দুর্গতির শেষ নেই। তবে এই গ্রাম আর তার পেছনের পাহাড়ি জঙ্গলের আখরোট আর গোলমরিচের গাছগুলো উজাড় করে জোগান দেয় এই দুই দানার। এগুলো ওই নিচের আধা শহরে বিক্রি করে পোশাকআশাক ও অনান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করে গ্রামের মানুষ। গ্রামের লোকেরা মুরগি, গরু, ভেড়া আর শুয়োর প্রতিপালন করে। যেহেতু এই গ্রাম থেকে অন্য কোথাও যাবার জন্য ওই মইপথ ছাড়া আর কোনও বিকল্প রাস্তা নেই, তাই গ্রামে যা উৎপন্ন হয় তা নিজেদের কাজেই লাগাতে হয়। খাদ্যের খুব একটা অভাব হয় না। হ্যাঁ, গ্রামের বেশ কয়েকজন এখন অন্য শহরে শ্রমিকের কাজও করে অর্থ রোজগারের তাগিদে।

গ্রামের অবস্থানই গ্রামবাসীদের করে দিয়েছে দুঃসাহসিক। কঠোর প্রকৃতির সাথে নিরন্তর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে বেঁচে থাকার আনন্দ নিতে এরা জানে। পাথর, মাটি আর কাঠকুটো দিয়ে তৈরি ঘরগুলোকে এরা সারাবছর ধরেই পরিচর্যা করে। গ্রীষ্মকালে জঙ্গল থেকে শুকনো কাঠ জোগাড় রাখে বর্ষা ও বরফি দিনগুলোর জন্য। গোলমরিচ আর আখরোট সংগ্রহ করে পিঠের বস্তায় চাপিয়ে মই বেয়ে নামতে নামতে একসময় নিচের নদী উপত্যকায় পৌঁছে কোনও এক মহাজনকে সেগুলো বেচে, সংগৃহীত অর্থে খাবারদাবার সহ অনান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনে সেগুলোকে পিঠে করে স্বর্গের একের পর এক সিঁড়ি বেয়ে পৌঁছয় পাহাড়ের গায়ে তাদের আধা ঝুলন্ত গ্রামে। এই গ্রাম স্বর্গীয় তো বটেই। যেহেতু লোকসংখ্যা খুব কম, কাজেই মন কষাকষি, ঝগড়াঝাঁটির বালাই নেই। প্রতিটি পরিবার একে অপরের নির্ভরশীলবর্হিবিশ্বের কোনও খবরদারি নেই। এখানকার বাসিন্দারা অনেকাংশেই এখনও পড়ে আছে সেই আদিম জীবনযাত্রার ধরনে

কিছুদিন আগে পর্যন্তও এই গ্রামের কোনও হদিশ আন্তর্জালে ছিল না। পাহাড়ে-জঙ্গলে-মরুভূমিতে লুকিয়ে থাকা অজস্র গ্রামের মতো অজানা ছিল এই গ্রাম। ২০১৬ সালের মে মাসে ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী চাইনিজ ফটোগ্রাফার চেন ঝির ( Chen Jie ) সোশ্যাল মিডিয়া উই-চ্যাটে, স্কুলের ব্যাগ কাঁধে পাহাড়ের খাড়া গায়ে লতা আর বাঁশ-কাঠের মই বেয়ে ওঠানামা করতে থাকা কিছু শিশুদের ছবি সহ একটি পোস্ট রাতারাতি এই গ্রামকে নিয়ে এল বিশ্বের তামাম সংবাদমাধ্যমের আতসকাচের নিচে।

পৃথিবীর বহু দেশের শিশুদেরই অনেক কষ্ট করে স্কুল যেতে হয়। এমনকি অনেক সময় প্রাণ বিপন্ন করে। কিন্তু এই ছবি থেকে জানা গেল, সব দুর্গমতাকে ছাড়িয়ে গেছে ওই খাড়া পাহাড়ের গায়ে খোঁচের মতো বেরিয়ে থাকা একফালি আধা ঝুলন্ত গ্রাম আতুলএর স্কুলপড়ুয়াদের দুর্দশার কথা গ্রামের ১৫টা ৬ থেকে ১৬ বছরের শিশুকে পাহাড়ের গায়ে ঝুলতে থাকা ওই ভঙ্গুর মই বেয়ে ৮০০ মিটার ওঠানামা করে যেতে হয় বহু নিচের ওই নদী উপত্যকার এক স্কুলে। কারণ, ওই গ্রামে যাতায়াতের আর কোনও বিকল্প পথ নেই। ওই স্কুলের শিক্ষকরাও ভালোভাবে জানেন না তাদের স্কুলের ক্লিফ ভিলেজ’-এর ছাত্রছাত্রীদের যাত্রাপথের ভয়ংকরতার কথা। শুধু জানেন, ওই গ্রামে যেতে লতার মই বেয়ে উঠতে হয়। স্বর্গীয় মইয়ের একদম শেষপ্রান্তে ওই ছাত্রছাত্রীদের বাস। ওই পথে যে কেউ যেতে পারে না, একবার পদস্খলন মানে সাক্ষাৎ মৃত্যু। খুদেদের ওইভাবে ঝুলন্ত মই বেয়ে স্কুলে যাতায়াত করতে দেখে আঁতকে উঠল সারাবিশ্ব

