গল্পঃ সর্পকাণ্ডঃ শিশির বিশ্বাস


সমুর মামাবাড়িতে সেদিন এক হুলুস্থুল কাণ্ড! ব্যাপারটা প্রথম নজরে পড়েছিল বাড়ির ছোকরা চাকর রামুয়ার। বিকেলে বড়োমামির স্পেশাল পান চাই। পানটা আসবে মোড়ের প্রাণহরা পানভাণ্ডার থেকে লখনউ স্পেশাল জর্দা এবং আনুষঙ্গিক মশলা সহযোগে। বিকেলে চায়ের পর এটা তার চাইই চাই। ফরমাশ পেয়ে রামুয়া তাই বেরোতে যাচ্ছিল। কিন্তু হল না আর। নিচের তলায় সিঁড়ির মুখে এসেই সে হাত-পা ছুড়ে চেঁচিয়ে উঠল, “হাই মাইজী, সাঁপ!”
দক্ষিণের বারান্দায় মস্ত বেতের টেবিলটার সামনে বড়োমামি তখন সবে চায়ের পাট নিয়ে আয়েশ করে বসেছেন। অন্য কেউ তখনও এসে পৌঁছোয়নি। রামুয়ার চিৎকারে তড়াক করে চেয়ার-টেবিল উলটে ঝনঝন শব্দে কাপ-ডিশ ভেঙে তিনি এক লাফে ঘরের ভিতর। তারপর দরজা বন্ধ করে ভিতর থেকেই গলা সপ্তমে তুলে দুই মেয়েকে সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন, “মৌ-পিউ‚ শিগগির ঘরে আয়।”
মৌ আর পিউ বড়োমামির দুই মেয়ের নাম। পিঠোপিঠি। সবে ইস্কুলে ভর্তি হয়েছে। বিকেলে সেজেগুজে দু’জন তখন নিচের তলায় পিকুদের ঘরে পুতুল খেলতে গেছে। উপরে মায়ের ডাক শুনে ছুটল সব ফেলে। তারপর সিঁড়ির মুখে এসেই হাউমাউ করে দু’জন ছিটকে পড়ল দু’দিকে। সেই সঙ্গে গলা ছেড়ে পরিত্রাহি চিৎকার।
গোলমাল শুনে পিকুর মাও ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন। ব্যাপার দেখে ভয়ে চিৎকার করে উঠলেও মুহূর্তে সামলে দু’জনকে টেনে ঘরে নিয়ে গেলেন তিনি। কিন্তু দুই বোনকে সামলায় সাধ্য কী! দু’হাতের পিঠ দিয়ে চোখ কচলাতে কচলাতে মৌ-পিউ তখন সমানে চেল্লাচ্ছে, “মার কাছে যাব, অ্যা—অ্যা! মার কাছে যাব।”
এদিকে উপরে তখন আরও হুলুস্থুল ব্যাপার। ছোটোমামা সবে অফিস থেকে ফিরেছেন। জামাকাপড় ছেড়ে নিজের ঘরে বসে জিরিয়ে নিচ্ছিলেন একটু। বেশ ধীরস্থির প্রকৃতির মানুষ। দু’তিনটে পত্রিকায় নিয়মিত কবিতা-টবিতা লেখেন। চিৎকারটা খানিক কান পেতে শুনে ধীরেসুস্থে বের হয়ে এলেন ঘর থেকে। দু’তলায় সিঁড়ির মুখে ততক্ষণে রামুয়াকে ঘিরে ভিড় জমে গেছে। রাঙামাসি, ছোটোমাসি এমনকি বেতো শরীর নিয়ে দিদাও উঠে এসেছেন। বাইরে অনেকের সাড়াশব্দ পেয়ে বড়োমামিও তাঁর ঘর থেকে দরজার ফাঁক দিয়ে সামান্য উঁকি মেরেছেন। সবাই মিলে এমন হইচই শুরু করে দিয়েছে যে, কারও কথাই তেমন শোনা যাচ্ছে না। ছোটোমামা বের হতে চিৎকার চেঁচামেচি সামান্য কমল।
ছোটোমামার প্রশ্নের উত্তরে রামুয়া চোখ বড়ো করে হাঁপাতে হাঁপাতে যা ব্যক্ত করল তার মর্মার্থ হচ্ছে, মাইজীর জন্য পান আনতে বেরিয়ে সে সবে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমেছে, এমন সময় দেখে একতলার ঠিক সিঁড়ির মুখেই মস্ত এক সাপ। ভয়ানক সাপটা হাঁ করে গিলতেই আসছিল তাকে। রামজীর অসীম কৃপায় কোনওক্রমে ছুটে পালিয়ে এসেছে।
“অ্যাঁ, বলিস কী! পাইথন!” রামুয়ার কথায় ছোটোমামার চোখমুখ কুঁচকে উঠল সামান্য। তারপরেই ব্যাপারটা যেন বুঝতে পারলেন তিনি। ধমকে উঠে বললেন, “ব্যাটা গাড়োল কোথাকার! পাইথন এখানে কোত্থেকে আসবে! নির্ঘাত দড়ি-টড়ি কিছু একটা। দাঁড়াও, দেখে আসি।” বলেই বোঁ করে নিচে নেমে গেলেন তিনি। আর তারপরেই ‘বাপ রে’ বলে তিন লাফে হুমড়ি খেয়ে পড়লেন উপরে জটলার মাঝে। খোঁচায় বেঁধে নতুন পাজামা ছিঁড়ে ফর্দাফাই।
ছোটোমামার আগমনে যেটুকু স্বস্তির ভাব দেখা দিয়েছিল, মুহূর্তে সেটা দ্বিগুণ আতঙ্কে পরিণত হল। ছোটোমামা অবশ্য উপরে উঠে কোনওরকমে একটু সামলে হাঁকডাক শুরু করে দিলেন, “রামুয়া, শিগগির একটা রড নিয়ে আয়—কুইক। এক্ষুনি মেরে ফ্যাল।”
রামুয়া অবশ্য বেগতিক বুঝে ততক্ষণে হাওয়া। খানিক হাঁকডাক করে তার সাড়া না পেয়ে শেষে থামতেই হল ছোটোমামাকে।
সমুর দিদিমা বললেন, “হ্যাঁ রে সতু, ভালো করে দেখেছিস তো? কী সাপ রে?”
ছোটোমামা এবার যেন থমকে গেলেন একটু। তবে ঘাবড়াবার পাত্র নন। মুহূর্তে সামলে নিয়ে বললেন, “কী যে বলো মা! নামার আগে চশমা লাগিয়ে নিয়েছিলাম কি আর এমনি? ইয়া বড়ো সাপ একটা! কিং কোবরা। টেনিস বলের মতো এই এত বড়ো মাথা! নিজের চোখে…” বলতে বলতে কতকটা হোঁচট খেয়েই থেমে গেলেন তিনি। নিজের কথাই কানে কেমন বেয়াড়ামতো শোনাল। চোখ বুজে ভাবতে চেষ্টা করলেন সত্যিই তিনি সাপের মাথাটা টেনিস বলের মতো দেখেছেন কি না। কিন্তু সময় পেলেন না। তার আগেই পাশ থেকে রাঙামাসি বলল, “হ্যাঁ রে ছোড়দা, তোর চোখের চশমা কোথায়?”
শুনে প্রায় আকাশ থেকে পড়লেন ছোটোমামা। তাড়াতাড়ি হাত দিলেন চোখে। তারপরেই মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লেন। সামান্য মাইনাস পাওয়ার তার। সবে দিন সাতেক হল চশমা নিয়েছেন। এখনও তেমন সড়গড় হতে পারেননি। তবে বেশ মনে আছে চেঁচামেচি শুনে ঘর থেকে বের হবার সময় চশমাটা চোখেই লাগিয়ে নিয়েছিলেন। অতএব সেটার হাল যে কী হয়েছে বুঝতে বিলম্ব হল না। সিঁড়ির নিচে সাপটাকে দেখে বেজায় ঘাবড়ে গিয়ে তড়িঘড়ি ফের উপরে উঠবার সময় কখন যে চশমাটা ছিটকে পড়ে গেছে বুঝতেই পারেননি। ধরা গলায় বললেন, “রামুয়াকে ডাক দেখি। চশমাটা নির্ঘাত নিচে পড়ে গেছে। হায় হায়! সবে করিয়েছি। ওটা কি আর আস্ত আছে রে!” শেষদিকে প্রায় আর্তনাদ করে উঠলেন তিনি।
ব্যস্ত হয়ে নিজেই ডাকলেন রামুয়াকে। কিন্তু তার সাড়াশব্দ পাওয়া গেল না।
নতুন চশমার শোক সামলাতে না পেরে একটু ইতস্তত করে এবার নিজেই নামতে লাগলেন সিঁড়ি দিয়ে। কিন্তু কয়েক পা নামতে না নামতেই নিচের থেকে ‘কাঁপ’ করে একটা শব্দ হল হঠাৎ। ব্যস, এক লাফে ফের পিছন ফিরে ছিটকে এসে পড়লেন দোতলার বারান্দায় জটলার উপর। নিমেষে একসাথে অনেকগুলো কণ্ঠ হাউমাউ করে ছিটকে পড়ল চারদিকে।
“কামড়ে দিয়েছে! কামড়ে দিয়েছে!” আর্তনাদ উঠল নানা কণ্ঠে।
বলা বাহুল্য, ছোটোমামা যেভাবে হুমড়ি খেয়ে পড়েছিলেন তাতে সবার ধারণা হয়েছিল সাপটা তাকেই কামড়েছে। সেটা বুঝতে পেরে তাড়াতাড়ি সামলে নিয়ে জানালেন, সাপটা তাঁকে কামড়ায়নি; কামড়েছে নিচের কাউকে।
অবশ্য চিৎকার-চেঁচামেচি তাতে থামল না। বরং বাড়ল আরও। নিচের কাকে কামড়াল সাপটা? বাড়ির কাউকে নয়তো? বড়োমামি গোড়া থেকেই চেল্লাচ্ছিলেন। এবার দুই মেয়ের নাম ধরে মড়াকান্না জুড়ে দিলেন।
সাপে কামড়েছে। এই চিৎকারে নিচের তলায় পিকুদের ফ্লাটেও তখন হইচই পড়ে গেছে। কিন্তু তারাও কেউ ঘর থেকে বের হতে সাহস পাচ্ছে না। মৌ, পিউ তো আগে থেকেই চিৎকার জুড়েছিল। এবার উপর থেকে মায়ের মড়াকান্না শুনে দারুণ আতঙ্কে দু’জন ফিট হয়ে গেল। সুতরাং জল, পাখার হাওয়া, চিৎকার-চেঁচামেচি, সব মিলিয়ে পিকুদের ফ্লাটেও শুরু হল আরেক কাণ্ড!
নিচতলায় যে কিছু একটা ঘটেছে এ-বিষয়ে উপরে তখন কারও আর বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। তারপর নিচে চিৎকার চেঁচামেচির মধ্যে যখন ঘন ঘন মৌ-পিউয়ের নাম শোনা যেতে লাগল তখন সন্দেহটা দানা বাঁধতে বিলম্ব হল না। কিন্তু নিচে নামার উপায় নেই। সিঁড়ির মুখেই যে সাপ! সুতরাং কান্নাকাটি বাড়ল আরও।
ওই সময় ও-ধারের চিলতে ঝুলবারান্দা থেকে হঠাৎ রামুয়ার গলা শোনা গেল, “ছোটি দিদিমণিদের সাঁপে কাটে নাই, মাইজী।”
উপরের চিৎকার-চেঁচামেচি স্তিমিত হল একটু। তারপরেই এক ঝাঁক প্রশ্নবাণ ছুটল রামুয়ার উদ্দেশে।
“ওমা! তুই কোথায়?”
“ঠিক দেখেছিস তো বাবা, মৌ-পিউকে সাপে কামড়ায়নি?”
“কী করে জানলি?”
প্রত্যুত্তরে ওদিক থেকে রামুয়ার গলা শোনা গেল, “হামি তো সাঁপটোকে দেখলাম, মাইজী। বাপ রে বাপ! কিতনা বঢ়িয়া সাঁপ! দেওতা মা মনসার চেলা!”
এতক্ষণে সবার খেয়াল হল, পশ্চিমের চিলতে ঝুলবারান্দা থেকে সিঁড়ির নিচেটা দেখা যায়। সুতরাং পড়ি কি মরি করে সবাই ছুটল সেদিকে। ঝুঁকে পড়ল রেলিংয়ের উপর। বলা বাহুল্য, এ-ব্যাপারে ছোটোমামাই নিলেন অগ্রণী ভূমিকা।
যতটা ভাবা গিয়েছিল, তত নয়। তবুও সিঁড়ির মুখে হাত দুই লম্বা জলজ্যান্ত সাপটাকে দেখে সবার তো প্রায় নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসার জোগাড়। অত বড়ো সাপ সিঁড়ির মুখে এল কোত্থেকে! ছোটোমামা বললেন, “দ্যাখ, বলেছিলাম কিনা মাথাটা টেনিস বলের মতো? ব্যাটা আস্ত ব্যাঙ গিলেছে একটা।”
‘কাঁপ’ শব্দের রহস্য বোঝা গেল এবার। আওয়াজটা তাহলে ব্যাঙটার অন্তিম আর্তনাদ! অন্য কিছু নয়। ব্যাপার বুঝে সবাই যদি বা একটু হাঁফ ছাড়তে যাচ্ছিল, তখনই চিৎকার-চেঁচামেচিতে উপরে পৌঁছে গেল দুঃসংবাদ। মৌ-পিউ অজ্ঞান হয়ে গেছে। জ্ঞান ফেরেনি। ঘরে পুরুষ মানুষও কেউ নেই। এক্ষুনি ডাক্তারকে একবার খবর দেওয়া দরকার। সুতরাং ফের শুরু হল কান্নাকাটি।
নিচে মৌ আর পিউ দু’জনেই অসুস্থ। অথচ কারও নিচে নামার উপায় নেই। সবচেয়ে করুণ অবস্থা ছোটোমামার। স্নেহের দুই ভাইঝির জন্য এক্ষুনি কিছু করা দরকার। কিন্তু উপায় নেই। সিঁড়ির মুখেই সাপটা। একটা লাঠি-টাঠি পেলে চেষ্টা করা যেত। কিন্তু রামুয়া ফের গা-ঢাকা দিয়েছে।
এদিকে উপরে নিচে এত যে ব্যাপার, সাপটার কিন্তু কোনও হেলদোল নেই। ইতিমধ্যে ব্যাঙটাকে গিলেই এনেছে প্রায়। তারপরেই নড়েচড়ে উঠল প্রাণীটা। এঁকেবেঁকে খানিক এগিয়ে ঢুকে পড়ল সিঁড়ির পাশে পাম্পের ঘরে। শুধু লেজের ডগার খানিকটা বেরিয়ে রইল বাইরে।
সাপটা নড়ে উঠতে ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়তে যাচ্ছিল সবার। ভেবেছিল ভোজ সাঙ্গ হবার পর সাপটা তার আস্তানায় সরে পড়বে। কিন্তু সেই আস্তানাটা যে এত কাছে, ভাবতেই পারেনি কেউ। এ যে আরও গেরো হয়ে গেল! এতক্ষণ তবুও দেখা যাচ্ছিল সাপটাকে। তেমন হলে একটা লাঠি-টাঠি দিয়ে মোকাবিলা করা যেত। কিন্তু এখন সিঁড়ির মুখে তার লেজের ডগাটুকু ছাড়া বাকি সবটাই পাম্পের ছোট্ট ঘুপচি কুঠুরির ভিতর অদৃশ্য। সুতরাং সে-পথও বন্ধ।
এই যখন অবস্থা, হঠাৎ কোত্থেকে এসে হাজির হল সমু। কাঁধে পরিচিত কিট ব্যাগ। মিশন স্কুলে পড়ে। কতকটা ডানপিটে গোছের। স্কুলেও ফুটবল টিমের ক্যাপ্টেন। ইন্টার স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টের মরসুমে মাঝেমধ্যে শনিবার কলকাতায় খেলা পড়লে খেলার শেষে সোজা চলে আসে মামাবাড়িতে। রবিবারটা কাটিয়ে যায়।
সমু আপনমনেই ঢুকে পড়েছিল বাড়ির ভিতর। হঠাৎ চিৎকার-চেঁচামেচিতে থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল। তারপর মিনিট খানেকের মধ্যেই বুঝে নিল ব্যাপারটা। উপর থেকে ছোটোমামা তখন সমানে চিৎকার করছেন, “খবরদার, আর এগোসনি সমু। বরং পারিস তো একটা বাঁশ-টাঁশ কিছু দু’তলার বারান্দায় লাগিয়ে দে। নামা যায় কি না দেখি।”
প্রত্যুত্তরে সমু ইশারায় থামতে বলল ছোটোমামাকে। তারপর দু-চার কথায় সাপটা সম্বন্ধে যতটা সম্ভব জেনে নিয়ে পায়ে পায়ে এগিয়ে গেল সিঁড়ির নিচে ছোটো পাম্প-ঘরটার দিকে। কাছে গিয়ে সাপের লেজের ডগাটা ভালো করে খানিক লক্ষ করে কেউ কিছু বোঝার আগেই ছোঁ মেরে সাপের লেজটা শক্ত করে ধরে এক ঝটকায় টেনে বের করে আনল। তারপর মাথার উপর জোরে কয়েক পাক ঘুরিয়ে ছুড়ে দিল। সশব্দে খানিক দূরে ছিটকে পড়ে অত বড়ো সাপটা কেমন মড়ার মতো নেতিয়ে পড়ে রইল। দেখে এগিয়ে গিয়ে সমু ফের লেজের ডগা ধরে তুলে নিল সেটাকে। ওর হাতে প্রায় মড়ার মতোই ঝুলতে লাগল সাপটা। ওই অবস্থায় বাড়ি থেকে বের হয়ে দূরে এক ঝোপের ভিতর সেটাকে ছুড়ে দিল ও।
উপরে দোতলার বারান্দায় প্রত্যক্ষদর্শী যারা, এই ডাকাত ছেলেটির কাণ্ড দেখে তাদের নিঃশ্বাস প্রায় বন্ধ হয়েই গিয়েছিল। এবার ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়তে সবাই হুড়মুড় করে নেমে এল একসাথে। ইতিমধ্যে পিকুদের ঘরেও স্বস্তির নিঃশ্বাস পড়েছে। জ্ঞান ফিরেছে মৌ-পিউয়ের।
বড়োমামি এসেই জড়িয়ে ধরলেন সমুকে। “ভাগ্যিস, আমাদের দস্যি সমুবাবু এসেছিল!”
দিদা বললেন, “দস্যি ছেলে! ভয় করল না তোর? মা গো, যদি কামড়ে দিত!”
সমু বলল, “ওটা তো দাঁড়াশ সাপ, দিদা! মোটেই বিষ নেই। সেবার দেশের বাড়িতে তুমিই তো দাঁড়াশ সাপ চিনিয়ে দিয়েছিলে। মনে নেই?”
দমবার পাত্র নন ছোটোমামা। ভাগনের পিঠ চাপড়ে দিয়ে বললেন, “তবুও এতটা সাহস না দেখালেও পারতিস, সমু। যদি হয়ে যেত কিছু!”
সমু হেসে বলল, “কী আর হবে, ছোটোমামা? সাপটা ব্যাঙ গিলেছে মস্ত একটা। নড়বার শক্তিই ছিল না। তাছাড়া, সেবার তুমিই তো বলেছিলে, সাপের লেজ ধরে বার কয়েক বনবন করে ঘোরালে ওদের শিরদাঁড়ার জোড়া খুলে যায়। কিছুক্ষণ আর নড়বার মতো শক্তি থাকে না। কী করে কামড়াবে, বলো?”
_____
অঙ্কনশিল্পীঃ জয়ন্ত বিশ্বাস

No comments:

Post a Comment