বিজ্ঞানের পাঠশালাঃ প্লাস্টিক ব্যানঃ অমিতাভ প্রামাণিক





সবাই যে এক ধারসে বলে যাচ্ছে প্লাস্টিক ব্যান করো, প্লাস্টিক বর্জন করো, কেউ এই গুরুত্বপূর্ণ কথাটা বলছে না যে, প্লাস্টিক হুট করে ব্যান করা বা বর্জন করা অসম্ভব।
কেন?
তার উত্তর দেওয়ার আগে কয়েকটা কথা বলে নিই।
আমাদের ছোটোবেলায় – খুব বেশি বছর আগের কথা নয়, বছর চল্লিশ আগেও মুদিখানা বাজার করতে গেলে আমাদের সঙ্গে নিয়ে যেতে হত একটা চটের ব্যাগ আর ঢাকনা-আঁটা ধাতব বাটি। চাল-ডাল-নুন-মশলাপাতি সবকিছু দোকানদার ওজন করে বিভিন্ন সাইজের কাগজের ঠোঙায় ভরে দিতেন। সেগুলো ঐ চটের ব্যাগে ভরা হত। তারপর উনি বলতেন, দে, তেলের বাটিটা এগিয়ে দে। তখন সেই অ্যালুমিনিয়ামের বাটিটা ওঁর হাতে দিলে উনি পলায় করে কয়েক পলা তেল সেই বাটিতে ঢেলে ঢাকনাটা এঁটে দিতেন। পলা বুঝলে কি? পলা দেখতে অনেকটা ছোটো বাটির মতো, যার সঙ্গে একটা লম্বা ডাণ্ডা খাড়াভাবে ঝালাই করে দেওয়া, যাতে ডাণ্ডাটা ধরে তেলের টিনে বাটিটা ডুবিয়ে সেই বাটিভর্তি তেল তুলে আনা যায় আর ডাণ্ডাটা কাত করে ধরে সেই তেলটা অন্য পাত্রে ঢেলে দেওয়া যায়, যাতে হাতে তেল না লেগে যায়। বাড়িতে গয়লা দুধ দিতে এলেও একই ব্যাপার। গয়লার কাছে থাকত ছোটো একটা ধাতব বাটি বা গেলাস, যাকে সে বলত পোয়া। চার পোয়ায় এক সের। এই সের এখনকার কিলোগ্রামের চেয়ে কিছুটা কম। যদি আধসের দুধ দরকার হত তো গয়লা সেই পোয়া দু’বার দুধে ভর্তি করে ঢেলে দিত বাড়ির দুধ নেওয়ার পাত্রে। সবজি আর মাছ-মাংসেরও একইরকম ব্যাপার ছিল। সবজি কিনতে গেলে তার আলাদা ব্যাগ থাকত, মাছ-মাংসের সাধারণত আলাদা। দোকানদার আলু-বেগুন বা মাছ-মাংস ওজন করে সরাসরি সেইসব ব্যাগে ঢেলে দিত। বাজারে গেলেই সেইসব ব্যাগ সঙ্গে নিয়ে যেতে হত।
আর এখন? সমস্ত কিছু বিক্রি হয় প্লাস্টিকের প্যাকে। তাই বাজার করতে গেলে খালি হাতে গেলেই চলে। তেল বিক্রি হয় প্লাস্টিকের প্যাকেটে, দুধও তাই। সবকিছু কিনে সেগুলো বয়ে আনার জন্যে দোকানদার সঙ্গে দিয়ে দেয় প্লাস্টিকের ক্যারি ব্যাগ। পাতলা পাতলা এইসব প্লাস্টিকের ব্যাগ থেকে জিনিসপত্র নামিয়ে যথাস্থানে রেখে দেওয়ার পর সেটার আর কোনও কাজ নেই। ফেলে দিলেই হল।
সে তো হল, কিন্তু প্লাস্টিক জিনিসটা আসলে কী? ইলাস্টিক বলেও একটা শব্দ শোনা যায়, সেটাই বা কী? দুটো কি একই?
না। যেকোনও জিনিসের ওপর বল প্রয়োগ করলে – টানলে, ঠেললে, চেপে ধরলে, আছাড় মারলে তার আকৃতির পরিবর্তন হয়। বল প্রয়োগের মাত্রা বাড়াতে থাকলে আকৃতির পরিবর্তনও বেড়ে যায়। এই যে বল প্রয়োগের সঙ্গে সঙ্গে বস্তুটা না ভেঙে বা না ছিঁড়ে এর আকৃতির ক্রমান্বয় পরিবর্তন করা সম্ভব হয়, এই ধর্মকেই বলা হয় প্লাস্টিসিটি। পক্ষান্তরে এই প্রযুক্ত বলটা সরিয়ে নিলে যে ধর্মের জন্যে কোনও বস্তু তার আগের আকৃতিতে ফেরত যেতে পারে, তাকে বলা হয় ইলাস্টিসিটি। যার প্লাস্টিসিটি বা ইলাস্টিসিটি যত বেশি, সে তত বেশি প্লাস্টিক বা ইলাস্টিক। চুল বাঁধার জন্যে রবারের যে গোল গোল ‘গার্ডার’ ব্যবহার করে মেয়েরা, তাকে ইলাস্টিক বলা হলেও আসলে তার ইলাস্টিসিটি একই আকৃতির একটা ধাতুর চাকতির চেয়ে অনেক কম। কিন্তু এর প্লাস্টিসিটি বেশি, কেননা রবারকে টেনে অনেকটা লম্বা করা যায় অর্থাৎ বল প্রয়োগ করে এর আকৃতিটা অনেক বেশি পরিবর্তন করা যায় তার ছিঁড়ে যাওয়ার আগে অবধি, যেখানে ধাতুর জিনিসের আকৃতি পরিবর্তন হয় তুলনামূলকভাবে অনেক কম। বল প্রয়োগ বন্ধ করলে ধাতুর জিনিস তার আগের আকৃতির খুব কাছে ফিরে আসে, যেখানে রবারের চাকতি ঠিক আগের আকৃতিতে ফিরে আসে না। সেই জন্যেই কোমরে রবারের ‘ইলাস্টিক’ দেওয়া প্যান্ট ব্যবহারের কিছুদিনের মধ্যে ঢলঢল করতে থাকে। বল প্রয়োগে আকৃতির পরিবর্তন করা সহজ বলেই প্লাস্টিককে ইচ্ছেমতন রূপ দিয়ে হরেকরকমের জিনিস খুব সহজেই বানানো যায়। ছাঁচের মধ্যে গলন্ত প্লাস্টিক ঢেলে ঠাণ্ডা করে নিয়েই বহু ধরনের দৈনন্দিন ব্যবহারযোগ্য বস্তু বানানো হয়।
এই ধর্মের জন্যেই প্লাস্টিকের ক্যারিব্যাগের এত চাহিদা। পাতলা ফিনফিনে প্লাস্টিকের ক্যারিব্যাগে বেশ অনেক পরিমাণ জিনিস রাখলে সেটার আকৃতি হয়তো বদলে যায়, কিন্তু চট করে ছিঁড়ে যায় না। একই ওজনের প্লাস্টিকের ব্যাগ আর কাগজের বা কাপড়ের ব্যাগে জিনিস রেখে দেখো, প্লাস্টিকের ব্যাগের ওজন বইবার ক্ষমতা অনেক বেশি।
তবে যে প্লাস্টিক ব্যান করার কথা বলা হচ্ছে, তা কিন্তু প্রাকৃতিক রবার বা সমধর্মী অন্যান্য প্রকৃতিজ বস্তু নয়। এই প্লাস্টিক কৃত্রিম বস্তু, যার কাঁচামাল হচ্ছে মাটির তলায় প্রাপ্ত খনিজ তেল বা পেট্রোলিয়াম, যার এক বা একাধিক অংশ থেকে প্রাপ্ত কিছু আনস্যাচুরেটেড জৈব যৌগকে পলিমারাইজ প্রক্রিয়ায় কারখানায় এদের তৈরি করা হয়। ইথিলিন থেকে প্রাপ্ত পলি-ইথিলিন বা পলিথিন, প্রপিলিন থেকে পলিপ্রপিলিন, স্টাইরিন থেকে পলিস্টাইরিন, ইথিলিন টেরিথ্যালেট থেকে পলিইথিলিন টেরিথ্যালেট বা পেট, ভিনাইল ক্লোরাইড থেকে পলিভিনাইল ক্লোরাইড এইসব প্লাস্টিকের উদাহরণ। এছাড়াও আছে পলিয়েস্টার, পলি-অ্যাক্রিলেট, পলি-ইউরিথেন, পলি-কার্বনেট, পলি-অ্যামাইড তথা নাইলন ইত্যাদি।
প্লাস্টিকের ব্যবহার এত বেশি যে প্লাস্টিক ছাড়া আমাদের এখন আর চলেই না। বিশুদ্ধ সুতি, সিল্ক আর উলের জামাকাপড় আমরা এখন আর কত ব্যবহার করি? এদের দামও বেশি, তাই এদের সঙ্গে মিশিয়ে বা পুরোটাই পলিয়েস্টারের জামাকাপড় ছাড়া এখন আর গতি নেই। জামার বোতাম পলিপ্রপিলিন বা পলি-কার্বনেট। জিপ বা চেনও তাই। মোজায় নাইলন তথা পলি-অ্যামাইড, খেলাধূলার উপযোগী বা আঁটোসাঁটো পোশাকে লাইক্রা তথা পলি-ইউরিথেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে দাঁত মাজতে যাবে, টুথব্রাশের হ্যান্ডেল হাই-ডেনসিটি পলিইথিলিন (এইচ.ডি.পি.ই) আর ব্রিসলগুলো নাইলনের। চশমার লেন্স যদি কাচ না হয়, তবে নির্ঘাত পলি-কার্বনেট, ফ্রেমও হয়তো তাই বা মোল্ডেড এইচ.ডি.পি.ই। এই মোল্ডেড এইচ.ডি.পি.ই দিয়েই বানানো শ্যাম্পু বা লিকুইড সাবানের বোতল, ক্রিমের বোতল, কেচাপ, জ্যাম বা টিপে টিপে অন্যান্য যা বের করতে হয় যেমন টুথপেস্ট বা শেভিং ক্রিমের প্যাক, সাবানের প্লাস্টিক কেস, অধিকাংশ খেলনা। সবজি বা মুদিখানা দোকানে যে পাতলা ফিনফিনে ক্যারিব্যাগ সেগুলো লিনিয়ার লো-ডেনসিটি পলি-ইথিলিন বা এল.এল.ডি.পি। খাবার ঢাকা রাখা হয় যে অতি পাতলা স্বচ্ছ প্লাস্টিকের ফিল্ম দিয়ে, সেটা বাই-অ্যাএক্সিয়ালি ওরিয়েন্টেড পলিপ্রপিলিন বা বি.ও.পি.পি। দড়ি টাইপের জিনিস, সে জামাকাপড় শুকানোর জন্যেই হোক বা মাছ ধরার জাল বা মশারি – অধিকাংশই নাইলন। প্লাস্টিকের চেয়ার টেবিল লো-ডেনসিটি পলি-ইথিলিন। কোক-পেপসির বোতল হচ্ছে পলি-ইথিলিন টেরিথ্যালেট বা পেট। যাকে থার্মোকল বলা হয় সেগুলো আসলে স্টাইরোফোম বা পলি-স্টাইরিন ফোম। এগুলো দিয়েই তৈরি হয় ডিসপোজেবল থালা-বাটি-গেলাস। টিভি-ফ্রিজ-ওয়াশিং মেশিন-কম্পিউটার জাতীয় জিনিসপত্র বাড়িতে কেনা হলে ওদের গায়ে যে সাদা রঙের হালকা প্যাকেজিং থাকে, সেও এই বস্তুই। পলি-ইউরিথেন ফোম ব্যবহার হয় ফ্রিজের দরজায়, দামি জুতোর শুকতলায়। জলের পাইপ পলি-ভিনাইল ক্লোরাইড বা পি.ভি.সি। ইলেকট্রিক তারের ইনসুলেটর বা কেবলের প্লাস্টিকও তাই। বোতলের ছিপি, সফট ড্রিঙ্কের স্ট্র, প্লাস্টিকের বাটি সাধারণত পলি-প্রপিলিন। আর এগুলো তো সব সাধারণ ব্যবহার। বিশেষ বিশেষ কাজে স্পেশ্যালাইজড প্লাস্টিকও ব্যবহার করা হয়। নন-স্টিক রান্নার বাসনে ব্যবহার হয় পলি-টেট্রাফ্লুওরোইথিলিন বা টেফলন। আসবাবপত্রের ওপরের লেয়ারে যে ফরমাইকা থাকে, তা হচ্ছে ফেনল-ফর্ম্যালডিহাইড বা মেলামাইন-ফরম্যালডিহাইড প্লাস্টিক।
এই ফেনল-ফর্ম্যালডিহাইড প্লাস্টিকই প্রথম সম্পূর্ণ কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত কাঁচামালের রাসায়নিক বিক্রিয়ায় প্রাপ্ত প্লাস্টিক। ১৯০৭ সালে বেলজিয়াম-জাত আমেরিকান বিজ্ঞানী হেনড্রিক বেকল্যান্ড নিউইয়র্কে এই বস্তুটি বানিয়ে নাম দিয়েছিলেন বেকেলাইট। ইলেকট্রিক ইনসুলেশনে, বিশেষ করে আগেকার দিনের সুইচ বানাতে এর ব্যাপক ব্যবহার ছিল।
রসায়নশাস্ত্র ও তৎসংক্রান্ত প্রযুক্তি গড়গড়িয়ে এগিয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঠিক আগে এবং তার পর থেকে। বছর পঞ্চাশ আগে ল্যাবরেটরিতে আবিষ্কার হলেও উনিশশো কুড়ির দশকের শেষদিকে পি.ভি.সি-র বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়। জার্মান কোম্পানি বি.এ.এস.এফ তিরিশের দশকে আবিষ্কার করে পলি-স্টাইরিন। একই সময়ে আই.সি.আই আবিষ্কার করে পলি-ইথিলিন। চল্লিশের দশকে পলি-ইথিলিন টেরিথ্যালেট আবিষ্কার করে ক্যালিকো প্রিন্টার্স - তারা এর স্বত্ত্ব বিক্রি করে ডুপন্ট আর আই.সি.আই-কে। পঞ্চাশের দশকে পলি-স্টাইরিনের বিভিন্ন ফর্ম তৈরি করে ডাউ কেমিক্যালস। ইথিলিন ও প্রপিলিনের পলিমারাইজেশনের উপযোগী অনুঘটক আবিষ্কার করেন জার্মান বিজ্ঞানী জিগলার এবং তার সুচারু ব্যবহার করে পলি-প্রপিলিনের বাণিজ্যিক উৎপাদনের রাস্তা খুলে দেন ইতালিয় বিজ্ঞানী ন্যাটা, পঞ্চাশের দশকে। ১৯৬৩ সালে জিগলার ও ন্যাটা একত্রে নোবেল প্রাইজ পান।
প্লাস্টিকের এই সর্বগ্রাসী ব্যবহার শুরু হয়েছে ঠিক এর পর থেকে। এক এক করে বিভিন্ন ব্যবহারে যেই এর কার্যকারিতা উপলব্ধি করা গেছে, শুরু হয়ে গেছে সেই সেই কাজে প্লাস্টিকের ব্যবহার। প্রকৃতিতে হালকা, টেকসই, যেমন খুশি তেমন রূপ দেওয়া সম্ভব একে, তাপ ও বিদ্যুতের কুপরিবাহী (কিন্তু ইচ্ছা করলে বিদ্যুতের পরিবাহীও বানানো সম্ভব) – এর যে বিস্তৃত ব্যবহার সম্ভব, তাতে আর আশ্চর্য কী!
কিন্তু এর ফল হয়েছে সুদূরপ্রসারী। প্লাস্টিক উৎপাদনকারী বিশ্বের প্রথম পঞ্চাশটা কোম্পানির মোট প্লাস্টিক বিক্রি এখন বছরে এক ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি। এর মধ্যে বারোটা আমেরিকান, আটটা জাপানি, ছ’টা জার্মান। জার্মান কোম্পানি বি.এ.এস.এফ এদের শীর্ষস্থানে।
এর অনিবার্য পরিস্থিতি আজকের এই প্লাস্টিক দূষণ। আর এইজন্যেই আওয়াজ উঠছে সর্বত্র প্লাস্টিক ব্যান করো, প্লাস্টিক বর্জন করো। এই দূষণের মূলে হচ্ছে সেই সব গুণাবলি যার জন্যেই প্লাস্টিকের এত কদর। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যেটা তা অবশ্যই যে এটা টেকসই। রোদে জলে হাওয়ায় প্লাস্টিক দিব্যি টিকে থাকে, এতে না ধরে মরচে, না এ ক্ষয়ে যায় সহজে। মানুষের তৈরি কৃত্রিম পলিমার বলে ব্যাকটেরিয়া একে হজম করতে পারে না। সেই জন্যেই মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিলে প্লাস্টিকের ব্যাগ মাটি হয়ে যায় না, প্লাস্টিক হিসাবেই থাকে। যত্রতত্র উড়ে বেড়ায়। জমা হয় রাস্তার ধারে আবর্জনা হিসাবে। নর্দমার মুখে বা মধ্যে জমা হয়ে জল আটকে দেয়, ফলে রাস্তায় জল জমে যায় বর্ষায়। অন্যান্য সমস্ত কিছুর সঙ্গে গিয়ে পড়ে নদীতে, সেখান থেকে সাগরে। কিন্তু অন্যান্য প্রাকৃতিক বস্তু যেমন কালের নিয়মে জীবাণুদের প্রকোপে জীর্ণ হয়ে প্রকৃতিতে মিশে যায়, প্লাস্টিকের প্রায় মরণ নেই। সে বড়োজোর সূর্যের আলট্রাভায়োলেট রশ্মির আঘাতে একটু ভঙ্গুর হয়ে যায়। ফলে রোদে কাপড় শুকাতে দেওয়ার নাইলনের দড়ি বহুদিন পরে ছিঁড়ে যায় বা বাইরে রেখে দেওয়া প্লাস্টিকের চেয়ার ভেঙে যায়। রাস্তার ধারে বড়ো বড়ো হোর্ডিংয়ে যে ফ্লেক্সের বিজ্ঞাপন ঝুলতে থাকে, কোনওদিন ভেবে দেখেছ, তার শেষ পরিণতি কী হয়? কেউ যদি দয়া করে সেগুলো নামিয়ে তার বদলে অন্য বিজ্ঞাপন লাগায়, তবে তো অন্য কথা, সাধারণভাবে এগুলো বহুদিন টেকার পর রোদের আলট্রাভায়োলেট রশ্মির প্রভাবে ভঙ্গুর হয়ে যায় ও ঝোড়ো বাতাসে ছিঁড়ে যেতে পারে। কিন্তু এই ছিঁড়ে বা ভেঙে যাওয়া টুকরোগুলো আরও ছোটো টুকরো হতে আরও প্রচুর সময় লাগে। সেই সময়ের পরেও এরা প্রাণীজ বা উদ্ভিজ্জ বস্তুর মতো ভেঙে জল আর কার্বন-ডাই-অক্সাইড হয়ে যায় না সহজে। বরং পরিণত হয় খুব ছোটো ছোটো মাইক্রো-প্লাস্টিকে। এরা ধুলোয় মিশে থাকে, নয়তো জমা হয় জলে। হাওয়ায় ভাসতে পারে আর শ্বাস নেওয়ার সময় ঢুকে পড়তে পারে শরীরের অভ্যন্তরে। জলে জমা টুকরোগুলো জলজ প্রাণীর শরীরে জমা হয়। মাছ ও অন্যান্য জলচর প্রাণীরা জলে ভাসমান প্লাস্টিকের টুকরো, এমনকি বড়ো প্রাণী যেমন তিমি, সিল বা হাঙর প্লাস্টিকের ব্যাগ, বোতল বা অন্যান্য জিনিস ভুল করে খাদ্য ভেবে খেয়ে ফেলে। একবার গিলে ফেললে তো আর উগরে দিতে পারে না, ফলে সেগুলো সব জমা হয় পাকস্থলিতে ও অন্ত্রে। শরীরের কোনও উৎসেচক এদের ছোটো ছোটো অণুতে ভাঙতে পারে না। শরীরের এমন কোনও শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া নেই, যার ফলে এদের বিপাক সম্পন্ন করা যায়। ফলে এরা শরীরকে দূষিত করে চলে। মাছ ধরবার নাইলনের জাল সমুদ্রে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় তাতে আটকে মৃত্যু হয়েছে অসংখ্য জলচর প্রাণীর, কচ্ছপের, এমনকি তিমিরও।
পৃথিবীর বিভিন্ন নদীর দুই ধার এবং সমুদ্রের বেলাভূমি আজ প্লাস্টিকের জঞ্জালে পরিপূর্ণ। সেসব জায়গা দেখলে গা ঘিন ঘিন করে। বিশাল বিশাল এলাকা জুড়ে সমুদ্রের জলে ভাসছে প্লাস্টিকের থলে, জল ও অন্যান্য পানীয়ের বোতল, ক্রিমের কৌটো, হাবিজাবি অজস্র বস্তু। উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে প্রায় ফ্রান্সের মতো একটা বড়সড় দেশের সাইজের এক এলাকা তৈরি হয়েছে যাতে ভাসছে এই রকম প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা। এর নাম দেওয়া হয়েছে গ্রেট প্যাসিফিক গার্বেজ প্যাচ। এদের যেন মৃত্যু নেই।
যদি বা এদের ভাঙা সম্ভবও হয়, অনেক ক্ষেত্রেই এর ফলে সৃষ্টি হয় ভীষণ ক্ষতিকর বস্তুসমূহের। পলি-কার্বনেট তৈরি করতে হলে যে জিনিসটা দরকার হয়, তার নাম বিসফেনল এ। বিসফেনল এ’র প্রভাবে শরীরে বিভিন্ন হরমোনের গোলযোগ দেখা দিতে পারে। ইস্ট্রোজেন ও ইনসুলিনের ওপর এর প্রত্যক্ষ ক্ষতিকর প্রভাব প্রমাণিত। ক্যান্সারের জন্যেও এ দায়ী কি না তা নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা চলছে। যে সমস্ত প্লাস্টিকে ক্লোরিন থাকে, যেমন পলি-ভিনাইল ক্লোরাইড, তারা ভেঙে তৈরি করতে পারে ছোটো আণবিক গুরুত্বের ক্লোরিন-যুক্ত জৈব যৌগ, যা অত্যন্ত ক্ষতিকর। অধিকাংশ পলিমারের মূল যে অণু অর্থাৎ মনোমার, সেটিও শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর।
এমনকি প্লাস্টিক পুড়িয়ে ফেললেই যে সব সমস্যার সমাধান, তাও নয়। ঠিকভাবে না পোড়ালে এর ফলে তৈরি হয় ডায়ক্সিন ও ফিউরান, খুব কম পরিমাণেও যা শরীরে বিভিন্ন রোগ, এমনকি ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে। এইসব ক্ষতিকর পদার্থ যাতে না তৈরি হয়, সেজন্য প্লাস্টিক পোড়াতে হলে সাড়ে আটশো ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার ওপরে নিয়ন্ত্রিতভাবে দু’সেকেন্ডে পোড়াতে হয়, যাতে ডায়ক্সিন ও ফিউরান তৈরি না হয়। বড়ো মাত্রায় প্লাস্টিক পোড়ানোর জায়গায় – যেমন মিউনিসিপ্যালিটির আবর্জনা পোড়ানোর ইনসিনারেটরে সাধারণভাবে বহির্গত গ্যাসের শোধন করার ব্যবস্থা থাকে, যাতে ক্ষতিকর গ্যাস বাতাসে না মিশে যায়।
এত যে সমস্যা সৃষ্টি করে চলেছে প্লাস্টিক, তাহলে একে বর্জন বা ব্যান করাই তো উচিত। তবে কেন বলছি, যে তা সম্ভব নয়? এই কারণেই, যে প্লাস্টিক আমাদের জীবনযাত্রাকে এতটাই সচ্ছল করে তুলেছে, প্লাস্টিক আবিষ্কারের ফলে আমরা এতসব বিভিন্ন জিনিস পেয়েছি, যে এ ছাড়া আমাদের আর উপায় নেই। কেবলমাত্র সুতি, সিল্ক আর উল দিয়ে যদি আজ সমস্ত মানুষের জামাকাপড় বানাতে হয়, তবে তা অসম্ভব, কেননা এত তুলো আর রেশম উৎপাদনই হয় না পৃথিবীতে। প্লাস্টিক ব্যবহারের শুরুর দিকে, ১৯৬০ সালে, পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল তিনশো কোটি। ষাট বছরও যায়নি, এখন তা আড়াই গুণ, হয়ে গেছে সাড়ে সাতশো কোটি। যত মানুষ বেড়েছে, তত বেড়েছে পণ্যের চাহিদা। আগে যেখানে বাজারে পাওয়া যেত কেবলমাত্র বার সাবান, গুঁড়ো ডিটারজেন্ট, দাঁতের মাজন, এখন প্রচুর জিনিস বিক্রি হয় তরল হিসাবে – লিকুইড সোপ, শ্যাম্পু, কন্ডিশনার, লিকুইড ডিটারজেন্ট, লিকুইড ডিশ-ওয়াশ, লিকুইড ফ্লোর ক্লিনার, লিকুইড টয়লেট ক্লিনার, টুথপেস্ট, মাউথ ফ্রেশনার, হাজারো জিনিস। আগে বার বা গুঁড়ো জিনিস কাগজের প্যাকেটে বিক্রি করা সম্ভব ছিল, কিন্তু তরল পদার্থ কাগজের প্যাকেটে বিক্রি সম্ভব নয়, তাই প্লাস্টিকের প্যাকেট অবশ্যম্ভাবী। আগে ক্রিম বিক্রি হত কাচের শিশিতে, এখন তো একটা নয় – বডি-ক্রিম, ফেস-ওয়াশ, ভ্যানিশিং ক্রিম, ফেয়ারনেস ক্রিম, সান-কেয়ার ক্রিম, সান-স্ক্রিন লোশন – একগাদা জিনিস গায়ে মাখার, সবই তা লিকুইড। ফলে প্লাস্টিকের প্যাকেজিং ছাড়া চলবেই না। আর শুধু এগুলোই তো নয়। বস্তুত বালতি, মগ, স্যুটকেস থেকে শুরু করে কম্পিউটার, তার ব্যাগ, মোবাইল ফোন, ট্যাব, ক্যাবল, হেডফোন – বস্তুত চারদিকে তাকালে হেন জিনিস নেই, যাতে প্লাস্টিক নেই। প্লাস্টিকের জন্যেই এমনকি কাগজের প্যাকগুলো চকচকে দেখায়। ঘরের দামি পেইন্টও প্লাস্টিক পেইন্ট। আসবাবপত্রের চাকচিক্য ও স্থায়িত্বের কারণ তাদের ওপর প্লাস্টিকের কোটিং।
প্লাস্টিক ছাড়া তাই আমরা অসহায়। প্রাক বিংশ শতাব্দীর জীবনযাত্রায় আমাদের ফিরে যাওয়া সম্ভব নয় আর। সে কারণেই প্লাস্টিকের কোনও বিকল্প আমাদের হাতে নেই। আগে যে সমস্ত ব্যবহার ধাতু বা কাচ বা কাগজ দিয়ে চালানো হত, এখন তা সম্ভব নয়। কেননা অত ধাতু, কাচ বা কাগজ তৈরি করতে হলে পৃথিবী উজাড় হয়ে যাবে। এক সমস্যার সমাধান করতে অন্য সমস্যা তৈরি হয়ে যাবে সেক্ষেত্রে।
আরেকটা কথা তো বলিইনি। এই যে বিশ্বজুড়ে এত বিলিয়ন টন প্লাস্টিক উৎপন্ন হচ্ছে, কোত্থেকে আসছে এদের কাঁচামাল? সেই তেলের খনি থেকেই তো। হয় গ্যাস, নয় অশোধিত তেল – এ থেকেই তৈরি হয় প্লাস্টিকের কাঁচামাল বা ফিডস্টক। অশোধিত পেট্রোলিয়ামের ফ্র্যাকশনাল ডিস্টিলেশন করে পাওয়া যায় লিকুইফায়েড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (রান্নার গ্যাস), গ্যাসোলিন (পেট্রোল), ন্যাপথা, কেরোসিন (প্রধানত এরোপ্লেনের তেল), ডিজেল (প্রধানত বাস ও ট্রাকের তেল), অন্যান্য হাইড্রোকার্বন, আলকাতরা। এই ন্যাপথা আর ন্যাচারাল গ্যাসের আনস্যাচুরেটেড হাইড্রোকার্বনগুলোই প্রধানত পলিমারাইজ করে প্লাস্টিক বানানো হয়।
প্লাস্টিক যদি ব্যান বা বর্জন করা হয়, তবে এই জিনিসগুলোকে তো অন্য কোনও কাজে ব্যবহার করতে হবে যা থেকে একই দাম পাবে তেলের খনির ও শোধনাগারের মালিকরা। যদি তা না পায়, তবে এটা ওদের উশুল করতে হবে পেট্রোল বা ডিজেলের দাম বাড়িয়ে। আর তেলের দাম বেড়ে গেলে পরিবহনের খরচার জন্যে সমস্ত বস্তুরই দাম বেড়ে যাবে। তা কি কেউ চায়?
তাহলে উপায়?
উপায় হচ্ছে রিডিউস-রিইউজ-রিসাইকল। সে সমস্ত প্লাস্টিকের জিনিস মাত্র একবারই ব্যবহার করা হয়, যেমন প্লাস্টিকের ক্যারিব্যাগ বা বাজার থেকে কেনা জলের বোতল, যার অন্য কোনও ব্যবহার নেই (মিনারেল ওয়াটারের বোতল বাড়িতে জল সংরক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু এই অভ্যাস বর্জন করা উচিত, কেননা এর ফলে বোতল থেকে শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর পদার্থ জলে মিশতে পারে), তা যথাসম্ভব বর্জন করা উচিত। বাজারে গেলে আগেকার দিনের মতো বাজারের ব্যাগ নিয়ে যাওয়া উচিত, পাতলা ক্যারিব্যাগ পুরোপুরি বর্জনীয়। তেমনি জল রাখার উপযোগী বোতল কিনে (সেটা ফুড গ্রেড প্লাস্টিকেরও হতে পারে) তাতে জল নিয়ে বেরোনো উচিত, যাতে রাস্তা থেকে মিনারেল ওয়াটার কেনার প্রয়োজন না পড়ে।
রি-ইউজ মানে একই জিনিসের বারবার ব্যবহার। অনেক শ্যাম্পু, হ্যান্ড-ওয়াশ লিকুইড ইত্যাদি এখন বিক্রি হয় পাম্প লাগানো স্পেশ্যাল প্লাস্টিক বোতলে। ব্যবহারের পর ফেলে না দিয়ে এদের রিফিল প্যাক কিনে এর মধ্যে ঢেলে নিলেই দিব্যি একাধিকবার এদের ব্যবহার চলে। প্লাস্টিক জিনিসের, এমনকি মিনারেল ওয়াটার বোতলের প্লাস্টিক দিয়ে বানানো অনেক গেরস্থালি ব্যবহারের উপযোগী বস্তুসামগ্রী নিজে হাতে-কলমে বানানোর ফন্দিফিকির বাতলানো আছে বিভিন্ন ইউটিউব ভিডিওতে। সেগুলো দেখে ঘরের অব্যবহার্য প্লাস্টিক সামগ্রী দিয়ে নানান জিনিস বানানো শেখা যেতে পারে।
রিসাইকল মানে এইসব বর্জ্য প্লাস্টিক যাতে কারখানায় ফেরত গিয়ে তাদের গলিয়ে বা যেকোনও রাসায়নিক উপায়ে এদের মূল পলিমারে পরিণত করে আবার এই কাজেই ব্যবহার করা যায়, তার ব্যবস্থা করা। ক্যারিব্যাগ ইত্যাদির ক্ষেত্রে, যাতে সাধারণভাবে একটাই পলিমার থাকে, পলি-ইথিলিন বা পলি-প্রপিলিন, এটা খুবই সম্ভব। বস্তুত কোন জিনিস কী পলিমার দিয়ে তৈরি, তা যাতে বোঝা যায়, তার জন্যে আন্তর্জাতিক কিছু নিয়মকানুন আছে। প্যাকের গায়ে তিনটে তির দিয়ে ত্রিভুজ এঁকে তার মধ্যে নম্বর লেখা থাকে, একেক নম্বর একেক পলিমারের জন্যে। যেমন ১ লেখা থাকলে বুঝতে হবে সেটা পেট, ২ থাকলে এইচ.ডি.পি.ই, ৩ হলে পি.ভি.সি, ৪ হলে এল.ডি.পি.ই, ৫ হলে পলি-প্রপিলিন, ৬ হলে পলি-স্টাইরিন, ৭ হলে অন্যান্য পলিমার। এই নম্বর দেখে এদের আলাদা করা সম্ভব হয়।
কিন্তু সমস্যা হচ্ছে প্লাস্টিকের অধিকাংশ প্যাকেজিংই অনেকগুলো পলিমার ফিল্মের সমষ্টি বা ল্যামিনেট। একেকটা পলিমারের একেকরকম গুণ। ভালো প্যাকেজিং হতে গেলে অনেকগুলো গুণ লাগে, যেমন, প্যাকটার মধ্যে যেন জলীয় বাষ্প ঢুকতে না পারে, সেটা যেন শক্তপোক্ত হয়, তার ওপর ওজন রাখলে যেন ট্যারাব্যাঁকা না হয়ে যায়, ভেঙে বা ফেটে না যায়, তার ওপর যেন ভালো করে প্রিন্ট করা যায় ইত্যাদি ইত্যাদি। একই পলিমারের সবগুলো গুণ না থাকায় একাধিক পলিমারের সমন্বয়ে এই প্যাকেজিংগুলো বানানো হয়। যেহেতু দুই বা বেশি পলিমারের মিশ্রণ থেকে তাদের আলাদা করা খুব সহজ নয়, তাই এই ল্যামিনেটগুলো রিসাইকল করা খুব কঠিন। একই সমস্যা কাগজের ওপর পলিমারের কোটিং বা খুব অল্প পরিমাণ জিনিসের জন্যে যে স্যাশে পাওয়া যায়, তাদের প্যাকেজিং নিয়ে। অনেক ক্ষেত্রে পলিমারের সঙ্গে ধাতুর পাতলা ফিল্মের ল্যামিনেটও থাকে।
পৃথিবীর বিভিন্ন ল্যাবরেটরিতে বায়ো-ডিগ্রেডেবল পলিমার নিয়ে অনেক গবেষণা হচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে হয়তো এমন প্যাকেজিং বস্তু বানানো সম্ভব হবে, যাকে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে পারে। কিন্তু যতদিন তা না হয় এবং হওয়ার পরও আমাদের প্রধান কর্তব্য হচ্ছে প্লাস্টিকের জিনিস যেন আমরা যত্রতত্র ছড়িয়ে না ফেলি। আবর্জনা বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার জন্যে তার ঠিকঠাক আলাদা করা (সেগ্রিগেশন) খুব জরুরি। প্লাস্টিক যেন সর্বদাই তার নির্দিষ্ট ড্রাই ওয়েস্টের জায়গায় জড়ো করে রাখা হয় ও তুলে দেওয়া হয় তাদের সংগ্রহকারীদের হাতে। লিটারিং বা ফেলে-ছড়িয়ে জায়গা নোংরা করার প্রবণতা বন্ধ করতে পারলেই আমরা গড়ে তুলতে পারব এক দূষণমুক্ত স্বচ্ছ সমাজ।
_____

4 comments:

  1. এই লেখাটা বেশী করে শেয়ার করা উচিৎ

    ReplyDelete
  2. খুব সময়োপযোগী লেখা ...

    ReplyDelete
  3. ভীষণ ভালো লাগল পড়ে। শেয়ার করছি নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে।

    ReplyDelete
  4. সময়পযোগী। সত্য-সত্য সচেতনতা বাড়লে তবেই পরিশ্রমের মূল্য পাবে।

    ReplyDelete