গল্পঃ চতুর্মাত্রিকঃ মৃগাঙ্ক ভট্টাচার্য



বাংলা ছাড়িয়ে ওড়িশায় ঢুকে পড়েছি। টয়ট্রেন নয়, এ হল এক্সপ্রেস ট্রেন, অথচ ছুটছে ছ্যাকড়াগাড়ির থেকেও ধীরগতিতে। শ্রাবণ মাস। অসহ্য না হলেও একটা দমচাপা গরম আছে। তবে থেকে থেকে হাওয়া দিচ্ছে। তেমন একটা অসুবিধে হচ্ছে না।
সহযাত্রীরা সকলেই দক্ষিণ ভারতীয়। শুধু দু’জন মনে হল ওড়িয়া। তারা নিজেদের মধ্যে গল্পগাছা করছে। ওড়িয়া ভাষা না জানলেও তার খানিকটা বুঝতে পারছি। কিছুদিন আগে বন্যা হয়েছিল এদিকে। রেললাইনের ওপর উঠে পড়েছিল বানের জল। ট্রেন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল ক’দিন। সম্প্রতি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। নতুন করে শুরু হয়েছে ট্রেন চলাচল। এই লাইনের সব ট্রেনই এখন এমন মন্দাক্রান্তা ছন্দে চলছে।
একটু তন্দ্রামতো এসেছিল। আর ঠিক তখনই আমার স্বপ্নে মা এল।
একটা প্রাসাদ দেখতে পেলাম। ছোটোখাটো রাজবাড়ি যেমন হয়। তার দোতলার অলিন্দে দেখি মা হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছে। মা চোখ বুজেছে পঁচিশ বছর আগে। তখন মার বয়স চল্লিশের কাছাকাছি ছিল। কিন্তু স্বপ্নে দেখা এই মায়ের বয়স একুশ-বাইশ। মুখে ছাঁদ একইরকম থাকায় চিনতে অসুবিধে হয় না। মাথাভর্তি কোঁকড়া কালো চুল। টকটকে ফর্সা গায়ের রং। বড়ো বড়ো চোখ, বাঁশির মতো নাক, পাতলা ঠোঁট। আমার দিকে মুখ টিপে হেসে বলল, “কী দেখছিস হাঁদার মতো? আমি এখন এই বাড়িতেই থাকি।”
চটকাটা ভেঙে গেল। চোখ কচলে তাকিয়ে দেখি, কোথায় রাজপ্রাসাদ, আমি ট্রেনের মধ্যেই বসে আছি। বারমুডা পরা একজন ষণ্ডাগণ্ডা চেহারার হকার আণ্ডা আণ্ডা বলে হাঁক পাড়তে পাড়তে সেদ্ধ ডিমের বড়ো একটা বালতি নিয়ে প্যাসেজ দিয়ে চলে গেল। একজন এল কফি নিয়ে। একটু কফি খাওয়া দরকার। তাহলে ঘুম ঘুম ভাবটা যাবে।
কফি নিলাম এক কাপ। কিন্তু চুমুক দিতে গিয়ে মুখ কুঁচকে ফেললাম। কফিটা বিস্বাদ। পাউডার দুধটায় গণ্ডগোল আছে। জানালা দিয়ে কাপ সমেত কফি ফেলে দিলাম।
মা যখন মারা যায় আমার বয়স তখন চোদ্দ। সে সময় মাঝেমধ্যেই এই স্বপ্নটা দেখতাম। হুবহু এই স্বপ্ন আমি আগেও অনেকবার দেখেছি। তারপর একটা সময় স্বপ্নটা আসা বন্ধ হয়ে গেল।
এর মধ্যে আমি চাকরি পেয়েছি। আমার বিয়ে হয়েছে। দু’বছর পর আমার মেয়ে জন্মেছে। কিছুদিন পর বাবার ক্যান্সার ধরা পড়ল। তার জেরে চলে গেল বাবা। আমার ওপর সংসারের দায়িত্ব আরও বাড়ল। বাস্তব জীবন আমাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরল। ইদানীং বাবা-মায়ের কথা ভাবার অবধি সময় পাই না। তবুও এত বছর পর আজ মাকে স্বপ্ন দেখলাম।
