গল্পঃ মিকির বন্ধু // সায়ন্তনী পলমল ঘোষ



মিকির বন্ধু

সায়ন্তনী পলমল ঘোষ


মিকি স্কুল থেকে ফিরল ছলো-ছলো চোখে মা, বাবা অফিসে আজ আবার দাদু-ঠাম্মাও নেই, পিসিঠাম্মার বাড়ি গেছে বিন্তিপিসি দরজা খুলে দিল
মিকি, হাতমুখ ধুয়ে খেয়ে নাও তোমার খাবার তৈরি করে রেখেছি
আমার খিদে নেই, এখন খাব না
খাবে না কী গো! তোমার খাওয়া হলে তবে আমার ছুটি
ওফ্‌! কী যে বিরক্ত লাগছে মিকির! অদ্ভুত কথা বলে বিন্তিপিসি ওর খেতে ইচ্ছে না করলেও খেতে হবে! বিন্তিপিসি ওদের বাড়িতে রান্না করে আজ দাদু-ঠাম্মা বাড়িতে নেই বলে মা বিন্তিপিসিকে দুপুরে থাকতে বলেছিল মিকি ফিরলে ওকে খাবার দিয়ে বিন্তিপিসি বাড়ি চলে যাবে আবার তো সন্ধেবেলা আসতে হবে তাকে কিন্তু তা বলে মিকির মুড অফ থাকলেও মিকিকে খেতে হবে?
আর কিছু না বলে মিকি নিজের রুমে চলে এল ফ্রেশ হতে হতেই শুনতে পেল, পুঁটিমাসি বাসন ধুতে চলে এসেছে আর বিন্তিপিসি খুশি হয়ে তাকে বলছে, “পুঁটিদি, এবার তাহলে বৌদি না আসা পর্যন্ত তুমি মিকির কাছে থাকো, আমি বাড়ি যাই
দরজার কাছে এসে বিন্তিপিসি বলল, “মিকি, তোমার খাবারটা টেবিলে চাপা রইল জামা ছেড়ে খেয়ে নিও আমি বাড়ি যাচ্ছি
মিকি বাধ্য মেয়ের মতো ঘাড় নাড়ল
ঢাকাটা খুলে মিকি দেখল, ধোঁয়া ওঠা এগ চাউমিন মিকির ভীষণ প্রিয়, কিন্তু আজ এক চামচও মুখে দিতে ইচ্ছে করছে না নিজের রুমের দরজাটা লাগিয়ে দিয়ে মিকি বালিশে মুখ গুঁজে দিল তার চোখের জলে বালিশটা ভিজে যাচ্ছে তার এই দশ বছরের জীবনে এত অপমানিত সে কখনওই হয়নি ছি ছি, সবার সামনে