চেন তিনদিন ধরে ওই মই বেয়ে আতুলএর গ্রামে বেশ কয়েকবার যাতায়াত করেছিলেন ছবি তোলা ছাড়াও ওই বিপজ্জনক যাত্রার ভয়াবহতা উপলব্ধি করতে। গার্ডিয়ান সংবাদপত্রিকায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ওই যাত্রা শুধুমাত্র বিষম ভীতিকরই নয়, চলতে হবে একশো শতাংশ সতর্কতার সাথে। এ-পথে একবার পদস্খলন মানে সটান পাতালে আছড়ে পড়ে মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী।

চেনের এই পোস্ট সামান্য সময়ের মধ্যে আলোড়ন তুলল। বেজিং-এর এক সংবাদপত্রে শিশু-পড়ুয়াদের দুর্দশার খবর প্রকাশিত হতেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে এই খবর ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়ল পৃথিবী জুড়ে। সারাবিশ্বের সংবাদমাধ্যম ঝাঁপিয়ে পড়ল আতুলএর গ্রামের খোঁজ নিতে। কিন্তু দুর্গম পাহাড়ি গ্রামে পৌঁছতেই পারলেন না অনেকে! ঝুলন্ত মই বেয়ে পাহাড়ের মাথায় ওঠা ছাড়া বিকল্প কোনও পথ না দেখে খবর সংগ্রহে পাঠানো চায়ানার সরকারি দূরদর্শনের সাংবাদিক মিস যাহাং লি ভয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে গ্রামে যেতে অস্বীকার করলেন

চায়নার অনেক অঞ্চলেই বিছিন্নভাবে গড়ে ওঠা এইধরনের সামান্য কিছু পরিবারের লোকবসতি আছেমূলত শত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতেই প্রাচীনকালে আদিবাসীরা এইধরনের দুর্গম অঞ্চলে বসতি গড়েছিলেন। তারপর বংশপরম্পরায় ওই বসতিগুলো রয়ে গেছে। চায়নার সামগ্রিক আর্থিক উন্নতির কোনও প্রভাব পড়েনি মূল লোকবসতি থেকে অনেক দূরে প্রত্যন্ত অঞ্চলের এই গ্রামগুলোয়। হতদরিদ্র এইসব গ্রামগুলো এখনও পড়ে আছে সেই আদিম যুগে। দীর্ঘ হাঁটাপথ, দড়ির মই, ঝুলন্ত সেতু, ডিঙ্গি নৌকোই এইসব গ্রামে পৌঁছনোর মাধ্যম। আতুলএর গ্রামও তার একটি।

এ হেন নিস্তরঙ্গ জীবনযাত্রায় আলোড়ন তুলে দিল চিত্রসাংবাদিক চেন। চেনের তোলা ছবির দৌলতেই সরকারি কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসল। স্কুলের বাচ্চাদের এখন প্রতিদিন দুয়েকজন অভিভাবকের সাথে লাইন দিয়ে দেড় ঘণ্টা মইপথ বেয়ে নেমে আর আড়াই ঘণ্টা মই বেয়ে গ্রামে ফেরত যেতে হয় না। তারা এখন তাদের পাহাড়ি গ্রামের পদতলে অবস্থিত লিয়ের প্রাইমারি স্কুল-এর আবাসিক। মাসে মাত্র দু’বার মইপথ বেয়ে গ্রামে যাতায়াত করে স্কুল থেকেআতুলএর খুদেদের সাহায্যে এগিয়ে এলেন চায়নার কিছু ধনী পরিবারওই গ্রামের পড়ুয়াদের স্কুলবাড়িটা মেরামত করে নতুন করে পাকা দোতলা বাড়ি হল। রঙের পোঁচ পড়ল দেওয়ালে দেওয়ালে। ভাঙাচোরা ছাত্রাবাস পাকাপোক্ত হয়ে নতুন খাট-বিছানা এল। নিয়মিত খাদ্যে পুষ্টিকর খাদ্যের জোগান নিশ্চিত হল। নতুন বইপত্র ও পোশাকআশাক পেল আতুলএর গ্রামের ছাত্রছাত্রীরা। সাথে স্কুলের অন্য বাচ্চারাও। আর্থিক সাহায্যে বলবান হয়ে নতুন করে আরও ষাট জন ছাত্রছাত্রীর পড়াশুনা ও থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করতে পারল স্কুল কর্তৃপক্ষ।

পরিবহণ, শিক্ষা ও প্রকৃতি রক্ষা দফতরের সদস্য নিয়ে গঠিত একটি সরকারি দল আতুলএর গ্রামে এল সাইচুন প্রদেশের অনেক প্রত্যন্ত আদিবাসী গ্রামকে সরিয়ে নিয়ে এসে অপেক্ষাকৃত ভালো জায়গায় স্থানান্তরিত করলেও সরকারি দল দেখলেন, আতুলএর গ্রামকে অন্য জায়গায় পুনর্বাসন দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ, নিচের পাহাড়ি উপত্যকায় ৭২টা পরিবারকে একসাথে স্থানান্তরিত করার জায়গা নেই এছাড়াও ওই দলের বিশেষজ্ঞরা মত দিলেন, এই গ্রামের অধিকাংশ লোকজন কথা বলেন এমন ভাষায় যা সম্পূর্ণই গ্রামের নিজস্ব। এর বাইরে এরা অন্য ভাষা জানে না। এই গ্রামের সংখ্যাগরিষ্ঠ বাসিন্দা এমন কোনও কাজ জানেন না যাতে করে বিকল্প পেশায় দেওয়া যেতে পারে। সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা বলে অনেক দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে পুনর্বাসিত গ্রামের লোকেরা নতুন জীবনের সাথে মিল খাওয়াতে না পেরে হয় অপরাধ জগতে গিয়ে মিশেছে অথবা সরকারি আর্থিক বদ্যনতার সুযোগ নিয়ে নেশায় মেতেছে। তারপর তাল সামলাতে না পেরে ফিরে গেছে ছেড়ে আসা আদিভূমিতে।   তাছাড়া আতুলএর গ্রামের লোকেরা তাদের পিতৃপুরুষের ভিটে ছেড়ে অন্য কোথাও বসতি গড়তেও নারাজ।

সরকার নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, কালক্রমে ওই গ্রামে যাওয়ার উপযোগী একটি রাস্তা তৈরি করা হবে। কিন্তু এই রাস্তা বানানো এত খরচবহুল হবে যা জোগান দেওয়া এখুনি সম্ভব নয়। পরিবর্তে সরকারি তরফে কয়েকটি ভঙ্গুর বাঁশ-কাঠ-লতায় তৈরি মই বদলে সেখানে বসল লোহার পাইপে তৈরি মই। একটি ব্যাঙ্ক ওই গ্রামে সৌরশক্তিচালিত বিদ্যুতের ব্যবস্থা করে দিলমোবাইল ফোন পৌঁছে গেল আতুলএর গ্রামে। ওই একটা ছবির দৌলতে ওই গ্রামে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপিত হল। গড়ে উঠল একদম খুদেদের জন্য একটি স্কুল। এমনকি দূর নিয়ন্ত্রিত ‘ড্রোন’ আকাশযানে করে নিয়মিত শিশুদের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধক ওষুধ পৌঁছে যেতে শুরু করল ওই গ্রামে।

সরকার ভাবছেন, এই গ্রামকে একটু অন্যধরনের পর্যটন কেন্দ্রে পরিবর্তন করবেন। যেখানে অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীরা খাড়া পাহাড়ের গায়ে দোল খেতে থাকা দড়ির মই বেয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পৌঁছবেন গ্রামে। উল্লেখ্য, এই গ্রামের কাছে পাহাড়ের গায়ে আছে একটি উষ্ণ প্রস্রবণ। গ্রামের লোকেদের বিশ্বাস, ওই গরম জলের কুণ্ড হল ঈশ্বরীয় জলধারাওই জলে স্নান করলে সব অসুখ সেরে যায়। এগিয়ে এসেছেন বেশ কয়েকটি পর্যটন ও আর্থিক সংগঠন। ওই গ্রাম পরিদর্শনের জন্য পর্যটকদের নিরন্তর আগমনে পর্যটকদের জন্য ২০২০ সালের মধ্যে ওই গ্রামে টুরিস্টদের জন্য একশো কোটি পাউন্ড খরচ করে তৈরি হতে চলেছে পর্যটন আবাস। তবে পর্যটন সংস্থাগুলো জানিয়েছেন, তাঁরা এসব করবেন ওই গ্রামের চরিত্রে কোনও পরিবর্তন না এনে।

চিত্র সৌজন্যঃ ফিচার চায়না / বারক্রফট ইমেজেস

1 comment: