টেকনো টুকটাকঃ চালকহীন মোটরগাড়িঃ সুজিতকুমার নাহা


চালকহীন মোটরগাড়ি

সুজিতকুমার নাহা              


চালকহীন স্বয়ংক্রিয় মোটরগাড়ি এখন আর কল্পকাহিনির পাতাতেই আটকে না থেকে পা (চাকা?) রেখেছে বাস্তবের মাটিতে। চালকহীন যানের পরীক্ষানিরীক্ষা চলছে পৃথিবীর বেশ কয়েকটি দেশে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, অদূর ভবিষ্যতেই বাজারে আসবে স্বয়ংক্রিয় মোটরগাড়ি। নানাধরনের কৃত্রিম ইন্দ্রিয় (সেন্সর) সমন্বিত এই যান হবে অত্যন্ত নিরাপদ কারণ, মানুষ যে ভুলগুলো করে যন্ত্র কদাচ সেগুলো করবে না।
ড্রাইভার-চালিত গাড়ির তুলনায় চালকহীন গাড়ি এখনই উন্নততর চালন-দক্ষতার অধিকারী! ‘ভার্জিনিয়া টেক’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সমীক্ষায় উঠে এসেছে রীতিমতো চমকপ্রদ খবর। প্রতি দশ লক্ষ মাইলে চালক-চালিত গাড়ি যেখানে ৪.২টি মারাত্মক সংঘর্ষে (crash) জড়ায় সেখানে চালকহীন যানের ‘ক্র্যাশ-রেট’ প্রায় ২৪ শতাংশ কম, মাত্র ৩.২টি। সময়ের সাথে নিরাপত্তার পাল্লা যে চালকহীন গাড়ির দিকে আরও ঝুঁকবে, সেটা সহজেই আন্দাজ করা যায়।
চালকহীন যানের উন্নততর ‘সেফটি রেকর্ডের’ কারণ কী? পরের আলোচনা থেকে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
অনেকেরই অভ্যাস আছে গাড়ি চালাতে চালাতে ফোনে কথা বলার। রাস্তার পাশের আকর্ষক হোর্ডিংয়ে দৃকপাত করাও অতি সাধারণ ঘটনা। যদিও চালনচক্রের পেছনে বসা পুরুষ বা মহিলার মুহূর্তের মনঃসংযোগের অভাব ডেকে আনতে পারে দুর্ঘটনা। ক্লান্তি কিংবা নিদ্রাহীনতার ফলে চালক তন্দ্রাচ্ছন্ন হওয়ায় ঘটতে পারে সাংঘাতিক পথ-দুর্ঘটনা। কাকভোরে অ্যাপ ক্যাবে চড়ে প্রাতঃকালীন উড়ান ধরতে যাওয়ার সময় ঠাণ্ডা বাতাসে চালকের ঘুমিয়ে পড়ার সম্ভাবনা এড়াতে তাঁর সাথে টুকটাক কথা বলা একটি ভালো অভ্যাস। মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি ড্রাইভ করাও বহু অ্যাক্সিডেন্টের কারণ। চালকহীন গাড়ির ক্ষেত্রে এসব কোনও কিছু সম্ভব না হওয়ায় এই প্রকার যান অনেক বেশি ভরসাযোগ্য ও নিরাপদ।
আগামীতে চালকহীন যানই যে পছন্দের বাহন হয়ে উঠবে তা নিয়ে সন্দেহ নেই।

_____

No comments:

Post a Comment