গল্পঃ ম্যাঁওটা // শুভ্রা ভট্টাচার্য



ম্যাঁওটা

শুভ্রা ভট্টাচার্য


ম্যাঁও
ম্যাঁওটা আবার ডাকল, মা আমি একটু দেখব?”
খবরদার নিনি, তুমি এখান থেকে এক পাও নড়বে না চুপটি করে বসে খাও আমি যেন এসে দেখি তোমার খাওয়া হয়ে গেছেএই বলে মা হাত ধুতে রান্না ঘরের দিকে গেল
মুহূর্তের মধ্যে নিনি চেয়ার থেকে নেমে একবার রান্নাঘরে উঁকি মেরে দেখে নিল যে মা বাসন ধুচ্ছে এই সুযোগ হাতছাড়া করা চলে না মা ফিরে এলেই আর তাকে যেতে দেবে না সে দ্রুত ভাতের থালাটা হাতে নিয়ে বাগানের দিকে উঁকি দিল বেড়ালছানাটা বাগানের মধ্যে ইতস্তত ঘুরঘুর করছিল নিনি মুখে চুক চুক শব্দ করতেই ওর দিকে ঘুরে তাকাল তারপর আবার ম্যাঁও-মিঁউ করে কান্না জুড়ল
নিনি একদলা দুধ দিয়ে মাখা ভাত ওর সামনে দিল দুধের গন্ধ পেয়ে হামলে পড়ে ম্যাঁওটা কপ কপ করে সবটা ভাত খেয়ে নিয়েই আবার নিনির দিকে তাকিয়ে ম্যাঁও ধরল বাচ্চাটার খুব খিদে পেয়েছে বোঝাই যাচ্ছে নিনি একমুহূর্তও দেরি না করে আরও একটা ভাতের দলা ওর দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতেই বাচ্চাটা এমন করে দলাটার ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়ল যে ওর মাথা-নাকময় দুধে ভাতে মাখামাখি হয়ে গেল নিনি আর একটু হলেই হি হি করে হেসে ফেলছিল আর কী কোনওমতে মুখে হাতচাপা দিয়ে হাসিটা আটকাল এরপর সারাটা দিন মায়ের কাছে অনেক বকুনি খেল নিনি
আজ বাবার কাছে সব বলব তোমার দুষ্টুমির কথা তুমি দিন দিন ভীষণ অবাধ্য হয়ে উঠছ
মালতীমাসি শুনতে পেয়ে দৌড়ে আসে মালতীমাসি পাশেই বাবুদাদাদের বাড়িতে কাজ করে বয়সে অনেক বড়ো হলেও নিনির মাকে বৌদি বলেই ডাকে মাঝে মাঝেই মাসি তাদের বাড়ির গাছের গন্ধরাজ লেবুটা, লঙ্কাটা এনে দেয় নিনির মাকে মাও মালতীমাসিকে ভালোবেসে এটা সেটা দেয়
ব্যাপার-স্যাপার শুনে মাসি মাকে বলল, “ছাড়েন না, বৌদি! অতটুকুন মাইয়া ভুল কইরা ফ্যালছে অনেক বকলেন তো! আর বইকেন না দ্যাখেন তো বাচ্চা বিড়ালডারে কী সুন্দর সাদা রঙ ফট ফট করে খাওন দিয়া তো পুণ্যি করছে গো শুধুমুধু রাগ কইরেন না মাইয়াডার উপ্রে
মাসির কথায় মা একটু শান্ত হল শেষমেশ কিন্তু বাবা ফিরতেই নালিশ জমা পড়ল মজার ঘটনা হল, বেড়ালছানাটাকে বাবার খুব মনে ধরল ভালো লাগবে নাই বা কেন? অমন সুন্দর ধবধবে সাদা বেড়ালছানা দেখলে কার না মায়া হয়? কাজেই নিনির দিকের পাল্লা ভারী হল শেষপর্যন্ত মাকে রাজি করানো গেল ম্যাঁও হয়ে উঠল এ-বাড়ির নতুন সদস্য
ম্যাঁও এখন নিনির বেস্ট ফ্রেন্ড নিনি যা বলে ম্যাঁও শোনে, ম্যাঁও যা বলে নিনি শোনে
নিনি রোববারে সক্কাল সক্কাল ম্যাঁওকে নিয়ে পার্কে চলল মা তো রেগে কাঁই
তোমার পড়াশুনা নেই? ভুলে গেছ যে সামনের মাসেই তোমার অ্যানুয়াল এগজাম?”
কিন্তু মা, ম্যাঁও তো বলেছে আজকে না পড়তে তাই তো আমরা পার্কে যাচ্ছি
মা তক্ষুনি বাবাকে নালিশ করল, “শুনলে তোমার মেয়ের কথা? তার বেড়াল তাকে পড়তে মানা করেছেন, তাই মহারানি পার্কে বেড়াতে যাচ্ছেন
শুনে বাবা তো হেসেই খুন

একদিন একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটল স্কুলের অ্যানুয়াল স্পোর্টসে নিনি একশো মিটার দৌড়ে নাম দিয়েছে স্পোর্টসের দিন সকালে নিনি লাল গেঞ্জি, ট্রাউজারস পরে মাঠের জন্য রেডি মা ড্রেসের সাথে ম্যাচিং করে নতুন লাল রঙের স্পোর্টস শু রেডি করে রেখেছিলেন নিনির জন্য বেরনোর সময় সেটা পরতে গিয়ে দেখে ম্যাঁও ওটার ওপর অ্যা করে রেখেছে নিনির তো কাঁদোকাঁদো দশা
তুই আর পটি করার জায়গা পাসনি? আমার জুতোটার ওপরেই করে দিলি? এখন আমি কী পরব?”
শেষ অবধি গজগজ করতে করতে সেই পুরনো নীল জুতোটাই খুঁজে বের করল মা
দৌড়ে থার্ড হল নিনি ফার্স্ট হতে না পারার একরাশ দুঃখ নিয়ে বাড়ি ফিরে মায়ের মুখে যে বিরাট লম্বা বক্তৃতাটা সে হাঁ হয়ে শুনল তার সারসংক্ষেপ করলে দাঁড়ায় যে, নিনিরা মাঠে চলে যাওয়ার পর মা লাল জুতোটা ধুতে গিয়ে দেখে ডান পায়ের জুতোটার মধ্যে একটা বিষাক্ত তেঁতুলবিছে জলের স্রোতে সুড়সুড়িয়ে ভেতর থেকে বেরিয়ে এসেছে কাজেই নিনি যদি সেই জুতো না দেখে পরত তাহলে একটা বড়োরকম বিপদ হত আজকে
এরপর থেকে মা আর ম্যাঁওকে বকে না কিন্তু নিনি বকা খায় সারাক্ষণ দুষ্টুমি করার জন্য নিনির এখন ক্লাস ফাইভ স্পোর্টসে ফার্স্ট হতে না পারলেও সে ক্লাস ফোরের অ্যানুয়াল পরীক্ষায় ফার্স্ট হয়ে দেখিয়েছে এখন তার পড়াশুনার বিরাট চাপ সারাদিনে মাত্র দু-তিন ঘণ্টা ছাড়া আর সময়েই পায় না ম্যাঁওয়ের সাথে গল্পটল্প করার ম্যাঁওটাও এখন বেশ বড়সড় নাদুসনুদুস দেখতে হয়েছে সেও বিশেষ পাত্তাটাত্তা দেয় না নিনিকে বেশিরভাগ সময়েই সে লেজ ফুলিয়ে গম্ভীরপানা মুখ করে নিনির পড়ার টেবিলে শুয়ে থাকে কখনও আবার নিনি স্কুলের জন্য ইস্ত্রি করে রাখা জামাটা খুঁজতে গিয়ে দেখে সেটা গায়ে জড়িয়ে ম্যাঁও বাঙ্কের এ-মাথা থেকে ও-মাথা অবধি দিব্যি ক্যাট-ওয়াক প্র্যাকটিস করছে
দেখতে দেখতে ক্লাস ফাইভের হাফ ইয়ারলি পরীক্ষা এসে গেল পরীক্ষার একমাস আগে থেকে টিচাররা প্রত্যেক দিন একেকটা সাবজেক্টের ওপর ক্লাস টেস্ট নিচ্ছেন মাও এখন নিয়মিত দুবেলা সময় দিয়ে নিনিকে সমস্ত পড়া করিয়ে দিচ্ছেন আগামীকাল ইংলিশ ক্লাস টেস্ট নিনিকে যেহেতু ইংলিশ অনেকবার পড়ানো হয়ে গেছে তাই মা ওকে নিয়ে অঙ্ক করাতে বসল আর তক্ষুনি নিনি কোলবালিশ নিয়ে শুয়ে পড়ল ওর অঙ্ক করতে ভালো লাগছে না, ইংলিশই পড়বে মা ওকে জোর করে তুলে বসিয়ে কিছু অঙ্ক করতে দিয়ে ম্যাগি বানাতে গেল রান্নাঘরে সেই তালে নিনি ম্যাঁওকে ডেকে নিয়ে বসাল ওর পাশে ম্যাঁও গম্ভীর পদক্ষেপে এসে অঙ্কের বইয়ের গুণিতকের পাতার উপর বেশ গুছিয়ে বসল ওর নিচে চাপা পড়ে গেল ইংলিশ টেক্সট বুকটা
এদিকে মা ম্যাগি বানিয়ে এসে পড়ল বলে কিন্তু ম্যাঁওকে কিছুতেই অঙ্কের পাতা থেকে সরানো যায় না সে তখন চার পা ছড়িয়ে অঙ্কের বইয়ের উপর শুয়ে মা এসে এই কাণ্ড দেখে হেসেই অস্থির
বেশ হয়েছে এই বেলা আমাকে কয়েকটা গুণিতকের অঙ্ক করে দেখাও তো
নিনি তো হাত-পা ছুড়ে কাঁদতে বসল
মা বোঝালো, “দেখো নিনি, তুমি তো সবসময় ম্যাঁওয়ের কথা শোনো তুমিই তো বলো যে ম্যাঁও সব ঠিক বলে দেখো, ম্যাঁও-ও চাইছে যে তুমি এখন অঙ্ক করো তুমি ম্যাঁওয়ের কথা শুনবে না?”
নিনি বুঝল, আর তার কোনও যুক্তি খাটবে না সে বেশ বিপাকেই পড়েছে অতএব চোখের জল মুছে মনে মনেম্যাঁও তোর মজা দেখাচ্ছি, দাঁড়াবলে বাধ্য মেয়ের মতো অঙ্ক কষতে বসল
পরদিন স্কুলে দারুণ মজার ব্যাপার ঘটল ইংলিশ টিচার হঠাৎ অ্যাবসেন্ট হয়ে গেলেন পরিবর্তে সেই ক্লাসে অঙ্কের টিচার চলে এসে সারপ্রাইজ ম্যাথস টেস্ট নিলেন নিনির বন্ধুরা কেউই অঙ্কের জন্য প্রস্তুত ছিল না উপরন্তু টিচার বেশি করে গুণিতকের প্রশ্নমালার অঙ্কগুলোই করতে দিলেন সে তো সব উত্তর দিতে পারল টিচার নিনির খাতার উপরভেরি গুড গার্ললিখে দিলেন নিনি বাড়িতে ফিরে ম্যাঁওকে জড়িয়ে ধরে নাচতে আরম্ভ করল

হাফ ইয়ারলি পরীক্ষা খুব ভালো হওয়ায় বাবা-মা ঠিক করল, পুজোর ছুটিতে তারা নিনিকে নিয়ে গ্যাংটক যাবে কিন্তু মুশকিল হল ম্যাঁওকে নিয়ে
ম্যাঁও কেন আমাদের সাথে যেতে পারবে না, বাবা? তুমি ওর জন্য টিকিট কাটোনি?”
টিকিট কাটলেও ম্যাঁও আমাদের সাথে গ্যাংটক যেতে পারবে না, সোনা কারণ, গ্যাংটকে বরফ পড়ে ম্যাঁওয়ের ঠাণ্ডা লেগে যাবে
আমরা ম্যাঁওকে সোয়েটার পরিয়ে নিয়ে যাব
তবুও ম্যাঁওয়ের বরফ সহ্য হবে না ম্যাঁও ঠাণ্ডায় অসুস্থ হয়ে পড়বে
নিনি গ্যাঁট হয়ে বসে রইল ম্যাঁওকে না নিয়ে সে কিছুতেই যাবে না আর তাছাড়া ম্যাঁও আমাদের সঙ্গে না গেলে এখানে একা থাকবে কী করে? ম্যাঁওকে খেতে দেবে কে?
ফোন করা হল নিনির সব বন্ধুবান্ধবদের কিন্তু তাতে কোনও সুবিধে হল না কারও বাড়িতে কুকুর রয়েছে তো কারও বাড়িতে পাখি কেউ জিজ্ঞেস করে, “নিনি, তোর ম্যাঁও গিনিপিগ খায় না তো?” তো কেউ বলে, “না বাবা, না, আমার বাড়িতে অ্যাকোয়ারিয়াম-ভর্তি মাছইত্যাদি আত্মীয়স্বজন আর পাড়াপ্রতিবেশীদের মধ্যে হঠাৎ বেড়ালে অ্যালার্জিটা মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়ল অনেক অনুনয় বিনয়ের পর পাশের বাড়ির বাবুদাদাদের বাড়িতেই ম্যাঁওকে রাখার একটা বন্দোবস্ত করা গেল মালতীমাসিই বুঝিয়ে সুঝিয়ে রাঙাপিসিকে রাজি করাল
এদিকে গ্যাংটকে ঘুরতে গিয়েও নিনির মন পড়ে রইল কলকাতায় ম্যাঁও এখন কী করছে? ঠিকমতো খাচ্ছে কি না? এইসব প্রশ্নে প্রশ্নে বাবার ফোনের বিল বাড়তে থাকল কেনাকাটায় তার আর মন নেই ফেরার দিন নিনি অস্থির হয়ে যায়, কতক্ষণে তারা কলকাতায় ল্যান্ড করবে

বাড়ি ফিরে দেখে সে এক হুলুস্থুলু কাণ্ড রাঙাপিসি লাঠি নিয়ে তাড়া করেছে ম্যাঁওকে ম্যাঁওয়ের পায়ে চোট লেগেছে বলে সে বেচারি কোনওমতে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে লাঠির ঘা থেকে বাঁচার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে শত বকা খেয়েও যে বেড়াল মুখে দুয়েকটাম্যাঁও-মিঁউছাড়া আর কোনও রা করেনি, সে আজকে তারস্বরে চেঁচাচ্ছে মা-বাবা ছুটে গেল তাকে বাঁচাতে  রাঙাপিসির তখন সে কী প্রচণ্ড রাগ! নিনিরা ঠিক সময়ে না পৌঁছলে বেড়ালটাকে বোধহয় মেরেই ফেলত ইতিমধ্যে মালতীমাসিও চলে এসেছে সবাই মিলে কোনওক্রমে তাকে নিরস্ত করে কী ঘটেছে জানতে চাইল
এমন কী করেছে ও যে এভাবে মারতে হল?” মা জানতে চাইল
রাঙাপিসির জবাব শুনে তো সবাই থ রান্নাঘরে গিয়ে দেখাল, মেঝেতে ছত্রখান হয়ে গড়াগড়ি খাওয়া মাছের ঝোলের বাটি, মাংস-ডাল-তরকারি মায় ভাতের হাঁড়িটা অবধি ম্যাঁও নাকি এই কাণ্ড করেছে আজ সন্ধ্যায় রাঙাপিসির ছেলে আর বৌমা ফিরছে লন্ডন থেকে তাই রাঙাপিসি দশ-বারো পদ রান্না করিয়েছেন বাড়ির রান্নার বউকে দিয়ে সমস্ত গুছিয়ে রেখে উনি লুচির জন্য উপকরণ কিনতে বাজারে গিয়েছিলেন আর তাড়াহুড়োয় রান্নাঘরের দরজা বন্ধ করতে ভুলে গিয়েছিলেন ঘরে ফিরে দেখেন ম্যাঁও রান্নাঘরের খাবার খেয়ে সমস্ত ফেলে দিয়ে একাকার কাণ্ড করে ছেড়েছে এই বলে রাঙাপিসি হায় হায় করতে আরম্ভ করল
ম্যাঁও এরকম ঘটনা কখনও ঘটায়নি নিনির মা-বাবা অত্যন্ত অপমানিত হয়ে নিনি আর ম্যাঁওকে নিয়ে ঘরে ফিরে এল নিনি তো একটানা কেঁদেই চলেছে ম্যাঁওকে যেভাবে মারা হয়েছে তাতে ওর আর উঠে দাঁড়াবার মতো গায়ের জোর পর্যন্ত নেই অনেকক্ষণ একভাবে কোঁকিয়ে কাঁদতে কাঁদতে নিস্তেজ হয়ে পড়ছে কেবল ওরা তড়িঘড়ি ওকে নিয়ে ভেটেরিনারি হাসপাতালে ছুটল
নিনির মা কিছুতেই বিশ্বাস করতে রাজি নয় যে ম্যাঁও এরকম একটা কাণ্ড ঘটিয়েছে রাঙাদি নিশ্চয়ই ম্যাঁওকে ঠিকঠাক খেতে-টেতে দিত না তাই বেচারি খিদের চোটে এই কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলেছে নাহলে নিনিদের বাড়িতে এত বছরে একদিনও ম্যাঁও রান্নাঘর থেকে কিচ্ছুটি চুরি করেনি তো! কিন্তু তাই বলে একটা অবলা জীবকে এভাবে মারবে? আপন খেয়ালেই নিনির মায়ের মুখ থেকে বেরিয়ে এল, “ছিঃ!”
ডাক্তার পরীক্ষা করে জানালেন শুধু মারেনি, সাথে কিছু খাইয়েছেও চিকিৎসায় ম্যাঁও কিছুতেই সাড়া দিচ্ছে না ওর পেট ওয়াশ করে দেখতে হবে কী গেছে পেটে নিনির বাবা তো প্রচণ্ড ক্ষেপে গেছে নিনির মা বলল, এসব কথা যেন নিনি কোনওভাবেই জানতে না পারে
ঠিক তক্ষুনি বাবার একটা ফোন এল ফোনের ওপাশের কথা শুনতে শুনতে চোয়াল কঠিন হচ্ছিল তার মা জানতে চাইলে বলল, “আমরা চলে আসার পর মালতীদি এঁটো খাবারগুলো ডাস্টবিনে ফেলে দিতে গিয়েছিল ফেলার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকটা রাস্তার কুকুর হামলে পড়ে খাবারগুলো খাচ্ছিল আর সেসব খেয়ে কুকুরগুলো ওখানেই শুয়ে পড়ে মালতীদি তক্ষুনি সেই খবর জানায় রাঙাদিকে পুলিশ অ্যারেস্ট করেছে ওদের রান্নার বৌটাকে ও স্বীকার করেছে যে ও-ই নাকি কড়া ডোজের ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে রেখেছিল সব খাবারের মধ্যে বিদেশ থেকে ছেলে আসছে, তাই আজ রাতেই সবাইকে ঘুম পাড়িয়ে বড়োরকম দাঁও মারার তালে ছিল
ম্যাঁওয়ের পেট ওয়াশ করা হয়েছে নিনিরা ঘরে এসে দেখে, ম্যাঁও রানির মতো ঘুমিয়ে রয়েছে ওটির বেডে ওর শরীরের ধবধবে সাদা লোমগুলো ফ্যানের হাওয়ায় ফুরফুর করছে
ম্যাঁও তাকাচ্ছে না কেন? ও কি ঘুমোচ্ছে, মা? আমরা ওকে কখন বাড়ি নিয়ে যাব?”
মা সস্নেহে হাত বোলাল ম্যাঁওয়ের শরীরে বলল, “হ্যাঁ সোনা, ম্যাঁও ঘুমোচ্ছে ওর খুব অভিমান হয়েছে তো আমাদের উপর, তাই চোখ খুলছে না ওকে আর ডেকো না ঘুমোতে দাও
_____
অলঙ্করণঃ দীপিকা মজুমদার

7 comments:

  1. বেশ গল্প। খুব ভালো লাগল।

    দীপিকার অলংকরণও দুর্ধর্ষ।

    ReplyDelete
  2. আমার ম্যাঁওকে চাই ! সঙ্গে নিনিকেও। কত্ত কত্ত ভালবাসা...আহা,মন ভরে গেল

    ReplyDelete
  3. আদরের পোষা প্রাণীগুলো একদম সন্তানের মত হয় রে বোনু। তাদের অন্য কারোর বাড়িতে রাখাটা যে কী দুশ্চিন্তার
    ভালো করে বুঝি। খুব সুন্দর গল্পটা, খুব। ম্যাঁও সুস্থ হয়ে নিনির কাছে শিগ্গির আসুক। দীপিকা খুব সুন্দর এঁকেছে। -সুস্মিতাদি।

    ReplyDelete
    Replies
    1. খুব ভালো লাগলো তোমার মতামত পেয়ে দিদি

      Delete
  4. যেমন চমত্কার গল্প তেমনি সুন্দর অলঙ্করণ

    ReplyDelete