গল্পঃ অন্যায় যে সহেঃ রূপসা ব্যানার্জী


অন্যায় যে সহে

রূপসা ব্যানার্জী
                                                         

।।এক।।
মামার বাড়ি থেকে ফেরার পর মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে রয়েছে। ভেবেছিলাম এই শনিবারে  প্রতীকদের বাড়ি যাব না, কিন্তু বিশ্বজিৎদা ফোনে জানাল, অনিলিখাদি আসছে। তাই আমিও এলাম। সত্যি বলতে কী, এই মুহূর্তে ওর পরামর্শ আমার খুব দরকার।
প্রায় তিনমাস পর আমাদের আড্ডায় এসেছে অনিলিখাদি। আমরা সব বন্ধুরাই দারুণ খুশি। হৈ-হুল্লোড় থামলে পুরো ঘটনা খুলে বললাম সবাইকে।
আমার মামাতো ভাই সায়ন প্রায় মাস খানেক ধরে অদ্ভুত আচরণ করে চলেছে। রাতে ঘুমোতে পারে না, কী এক অজানা ভয় ওকে সবসময় তাড়া করে বেড়াচ্ছে। শুনেছি ও নাকি প্রথমে ঘুমের মধ্যে চিৎকার করে বলত, “তুমি চলে যাও, চলে যাও...” আবার কখনও বলত, “ঐ যে, ও এসেছে, আবার এসেছে!”
মামি ওকে এই নিয়ে প্রশ্ন করলে একদম চুপ করে থাকত। গত দশদিন ধরে এই রোগটা ভয়ানক পর্যায়ে চলে গেছে। এখন নাকি দিনেরবেলায় জেগে জেগেও ভয়ে সিঁটিয়ে থাকে। অথচ কাকে ভয়, কীসের ভয়, কিছুতেই বলছে না। সাইকিয়াট্রিস্টের কাছেও যেতে চাইছে না।
“বলিস কী রে! এ তো সত্যি খুব চিন্তার ব্যাপার।” বিশ্বজিৎদা বলে উঠল। বাকি বন্ধুদের মুখেও উদ্বেগ ফুটে উঠেছে।
অনিলিখাদি ভুরু কুঁচকে চুপ করে রয়েছে। কিছু ভাবছে হয়তো। তারপর হঠাৎ সহজ গলায় বলে উঠল, “কাল সকালে তোর মামার বাড়ি নিয়ে যাবি আমায়?”

।।দুই।।

আমি আর অনিলিখাদি এখন আমার মামার বাড়ির ড্রয়িংরুমে বসে মামা ও মামির সাথে কথা বলছি। অনিলিখাদি বলল, “প্লিজ একটু ভেবে বলুন, ওর এই ভয় পাওয়া ঠিক কবে থেকে শুরু হয়? তার আগে কি কোনও ভয়ের ঘটনা ঘটেছিল?”
মামি বললেন, “না তো! দিব্যি স্কুল, খেলাধুলা, গানবাজনা নিয়ে ছিল ছেলেটা। এক বন্ধুর দিদির বিয়েতে নেমন্তন্ন খেয়ে আনন্দ করে এল। তারপর থেকেই তো...”
অনিলিখাদি এবার সোফা ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে বলল, “আমি একবার সায়নের ঘরে যেতে পারি? ওর সঙ্গে কিছু কথা বলতে চাই। তবে তার আগে একবার ওয়াশরুমে যাব।”
মামি ওকে ওয়াশরুম দেখিয়ে দিতেই ও সঙ্গে আনা বেশ বড়ো ব্যাগটা নিয়ে প্রায় ছুটে সেদিকে চলে গেল। একটু পরে যখন বেরিয়ে এল, আমরা তো অবাক! এ কী সাজ অনিলিখাদির! কালো আলখাল্লা! মস্ত বড়ো এলোচুল! গলায় রুদ্রাক্ষের মালা! খুব নরম গলায় মামা-মামির দিকে তাকিয়ে ও বলল, “ভরসা রাখুন। আমি চেষ্টার ত্রুটি রাখব না।” তারপর আমায় বলল, “চল, সায়নের ঘরে নিয়ে চল।”
সায়নের দিকে তাকিয়ে আবার মনটা খারাপ হয়ে গেল। এই তিন-চারদিনে আরও বেশি রোগা হয়েছে, চোখের তলার কালি আরও ঘন হয়েছে। তেরো বছরের ছেলেটার মুখে যেন ফুটে উঠেছে তেষট্টি বছরের বার্ধক্য।
অনিলিখাদি আমায় ঘরে ঢোকার আগেই বলে দিয়েছিল, আমি যেন তার কোনও আচরণে বিস্ময় প্রকাশ না করি। তারপর? সে কী অদ্ভুত অভিনয় করে গেল আমাদের যুক্তিবাদী অনিলিখাদি! ঘরে ঢুকেই জোরে জোরে শ্বাস নিতে লাগল, যেন কীসের গন্ধ শুঁকছে। বিড়বিড় করে কীসব মন্ত্র পড়তে পড়তে এগিয়ে গেল সায়নের দিকে। বলল, “ভয় নেই, আমি সব ঠিক করে দেব।”
সায়ন বিস্মিতভাবে জিজ্ঞেস করল, “আপনি ডাক্তার?”
খিলখিল করে অদ্ভুতভাবে হেসে ওঠে অনিলিখাদি। তারপর ফ্যাসফ্যাসে গলায় বলল, “এ-কাজ ডাক্তারের নয়! আমি লড়াই করি প্রেতাত্মার সঙ্গে! আমি বেশ বুঝতে পারছি এই ঘরে একটা দুষ্টু আত্মা ঘুরে বেড়াচ্ছে। ওকে ধরে একটা বোতলে ঢুকিয়ে একটু একটু করে পুড়িয়ে মারব।”
“না না!” অনিলিখাদির কথার মাঝেই শিউরে ওঠে সায়ন। “পোড়াবেন না, শুধু চলে যেতে বলুন ওকে।”
অনিলিখাদি এবার সায়নের চোখের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, “ঐ আত্মা যে খুব খারাপ। আমি ওকে মারব না কেন?”
“না, খারাপ নয়। ভালো, বড্ড ভালো!” সায়ন হাঁফাতে হাঁফাতে বলল।
“তার মানে তুমি সেই আত্মাকে চেনো? সে ভালো না খারাপ তুমি জানো? সে বুঝি তোমার খুব পরিচিত কারও আত্মা? সত্যি কথা বলো আমায়। না হলে আমি তোমায় বাঁচাব কী করে?” বেশ কঠিন স্বর এবার অনিলিখাদির গলায়।
সায়নের চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ে। সে হাতজোড় করে বলল, “আপনি সঙ্গীতাদিকে চলে যেতে বলুন, তাহলেই হবে। ওকে কোনও কষ্ট দেবেন না প্লিজ। অনেক কষ্ট পেয়েছে সে।”
সঙ্গীতাদি? সে আবার কে? কাউকে চিনি কি ঐ নামে? মনে করতে পারলাম না।
অনিলিখাদিও দেখি এই কথাই জিজ্ঞেস করল, “আত্মার সম্পূর্ণ পরিচয় দাও তাহলে, দেখি কী করতে পারি।”
“আমি তেমন করে কিছু জানি না। শুধু ওর নাম জানি - সঙ্গীতা বিশ্বাস। খুব সুন্দর গান গায়। গত দুর্গাপূজার সময় দমদমে একটা গানের কম্পিটিশন হয়েছিল। আমি সেকেন্ড হয়েছিলাম আর ঐ দিদিটা ফার্স্ট হয়েছিল। সে বলেছিল আমি নাকি দারুণ গেয়েছি। ঐ একটাই কথা হয়েছিল।” সায়ন মাথা নিচু করে বলল।
অনিলিখাদি হাসল। “তুমি আরও অনেক কিছু জানো। সেই দিদি কী করে মারা গেল, আত্মা হয়ে গেল—তুমি জানো না?”
“না, না, না! আমি কিছু জানি না।” ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল সায়ন।
“একদিক থেকে সঙ্গীতা মারা গিয়ে ভালোই হয়েছে। পরেরবার তুমি ফার্স্ট হয়ে যেতে পার। কী বলো?”
সায়ন শিউরে উঠল, “ছি ছি! সঙ্গীতাদির মতো ভালো মেয়ে, যে সেদিন সব কম্পিটিটরদের উৎসাহ দিচ্ছিল, আমি তার খারাপ চাইব?”
অনিলিখাদি সায়নের পিঠে হাত রেখে ফিসফিস করে বলল, “জানি তো। তাই তোমায় জিজ্ঞেস করছি, তুমি আর কী জানো সঙ্গীতার ব্যাপারে?”
এরপর সায়ন যা বলল, শুনে আমি হতবাক!
এক বন্ধুর দিদির বিয়ের নেমন্তন্ন খেয়ে সে তার ক্লাসমেট আলোকের গাড়িতে বাড়ি ফিরছিল। আলোকের দাদা পুলকও সঙ্গে ছিল। রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ সল্টলেকের ভিতরদিকের ফাঁকা রাস্তায় এসে পুলক নাকি ওদের ড্রাইভারকে সরিয়ে জোর করে স্টিয়ারিংয়ে বসে যায়। ড্রাইভারকাকু বারবার বারণ করেছিলেন, কারণ পুলক সবেমাত্র ড্রাইভিং শিখছে। তার হাত পাকেনি এখনও। কিন্তু পুলক কিছুতেই শোনেনি। তারপর সেই গাড়ি সোজা একটা সাইকেলকে ধাক্কা মেরে বসে। সাইকেল-আরোহী একেবারে ছিটকে শূন্যে উঠে প্রচণ্ড বেগে আছড়ে পড়ে রাস্তায়।
ধরা গলায় সায়ন বলে চলল, “আমি গাড়ির দরজা খুলে নেমে পড়লাম। কাছে গিয়ে দেখি এ তো আমাদের সেই সঙ্গীতাদি! ওর নাকমুখ দিয়ে রক্ত পড়ছিল; মাথা ফেটে গেছিল! ডেকে সাড়া পেলাম না, তবে নিঃশ্বাস পড়ছিল। আমি চিৎকার করে  বললাম, এক্ষুনি হসপিটালে নিয়ে চলো। কিন্তু পুলকদা বলল, এ তো আর বাঁচবে না মনে হচ্ছে। পুলিশের ঝামেলা হবে; আমাদের সোজা লকআপে ঢুকিয়ে দেবে। পালিয়ে চল শিগগির! তারপর পুলকদা আর আলোক দু’জনে মিলে আমায় টেনে-হেঁচড়ে গাড়িতে তুলে দিল। ড্রাইভারকাকু হাওয়ার বেগে গাড়ি চালিয়ে হুশ করে বেরিয়ে গেল। ঐখানে সঙ্গীতাদি রক্তে মাখামাখি হয়ে পড়ে রইল; আমি কিছু করতে পারলাম না।
“তারপর থেকে সঙ্গীতাদি আসে, আমার ঘরে ঘুরে বেড়ায়, আর কেমন অদ্ভুতভাবে তাকিয়ে থাকে আমার দিকে। এখন রোজ আসে। আমি ঘুমোতে পারি না, খেতে পারি না...” সায়ন ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল।
আমি আর অনিলিখাদি মুখ চাওয়াচাওয়ি করলাম। কী সাংঘাতিক ঘটনা এতদিন ধরে লুকিয়ে রেখেছে ছেলেটা!
সায়ন একটু শান্ত হলে আমি জিজ্ঞেস করলাম, “মেয়েটার বাড়ি কোথায় জানিস?”
কিন্তু ও সেটা সত্যিই জানে না। ঐ কম্পিটিশনে কলকাতার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছেলেমেয়েরা যোগ দিয়েছিল।
অনিলিখাদি ভুরু কুঁচকে বলল, “ঐ অন্ধকারে শুধু গাড়ির আলোয় তুমি একবার ওকে দেখেই চিনে ফেললে?”
“আমার কাছে ঐ মিউজিক স্কুলের দেওয়া একটা ছবি আছে।” এই বলে বুক শেলফের পিছন থেকে একটা বাঁধানো ছবি বের করল সে। আমরা দেখলাম, স্টেজের উপর ট্রফি হাতে তিনটি ছেলেমেয়ে। মাঝের জন সায়ন। অর্থাৎ, এরা ফার্স্ট, সেকেন্ড আর থার্ড। সায়নের বাঁদিকে খুব মিষ্টি মেয়েটাই হল সঙ্গীতা।
সায়ন বলল, “এই ছবি তো রোজই দেখতে পেতাম। আগে টেবিলের উপর থাকত। এখন কেমন ভয় লাগে, তাই লুকিয়ে রেখেছি।”
অনিলিখাদি বলল, “এটা ক’দিন আমার কাছে থাক, কেমন? আর হ্যাঁ, থানা থেকে একজন ইন্সপেক্টর আসবেন। আমায় যা বললে, ওঁকেও সব বোলো, কেমন?”
সায়ন ভয়ে চিৎকার করে উঠল, “না না, পুলিশ নয়!”
“তুই সব খুলে না বললে সেই আত্মা কিন্তু শান্তি পাবে না, বারবার ফিরে আসবে তোর কাছে।” আমি ওকে বোঝানোর চেষ্টা করি।

।।তিন।।

এক সপ্তাহ কেটে গেছে। পড়াশুনার চাপের জন্য মামাবাড়ি যেতে পারিনি। তবে প্লেন ড্রেসে একজন পুলিশ সেখানে গিয়ে সায়নের সঙ্গে দেখা করেছেন শুনেছি। আর সবচেয়ে বড়ো কথা, সেই প্রেত আর আসেনি। আমার ভাই ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে। পুলককেও নাকি অ্যারেস্ট করেছে পুলিশ।
রবিবার সকালে হঠাৎ অনিলিখাদি এসে হাজির। বলল, “চল, সায়নের সঙ্গে দেখা করে আসি। ওকে কিছু বলার আছে আমার।”
মামা ও মামি ভীষণ খুশি। বারবার অনিলিখাদির হাত ধরে কৃতজ্ঞতা জানাতে লাগলেন। সায়নও হাসিমুখে ঘরে থেকে বেরিয়ে এসেছে।
অনিলিখাদি রহস্যময় হাসি হেসে বলল, “কী? আর আত্মা আসে না তো? আসবে কী করে শুনি? আত্মা আগে শরীর ছেড়ে বেরোবে, তবে তো আসবে!”
তারপরেই অনিলিখাদি নিজের মোবাইলে একটা ভিডিও চালিয়ে আমাদের সামনে ধরল।
বিছানায় চাদর ঢাকা দিয়ে শুয়ে আছে একটা মেয়ে। আরে, এ যে সঙ্গীতা! ফ্যাকাশে মুখে হালকা হাসি। দুর্বল স্বরে বলছে, “আমি সব শুনেছি। তোমার কোনও দোষ নেই, ভাই। আর  দেখো, আমি বেঁচে আছি।”
আমরা সবাই প্রবল বিস্ময়ে হাঁ করে তাকিয়ে আছি।
অনিলিখাদি বলল, “সেই ছবির ফ্রেমের নিচের দিকে ছোটো ছোটো করে সেই কম্পিটিশনের আয়োজকদের ঠিকানা লেখা ছিল। সেখানে গিয়ে দেখা করলাম। সঙ্গীতার ঠিকানা ডেটাবেস থেকে খুঁজে ওর বাড়ি গেলাম। শুনলাম, সেদিন পুলকের গাড়ি ওকে ধাক্কা মেরে চলে যাবার একটু পরেই এক ডাক্তার ঐ পথে যাচ্ছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে উনি হসপিটালে নিয়ে গিয়ে ওর চিকিৎসা শুরু করেন, তাই বেঁচে যায় ও। তবে স্পাইনের হাড় ভেঙেছে, মাথাতেও খুব চোট পেয়েছে। ভালো হতে অনেকদিন সময় লাগবে।”
আমি মোবাইলটা হাতে নিয়ে চমকে উঠলাম। “এ কী! এ যে প্রায় পাঁচদিন আগে তোলা ভিডিও! তুমি জানতে মেয়েটি বেঁচে আছে, কিন্তু বলনি? কেন?”
“বলিনি, কারণ সত্যি ঘটনা স্বীকার করার পর ওর মন থেকে নিজে নিজেই এই ভয় চলে যাক, এটাই আমি চেয়েছিলাম।” অনিলিখাদি সায়নের দিকে ফিরে বলল, “তুমি তো রবীন্দ্রনাথের ভক্ত! উনি বলেছেন না, ‘অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে / তব ঘৃণা তারে যেন তৃণসম দহে।’ এখানে কার ঘৃণার কথা বলেছেন উনি?”
সায়ন মাথা নিচু করে বলল, “ভগবানের ঘৃণা।”
“এই ভগবান কোথায় থাকেন জানো? আমাদের মনের মধ্যে। প্রেতাত্মা ছিল তোমার অবচেতন মনের কল্পনামাত্র। আসলে তোমার বিবেকই তোমায় ঘৃণার আগুনে পুড়িয়েছে এতদিন। তুমি অন্যায় না করলেও সেটা সহ্য করে আরও বড়ো ভুল করেছ। যে মুহূর্তে তুমি প্রতিবাদ করলে, তোমার মন নিজে থেকেই শান্ত হয়ে গেল।” অনিলিখাদি হাসিমুখে বলল।

দুপুরে মামি আমাদের না খাইয়ে ছাড়েননি। এখন আমরা মামাবাড়ির বাগানে শেষদুপুরের মিঠে রোদে বসে সায়নের গান শুনছি। খুব ভালো লাগছে ওর গলায় এই লাইনগুলো শুনতে - চারিদিকে দেখো চাহি হৃদয় প্রসারী/ ক্ষুদ্র দুঃখ সব তুচ্ছ মানি/ প্রেম ভরিয়া লহ শূন্য জীবনে...
_____
অলঙ্করণঃ শুভ্রদীপ চৌধুরী

4 comments:

  1. খুব ভালো লিখেছো দিদি

    ReplyDelete
    Replies
    1. অনেক ধন্যবাদ রুমেলা।

      Delete
  2. বাঃ অযৌক্তিক ভূতের গল্প নয়। পুরষ্কার যোগ্য হাতে।

    ReplyDelete
    Replies
    1. অনেক ধন্যবাদ দাদা।

      Delete