গল্পঃ ঋষিমশাইয়ের পুষ্যিরাঃ ধূপছায়া মজুমদার


ঋষিমশাইয়ের পুষ্যিরা

ধূপছায়া মজুমদার


ঋষিমশাই একখানা মৌমাছি পুষেছেন। পুষেছেন মানে যেন আবার ভেবে বোসো না, বাগান থেকে মৌমাছি ধরে এনে তাকে জালতিমুখ ঢাকনি আঁটা বয়ামে রেখে রোজ দু’বেলা ড্রপারে করে মধু খাওয়াচ্ছেন। ওসব কান্ড ঋষিমশাইয়ের মা এক্কেবারে পছন্দ করেন না। তাই অনেকদিন ধরে মনে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও শুঁয়োপোকা পোষার সাধ তাঁর অপূর্ণই রয়ে গেছে। একবার শিউলিপাতার ঠোঙা বানিয়ে তাতে করে শিউলিগাছের তলা থেকে একটা গুটুলি পাকিয়ে ঝিম মেরে পড়ে থাকা শুঁয়োপোকাকে তুলে এনেছিলেন ঋষিবাবু। ঘরে এনে মাকে যেই নাচতে নাচতে দেখাতে গেছেন, “লুক মা, ক্যাটারপিলার! এ আমার পেট হোক?” অমনি তাঁর মা, আমাদের তিন্নিদিদি হাউমাউ করে চিৎকার জুড়লেন, “পেটের কাছে রাখিস না রাখিস না, ফ্যাল, ফেলে দে এক্ষুনি, হাতে ধরিস না, আরে বাবা এ-ছেলের ঘেন্নাপিত্তি ভয়ডর কিচ্ছু নেই গো! ফ্যাল, ফ্যাল শিগগির।” বলে শিউলিপাতার ঠোঙাটা তাড়াতাড়ি হাত থেকে কেড়ে নিয়ে জানালা দিয়ে বাইরে ফেলে দিলেন। শুঁয়োপোকাটাও মনে হল একটা মুচকি হাসি হেসে গুটগুট করে তার বাসার দিকে এগিয়ে চলল। অবশ্য শুঁয়োপোকা কি আর হাসতে জানে? তা হোক, তিন্নিদিদির মনে হল। তার তখন নিজের ছোটোবেলায় প্রজাপতি পোষা আর একদিন সকালে উঠে কাচের জারে সবক’টা প্রজাপতিকে নেতিয়ে পড়ে থাকতে দেখার কথা মনে পড়ে যাচ্ছিল। হুঁশ ফিরল ঋষিবাবুর ফোঁপানির আওয়াজে। বাবুর মনে দাগা লেগেছে তাঁকে শুঁয়ো পুষতে দেওয়া হয়নি বলে। তখন আবার তাকে কোলে তোলো রে, ভোলাও রে, দু’টুকরো আমসত্ত্ব এনে মুখের সামনে ধরো রে, সে নানান কান্ড!
তবে এসব মাস তিনেক আগেকার কথা। ওর পর থেকে ঋষিবাবু আর পুষ্যি নেওয়ার জন্য বিশেষ বায়না করেননি। সত্যি বলতে কী, পুষ্যির অভাব তাঁর নেই। এই দেখো না, সকালে ঘুম ভাঙতেই তিনি আধখোলা চোখে দেখেন জানালার খোলা পাল্লায় কর্ভাস বসে আছে, কঃ কঃ করে অ্যালার্ম বাজিয়ে তাঁর ঘুম ভাঙাচ্ছে। তারপর দাঁত মাজতে মাজতে আদ্দেকটা ফেনা গিলে ফেলে ওঁর মনে পড়ে - এহ্‌ হে, এটা তো খেতে হত না, ফেলতে হত। ঠিক তক্ষুনি চোখে পড়ে, গেটের কাছে উলোঝুলো ল্যাজটাকে পায়ের পাশে গুটিয়ে রেখে থাবা গেড়ে উদাস মুখে বসে আছে ফেলিসিয়া। সে বেশি দৌড়ঝাঁপ পছন্দ করে না। একটা ইঁদুর পাশ কাটিয়ে চলে গেল, ফেলিসিয়া একচোখ খুলে দেখে চোখটা আবার বুজে ফেলল। ঋষিবাবুর বাবা নিজের চোখে দেখেছেন এ-ঘটনা। ফেলিসিয়া ভালোবাসে দুধের সর খেতে। চেয়ে খায় না, একদিন ঋষিবাবু দুধের সর ফেলে রেখেছিলেন গ্লাসে, ওঁর গা কেমন কেমন করে মুখে সর লাগলে, ওয়াক আসে। তাই উনি ফেলে দিতেন। সেদিন দেখলেন, তাঁর ফেলে দেওয়া সর ফেলিসিয়া চেটেপুটে খেয়ে নিজের গোঁফে লেগে থাকা সরের দাগটা অবধি চেটে ফেলল। দেখে বড্ড মায়া হয়েছিল। আহা, ফেলিসিয়ার মা তো আর অত যত্ন করে খাওয়াতে পারে না, তাই মায়ের মতো যত্নটা ঋষিমশাইই করতে শুরু করলেন। রোজ গ্লাসের নিচে মোটা সর আর খানিকটা তলানি দুধ নিজে না খেয়ে রেখে দিতে লাগলেন ফেলিসিয়ার জন্য। ফেলিসিয়া নামটা শুরুতে ওঁর খুব একটা পছন্দ ছিল না, কিন্তু বাবা বলল এটা বেশ রানিদের মতো নাম, একটা ব্যাপার আছে। তাই ওই নামেই ডাকেন ওকে। ফেলিসিয়ারও বোধহয় ভালো লাগে, নইলে চলে যেতে যেতে নামটা শুনলে ফিরে তাকায় কেন? ঋষিমশাই যখন ভ্যান আঙ্কেলের সঙ্গে ভ্যানে ওঠেন, তখন কুটুনদের বাড়ির বারান্দায় বসে ফেলিসিয়া থাবা পরিষ্কার করে। ওরা তো সাবান পায় না, ওই জিভেই ওদের সাবান থাকে বোধহয়। কুটুন সেদিন বলছিল, একদিন ফেলিসিয়ার হাত ধোওয়ার জন্য ও এককুচি সাবান বারান্দায় রেখে দিয়েছিল। আড়াল থেকে দেখেছিল। ফেলিসিয়া এমন বোকা, সাবানে হাত না ধুয়ে সেটায় মুখ দিতে যাচ্ছিল। শেষে কুটুনের মা এসে ‘হ্যাট হ্যাট’ করে তাড়াতে তবে শান্তি। মেয়েটা বকুনিও খেয়েছিল আচ্ছাটি করে। সাবান খেয়ে যদি ফেলিসিয়ার পেটখারাপ হত?
এ তো রইল সকালের পুষ্যিরা। এরপর ইস্কুল থেকে ফিরে চান সেরে ভাত-টাত খেয়ে যখন ঋষিবাবু টিভি দেখেন, আর মা এঁটো বাসন নামিয়ে টেবিল পরিষ্কার ইত্যাদি কাজ সারেন তখন গেটের বাইরে থেকে দু-তিনবার ‘ভুক ভুক’ আওয়াজ শোনা যায়। ও হচ্ছে কিংভৌ, বা ভৌকিং। ভাইকিং নয় কিন্তু, ভৌকিং। রোজ দুপুরে আর রাতে খাওয়ার পর টেবিল মোছার ন্যাতাটা মেলতে মা যেই বারান্দায় যান, অমনি কোত্থেকে যেন দেখতে পেয়ে কিংভৌ আওয়াজ তোলে ‘ভুক ভুক’। তখন একটা বাটিতে করে বাড়তি ভাত আর চাট্টি এঁটোকাঁটা নিয়ে ঋষি আর মা বাইরে গিয়ে কিংয়ের খাবার বেড়ে দিয়ে আসেন। কিংভৌয়ের সময়জ্ঞান টনটনে। দু-পাঁচ মিনিট দেরি হলেই সে আওয়াজ তোলে, ‘ভুক ভুক ভৌঔঔ’। ক’দিন আগে অবধিও ঋষিমশাই নিজের হাতে বাটিটা উপুড় করে দিতেন ভৌয়ের মুখের সামনে। একদিন উৎসাহের চোটে কিং তাঁর হাতটা চেটে দিয়েছিল বেশ করে। সেই থেকে মায়ের কড়া হুকুম - সঙ্গে চলুন, ভৌয়ের লেজ নাড়া দেখুন, দু-চারটে কুশলপ্রশ্ন করুন, কিন্তু খাবারের বাটিতে ঋষিবাবু হাত দিতে পারবেন না মোটে। তা যাক গে, ভৌকিংকে খেতে দেখাটাও একটা কাজ, ঋষিমশাই মন দিয়ে সেটাই করেন। খাওয়াদাওয়া হয়ে গেলে একবার দু’জনের মুখের দিকে তাকিয়ে লেজটা টুক টুক নেড়ে কিং ফিরে যায় নিজের ডেরায়।
এই হল ঋষিবাবুর পুষ্যিদের লিস্টি আর ফিরিস্তি। এসবের পাশাপাশি গত রোববার থেকে শুরু হয়েছে আরেক নতুন গল্প। রোববার সকালে মুখ-টুখ ধুয়ে লুচি-আলুচচ্চড়ি নিয়ে বসেছেন বাবা আর ছেলে। ঋষিমশাই সবে প্রথম লুচির টুকরোটা মুখে পুরতে যাবেন, অমনি ‘গুনগুনগুন বোঁওওও’ করে কী যেন একটা আওয়াজ আস্তে আস্তে এগিয়ে আসতে লাগল তাঁর দিকে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ‘জুকজুক (zukzuk)’ করে আওয়াজ করে বাঁইই-বাঁইই করে কী যেন একটা উড়ন্ত প্রাণী তাঁর এ-কান থেকে ও-কান অবধি ঘুরে বেড়াতে লাগল। বাবার কাছে গল্পে তিনি ইউএফও-র কথা শুনেছেন, মায়ের কাছে গল্পে শুনেছেন উড়ন্ত গিরগিটির কথা। তিনি ভাবলেন বুঝি সেসবই কিছু তাঁকে এসে ধরল! তিনি হাঁ করে চেঁচিয়ে কান্না জুড়লেন। কান্না শুনে বাবা প্রায় নেচে উঠলেন। মা তড়িঘড়ি খুন্তি হাতে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এসে দেখলেন, কী কান্ড! একখানা বিটলে চেহারার মৌমাছি তার ছেলের এ-কানে ও-কানে কীসব বলছে আর উড়ছে, উড়ছে আর বলছে। তাঁর হাত থেকে খুন্তি গেল পড়ে, গলা থেকে ছিটকে এল চিৎকার, ‘আউউউ!’ সে চিৎকার শুনে ঋষিমশাই কান্না ভুললেন, বাবা নাচ থামালেন, এমনকি মৌমাছি যে মৌমাছি, সেও গুনগুন আর তুনতুন ছেড়ে একবার ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল। মৌমাছিদের ঘাড় থাকে কি না জানি না, তবে ঋষিবাবুর বাবার মনে হল যেন সে ঐভাবেই তাকাল, পিলে চমকে ভেবলে যাওয়া মুখের ভঙ্গি নিয়ে। তারপর যেদিক থেকে এসেছিল সেদিকেই উড়ে চলে গেল। মা ততক্ষণে হাউমাউ জুড়ে দিয়েছেন।
“আশ্চর্য! অত বড়ো একটা মৌমাছি এসে ঋষুর কানের কাছে উড়ছে, তুমি বসে বসে দেখছিলে! তাড়াতে পারনি? কী হত বলো তো আরেকটু হলে? অদ্ভুত লোক! যাবতীয় ধ্যান-মন সব ওই ফোনের দিকে। কই, আমার তো হয় না এরকম!”
“তুমি এসে তাড়াবে বলেই তো আমি বসেছিলাম।” মিটিমিটি হেসে বলেন বাবা।
ততক্ষণে ঋষিবাবুর মগজে ব্যাপারটা ঢুকেছে। ইউএফও বা গিরগিটি যে তাঁকে ধরে নিয়ে যেতে আসেনি, এতেই তিনি হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন। তার ওপরে যখন শুনলেন যে এসেছিল সে মৌমাছি, অর্থাৎ বেবি বাম্বল বী, তখন আনন্দের চোটে কী করবেন বুঝে উঠতে পারলেন না। টিভির বাইরে জ্যান্ত মৌমাছি কখনও দেখেননি তো, তাই চিনতে পারেননি। প্রাথমিক উত্তেজনা কেটে যেতেই তাঁর মনে হল, একখানা মৌমাছি তো পোষাই যায়! এদের লোম ওড়ে না, এরা হাত চাটে না, বাড়ি বন্ধ করে বেড়াতে গেলে এদের ভার কে নেবে সে চিন্তা থাকে না, খাওয়ার জ্বালাও নেই, নিজেরাই উড়ে উড়ে খাবার খুঁজে আনে। পোষার পক্ষে বেশ সুবিধাজনক। তিনি মনে মনে ঠিক করলেন, মৌমাছিই পুষবেন। যে তাঁর কানে কানে কীসব বলতে এসেছিল, ওকেই পুষ্যি নেবেন। নিজের মনে একটা নামও ঠিক করলেন, বোমলু। বাবা-মাকে এক্ষুনি কিছু বলার দরকার নেই, কীসে আবার তাদের আপত্তি হবে কে জানে।
পরেরদিন ব্রেকফাস্টের সময় যখন সেই বোমলু মৌমাছি আবার ঘরে ঢুকল তখন ঋষিবাবুর উল্লাস দেখে কে! আহ্লাদের চোটে দুধের গেলাস উল্টে মায়ের কাছে বকুনি খেয়ে ফোঁপাতে ফোঁপাতে সব খুলে বললেন তিনি। বোমলু যে তাঁর কথা ভেবেই আজকেও আবার এসেছিল, তাকে মা ওইরকমভাবে খবরের কাগজের ঠেলা মেরে জানালার বাইরে বের করে ভালো কাজ করেননি, বাড়িতে গেস্ট এলে কেউ তাকে তাড়িয়ে দেয় নাকি - এইসব কথা কাঁদতে কাঁদতে উগরে দিচ্ছিলেন ঋষিবাবু।
সব শুনে মা আবার আঁতকে উঠলেন, "অ্যাঁ! মৌমাছি? সর্বনাশ! জানিস ওদের হুল থাকে, হাতে প্যাঁট করে হুল ফোটাবে ধরতে গেলেই। ইয়াব্বড় গোল হয়ে ফুলে যাবে হাতটা, আর কী ব্যথা! আমায় দু’বার কামড়েছিল ছোটোবেলায়।”
“তুমি পুষতে মৌমাছি?”
“ওই আর কী, চেষ্টা করেছিলাম দুয়েকবার। থাকে না ওরা, চলে যায়। মৌমাছি কি আর ঘরবন্দি থাকার মানুষ?” বলেই হেসে ফেলে তিন্নি, মানুষই বটে!
“কোথায় রাখতে ওদের পুষে?” সন্দেহ যেতে চায় না ঋষিমশাইয়ের। মা পুষ্যি নেওয়ার নাম শুনলেই যেমন তেড়ে আসে, বিশ্বাস হয় না এসব কথা।
“একটা বাক্স ছিল, তার ঢাকনার জায়গায় মশারি-ছেঁড়া আটকে অনেক কান্ড করে তাদের থাকার জায়গা বানানো হয়েছিল, জানিস! থাকলই না তাতে কেউ! তুই কীসে রাখবি তোর ওই বোমলু না ভোমলু, তাকে?”
ঋষিবাবু তো হাঁ। মা বোমলুর থাকার জায়গার খোঁজ নিচ্ছে, তার মানে মা রাজি? কথাটা মনে হতেই একপাক নেচে নিলেন তিনি। তারপর বললেন, “জানি না। দেশলাই বাক্সে হবে?”
“দূর বোকা! দেশলাই বাক্সে তো মশা রাখতে হয়। মৌমাছি ঐটুকু জায়গায় থাকতে পারে নাকি?”
“তুমি মশাও পুষতে, মা?” আজ ঋষিবাবুর শুধুই অবাক হওয়ার দিন।
“নাহ্‌, পুষতাম না, চেষ্টা করতাম। ওরা কি আর পোষ মানার জীব?” বলতে বলতে তিন্নির চোখ যায় বাইরের দিকে, টগরগাছের ডালে।
“ঋষাই, আয় আয়, জানালার ধারে চ। শশশ্, আওয়াজ করিসনি। ওই দ্যাখ, ডালে দেখছিস ঝুলছে, সবুজ রঙের, ঝুলছে আর দুলছে।”
“গ্রিন লিভস মা?”
“না না, গ্রিন লিভসের নিচে, ওই যে সরু মতো, ওটা স্নেক।”
“স্নেক? S ফর স্নেক?”
“হ্যাঁ হ্যাঁ, S ফর স্নেক। কী জ্বালা রে বাবা! লাউডগাকে বলতে হচ্ছে S ফর স্নেক!”
“লাউ মানে গোর্ড? স্নেক গোর্ড খায়, মা?”
“না রে বাবা, এই স্নেকটার নাম লাউডগা।”
“ওকে পোষা যায়?”
“অ্যাই না, একদম না। খবরদার ঋষাই, বাগানে স্নেক দেখলেই পালিয়ে আসবে, ধরতে যাবে না। কী মুশকিল হল একে নিয়ে, দুনিয়ার জীবজন্তু পোকামাকড়ের ভার নেওয়ার বাই চেপেছে মাথায়।”
নিজের মনেই বিড়বিড় করতে করতে তিন্নি ঋষিমশাইকে একহাতে জড়িয়ে ধরে লাউডগা সাপটাকে দেখতে থাকে। ওদিকে ঋষিবাবু হারিয়ে যেতে থাকেন আরেক রাজ্যে - কর্ভাস, ফেলিসিয়া, ভৌকিং, বোমলু, স্নেক, সেদিনের সেই শুঁয়োপোকাটা, সবাই মিলে সে-রাজ্যে তাঁকে আগলে রাখে, যত্নে রাখে তার সবুজ মনটাকে। ধোঁয়ার আঁচ সে মনে যত দেরিতে লাগে, ততই মঙ্গল। ওই কর্ভাস-শুঁয়োপোকার দলবল সেই কাজটাই করতে থাকে বেজায় মন দিয়ে, ঋষি ওদের আগলায় তার ছোট্ট সবুজ মন দিয়ে, সেই যত্ন ওরা যে ফিরিয়ে দেবেই দেবে!
_____

অলঙ্করণঃ রাখি পুরকায়স্থ

No comments:

Post a Comment