গল্পঃ পপুলার সেলুন - অরিজিৎ চক্রবর্তী



আসানসোলের গড়াই রোড ধরে যাদের নিত্য আনাগোনা তারা ‘পপুলার সেলুন’ অবশ্যই দেখে থাকবেন। মূল রাস্তার ধারেই সেই আদ্যিকালের কাঠ-টিনের সংমিশ্রণজাত কালো রঙের একদিক খোলা গুমটি বৈ বিশেষ কিছু নয় অবশ্য। পশ্চাতে ভদ্রলোকের বাড়ি আড়াল রেখে গায়ের জোরে ও আয়ের জেরে টিকে থাকা এক সামান্য গুমটি। তেমন চিত্তাকর্ষী না হলেও দোকানের বাইরে ঝোলানো রেট চার্জ অবশ্যই দৃষ্টি আকর্ষণ করে - টিনের সাইনবোর্ডে দরজার পাশে এক লোহার আঁকশিতে ঝোলানো। চুল কুড়ি টাকা, দাড়ি কুড়ি টাকা ও সর্বনিম্নে চুলদাড়ি একত্রে ত্রিশ টাকা।
আশ্চর্য!
সুপার পজিশন থিয়োরাম মুখ থুবড়ে পড়েছে যেন এথায়। এমনকি দুইয়ে দুইয়ে পাঁচ করতেও বহু মানুষকে বহুবার দেখেছি, স্বচক্ষে তিন হতে দেখা এই প্রথমবার। চলতি জিনিসের মাহাত্ম্যিই আলাদা, আদবকায়দাই ভিন্ন - মনে মনে চিন্তা করি। রেট চার্টও ব্যতিক্রম যায় কোথায়! প্রকৃত মর্মেই পপুলার।
তবুও চুলে খানিক বাড় দিলে ছাঁটিয়ে নামাতেই হয়। বিশেষ ভাবনাচিন্তা না করে সেলুনের ভিতরে প্রবেশ করলাম। দর্শনে আহামরি একটা সেলুন নয়। সামনে কাঠের চেয়ার ও বড়ো একখান আয়না বাদে গোটা কতক ছাঁটাই কাটাইয়ের সরঞ্জাম দেওয়ালে খুপরিতে সাজানো। তাছাড়া যত্রতত্র টাঙানো গোটা কয়েক লক্ষ্মী, কালী, গণেশের ক্যালেন্ডার। আশাতীতভাবে খুব তাড়াতাড়ি লাইন পেয়ে গেলাম। ফাঁকাই ছিল সেলুন, আমাকে দেখেই নাপিতবাবু তড়িঘড়ি চেয়ার বসিয়ে মস্ত একখানা সবুজ রঙের কাপড়ে গলা পর্যন্ত দেহখানাকে মুড়ে দিলে। যতখানি ভক্তি নিয়ে সেলুন প্রবেশ ঘটেছিল তার সিংহভাগই উবে যায় কাপড়ের উপর যত্রতত্র কলপের দাগ, সেভিং ক্রিমের ছোপ ও কুচো কুচো চুলের অপ্রীতিকর খোঁচায়। অস্বস্তিতে খানিক নড়েচড়ে বসতেই নাপিতবাবু দু’হাতে ঘাড় ধরে বসিয়ে দিলে। সেই দুই বাহুর চাপেই মেরুদণ্ড সোজা করে ঘাড়খানাকে সামনের দিকে কাত করতে হল। অম্লানবদনে সে বলে উঠল, “বলেছিলাম কি না, অবিনবাবুর মেয়ে বাড়ি পালাবে? মিলল তো?”
অকস্মাৎ এমন কথাবার্তায় জোর চমক খাই। “অবিনবাবু কে? তার মেয়েই বা হুট করে পালাতে যাবে কেন!” পালটা প্রশ্ন করি আমি।
নাপিতবাবু বেশ অবাক হয়। “অবিনবাবুকে চেনেন না? হাইস্কুলের মাস্টারমশাই অবিনবাবু? সামনের দু’ নং গলির তিনটে ঘর ছেড়ে দোতলার অবিনবাবু?”
“না মশাই, চিনিনে! অবিনবাবুকে চিনে আমার লাভও নেই তেমন।” বেশ বিরক্ত হয়ে বলি।
উটকো ঝামেলা! কোথাকার কে অবিনবাবু, তার মেয়ে পালালেই বা আমার কী!
“তবে সেলুন এলেন কী জন্য!” সে বেশ আশ্চর্য হয়।
“চুলদাড়ি ছাঁটতে এলুম। অবিনবাবুকে না চিনে থাকলে বুঝি চুল ছাঁটা যায় না?” একরকম অতিষ্ঠ হয়ে কথাটা বলি।
“না না, সে কেন! তবে নিতান্তই চুল ছাঁটতে হলে পার্লার গেলেই পারেন। আমার সেলুনে এসে কাজ কী?” নাপিত খানিক ইতস্তত করে। “অবিনবাবুকে চিনে থাকলে অবশ্য কথা ছিল। এবার কাঁচি চালাই কী করে!” এ ব্যাপারে তার অপারগতা জানাতে সচেষ্ট হয় সে। পাড়াসম্বন্ধীয় সাম্প্রতিকতম  ঘটনাবলীর উপর খোঁজ রেখে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য সেলুনের চেয়ারে আসীন খদ্দেরকে প্রদান করা তার কর্তব্য। এ-পেশায় থাকতে গেলে তা পালন করতেই হয়। অনেককালের অভ্যেসও বটে। কাঁচির তালে তালে মুখ না চালালে চুলকে বাগিয়ে আনাই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তাই আমি অবিনবাবুর ব্যাপারে আগ্রহী না হওয়ায় বেশ মুশকিলে পড়ে যায় সে। তাই মুখে চোখে বিব্রতভাব নিয়ে সে শুধোয়, “কোথাকার লোক আপনি? এদিককার নন বুঝি?”
“রঘুনাথপুরের। এখান থেকে মাইল ত্রিশেক দূর।” নাপিতকে ব্যাপারটা খোলসা করে বলি।
আদতে চুল কাটানোর ব্যাপারে স্থানীয় খোকন নাপিতের উপর আর ভরসা রাখা চলছিল না। এমনিতে স্বভাব-চরিত্রে সে বেশ প্রাণোচ্ছল, রোজকার খবর-টবরের সংগ্রহও তারিফযোগ্য। তবে সে ব্যাটাকে হাজারবার সতর্কবাণী শোনানো সত্ত্বেও ট্রিমার দিয়ে দাড়ির সাথে আমার জুলপি ওড়ায়। ফের সেই জুলপি মেক-আপ দেওয়াতে আরেক বিপত্তি, অবশ্যই আমার ক্ষেত্রে। আরও খানিকক্ষণ কাঁচির কচকচানি, অন্য খদ্দেরদের খচখচানি। বেশ খানিকক্ষণ কাঁচি চালিয়ে মাথার চুল ছোটো করা হয়। তখন তুলনামূলকভাবে জুলপি বড়ো দেখায়। ফের চুলের সাথে জুলপিকে খাপ খাওয়াতে তার উপর কিঞ্চিৎ ট্রিমার চালনা। অতঃপর চুলের আচমকা খানিক বাড় পাওয়া এবং সবশেষে ভারি খাপ্পা হয়ে ও অত্যধিক বেখাপ্পা চুল ছাঁটিয়ে আমার বাড়ি ফেরা। তাই এইবার বেশ মনে সাহস-টাহস নিয়েই গণ্ডির বাইরে চুল ছাঁটানোর পণ করেছি। আর সে যদি করতেই হয় তো বেশ চলতি, পপুলার সেলুনেই ছাঁটানো শ্রেয় বলে মনে করি।
দূরপ্রান্তের খদ্দের পেয়ে নাপিত মনে মনে বেশ খুশি হয়। তবে ভাবনায়ও পড়ে বেজায়। “এই হপ্তায় সেলুনে অবিনবাবুর মেয়ে পালানোই হট টপিক। জব্বর বিকোচ্ছে! খদ্দের এসেও সেই কথাই জানতে চায়। লোকে আস্ত টাকের উপর হপ্তায় হপ্তায় কাঁচি চালাচ্ছে পর্যন্ত!”
সে বোধহয় ভেবেছিল আমিও অবিনবাবুর মেয়ের পালানো সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ে এসেছি।
“তোফা চুল ছাঁটো। দাড়ি আলাদা। পছন্দ হলে বকশিস মিলবে, নইলে এক পয়সা পাবে না।” বেশ বড়লোকি কায়দায় কথাটা বললুম।
তা এমনই পর্যায়ে ঠেকে যে চুল-দাড়ি আলাদায় চল্লিশ টাকা নির্দ্বিধায় খরচ করতে রাজী হয়ে যাই। যতই হোক বাইরের শহরে কিপটেমি করলে চলে না। একটু হাতখোলা, দিলদরিয়া ভাব সেখানের হাওয়াতেই মিশে থাকে একরকম।
“একদম ফার্স্ট ক্লাস হেয়ার কাট দেব। চিন্তা করবেন না। কনফিডেন্স নিয়ে কথাটা বললে সে, “আর কেউ ছেঁটে দেখাক দেখি এই নাপিতের মতো! তাহলে বলব…”
জলের স্প্রেতে আমার চুলের আগাগোড়া ভেজাতে শুরু করে সে। দু’হাতের গোটা দশেক আঙুল দিয়ে সুবিধে মতন নাড়াচাড়া করে চুলগুলোতে। তারপর ধীরেসুস্থে শুরু হয় কাঁচি চালনা। কচকচ, কচকচ... তবে ছন্দ কাটে। লয় মিস হয়। আসলে জিভের সাথে তাল মেলে না যে! বারবার হাত থেকে কাঁচি স্লিপ করে। নাপিত কোনোমতে সামলায়। বাগিয়ে আনতে বেশ বেগ পেতে হয়। উশখুশ করতে থাকে। তাই আমার কান ও নাপিতের নাক বাঁচাবার তাগিদে আমাকেই যেচে কথা পাড়তে হয়। “নাপিতবাবু এখানেরই বাসিন্দা বুঝি?”
উত্তরে নাপিত জানায় যে আপাতত তাই। তবে এককালে বাংলার কোন এক নাপিত গাঁয়ে খদ্দেরের চেয়ে নাপিত সংখ্যার অকালবৃদ্ধি ঘটায় তার পূর্বপুরুষকে এখানে সেলুন পত্তন করতে হয়েছিল। তারপর ভগবানের দয়ায় আর ঘুরে দেখতে হয়নি। ব্যাবসায় পতন ‘না’ বরাবর। বর্তমানে সে নিজেও এই বংশপরম্পরা অক্ষুণ্ণ রেখেছে। একমাত্র সেই হল এ-তল্লাটের খানদানি ও খাঁটি নাপিত। বাকি ওসব পার্লারের ছোঁড়ারা আবার কাঁচি ধরতে শিখল কবে! যেমন তেমন চুল ছেঁটে খদ্দেরের পকেট কাটছে। দিনে দুপুরে ডাকাতি! নাপিত বেশ উত্তেজিত হয়ে পড়ে। তাকে থামানো মুশকিল হয়। “জানে ওরা এই নাপিতের সেলুনে কে কে চুল ছাঁটিয়ে গেছে! ওরা ক’টা এলেমদার লোকের চুল জন্মে ছেঁটেছে হাত গুনে বলুক দেখি!”
কথায় কথা বাড়ে। বেগ আসে, আবেগ আসে। ফের আবেগ এলেই তাকে থামাতে বেগ পেতে হয়। ভারি শক্ত তখন। আমি তাই জিজ্ঞেস করি, “তাই নাকি! ভারি ওজনদার লোকের চুল ছেঁটেছ বুঝি?”
“ঢের ছাঁটি। কতবার ছেঁটেছি! এই গেল রোববারই তো পাঁচকড়িবাবুর চুল ছেঁটে এলুম তার বাড়ি গিয়ে,” বেশ গদগদ ভাব নিয়ে সে বললে, ‘এ-তল্লাটে ওজনদার বলতে তো উনিই। সেলুনে সেঁধুলে একাই ফিট করে যান। আমাকে দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে চুল ছাঁটতে হয়। তারপর সেলুন থেকে তাঁকে বের করা সে এক ঝক্কি। তাই আজকাল বাড়ি গিয়েই ছেঁটে আসছি।”
“না না! ওজনদার বলতে নামকরা লোকের কথা বলছি,” আমি আপত্তি করি, “কোনও বিখ্যাত লোকের চুল ছেঁটেছ হে?”
“হ্যাঁ ছেঁটেছি। নরেনের চুলই ছেঁটেছি।” উত্তর দেয় নাপিত।
“বিখ্যাত কোনও চিত্রতারকা বুঝি নরেনবাবু? নাকি কবি-টবি কিছু?” প্রশ্ন করলাম আমি।
“সে কেন! ইসমাইল মোড়েই তো চিকেন রোলের দোকান নরেনের। তার মতো নামকরা রোল-বানিয়ে এ-তল্লাটে আর দুটি নেই। চেখে দেখা নেই বুঝি! তার চুলই তো হরদম ছাঁটি।”
“আরে, আরে! তা বলিনি। অন্ততপক্ষে জেলা পর্যায়ের নামকরা কোনও লোকের চুল ছেঁটেছ কোনওদিন?” আমি জানতে উৎসুক হই।
নাপিত কাঁচির কচকচানি থামিয়ে খানিকক্ষণ ভাবে। তারপর জবাব দেয়, “কেটেছি বৈকি! খোদ ঘন্টুদার চুল কেটেছি।” ফের বিষণ্ণবদনে কাঁচি চালাতে চালতে বলে, “তবে তা ঢের দিন আগে। তখনও ঘন্টুদা দাদা হননি। স্রেফ ঘন্টা হয়ে সাইকেল চড়ে মাছ বিক্রি করতেন। তারপর তো…”
স্তব্ধ হয়ে যায় নাপিত। তারপর নিস্তদ্ধতা ভেঙে হুকুম করলে, “চোখ বুজুন। সামনের চুল ছাঁটব।”
আমি চোখ বুজতেই সে চিরুনি দিয়ে সামনের চুলগুলিকে লম্বালম্বি নিচে নামিয়ে আড়াআড়ি কাঁচি চালালে। তবে চোখ বুজেই আমি তাকে শুধোলাম, “ঘন্টুদা আবার কে?”
নাপিত আশ্চর্য হয়। “সে কী মশাই! ঘন্টুদাকেও চেনেন না! আপনি দেখি দেশ-দুনিয়ার খবরই রাখেন না! ঘন্টুদাকে তো সবাই চেনে। জেলা জুড়ে লোক ঘন্টুদার নাম জানে। তার কথাতেই এ-তল্লাটে সক্কলে প্রায় উঠে বসে।”
উঠতে বসতে আমার ঘন্টুদাকে প্রয়োজন হয় না বলে নাপিত যেন আরও খানিক অবাক হয়। আমি কোনওক্রমে নিজের সম্মান বাঁচাতে বললুম, “না না, সে কেন! চিনি তো বটেই! নামখানা স্রেফ খেয়ালে ছিল না।”
চোখ বুজেই থাকলাম। ঘন্টুদাকে না চেনার লজ্জায় নাপিতের চোখাচোখি হতে চাইনে। এক্ষেত্রে খানিক স্বস্তিদায়ক বোধ হল তাই। নাপিত জুলপি ও চুলের ধার শেপ করতে ক্ষুর বাগালে। বেশ ক্ষুরধার নাপিত বোধ হল। মাত্র তিন জায়গায় ছড়েই ক্ষুর দিব্যি সুড়সুড় করে চলল। নাপিত ছড়ে যাওয়া স্থানে ফটকিরি ঘষতে ঘষতেই উৎফুল্ল হয়ে বলে, “উফ্‌! খাসা একখান ছাঁট দিলাম। বাবুর কাছে কমসে কম দশ টাকা বকশিসের আশা তো আছেই। দেখুন না, নিজের চোখেই দেখে নেন কেমন একখানা জব্বর কাট দিয়েছি।” এই বলে আমায় চোখ মেলতে অনুরোধ করলে সে।
আস্তে আস্তে চোখ খুললাম। সামনের আয়নার দিকে নিজেকে চেয়ে দেখি। ততক্ষণে নাপিত দিব্যি চুল আঁচড়ে বাবুসোনাটি করে দিয়েছে। কিন্তু এ কী! কদমছাঁট! এ তো অত্যধিক বেখাপ্পা! চোখ, কান, নাক ইত্যাদিকে চুলের সাথে খাপ খাওয়াতে বেজায় বেগ পেতে হচ্ছে। অকারণে তাদের বেশ বড়ো বড়ো বোধ হয়। আলাদা আলাদা করে প্রত্যেকটিকে চেনা যাচ্ছে। তাছাড়া ডানদিকের জুলপি বাঁদিকের তুলনায় লম্বায় খাটো, চওড়ায় বেজায়।
“হতচ্ছাড়া! মর্কট! এ চুল ছাঁটা হয়েছে! এ-চুল নিয়ে ভদ্রলোক বাইরে বেরোয়! বেহারি পণ্ডিত লাগছে নিজেকে!”
“সে কেন বাবু! বেশ তো বোম্বাইয়ের হিরোমার্কা চুল ছেঁটে দিলাম।” সে আপত্তি জানায়।
“সার্কাসের জোকার লাগছে! ওরাংওটাংয়ের মাথা লাগছে! কাছারিমোড়ের ফুচকাওয়ালা লাগছে!” আমি বলি। কিছুতেই সেই পরম সত্যকে উপলব্ধি করতে চাইনে যে চুল বরাবর বেখাপ্পাই ছাঁটা হয়। এ-সেলুন আর ও-সেলুন, কম আর বেশি বেখাপ্পা। নিজের মাথাকেই খাপ খাওয়াতে হয় সবসময় তার সাথে। তারপর খাপে খাপে তা চোখ সয়ে আসে। সেই বাস্তব অথচ ক্ষুদ্র সত্যিটাকেই মানতে পারিনে।
তবে নাপিতও তার চুল ছাঁটার বদনাম সইতে নারাজ। “কী যে বলেন মশাই! পাঁচকড়িবাবু, নরেন, ঘন্টুদা সবাই চুল ছাঁটিয়েছে আমার কাছে। কোনওদিন কমপ্লেন পাইনি। এ আজ প্রথম। তাছাড়াও কত লোকের চুল ছাঁটছি রোজদিন। কেউ তো বদনাম করেনি!” তার মুখ কাঁচুমাচু হয়ে আসে, “তাহলে কি হুজুরের কাছে দু’পয়সা বকশিসের আশাও রাখতে পারিনে?”
“একদম পার না!” অত্যন্ত খাপ্পা হয়ে উত্তর দিই আমি, ‘এক পয়সা পাবে না। তুমি ভারি চালাক তো বাপু! এর’ম চালাকি তো আগে বুঝিনি!”
নাপিত বেশ ভয় পায়। “কী চালাকি বাবু? আমি তো কোনওদিন কোনও চালাকি করিনি। রাম কসম! বংশপরম্পরায় নাপিত আমি। লোক ঠকিয়ে খাইনে কোনওদিন।”
“করোনি! করোনি বলছ? তা ঢের লোকের চুল তো ছাঁটো রোজ। নিজের চুল তুমি কার কাছে ছাঁটো সত্যি করে বলো দেখি।”
“তা বাবু ও-পাড়ার পাঁচু নাপিতের কাছে।” সে ভয়ে ভয়ে উত্তর দেয়।
“এই তো সত্যিটা বেরিয়ে পড়ল। এলেমদার চুল ছাঁটিয়ে নাপিত হলে নিজের চুল ছাঁটাতে চুপিচুপি অন্য নাপিতের কাছে যাও কেন! ভারি চতুর লোক তুমি!” আমি বেশ রেগে যাই, “এই ধরো চুল কাটার দরুন কুড়িটি টাকা। এক পয়সা বকশিস মিলবে না আর। ভারি তো চুল ছাঁটলে!”
বিশটাকা নাপিতের বুক পকেটে গুঁজে দিয়ে সটান দাঁড়ালাম। গটগট করে বেরিয়ে যাই সেলুন থেকে। সে থতমত খেয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। ভারি সেলুন তো! পপুলার সেলুন! লোক ঠকানো বিজনেস! হুম রে নাপতে, চক্কোত্তিকে বুরবক পেয়েছ কিনা!
_____

অঙ্কনশিল্পীঃ শতদল শৌণ্ডিক

No comments:

Post a Comment