ট্রেনের সঙ্গে দুলতে দুলতেই ভাবছিলাম স্বপ্নটা নিয়ে। আমাদের সত্ত্বা দুটো। একটা জাগ্রত, আরেকটা ঘুমন্ত। ঘুমন্ত সত্ত্বার খবর আমরা রাখি না। কিন্তু সেই বিশেষ স্বপ্নটা আমার স্মৃতির তোরঙ্গে কোথাও জমা করে রাখা ছিল নিশ্চয়ই। আমার অবচেতন মনের মধ্যে মা-বাবা থাকবে সেটাই তো স্বাভাবিক। আজ সেই স্মৃতির তোরঙ্গের ডালা খুলে গেছে কোনও কারণে।
একেবারে ধানক্ষেতের মধ্যে ট্রেনটা দাঁড়িয়ে গেল। এর আগেও এমন দাঁড়িয়েছে। একটুক্ষণ পর ছেড়েও দিয়েছে। এবার বেশ কিছুক্ষণ হয়ে গেল ট্রেন ছাড়ার নাম নেই। সহযাত্রীদের মুখে যা শুনলাম তাতে মনে হল সামনে নতুন করে কোথাও জল উঠেছে। বড়ো একটা শ্বাস ছেড়ে নেমে পড়লাম ট্রেন থেকে।
আকাশ মেঘলা। হাওয়া দিচ্ছে মৃদু মৃদু। ট্রেনে যেটুকু গরম লাগছিল বাইরে খোলা হাওয়ায় আর তেমন লাগছে না। আড়মোড়া ভেঙে তাকালাম সামনের দিকে। যেদিকে দু’চোখ যায় জবজবে ধানক্ষেত। মাঝখান দিয়ে রাস্তার মতো কিছু একটা গেছে। একটু দূরে বাঁশঝাড়। বর্ষায় ভিজে ঘন সবুজ হয়ে আছে। তার পিছনে একটা জঙ্গুলে জায়গা।
মনটা দুলে উঠল সামান্য। এক চক্কর হেঁটে আসব নাকি? বারমুডা পরা ষণ্ডাগণ্ডা চেহারার হকার আমার পাশেই দাঁড়িয়ে মোবাইলে কার সঙ্গে কথা বলছিল। ফোনটা পকেটে গুঁজে বলল, “যান না, রাজবাড়িটা দেখে আসুন গিয়ে। ঘণ্টা দুয়েকের আগে লাইন ক্লিয়ার হবে না।”
রাজবাড়ি আছে নাকি এদিকে? তাহলে তো দেখে আসতে হয়। এগিয়ে এলাম খানিকটা। বাঁশবনটা আরও অন্ধকার। চাপ চাপ সবুজ থরথর করে কাঁপছে চারপাশে। হাঁসের ডাক কানে এল। আশেপাশে বসতি আছে নাকি কে জানে।
একটা বাঁকের মুখে পায়ের শব্দ পেলাম মনে হল। আসছে কেউ। লুঙ্গি পরা। খালি গা। সরে দাঁড়ালাম একটু। আমার দিকে ভ্রূক্ষেপ অবধি না করে কালো কুচকুচে লোকটা চলে গেল আমার পাশ কাটিয়ে।
যা বুঝছি জঙ্গল নয়, ঝোপঝাড় বেড়ে গেছে অযত্নে। এগোতে এগোতে ভাঙা ইটের দেওয়াল দেখতে পেলাম। দেওয়ালে শ্যাওলা জমে আছে। আর একটু এগোতেই দেখি দেওয়ালে বড়ো একটা গর্ত। এতটাই বড়ো যে মানুষ গলে যায়।
উঁকি দিলাম। বিশাল একটা পোড়ো বাড়ি। পলেস্তারা খসে পড়েছে। এটাই তার মানে রাজবাড়ি। এটা পিছনের দিক। কী মনে হল ঢুকে পড়লাম গর্তটা দিয়ে।
ছপছপে জলের ওপর দিয়ে হেঁটে বাড়িটার সামনের দিকে পৌঁছলাম। উঠোনে ছ’জোড়া থাম। একটার মাথায় রয়েছে পরি। এককালে তার সাদা রং ছিল। এখন জ্বলে গেছে। চাতাল ঠেলে চওড়া সিঁড়ি ধরে উঠলাম আগাপাশতলা প্রাণহীন বাড়িটার হাট করে খোলা সদর দরজার দিকে।
ভেবেছিলাম সোঁদা গন্ধ নাকে আসবে। তা হল না। মেয়েলি প্রসাধনীর একটা গন্ধ পেলাম। চুলের তেলের গন্ধও হতে পারে। চোখ চলে গেল সামনের দিকে। চলটা ওঠা সিমেন্টের মেঝের মধ্যে পড়ে রয়েছে টকটকে লাল একটা চিরুনি।
ভেতরের দেওয়ালগুলোর দশা দেখছি সুবিধের নয়। যেখানে সেখানে খসে পড়েছে কড়িবরগা। কোথাও কোনও জানালা দরজার কাঠ নেই। কোনও আসবাবপত্রও নেই। সব চুরি হয়ে গেছে সম্ভবত। দেওয়ালে যেখানে দু-চার জায়গায় চুন সুরকি আছে সেখানেও সময় এসে মানচিত্র এঁকে দিয়ে গেছে। দেওয়ালের মধ্যে উঁচিয়ে আছে একটা মরচে ধরা পেরেক। এখনও ঝুলছে কাচহীন একটা কাঠের ফ্রেম। আবছা একটা ছবি। হাতে আঁকা। এককালে রঙিন ছিল, এখন সেই উজ্জ্বল রং মিলিয়ে গিয়ে ধূসর। পা টিপে টিপে সেই ছবিটার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম।
একটি কিশোরী মেয়ের ছবি। কোঁকড়া চুল কাঁধ অবধি ছাপিয়ে এসেছে। চোখদুটো বড়ো বড়ো। বাঁশির মতো নাক। পাতলা ঠোঁট। ছবিটার দিকে হাঁ করে তাকিয়ে থাকলাম একটুক্ষণ। এমন মিল কী করে হয়! এ যে আমার পনেরো-ষোলো বছর বয়সের মা!
আর ঠিক তখনই আকাশে মেঘ ডেকে উঠল। দুরগুম দুরগুম করে কেঁপে উঠল আমার বুকের ভেতরটাও। এ কোথায় এসে পড়েছি আমি!
বিভ্রান্ত হয়ে এদিক ওদিক তাকালাম। ঘরে অন্যদিকে একটা ঘোরানো সিঁড়ি। সেই সিঁড়িটা আমাকে টানতে লাগল। পা টিপে টিপে এগোলাম সামনের দিকে। সিঁড়ির প্রথম ধাপে পা দিয়েই দেখলাম ধুলোর মধ্যে আমার পায়ের ছাপ পড়ছে। বহুদিন কেউ উঠেনি এই সিঁড়ি দিয়ে। ল্যান্ডিংয়ের পরের অংশটা ভাঙা। খানিকটা আবার ঝুলছে। এতখানি এসে আর দাঁড়িয়ে থাকা চলে না। কৌতূহল সংবরণ করাও কঠিন। বেশ ঝুঁকি নিয়েই উঠে এলাম দোতলার বারান্দায়।
এখান থেকে অনেকটা দূর অবধি দেখা যায়। আবার আকাশ ডেকে উঠল শব্দ করে। হাওয়া দিল এতাল বেতাল। হঠাৎ করে হাওয়াটা থেমেও গেল। আকাশে বিদ্যুতের ঝলক দেখতে পেলাম। কিন্তু কোনও শব্দ কানে এল না। হাওয়ার গতি বেড়ে গেল আবার। অদিকের সবুজ জঙ্গল প্রবলভাবে মাথা ঝাঁকাতে লাগল সেই খ্যাপাটে হাওয়ায়।
বৃষ্টির বেগ বাড়ল নতুন করে। বৃষ্টির বাজনার মধ্যেই কাদের যেন গলার আওয়াজ পেলাম। পেছনদিকটায় গাছগাছালির আড়ালে একটা দিঘি আছে মনে হয়। সেই জলাশয়ের কিছুটা চোখে আসছে। দিঘির ওদিক থেকে কাদের যেন নড়াচড়া, কথাবার্তা টের পাচ্ছি। মেয়েলি গলা, হাসাহাসির শব্দ ভেসে আসছে এদিকে।
দু’পা পিছিয়ে গেলাম। গ্রামের মেয়েরা হয়তো স্নান করতে নেমেছে দিঘিতে। আমার এখানে থাকা উচিত নয়। এবার আমার ফেরা দরকার। ভাবতে ভাবতেই শব্দটা কাছে এগিয়ে এল।
জনা পাঁচেক শাড়ি পরা মেয়ে নিজেদের মধ্যে কথা বলতে বলতে হেঁটে আসছে এদিকে। মেয়েলি ঠাট্টা-ইয়ার্কি চলছে বোধহয়। কিন্তু শাড়ি পরার ধরনটা মনে হল একটু অন্যরকম। দলের বাকি চারজন একরকম দেখতে। আদিবাসী মহিলারা যেমন হয়, তেমন।
একজন বাকিদের তুলনায় লম্বা। গায়ের রং ধবধবে ফর্সা। কুচকুচে কালো কোঁকড়া চুল মাথাভর্তি। কাঁধ ছাপানো ভেজা চুল থেকে গড়িয়ে নামছে বিন্দু বিন্দু। ভয়ে আমার ঘাম দিতে লাগল। যদি আমাকে এরা দেখে ফেলে তাহলে একটা যাচ্ছেতাই কাণ্ড হবে।
নিঃশ্বাস বন্ধ করে তাকিয়ে রইলাম ওদের দিকে। বাইরে মেঘের ডাক থেমে গেছে। ওরা কি কিছু বুঝতে পেরেছে? আমার পায়ের ছাপ কি চোখে পড়েছে ওদের? বুঝতে পারছি না। মেয়েগুলো এসে পড়েছে সিঁড়ির কাছটায়। ফর্সা মেয়েটা মুখ তুলে তাকাল ওপরদিকে। চোখাচোখি হল আমার সঙ্গে। আমার বুকটা ধড়াস করে উঠল। কী আশ্চর্য, এ যে আমার মা!
বুকের মধ্যে হাতুড়ি পিটতে শুরু করেছে কেউ। একটা অদ্ভুত আতঙ্ক আর গায়ে কাঁটা দেওয়া বিস্ময় মিলেমিশে গেল আমার রক্তকণার মধ্যে। আর ঠিক তখনই চারদিক আলো আলো হয়ে গেল। প্রচণ্ড শব্দে বাজ পড়ল একটা। একেবারে সিঁড়ির ল্যান্ডিংয়ের সামনেটায়। প্রচণ্ড ভয়ে আমি চোখ বন্ধ করে ফেললাম।
চোখ যখন খুললাম তখন দেখি ট্রেনের মধ্যে বসে আছি। সহযাত্রীরা আমার মুখের দিকে উদগ্রীব হয়ে তাকিয়ে আছে। চোখ খুলতেই জল এগিয়ে দিল একজন। লোকজনের কথাবার্তায় জানতে পারলাম ট্রেন ঘণ্টা দুয়েক দাঁড়িয়ে ছিল। লাইন ক্লিয়ার হবার পর আবার ছেড়েছে একটু আগে। আমি নাকি সিটে বসে বসেই কিছুক্ষণের জন্য অচেতন হয়ে গিয়েছিলাম।
আকাশ মেঘে ঢাকা। বৃষ্টি পড়ছে মুষলধারে। ট্রেন চলছে দুলকি চালে। বিকেলটা বড্ড মনখারাপ করা আজ। আমি ঠেস দিয়ে বসে বাইরের দিকে তাকিয়ে আকাশপাতাল ভাবছি।
এসব কি ভ্রম? আমার কি হ্যালুসিনেশন হয়েছিল? অচেতন মানুষের কি হ্যালুসিনেশন হতে পারে? অজ্ঞান হয়ে এমন দিনের আলোর মতো স্পষ্ট স্বপ্ন দেখবে কী করে! তাহলে কী হয়েছিল আসলে? কে দেবে এর ব্যাখ্যা?
বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে চক্র আছে। পৃথিবী ঘুরছে সূর্যের চারদিকে। প্রতিবার এক জায়গাতেই ফিরে ফিরে আসছে। ঘুরছে সৌরজগৎ। অতি ক্ষুদ্র ইলেকট্রন ঘুরপাক খাচ্ছে নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে। পদার্থের সর্বশেষ অবস্থা হল ল্যাপটনস। তার ভর নেই, চার্জ নেই, অস্তিত্বই নেই। শুধু আছে ঘূর্ণন। জন্মের পর মৃত্যু - জীবনচক্র।
কোথায় যেন একবার পড়েছিলাম, আমরা তিনমাত্রার পৃথিবীতে বাস করি। সময়কে ধরা হয় নদীর স্রোতের মতো। সময়নদীতে ভাসছি আমরা। এগিয়ে চলেছি সামনের দিকে। একদিন জরা আসবে, চুল সাদা হবে, গায়ের চামড়া কুঁচকে যাবে - এভাবেই একটু একটু করে এগিয়ে যাব মৃত্যুর দিকে। কিন্তু বহু সাধক বা যোগী চতুর্মাত্রিক জগতের অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন। তাঁরা বলেন, সময় নাকি সেখানে সমুদ্রের জলের মতো স্থির। তার আদি নেই, অন্তও নেই।
তাহলে আমি কি প্রকৃতির আশ্চর্য খেয়ালে কোনওভাবে তিনমাত্রার বেড়া ভেঙে চারমাত্রার পৃথিবীতে চলে গিয়েছিলাম? সেই জগত কি এই পৃথিবীর সমান্তরাল কোনও জগত? আমার মা কি সেই পৃথিবীতে বাস করছে এখন? কিন্তু মায়ের মৃত্যুর সময় বয়স ছিল চল্লিশের কাছাকাছি। পোড়ো রাজবাড়িতে যাকে দেখলাম তার বয়স একুশ-বাইশ। জীবন তো সামনের দিকে নিয়ে যায়। মা পিছিয়ে নিজের সেই বয়সটায় পৌঁছে গেল কী করে?
যেভাবে পৃথিবী ঘোরে, গ্যালাক্সি ঘোরে, ইলেকট্রন ঘোরে, সেভাবেই কি ঘোরে আমাদের জীবনচক্র? তাহলে কি আমাদের অলক্ষ্যে রয়েছে অন্য কোনও জগত? যে জগত চতুর্মাত্রিক? আমার মা কি সেই জগতে যাপন করছে অন্য কোনও জীবন? মায়ের কিশোরী বয়সের সেই ছবিটাই বা কোথা থেকে এল!
আরও প্রশ্ন আছে। মায়ের মৃত্যুর পর থেকে দু-আড়াই বছর ধরে একটা বিশেষ স্বপ্ন ক্রমাগত আমাকে কে দেখাল? প্রতিবার দেখতাম একটাই স্বপ্ন - রাজবাড়ির দোতলার অলিন্দে দাঁড়িয়ে আছে মা। মাঝে বহু বছর দেখিনি, কিন্তু আজ এত বছর পর আবারও সেই স্বপ্নটা দেখেছি। কী এর ব্যাখ্যা!
জানি এসব জানা হবে না কখনও। এই অলৌকিক অভিজ্ঞতার কথা কেউ বিশ্বাসও করবে না। মাকে ভীষণ ভালোবাসতাম। মায়ের কথা ভেবে মনটা খারাপ হয়ে গেল। চোখেমুখে একটু জলের ঝাপটা দেওয়া দরকার। আজ এসব অদ্ভুত ঘটনার পর মনটা থেকে থেকে হু হু করে উঠছে।
সিট ছেড়ে উঠে দাঁড়ালাম। লোকজন পথ ছেড়ে দিল। আড়চোখে দেখছে আমাকে। ওয়াশরুমের দিকে ধীর পায়ে এগোতে লাগলাম। দরজা বন্ধ করে হাউ হাউ করে কিছুক্ষণ কাঁদতে হবে আমাকে। তবে যদি ভেতরের এই দমচাপা কষ্টটা খানিকটা যায়।
_____


1 comment: