গল্পঃ হীরকদ্যুতিঃ মৈত্রেয়ী চক্রবর্তী



।।এক।।

দিন তিনেক পর আজ প্রথম বুঝতে পারছি, গন্তব্যে পৌঁছে গেছি আর এখন আমার বাঁধন সব খুলে দেওয়া হবে। যত সময় চোখ বাঁধা ছিল, কিচ্ছু দেখতে পাইনি।
চোখের বাঁধন খুলতে বুঝলাম, আমি রাজবাড়িতে উপস্থিত। এতদিন কিছুতেই বুঝতে পারিনি এরা কারা আর কেন আমায় ধরে নিয়ে চলেছে। যদিও যথেষ্ট ভদ্রভাবে, বলতে গেলে সসম্মানে নিয়ে এসেছে। তবুও আমার মতো একটা মানুষকে এইভাবে নিয়ে আসার কারণ কী হতে পারে? চোখ বাঁধার আগে এদের দেখে আন্দাজ করছিলাম রাজা বজ্রায়ুধ-এর প্রতিনিধি বলে, কারণ প্রত্যেকের হাতে চকচকে বল্লম, দারুণ সুন্দর পোশাক, তেজী ঘোড়া আর ঘোড়ার সাজে রাজার প্রতীক। কিন্তু আমি জিজ্ঞেস করায় শুধু এইটুকুই জানাল যে, ওদের সঙ্গে যেতেই হবে।
রাজবাড়িতে আমার আসবার খুব ইচ্ছে ছিল ছোটোবেলার থেকেই। সেই আমার প্রপিতামহের মুখে শুনতাম কত ঘটনা, আর সারারাত স্বপ্ন দেখতাম। যদিও আমার প্রপিতামহ রাজা বজ্রায়ুধের রাজ্য থেকে পালিয়ে অন্যত্র বসবাস শুরু করেন এবং বংশপরম্পরায় রাজা বজ্রায়ুধের পারিবারিক গনৎকার হওয়ার থেকে মুক্ত করেন আমাদের পরিবারকে। রাজা বজ্রায়ুধের পরিবার বলছি, কারণ এই বংশের প্রতিষ্ঠাতা বা সবথেকে শক্তিশালী রাজা ছিলেন রাজা বজ্রায়ুধ। তাঁকে আমার প্রপিতামহ কেন তাঁর প্রপিতামহও বুঝি চাক্ষুষ করেননি। কিন্তু এই রাজ্য এখনও রাজা বজ্রায়ুধের নামেই চলে। পরবর্তী কোনও রাজা বুঝি নিজের নামে রাজ্য শাসন করার ধৃষ্টতা করেন। সেই বছরই মহামারীতে উজাড় হয়ে যায় গোটা রাজ্য। এসব আমার প্রপিতামহ তাঁর প্রপিতামহর থেকে শুনেছেন। কাজেই তারপর থেকে আর কোনও রাজা নিজের নামে রাজ্য চালানো বা রাজা বজ্রায়ুধের সিংহাসনে আরোহণ করবার সাহস দেখাননি।
এই রাজপরিবারের মানুষ আদতে খুব গোছানী। তাঁদের সহসা গনৎকারের প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু মানবিক কারণে রাজগনৎকারের পদটি তাঁরা বিলুপ্তও করেননি। আমার পূর্বপুরুষরা ক্রমশ অলস, বেতনভুক রাজার পদলেহনকারী চাটুকারে পরিণত হয়েছিলেন। ব্যতিক্রমী পুরুষ ছিলেন আমার প্রপিতামহ। তিনি দিনরাত পড়াশোনা করতে ভালোবাসতেন। জ্ঞান আহরণের তাগিদে তিনি গৃহত্যাগী হন এবং তার ফলেই আমাদের বংশ রাজগনৎকার থেকে বদলে যেতে পেরেছে।
প্রপিতামহ ছিলেন তাঁর পিতার একমাত্র পুত্র। বহু কন্যার পর প্রপিতামহের জন্ম দিতে গিয়ে তাঁর মা দেহ রাখেন এবং পরিবারের শোকে প্রপিতামহের পিতা মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে দেহ রাখেন। আমার প্রপিতামহ তাঁর পিতামহ, প্রপিতামহ ও দিদিদের তত্ত্বাবধানে বড়ো হচ্ছিলেন। কিন্তু যখনই তাঁর জ্ঞান হয় যে তাঁদের শুধু খাওয়া, ঘুম আর সন্তান উৎপাদন ব্যতিরেকে আর কোনও কাজ নেই, তখনই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, দেশান্তরী হবেন। রাজপরিবারকে সম্মান প্রদর্শন এক বস্তু, কিন্তু নিজেদের অস্তিত্ব বজায় রাখতে রাজপরিবারকে তুষ্ট করে চলার পক্ষপাতী ছিলেন না আমার প্রপিতামহ।

আমার চোখের এবং হাতের বাঁধনও খুলে দিয়েছে এরা পালকি থেকে নামার পরেই। আমি খুব মন দিয়ে রাজবাড়ির কারুকাজ দেখতে দেখতে এলাম। এখন রাজসভা গৃহে সিংহাসনের সামনে বর্তমান শাসকের আগমনের প্রতীক্ষায় রয়েছি। পুরো প্রাসাদটা কেমন সুন্দর পাথরের তৈরি। এমনকি রাজসিংহাসনটিও পাথরের বলেই মনে হচ্ছে। আমার মনে কত প্রশ্ন। প্রহরীদের জিজ্ঞেস করতে গেলেই তাঁরা ঠোঁটের ওপর আঙুল রেখে চুপ করে থাকবার নির্দেশ দিচ্ছেন এবং অদ্ভুত লাগছে, তাঁরাও পরস্পরের সাথে কোনও বাক্যালাপ করছেন না। অথচ তাঁরা যে কথা কইতে পারেন না তেমন কিন্তু নয়।
বর্তমান রাজা প্রবেশ করলে আমরা উঠে দাঁড়িয়ে তাঁকে সম্মান প্রদর্শন করলাম। উনি রাজা বজ্রায়ুধের সিংহাসনকে প্রণাম জানিয়ে পার্শ্ববর্তী একটি আসন গ্রহণ করলেন এবং হাতের ইঙ্গিতে একজন অমাত্যকে কিছু নির্দেশ দিলেন। ওঁর পেছন পেছন একটি মেয়ে রাজার আজ্ঞা লিখিত কাগজটি নিয়ে এসেছে। দেখলাম, সেই অমাত্য এগিয়ে গিয়ে সসম্মানে সেই কাগজটি নিলেন ও ধীরে কিন্তু যথেষ্ট উচ্চৈঃস্বরে পড়তে থাকলেন যাতে রাজসভায় উপস্থিত সকলে শুনতে পান কী লেখা আছে ওতে। যা বুঝলাম, ওতে নির্দেশ দেওয়া রয়েছে আমার প্রতিই।
এইবারে প্রথম, আমাকে ধরে আনবার কারণ পরিষ্কার হল। আমি শত হলেও সেই রাজগনৎকারের পরিবারের বর্তমান প্রজন্ম, কাজেই আমার কাছে রাজা বজ্রায়ুধের বর্তমান প্রজন্ম আশা করেন যে, রাজা বজ্রায়ুধের যে বিপুল ঐশ্বর্য গুপ্তধন হিসেবে রয়েছে সেগুলি খুঁজে দিতে হবে। এমন কোনও নাকি ব্যাপারই নয় আমাদের জন্য। যদি খুঁজে দিতে পারি তাহলে রাজকন্যার সাথে বিবাহ দেবেন আমার আর বাকি জীবনের দায়িত্ব নেবেন। কিন্তু খুঁজে বের করতে অসমর্থ হলে প্রাণদণ্ড।
রাজপরিবারের কাছে সেই গুপ্তধনের চাবি হিসেবে একটি অসামান্য হীরকখণ্ড রাখা আছে। কিন্তু এতদিন খুঁজে বের করবার কথা কেউ চিন্তা করেননি, কারণ নিষেধাজ্ঞা ছিল। রাজ্যের আর্থিক অবস্থার চূড়ান্ত অবনতি না হলে ওই ধনসম্পদ খোঁজা বারণ। আগের কোনও রাজা আর্থিক অবস্থা ভালো থাকা সত্ত্বেও গুপ্তধন সন্ধানের প্রচেষ্টা চালালে অপঘাতে তাঁর মৃত্যু হয়। বর্তমানে রাজ্যের রাজা অতিরিক্ত প্রজাবৎসল হয়ে প্রজাদের ওপর থেকে সবরকম রাজকর মকুব করেছেন। ফলে রাজকোষ থেকে শুধুই খরচ হতে হতে প্রায় তলানিতে এসে ঠেকেছে। আর্থিক অবস্থার এমন পরিস্থিতি হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হ্যাঁ, আমার হয়তো প্রাসাদে থাকার কোনও অসুবিধে হবে না, তবে আমি নজরবন্দী হিসেবে থাকব। ফলে যত্রতত্র বিচরণ বা পলায়নের চেষ্টা করা বৃথা। যাই হোক, আমরা চার পুরুষ ধরেও নিজেদের রাজগনৎকারের তকমাটা মুছতে পারলাম না জীবন থেকে।
বর্তমান রাজা যিনি, তাঁর বয়স অল্প বলেই মনে হচ্ছে। তিনি একটিও কথা বলেননি। আমার কেমন সন্দেহ হচ্ছে, তিনি মূক নন তো? আর তাই বুঝি রাজার কর্মচারীরাও নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া কথা কন না। কিন্তু একথা তো কাউকে জিজ্ঞাসা করা চলবে না। আর তাছাড়া, আপাতত আমার ওপর আরোপিত এই রাজাজ্ঞাকে অস্বীকার করতে হবে। একাজ কোনওমতেই আমার দ্বারা সম্ভব নয়। গণনা কেমন করে করে আমি একেবারেই অজ্ঞ সে বিষয়ে।
যদিও কাজটা করতে আমার খুব আপত্তি নেই, আমার আবার অনুসন্ধিৎসু মন। কীসের একটা আভাসও পাচ্ছি যেন। কাজেই মনে মনে উৎসাহিতই হচ্ছি। কিন্তু ওই যে, অসফল হলে মৃত্যুদণ্ড, সে ঘোষণাকে তাচ্ছিল্য করা উচিত নয়। কেন এমন হবে? আমি গনৎকার নই যেমন, তেমনই গুপ্তধন খোঁজার ইচ্ছা পূর্ণমাত্রায় আছে। আমি আমার নিজস্ব পদ্ধতিতে খুঁজব। কিন্তু অসফল হলে আবার নিজের জায়গায় ফিরে যাব। সেক্ষেত্রে বড়োজোর দিনের মাত্রা বেঁধে দিতে পারেন রাজা। বা এমনও বলতে পারেন যে, আমি অসফল হলে, যেহেতু তাঁদের নতুন কোনও গনৎকারকে আনতে হবে, আমি বা আমার পরবর্তী প্রজন্মের কেউ যেন ক্ষতিপূরণ হিসাবে ভবিষ্যতে কোনওদিন এই রাজ্যের ত্রিসীমানায় না আসি। আমি সেটাও মানতে রাজি আছি। অকারণে, বিনা দোষে মরতে চাই না।
তবে এখনই আমার বক্তব্য পেশ করতে হবে, না হলে মৌনতা সম্মতির লক্ষণ ভেবে এঁরা ধরেই নেবেন আমি এঁদের শর্তাবলী সব মেনে নিচ্ছি। আর তাছাড়া, রাজা কথা কন না কেন সেটাও জানতে হবে। অতএব আমি হাতজোড় করে নতমস্তকে প্রণাম জানিয়ে শুরু করি, “হে রাজন, আপনার এবং এই রাজ্যের জয় হোক। আমার পূর্বপুরুষরা যেহেতু এই রাজ্যের অন্নে প্রতিপালিত হয়েছিলেন, কাজেই এই রাজ্যের প্রতি আমার হয়তো কিছু দায়বদ্ধতা থাকে। যদিও আমি যে গণনার কিচ্ছুটি জানি না, সে খবর আপনি অবগত আছেন কি না আমার জানা নেই। আমি আপনাকে এটুকু আশ্বাস দিতে পারি, আমি আমার নিজস্ব বুদ্ধি, বিবেচনা, অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে গুপ্তধন খুঁজব। শুধু আমার তরফে প্রাণভিক্ষার আর্জি জানাচ্ছি। আমি অসফল হলে বরং আজীবন বহিষ্কার করুন অথবা এই রাজ্যে প্রবেশ নিষিদ্ধ করুন আমার এবং আমার বংশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে, আমি মানতে প্রস্তুত। কিন্তু যে বিষয়ে আমার জ্ঞানই নেই সেই বিষয়ে কাজ করে অসফল হলে মৃত্যুদণ্ড দেবেন না, রাজন।”
এক নিঃশ্বাসে কথাগুলি বলে ক্ষান্ত হলাম। সভাগৃহে সূঁচপতন নিস্তব্ধতা। মহামন্ত্রী রাজার ইশারায় আমায় বললেন, “তোমার প্রাণভিক্ষার আর্জি বিবেচনা-অধীন। পরবর্তী নির্দেশের জন্য আগামীকাল তোমায় আবার আনা হবে। তুমি পথশ্রমে ক্লান্ত, আজ বিশ্রাম নাও। তবে নিজের গণ্ডি লঙ্ঘনের চেষ্টা ভুল করেও কোরো না।”
যাক, তাহলে আজকের মতো বিদায় নিলাম। যতটুকু বুঝলাম, এঁরা খুব খারাপ মানুষ নন। তবে রাজার কোনও অসুবিধা নিশ্চয়ই রয়েছে। ব্যক্তিত্বের অভাব নেই, কিন্তু ‘রাজা’ শব্দটা শুনলেই চোখের সামনে যেমন একটা চেহারা ভেসে ওঠে, এঁর তার কণামাত্রও নেই। মনে হয় যেন কোনও বালককে রাজার পোশাক পরিয়ে শাসক বানানো হয়েছে। আর ক্রমশ আমার ধারণা বদ্ধমূল হয়ে যাচ্ছে যে, রাজা কথা কইতে পারেন না বা কথা বলার কোনও অসুবিধা আছে। তা না হলে আজ সবকথাই কেন অন্যজনে বললেন?

।।দুই।।

গতরাতে আহার এবং নিদ্রা দুইই বড়ো উপাদেয় হয়েছে। এঁদের পাচক যথেষ্ট গুণী। এত সুস্বাদু সব খাবার পরিবেশন করেছিল, যে আমার প্রয়োজনের বেশিই খাওয়া হয়ে গিয়েছিল এবং নজরবন্দী সত্ত্বেও আমার জন্য সুন্দর পরিচ্ছন্ন বিছানার ব্যবস্থা ছিল।
ভোরবেলায় নহবতে সানাইয়ের সুরে নিদ্রাভঙ্গ হতেই একজন পরিচারক যেন মাটি ফুঁড়ে উদিত হল। সে-ই আমাকে চোখমুখ ধোবার ব্যবস্থা করে দিল। বুঝলাম, আমি সত্যিই নজরবন্দী। আমার প্রতিটা গতিবিধির ওপর কড়া নজরদারী, অথচ আমার অস্বস্তি হয় এমন কোনও কাজ এঁরা করছেন না।
এরপর আমার প্রাতরাশ আনবে কি না জিজ্ঞেস করায় আমি জানতে চাইলাম যে, আমার প্রাতর্ভ্রমণের অভ্যাস আছে, কিন্তু অনুমতি কি পাব? পরিচারক আমায় পথ দেখাল এবং অবশ্যই আমার সঙ্গে চলল। আমি তার সাথে কথা বলে রাজ্যের সম্পর্কে, রাজার সম্পর্কে জানার চেষ্টা করব ভাবলাম। কিন্তু সেও সেই একইরকম, প্রয়োজনের কথা ছাড়া কয় না।
রাজধানী বড়ো সুন্দর, হয়তো পুরো রাজ্যটাই এমন সুন্দর। পর্বতমালা দেখা যায় আশেপাশে, বাড়িঘর, রাস্তাঘাট যেন কোনও প্রথিতযশা শিল্পীর আঁকা। মন এমনিই ভালো হয়ে যায়।
আমি যে বন্দী, প্রাতর্ভ্রমণের সময়টুকুতে যেন ভুলেই গেছিলাম। ঘরে ফিরতেই আমার প্রাতরাশ পরিবেশন করা হল, সেও বড়ো চমৎকার। এরপর? সারাদিন হয়তো অপেক্ষা করতে হবে, কখন আবার রাজসভায় ডাক আসে।

না, বেশি সময় অপেক্ষা করতে হল না। প্রহরী নিয়ে এল সভাগৃহে। রাজার ইঙ্গিতে আবারও অন্য একজন আমায় রাজাজ্ঞা শোনালেন ও কুশল জানতে চাইলেন।
“আশা করি গতরাত্রে এবং আজ এখন অবধি আপনার কোনও অসুবিধা হয়নি। আপনাকে গতকাল আভাস দেওয়া হয়েছিল, আজ রাজাজ্ঞা শুনুন। মহারাজ আপনার প্রাণভিক্ষা দিয়েছেন, কিন্তু আপনার কাজের সময় একপক্ষকাল নির্ধারণ করেছেন। আগামী পূর্ণিমার মধ্যে যদি আপনি অসফল হন, তাহলে এই রাজ্যের ত্রিসীমানায় যেন আপনাকে বা আপনাদের বংশের কাউকে কোনওদিন দেখা না যায়। তখন ধরা পড়লে কিন্তু বিনা দোষে প্রাণ দিতে হবে। আপনার যদি কিছু সাহায্যকারী প্রয়োজন হয় পাবেন, কিন্তু আজ এখন থেকেই কাজ শুরু করতে আদেশ দেওয়া হচ্ছে।”
“রাজন, আপনার আদেশ শিরোধার্য। আমায় যদি একজন দক্ষ চিত্রকর দেন, আর প্রাসাদের সর্বত্র একবার পরিদর্শনের অনুমতি দেন। এমনকি ভিতর মহলেও আমি যেতে চাই। চিত্রকর চাইছি, কারণ পুরো প্রাসাদের পুঙ্খানুপুঙ্খ মানচিত্র চাই আমার। আর পুরো প্রাসাদ অন্তত একবার সচক্ষে দেখে নিতে পারলে তারপর চিত্রকরের ছবি দেখে আমি অনুসন্ধান চালাতে পারব আশা রাখছি।”
ভেবেছিলাম, আমার প্রস্তাব হয়তো খারিজ হয়ে যাবে। কিন্তু না, একটু সময় রাজা কিছু চিন্তা করলেন, তারপর লিখিত নির্দেশ দিলেন যা আমায় পাঠ করে শোনানো হল।

আমি চিত্রকরকে নিয়ে পুরো প্রাসাদ ঘোরা শুরু করলাম। প্রতিটা স্তম্ভ, খিলান মনোযোগের সঙ্গে দেখি। চিত্রকর আঁকতে থাকেন, দিনের শেষে আমি সেই ছবি মন দিয়ে দেখি আর বোঝার চেষ্টা করি কোথাও কোনও সমাধানসূত্র খুঁজে পাই কি না। সূত্র খুঁজে না পেলেও একটা অদ্ভুত জিনিস লক্ষ করলাম, রাজার প্রতীক বিভিন্ন জায়গায় অস্বাভাবিকভাবে আঁকা রয়েছে। দিন এগোচ্ছে, আমার প্রাসাদ ঘোরাও জারী রয়েছে। ক্রমশ চিন্তিত হয়ে পড়ছি।
একদিন ভিতর মহলে গেলাম। দু’জন মহিলা রক্ষী আমাদের নিয়ে গেল। কিন্তু সেখানে যে এমন পরিস্থিতির সামনে পড়ব, ভাবতেও পারিনি। আমরা অলিন্দর ওপর দিয়ে চলেছি, সেখানে আমার চোখ খুঁজছে রাজ প্রতীক দেখা যায় কি না। কেন জানি না মনে হচ্ছে, এই প্রতীকগুলিই গুপ্তধনের পথনির্দেশ। এমন সময়ে নারীকন্ঠের চিৎকার, চেঁচামেচি শুনে থমকে দাঁড়াই। একজন সুবেশা নারীকে বেশ কয়েকজন পরিচারিকাস্থানীয়া নারী ধাওয়া করে শক্ত হাতে ধরল এবং সেই নারীর অনিচ্ছাসত্বেও টেনে নিয়ে গেল কোনার ঘরে। আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞাসু হলেও চিত্রকর দেখলাম মাথা নিচু করে রয়েছেন। রক্ষীরা আমাদের সেদিনের মতো ক্ষান্ত হবার অনুরোধ করে বন্দীশালায় পৌঁছে দিয়ে গেলেন।
চিত্রকরের কাছে জানলাম, ইনি এই রাজ্যের রাজকুমারী। কোনও এক অভিশাপে তাঁর মস্তিষ্ক-বিকৃতি হয়েছে। তাই ওঁকে একটা ঘরে আটকে রাখতে হয়। ওঁর সম্পর্কে রাজ্যের মানুষ নানাকথা শুনেছেন, কিছু অতিরঞ্জিতও বটে। আজ চিত্রকর সচক্ষে দেখলেন। আমি প্রমাদ গোনলাম, এই কারণেই রাজার আদেশ, যদি গুপ্তধন খুঁজে পাই তবে রাজকন্যার সাথে বিবাহ হবে এবং তিনি আমার বাকি জীবনের দায়িত্ব বহন করবেন। এভাবে জোর করে চাপিয়ে না দিলে এই রাজকন্যার বিবাহ অসম্ভব। এক বিকৃত-মস্তিষ্ক মহিলাকে বিবাহ করে সারাজীবন কষ্টে কাটানোর চেয়ে বোধহয় হার স্বীকার করে এই রাজ্য ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত।

।।তিন।।

আজ পূর্ণিমা। আমার সময় আজই শেষ। অনেক চিন্তা করে এই সিদ্ধান্ত নিলাম যে, ঐশ্বর্য সন্ধান করার পর আমি বরং বিবাহে অসম্মতি জানাব। গত একপক্ষকাল আমি কঠোর পরিশ্রমের পর গুপ্তধনের সন্ধান পেয়েছি মনে হচ্ছে। আমার চিন্তা অনুযায়ী, চন্দ্রোদয় না হলে গুপ্তধন খুঁজে পাওয়া যাবে না। প্রায় সব প্রাসাদেই একটি গুপ্ত কক্ষ থাকে যাকে বাইরে থেকে দেখলে প্রাসাদের অন্য কক্ষের সাথে কোনও তফাত বোঝা যায় না। কিন্তু মন দিয়ে দেখলে সেই কক্ষ থেকে প্রাসাদ থেকে পালানোর গুপ্ত সুড়ঙ্গ পাওয়া যাবে। আমি মানচিত্রের মধ্যে প্রাসাদের বিভিন্ন স্থানে আঁকা রাজপ্রতীককে এক রেখায় যুক্ত করতে পেরেছি। সারা প্রাসাদের বিভিন্ন মহলের সেই প্রতীকগুলি আলাদা আলাদা রেখায় যুক্ত হলেও প্রতিটি রৈখিক যোগফল গিয়ে শেষ হচ্ছে এই গুপ্ত কক্ষে। অর্থাৎ, গুপ্তধন এখানে থাকারই প্রবল সম্ভবনা।
রাজার অনুমতিক্রমে আমি সকাল থেকে এই গুপ্তকক্ষে আমার অনুসন্ধান চালাচ্ছি। কক্ষের মেঝেতে বিশাল আকারে রাজার প্রতীক খোদাই করা আছে। প্রতীকের সামনে রাজসিংহাসনের অনুরূপ এক বিশাল সিংহাসন বানানো আছে। কক্ষটির গোলাকার ছাদ। ছাদ আর দেওয়ালের সংযোগস্থলে বেশ কিছু গোলাকার নকশা করা যেগুলি দিয়ে আলো-হাওয়া আসে এই ঘরে।

চন্দ্রোদয়ের সময়ে রাজা এবং তাঁর পারিষদদের আমি এখানে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছি। কারণ, তাঁরা সেই হীরকখণ্ড নিয়ে না এলে আমি চাবি পাব কোথায়? যদিও স্পষ্ট করে জানিয়েছি আমি, এখনও জানি না আমি সফল হব কি না।
তাঁরা উপস্থিত। মশাল বা অন্য কোনও আলোর উৎস বন্ধ রাখার অনুরোধ করেছি। আমার ভেতরের চাপা উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে এবং বেশ টের পাচ্ছি ঘরে উপস্থিত সবার মধ্যে তা ছড়াচ্ছে।  রাজার কাছ থেকে আমি সেই অসামান্য হীরকখণ্ডটি নিয়ে ওই সিংহাসনকে প্রণাম করে তাতে চড়ে সিংহাসনের পিঠের দিকে একটি বিসদৃশ গর্ত ছিল সেখানে চেপে ধরতেই হীরক সেখানে বসে গেল। অর্থাৎ, আমার অনুমান নির্ভুল। ওই গর্তটি ওই হীরকের জন্যই। এবার অপেক্ষা চাঁদের কিরণ হীরকের উপর পড়বার।

চাঁদের আলোর অপেক্ষা করতে করতে বোধহয় আমার ক্লান্তিতে চোখ বুজে এসেছিল। হঠাৎ জোরালো এক আলোর ঝলকানিতে সকলে হৈচৈ করে উঠল। চোখ মেলে দেখি, ওই গোলাকার নকশার মধ্য দিয়ে একটি রেখার মতো আলোর কিরণ পড়েছে সেই হীরকের ওপর। সারা ঘর ঝলমল করছে আলোয়। উত্তেজিত আমি শ্বাসরুদ্ধ করে অপেক্ষা করি আমার শেষ অনুমানের। চাঁদের অবস্থান একটু পরিবর্তিত হতেই ওই হীরকের আলো পড়ল মাটিতে খোদাই করা রাজপ্রতীকের ঠিক মাঝখানে, সিংহাসনে থাকা গর্তটির অনুরূপ একটি সামঞ্জস্যহীন গর্তে। সেখানে যে হীরকের বাকি খণ্ড প্রোথিত, এত সময়ে বোঝাই যায়নি। দুই হীরের আলোয় চোখ ধাঁধিয়ে যাচ্ছে। সকলের উন্মাদনার পারদ চড়ছে। এমন সময়ে বিকট এক শব্দ আর প্রচণ্ড ঝাঁকুনি। ভূমিকম্প, না প্রাকৃতিক দুর্যোগ, না দেবতার রোষ কিছুই বুঝলাম না। শুধু চারদিক অন্ধকার হয়ে জ্ঞান হারালাম, বুঝতে পারলাম।

ঠিক কত সময় পর জ্ঞান ফিরল জানি না। কিছু সময় অবধি মনেই করতে পারছিলাম না, আমি কোথায় রয়েছি। সুন্দর এক পালঙ্কে শুয়ে আছি; বয়স্ক বৈদ্য আমার নাড়ি ধরে বসে রয়েছেন। ঘরে আরও অনেক অপরিচিত মুখ উপস্থিত। সর্বাঙ্গে যন্ত্রণা বোধ করছি। নড়াচড়া করছি দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন ঘরে উপস্থিত সকলেই। মুহূর্তে মনে পড়ল গুপ্তধন সন্ধানের কথা। উঠে বসার প্রয়াস করতেই বৈদ্য আমায় মানা করলেন এবং তখনই কক্ষে প্রবেশ করলেন রাজা। আবারও হাতের ইশারায় উপস্থিত সকলকে কক্ষের বাইরে চলে যেতে নির্দেশ দিলেন। সকলে ঘর খালি করে দিলে তিনি পালঙ্কের পাশটিতে রাখা কেদারায় বসলেন। আমি হাতজোড় করে যথাযোগ্য সম্মান দেখানোর চেষ্টা করি। মাথা নাড়িয়ে রাজা তা গ্রহণ করলেন।
“আপনি সফল।”
রাজার কন্ঠ শুনে চমকে উঠি। এতদিনে স্পষ্ট হল রাজার কথা না কওয়ার কারণ, তিনি নারীকন্ঠী। চোখ বন্ধ করে শুনলে মনেই হবে না কোনও পুরুষ কথা কইছেন। আমার কৌতূহলের শেষ হলেও এভাবে কোনও নারীকন্ঠী পুরুষের সাথে কথোপকথনে বড়ো অস্বস্তি হচ্ছে। বিস্মিত আমি তাকিয়ে রয়েছি দেখে রাজা নিজেই বললেন, “গতরাতের ঐশ্বর্য সন্ধানের কথা কিছু মনে আছে আপনার?”
“আজ্ঞে, হ্যাঁ। বাজ পড়বার মতো কান ফাটানো শব্দ হয়েছিল ওই দুই হীরকখণ্ডের আলো মিলিত হবার পর।”
“হ্যাঁ। ওই শব্দে ওখানে উপস্থিত সকলেই অচৈতন্য হয়ে পড়ি। শব্দ ওই কক্ষের বাইরে উপস্থিত রক্ষীরাও পান। তাঁরাই প্রাসাদের আর সকলকে সংগ্রহ করে, আলো নিয়ে গিয়ে দ্বার খুলে সংজ্ঞাহীন আমাদের উদ্ধার করেন। চেতনাপ্রাপ্তির পর আমি উঠে বসে চারদিকে ছত্রখান পারিষদদের পড়ে থাকতে দেখলাম। উঠে দাঁড়িয়ে মশালের আলোয় আবিষ্কার করলাম, আপনি সফল হয়েছেন। মাটিতে খোদাই করা রাজপ্রতীক দু’দিকে সরে গিয়ে উন্মোচন করেছে তার নিচে লুকানো গুপ্তধনের ঘর। ছোটোখাটো এক সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতেই সামনে সেই বিপুল ঐশ্বর্যের ভাণ্ডার।
“আপনি, ওখানে উপস্থিত সকলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আহত হয়েছেন। বাকিদের প্রাথমিক শুশ্রূষাতেই নিরাময় হয়েছে। রাজবৈদ্যসহ আমরা সকলেই চিন্তিত হয়ে পড়েছিলাম। আপাতত আপনি বিশ্রাম করুন। মনে রাখবেন, আপনি আর বন্দী নন, এখন আমাদের অতিথি। সুতরাং, আপনার সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য আমি যথাসাধ্য যত্ন নেব এবং আপনার কাছে একান্ত অনুরোধ, আপনার প্রয়োজন বা মনের ইচ্ছা ব্যক্ত করতে দ্বিধা করবেন না। আপনি সুস্থ হবার পর আমার প্রতিশ্রুতি পূরণের কথা আলোচনা করা যাবে। নমস্কার।”
রাজা প্রস্থানের জন্য উঠে দাঁড়াতেই আমার মনে পড়ল, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রাজকন্যার সাথে বিবাহ হবে। কিন্তু আমি যে জেনেছি রাজকন্যা মানসিক ভারসাম্যহীনা! কাজেই যেভাবেই হোক এ বিবাহ আটকাতে হবে। যদিও সৌজন্য-বিরুদ্ধ, তবুও আমি পিছু ডেকেই ফেলি।
“রাজন।”
“হ্যাঁ, বলুন।”
“আপনাকে পিছন থেকে ডাকার জন্য ক্ষমা করবেন, কিন্তু আমার একটি কথা এখনই না বললেই নয়।”
“বেশ। বলুন।”
“রাজন, আমার রাজকুমারীর সাথে বিবাহে মত নেই।”
“কারণ?”
“আজ্ঞে, অগ্রিম মার্জনা চাইছি। তিনি যে মানসিক ভারসাম্যহীনা, প্রাসাদ পরিক্রমণকালে আমি তা দেখেছি সচক্ষে।”
“আপনি যথার্থ বলেছেন। তবে তিনি আমার ভগিনী, তাঁর বিবাহের উদ্দেশ্য আমার ছিল না। আমি উপকারীর জীবন নষ্ট করতে চাই না।”
“তাহলে উপায়?”
নিজের উষ্ণীষ খুলে ফেলেন রাজা। এক ঢাল চুল ছড়িয়ে পড়ে পিঠে তাঁর। মুহূর্তে রাজা পরিণত হলেন এক কোমল রাজকন্যায়। ঘটনার আকস্মিকতায় আমি হতবাক।
“আপনি?”
“বিস্মিত হলেন?”
“অবশ্যই। কিন্তু এই পুরুষ বেশ কেন, জানতে পারি?”
“শিশুকাল থেকেই আমার অসিচালনা, ঘোড়াচালনা, রাজনীতি এসবে আগ্রহ ছিল। মাতা-পিতা উভয়ের সম্মতিক্রমে আমার প্রশিক্ষণ চলতে থাকে। আমি অত্যন্ত সফলতা লাভ করতে থাকি। পিতার অকালমৃত্যুতে রাজ্যের দায়িত্ব গ্রহণ করতে বাধ্য হই। পিতার প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে আমি পুরুষবেশ ধারণ করি। প্রজাদের মানসিকতা তিনি আমার চেয়ে অনেক ভালো বুঝতেন। একজন নারীর শাসন তাঁরা মানতে পারবেন না বুঝেই এই পরামর্শ। যেহেতু আজও রাজা নিজের নামে রাজ্য পরিচালনা করেন না, ফলে আমার আত্মগোপন করে রাজ্য পরিচালনাতে বিশেষ কোনও অসুবিধা হয়নি। পিতার আমলের কর্মচারীদের মধ্যে অল্পজনই আমার প্রকৃত পরিচয় জানতেন এবং বর্তমানে তাঁদের প্রায় কেউই অবশিষ্ট নেই।”
“কিন্তু আজ যে আমি আপনার আসল পরিচয় পেয়ে গেলাম। এরপর?”
“আমি কোনও এক বিশেষ মুহূর্তে নিজের প্রকৃত পরিচয় প্রজাদের জানাবার জন্য ব্যাকুল ছিলাম। কারণ, আজ আমি একজন দক্ষ ও সফল প্রসাশক। রাজ্যাভিষেকের সময়ে আমার নারীত্বকে প্রশ্ন করা হলেও আমি নিজেকে প্রমাণ করতে সমর্থ হয়েছি। সুতরাং, আমি মনে করি, এখন আমার পরিচয় শুধুই একজন সুদক্ষ পরিচালকের। আমি নারী না পুরুষ তা বোধকরি প্রশ্নাতীত। হয়তো প্রজারা বিস্মিত হবেন, কিন্তু এই পুরুষ সেজে থাকা আমার অসহ্য হয়ে উঠেছে। সর্বদা ভয় হয়, কেউ প্রকৃত আমায় দেখে না ফেলে। আমি কারও সাথেই ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব করতে পারি না এবং বর্তমানে বিভিন্ন রাজ্যের রাজকুমারীদের সঙ্গে বিবাহের প্রস্তাব আসছে যা চূড়ান্ত অস্বস্তিকর।”
“আপনার ভগিনী? তাঁর কী হবে?”
“তিনি যেমনটি রয়েছেন তেমনই থাকবেন। তাঁর ব্যাধি শুরুর সময়ে রাজবৈদ্য দেশভ্রমণে ছিলেন। ফলে পিতা ভিন রাজ্যের চিকিৎসকের ওপর নির্ভর করেছিলেন। তিনি সঠিক চিকিৎসা না করায় ব্যাধির প্রকোপ চূড়ান্ত হয়ে ওঠে। প্রবীণ রাজবৈদ্য আজও আশা করেন, তাঁর চিকিৎসায় রোগিণী সম্পূর্ণ রোগমুক্ত হয়ে উঠবেন একদিন। ওঁর চিকিৎসায় উপশম হলেও নিরাময় হয়নি এখনও। রানিমা তাঁর রোগমুক্তির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন তীর্থে ভ্রমণ করে প্রার্থনা চালিয়ে যাচ্ছেন।”
“রানিমা জীবিত?”
“হ্যাঁ। হয়তো কিছুদিনের মধ্যেই তিনি রাজ্যে ফিরবেন।”
“তাহলে তো অন্তত তিনি ফেরা অবধি আমার আপনাদের আতিথ্য গ্রহণ করাই সমীচীন এবং রানিমাকে আমার পরিচয়, এ-রাজ্যে আগমনের কারণ এবং রাজার প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে অবগত করানোও আমার কর্তব্য বলেই মনে করছি।”
রাজকন্যাও যে ঠিক এমনটাই চাইছিলেন, মুখে না বললেও তাঁর রাঙা হয়ে ওঠা চেহারাই বোধহয় সবকথা বলে দিল।
_____

অঙ্কনশিল্পীঃ পুষ্পেন মণ্ডল

No comments:

Post a Comment