খুব কষ্ট হচ্ছে, না মামণি?”
এটা তো বাবার গলা নয়! আর বাবা তো বাড়িতেই নেই তাহলে কে বলল কথাটা? মুখ তুলে তাকায় মিকি ওটা কী! মিকির পড়ার টেবিলের কাছে সাদা সাদা ধোঁয়া ধোঁয়া কুন্ডলী পাকানো কী একটা বাতাসে ভাসছে মিকি চোখ পিটপিট করে তাকিয়ে থাকে একটু পরে আস্তে আস্তে ধোঁয়াটা মিলিয়ে গেল আর তার জায়গায় ছোটোকাকুর মতো একজন লোক দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মিকির দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছে মিকির মুখখানা দিয়ে এখন সহজেই একটা আস্ত মুরগির ডিম ঢুকে যাবে, আর চোখগুলো তো পুরো ছটাকার রসগোল্লা! মিকি চোখ মুছে খাট থেকে নেমে কোমরে হাত দিয়ে বলল, “তুমি কি ম্যাজিক জানো?”
ম্যাজিক? আরে না না, সেই কবে ছেলেবেলায় স্কুলে ম্যাজিক দেখাতে আসত কুমার জিতেন্দ্র সে একবার আমার কান থেকে আস্ত একখানা সেদ্ধ ডিম বার করার পর সবার সে কী হাসি! তারপর থেকে ম্যাজিকের প্রতি ঘেন্না ধরে গেছিল পরে বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে একবার অবশ্য পি. সি. সরকারের শো দেখেছিলাম
মিকি চোখ পাকিয়ে বলল, “তাহলে তুমি ধোঁয়ার মধ্যে থেকে বেরোলে কী করে?”
ওসব আমি পারি
মিকি সন্দিগ্ধ স্বরে বলে, “তুমি কি তাহলে ভূত?”
লোকটা অবাক হয়ে বলে, “তুমি বুঝলে কী করে?”
মিকি ঠোঁট বাঁকিয়ে বলে, “এ আর এমন কী! হঠাৎ করে চলে আসতে, ভ্যানিশ হয়ে যেতে পারে শুধু ম্যাজিশিয়ানরা আর ভূতেরা
তুমি তো খুব বুদ্ধিমান!”
হুম সবাই তাই তো বলে আমি ক্লাসে ফার্স্ট হই, বুঝলে?”
বাহ্‌, বাহ্‌!”
আচ্ছা, তুমি যে ভূত আগে বলোনি কেন?”
আমি ভাবলাম, বললে তুমি ভয় পাবে
মিকি অবাক হয়ে বলে, “ভূতকে ভয় পাব কেন? ভূতেরা কত্ত ভালো হয়
ভালো হয়! মানুষে ভূতকে ভালো বলছে এই প্রথম শুনছি তোমার কাছে নাহলে তো মানুষেরা রাতের বেলা নিজের ছায়া দেখেইভূত ভূতবলে ভিরমি খায়
তারা মনে হয় শিশুদাদুর গল্প পড়েনি শিশুদাদুর ভূতেরা কত্ত ভালো হয় জানো? বুরুনের মতো অঙ্কে তেরো পাওয়া ছেলেকেও কত্ত ভালোবাসে
তোমার শিশুদাদু খুব ভালো লোক মনে হচ্ছে উনি কি গল্প লেখেন?”
হ্যাঁ তো এত মোটা মোটা বই আছে ওঁর বাবা আমাকে শিশুদাদুর এই বইটা কিনে দিয়েছে দ্যাখো
মিকি ওর বুক সেলফ থেকে একটা বই বের করে
ওরে বাবা! শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় তোমার নিজের দাদু হন? উনি তো মস্ত বড়ো লেখক!”
না না নিজের দাদু নন ওঁকে দেখতে না আমার ছোটোদাদুর মতন তাই আমি শিশুদাদু বলি
আচ্ছা, বেশ বেশ তবে যাই বলো, তুমি কিন্তু বেশ সাহসী মেয়ে আমাকে দেখে একটু চমকাওনি পর্যন্ত!”
চমকাব কেন? তোমার যদি ঐ কঙ্কালের মতো চেহারা হত তাহলে হয়তো একটু চমকাতাম কিন্তু তুমি তো দিব্যি পাঞ্জাবি পরা, গোল্ডেন ফ্রেমের চশমা পরা ভূত আচ্ছা, তুমি এই বিকেলবেলায় এলে কী করে? ভূতেরা তো রাতের বেলায় বেরোয়
দুষ্ট ভূতদের বেরোনোর জন্য অন্ধকার লাগে, ভালো ভূতেরা যেকোনও সময় বেরোতে পারে
আচ্ছা, তুমি আমার রুমে কী করছ?”
আসলে আমি ঘুরতে ঘুরতে তোমার স্কুলে গেছলাম দেখলাম, ম্যাডাম তোমাকে বকাবকি করছেন তুমি মুখ চুন করে দাঁড়িয়ে আছ তাই ভাবলাম, দেখে আসি বাড়ি ফিরে তুমি মনখারাপ করছ নাকি কী হয়েছে বলো তো ব্যাপারটা
মিকি অমনি চোখ বড়ো বড়ো করে শুরু করল, “জানো তো, আমাদের স্কুলে ড্রামা কম্পিটিশন হবে আমাদের ক্লাস ফাইভ এ সেকশন করবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরেরডাকঘর আমার বেস্ট ফ্রেন্ড সাহেব হবে অমল আর ক্লাস টিচার সীমা ম্যাডাম আমাকে সুধা করার জন্য সিলেক্ট করেছিলেন
এ তো খুব ভালো কথা
হুম কিন্তু গন্ডগোল করল ওই দিয়া ম্যাডাম জানো তো, আমাদের পাড়াতেই থাকে কলি খুব দুষ্টু ও ছোটো থেকেই আমাকে হিংসে করে ও প্রথম দশজনের মধ্যে থাকলেও আমার মতো ভালো পড়াশোনা করতে পারে না বলে ও আর ওর মা রীতা আন্টি আমাকে একদম সহ্য করতে পারে না আর দিয়া ম্যাডাম রীতা আন্টির বন্ধু, তাই দিয়া ম্যাডাম চাইছে কলিই সুধা হোক রিহার্সালে আমাকে শুধু শুধু কী বকল! সীমা ম্যাডাম বলছিলেন যে ফার্স্ট টাইম ভুল হতেই পারে, কিন্তু দিয়া ম্যাডাম বললেন, কলিকে নিলে ও নাকি অনেক বেটার করবে আমাকে বলে দিয়েছেন, কাল কিছু ভুল হলে আমাকে বাদ দিয়ে কলিকে নেবেন আজই বাদ দিতেন, শুধু সীমা ম্যাডামের জন্য পারলেন না জানো, ম্যাডাম যখন বকছিলেন কলি তখন মুখ টিপে হাসছিল স্কুল থেকে বেরোনোর সময় আমাকে শুনিয়ে শুনিয়ে ওর বন্ধুদের বলছিল যে কাল থেকে ও রিহার্সালে ব্যস্ত থাকবে
এ তো ভারি অন্যায় তবে আমি যখন এসে গেছি তোমার আর চিন্তা নেই আমি তোমাকে ট্রেনিং দিয়ে দেব
তুমি? তুমি অ্যাক্টিং জানো!” মিকি অবাক হয়
ভূত লজ্জিত হয়ে বলে, “আসলে তোমাকে তো আমার সম্বন্ধে কিছুই বলা হয়নি, তাই অবাক হচ্ছ
তাহলে বলো না তোমার কথা
ছোটো থেকেই আমি অ্যাক্টিং করতে খুব ভালোবাসতাম স্কুল লাইফ থেকেই নাটক করতাম কলেজে গিয়ে তো রেগুলার নাটক শুরু করলাম নাটক চলতে চলতেই আমার যাত্রায় অ্যাক্টিং করে দেখার শখ হয় বড়ো হলে বুঝবে নাটক আর যাত্রায় অনেক তফাত কিন্তু আমি যাত্রাতেও এত ভালো করলাম যে দল আমাকে হিরো করে দিল, কুমার রাজা আমার আসল নাম রাজনাথ সেন
মিকি চোখ গোল্লা গোল্লা করে বলল, “তুমি হিরো হতে!”
ভূতের গালদুটো লাল হয়ে গেল ওই যাকে বলে ব্লাশ করাহ্যাঁ গো বেশ পপুলার ছিলাম টাকাপয়সাও ভালোই আয় হচ্ছিল আমি একলা মানুষ, বিয়ে-থা করিনি বাড়িতে মা, বাবা, ভাই, বউমা আর পুচকি একটা ভাইঝি সুখী পরিবার আমাদের যাত্রার মরশুমে যাত্রা আর অন্য সময় আমার পুরনো দলে টুকটাক নাটক, বেশ মজায় ছিলাম কিন্তু কপালে সইল না যাত্রা করতে যাওয়ার সময় হাইওয়েতে অ্যাক্সিডেন্ট হল আর আমি সঙ্গে সঙ্গে পরপারে চলে গেলাম
পরপার মানে কী গো?”
মৃত্যুর পর মানুষ যেখানে যায় সেটাই পরপার
ওওও ভূতদের দেশ
হুম তা ঠিক বলেছ
আচ্ছা, পরপারটা ঠিক কোন জায়গায়?”
তুমি তো ছোটো, কী বলি তোমায় তুমি ওজোনোস্ফিয়ার, আয়নোস্ফিয়ার জানো?”
হ্যাঁ ওজোনোস্ফিয়ারে তো ফুটো হয়ে গেছে আমার জেঠু মেরামত করার চেষ্টা করছে জেঠু আমেরিকায় থাকে, মস্ত বড়ো সায়েন্টিস্ট
ওও তো বুঝলে মিকি, আমাদের ভূতেদের দেশ হল এই ওজোনোস্ফিয়ার আর আয়নোস্ফিয়ারের ঠিক মধ্যে পাতলা সরের মতো একটা জায়গায় ওই ফুটোগুলো দিয়ে আমরা শর্টকার্ট করি পৃথিবীতে আসার সময় তোমার জেঠু মেরামত করে ফেললে ঘুরপথে আসতে হবে, বুঝলে?”
বুঝলাম আচ্ছা, তুমি পৃথিবীতে এসেছ কেন?”
এটা তো আমার হলিডে ট্রিপ
হলিডে ট্রিপ?”
হুম তোমরা ছুটিতে বেড়াতে যাও না?”
যাই তো কিন্তু তুমি তো ভূত
আরে বাবা, ভূতের কি কাজ থেকে ব্রেক নিতে ইচ্ছে করে না?”
ভূতের আবার কী কাজ?”
ও বাবা! ভূতেদের কি কাজ কম? এই তো আমি ওখানে গিয়েও অ্যাক্টিংটা কন্টিনিউ করছি ওখানে তো আমি সিনেমায় চান্স পেয়ে গেছি চুটিয়ে সিনেমা করছি
ভূতেরা সিনেমা দেখে? সিনেমা করে?”
আরে এতে অবাক হবার কী আছে? মানুষই তো মরে ভূত হয়, নাকি? কথায় আছে না, স্বভাব যায় না মলে?”
বুঝেছি
হ্যাঁ, এবার যা বলছিলাম আমি একটা বড়ো ফিল্ম শেষ করলাম, এস.এস.এল.জে. মানেসুন্দরী শাঁকচুন্নি লে জায়েঙ্গে তো তারপর একটু ঘুরতে এলাম পৃথিবীতে কুতুবমিনারের মাথায় বসে একদিন পা দোলালাম ভিক্টরিয়ার পরির পাশে দাঁড়িয়ে আমার নতুন আমলকি ট্যাবটায় সেলফি তুললাম
আমলকি ট্যাব?”
তোমাদের আপেল ট্যাব, আর আমাদের আমলকি
ওও তারপর?”
তারপর এমনি এদিক সেদিক মনের আনন্দের ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম আজকে তোমাদের স্কুলের জামগাছটার ডালে বসে একটু ঝিমুছিলাম, তখনই তোমাকে দেখলাম
আচ্ছা, তুমি তো বললে আমাকে ট্রেনিং দেবে আমি তাহলে তোমাকে কী বলে ডাকব? স্যার বলব?”
আরে না না তুমি আমায় বন্ধু বলেই ডেকো তবে আমার কথা কাউকে বলো না কিন্তু বললে সব গন্ডগোল হয়ে যাবে
জানি গো, জানি শিশুদাদুর গল্প পড়ে পড়ে আমি ভূতের ব্যাপারে সব শিখে গেছি
এতক্ষণে মিকির খিদেটা হঠাৎ করে লাফ দিয়ে উঠল টেবিলে গিয়ে গোগ্রাসে চাউমিনটা শেষ করল
মিকির বাবা-মা বাড়ি ফিরে অবাক মেয়ে দরজা লাগিয়ে পড়ছে পুঁটি দরজা খুলে দিয়ে বলল, “মিকি ডিসটাব করতে নিষেধ করেছে অনেক পড়া দিছে দিদিমণি

পরদিন রিহার্সালে যা মজাটা হল না! কলি তো ধরেই নিয়েছে সে সিলেক্ট হবে বন্ধুদের নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে রিহার্সাল শুরু হল সবাইকে অবাক করে দিয়ে ময়ূরী ওরফে আমাদের মিকি যা অ্যাক্টিংটা করল দেখে দিয়া ম্যাডামের মুখটা এক্কেবারে লোডশেডিং হয়ে গেল প্রিন্সিপাল স্যার রিহার্সাল দেখতে এসেছিলেন তিনি তো মিকির দারুণ প্রশংসা করলেন কলির কথা কী বলব, রাগে নাক ফুলিয়ে, মুখ বাঁকিয়ে চলে গেল মিকির বন্ধু আবার কলির চুলটা একটু টেনে দিল কলি বুঝতে না পেরে ওরই বেস্ট ফ্রেন্ডের ওপর চোটপাট করল দুজনের ঝগড়া লেগে দুদিন কথা বন্ধ হয়ে গেল মিকি মনে মনে খুব একচোট হেসে নিল মিকির বন্ধুর নাকি ছোটোবেলার মতো দুষ্টুমি করতে ইচ্ছে হয়েছিল
মিকি এখন আর ঠাম্মাকে শুতে নিচ্ছে না, একা একা শুচ্ছে নাহলে বন্ধুর কাছে ট্রেনিং নেওয়া, গল্প করা - কিচ্ছু হবে না বাড়িতে ঘোষণা করে দিয়েছে, সে বড়ো হয়ে গেছে তাই ঠাম্মার কাছে ঘুমোয় জানলে বন্ধুরা হাসবে

দেখতে দেখতে অনুষ্ঠানের দিন চলে এল আগেরদিন রাতে মিকি তার বন্ধুকে জিজ্ঞেস করল, “বন্ধু, তুমি তো আমাকে এত হেল্প করলে, আমি তোমাকে কী গিফট দিই বলো তো
আরে না না আমি কি তোমাকে গিফট পাওয়ার জন্য হেল্প করেছি নাকি?”
আমার যে তোমাকে গিফট দিতে খুব ইচ্ছে করছে
তাহলে তুমি আমাকে একটা জিনিস দিও
কী?”

গ্রিনরুমের বাইরে তখন কেউ নেই মিকি আর কলির মুখোমুখি দেখা কলি দাঁত কিড়মিড় করে মিকিকে মারল এক ধাক্কা মিকি হুমড়ি খেয়ে পড়ে যাচ্ছিল, কিন্তু কলি অবাক হয়ে দেখল, মিকি হঠাৎ করে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে গেল কিছু বুঝতে না পেরে কলি তাড়াতাড়ি পালাল ওখান থেকে মিকি যদি ওর নামে কমপ্লেন করে দেয়, মুশকিল হবে মিকি স্টেজে উঠে একবার দর্শকদের দিকে তাকাল মিকির বাড়ির সবাই সামনের দিকেই আছে, কিন্তু বন্ধু কোথায়? ও মা! প্রিন্সিপাল স্যার একটা গদি-আঁটা মস্ত চেয়ারে বসে আছেন আর বন্ধু চেয়ারের মাথায় বসে স্যারের ঘাড়ের দুপাশ দিয়ে পা দোলাচ্ছে স্যার তো কিছু বুঝতেই পারছেন না মিকিকে দেখে বন্ধু থামস আপ করল
মিকি প্রাইজটা নিয়ে নামতেই বাবা কোলে তুলে নিলেন একে একে মা, দাদু, ঠাম্মা, পাশের বাড়ির তোয়া-কাকিমা, মিন্টুকাকু সবাই মিকিকে আদর করলেন সেরা অভিনয় করার জন্য মিকি একটা ট্রফি পেয়েছে বাবা হাসতে হাসতে বললেন, “আজ সবাই বাইরে ডিনার করব মিকির পছন্দের ডিশ খেতে হবে সবাইকে
আঁতকে ওঠে মিকি, “না না, বাবা প্লিজ আজকে না বাড়ি চলো প্লিজ
মিন্টুকাকু বললেন, “দাদা, মিকি যখন চাইছে না আজ বাদ দিন অন্যদিন গেলে হবে
তোয়া-কাকিমা সায় দিয়ে বললেন, “হ্যাঁ, দাদা যে মেয়ে বাইরে খাওয়ার নামে একপায়ে খাড়া থাকে সে না বলছে মানে ওর শরীর টানছে না
গাড়ির মধ্যে বসে মিকির বুক ধুকপুক করছে বন্ধু চলে গেল না তো? আজ সাতটার সময় বন্ধুর ঘোস্ট  ফ্লাইটের টাইম আগে থেকেই টিকিট কাটা আছে
বাবা, গাড়িটা একটু দাঁড় করাও
কেন রে?”
আমাকে এক ঠোঙা জিলিপি কিনে দাও না
ওহ্‌, এই কথা?”
আমি কিন্তু সবকটা একলা খাব
আচ্ছা বাবা, আচ্ছা
রানু সুইটস-এ ঢুকে বাবা মিকির জন্য এক ঠোঙা জিলিপি আর বাকি সবার জন্য গরম রসগোল্লা আনলেন
বাড়ি ফিরেই মিকি জিলিপির ঠোঙাটা নিয়ে ছুটে নিজের ঘরে চলে এল মা চিন্তিত হয়ে বললেন, “মেয়েটার কী হয়েছে বলো তো?”
বাচ্চাদের মুড বোঝা শক্ত কখন কী খেয়াল হয় তুমি ও নিয়ে চিন্তা করো নাঠাম্মা আশ্বাস দেন মাকে

বন্ধু, তুমি আছ! আমি ভাবলাম চলে গেলে নাকিস্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে মিকি
তোমার সাথে দেখা না করে কী করে যাই বলো
জিলিপির ঠোঙাটা বাড়িয়ে দিয়ে মিকি বলে, “বন্ধু, তোমার গিফট
তোমার মনে আছে!” খুব খুশি হয় মিকির বন্ধুজানো, বেঁচে থাকতে জিলিপি খেতে ভীষণ ভালোবাসতাম আমার জন্যই বাড়িতে প্রায়ই জিলিপি আসত কিন্তু এখন ওখানে পাওয়াই যায় না, তাই খেতেই পাই না
মিকির মনখারাপ হয়ে যায় বন্ধু চলে যাবে
জিলিপি শেষ করে বন্ধু বলে, “মনখারাপ করো না, মিকি আমার পরের ফিল্মের শুট শেষ হলে আমি আবার চলে আসব তোমার সাথে দেখা করতে আমিও তো আমার ছোট্টবন্ধুকে খুব মিস করব, তাই না?”
মিকির মুখটা উজ্জ্বল হয়ে ওঠেসত্যি আসবে?”
হুম সত্যি আসব প্রমিস
_____
অলঙ্করণঃ দীপিকা মজুমদার

1 comment: