আলোর দিশারীঃ সত্যেন্দ্রনাথঃ গৌতম গঙ্গোপাধ্যায়

সত্যেন্দ্রনাথ

গৌতম গঙ্গোপাধ্যায়


১৯২৪ সালের মার্চ মাস। বন্ধুর আমন্ত্রণে বন্ধু এলাহাবাদ থেকে ঢাকা এসেছেন।
‘তোমাকে দুটো পেপার দিচ্ছি, একটা পাউলির আর অন্যটা আইনস্টাইন ও এরেনফেস্টের। দুটোই গতবছর বেরিয়েছে। তুমি বিশেষ করে পাউলির প্রবন্ধটা পড়ে দেখো, প্লাঙ্কের তত্ত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে একটা অদ্ভুত সমীকরণ এমনি এমনি ধরে নিয়েছে, কোথা থেকে সেটা এল বোঝার চেষ্টাই করেনি। আমার বিশ্বাস, এটা কেমন করে এল তা উদ্ধার করতে তুমি পারবে।’ বন্ধুকে বললেন মেঘনাদ সাহা।
মেঘনাদ ফিরে যাওয়ার পরে বিজ্ঞানী উলফগ্যাং পাউলির লেখা পেপার অর্থাৎ গবেষণাপত্রটা হাতে তুলে নিলেন তাঁর বন্ধু।
কয়েকমাস পরের কথা। সমীকরণটা কোথা থেকে এল তা বুঝতে পেরেছেন মেঘনাদের বন্ধু। একটা চিঠি লিখলেন। তারিখ দিলেন ৪ জুন, ১৯২৪। নিচে সই করলেন, এস. এন. বোস।  চিঠিটা ভাঁজ করে খামে ভরলেন, তার সঙ্গে দিলেন একটি গবেষণাপত্র। খামের উপর প্রাপকের নাম লিখলেন, ‘প্রফেসর আলবার্ট আইনস্টাইন’।
এই গল্পটা সবারই হয়তো জানা। এস. এন. বোসের পুরো নাম নিশ্চয়ই তোমাদের বলতে হবে না। আজ থেকে ঠিক একশো পঁচিশ বছর আগে জন্মেছিলেন বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু। সেই দিনটা ছিল ১৮৯৪ সালের ১লা জানুয়ারি। ১৯২৪ সালের সেই গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হলে তিনি সারা পৃথিবীর বিজ্ঞানীদের মধ্যে পরিচিত হয়ে যাবেন। সেই সময় পর্যন্ত তাঁর জীবনের কিছু গল্প তোমাদের আজ বলি।
১৯২৫ সালে সত্যেন্দ্রনাথ
সত্যেন্দ্রনাথদের পুরনো বাড়ি ছিল নদীয়ার বড়জাগুলিয়া গ্রামে। তবে তাঁর জন্ম কলকাতার জোড়াবাগানে। তাঁর বাবা সুরেন্দ্রনাথ কলকাতাতে চাকরি করতেন। মায়ের নাম ছিল আমোদিনী দেবী। সত্যেন্দ্রনাথ প্রথমে পড়া শুরু করেন বাড়ির কাছে নর্মাল স্কুলে। তোমরা অনেকেই নিশ্চয়ই জানো, সেই স্কুলে রবীন্দ্রনাথ কিছুদিন পড়েছিলেন। তারপরে তাঁদের পরিবার কলকাতার গোয়াবাগানে ২২ নম্বর ঈশ্বর মিল লেনের বাড়িতে উঠে আসে। তখন তিনি ভর্তি হলেন কাছের নিউ ইন্ডিয়ান স্কুলে।
ঈশ্বর মিল লেনে সত্যেন্দ্রনাথের বাড়ি
বাবা সুরেন্দ্রনাথ ছেলের লেখাপড়ার প্রতি ভালোবাসার কথা বুঝতে পেরেছিলেন। ছোটোবেলা থেকেই তাঁর অঙ্কের প্রতি ঝোঁক। দুষ্টুমি করলে তাকে হাতে চক ধরিয়ে মেঝেতে অঙ্ক কষতে বললেই হল, সব দুষ্টুমি নিমেষে উধাও। তাই ঠিক করলেন ছেলেকে কলকাতার সবচেয়ে ভালো স্কুলে পড়াবেন। ক্লাস টেনে ভর্তি করে দিলেন কলেজ স্ট্রিটের হিন্দু স্কুলে। তখন ক্লাস টেনকে বলা হত ফার্স্ট ক্লাস।
হিন্দু স্কুলে অঙ্ক শেখাতেন কলকাতার সবচেয়ে  নামকরা অঙ্কের শিক্ষক উপেন্দ্রনাথ বক্সী। তাঁর খুব প্রিয় ছাত্র ছিলেন সত্যেন্দ্রনাথ। তিনিই একবার অঙ্কে সত্যেন্দ্রনাথকে একশোতে একশো দশ দিয়েছিলেন। কারণ, সত্যেন্দ্রনাথ প্রশ্নপত্রে যতগুলো অঙ্ক ছিল সবগুলোই করে দিয়েছিলেন। এই গল্পটা তোমরা অনেকেই জানো। তিনি গর্ব করে বলতেন, সত্যেন্দ্রনাথ ভবিষ্যতে পিয়ের লাপ্লাস বা অগুস্তো লুই কশির মতো বড়ো গণিতবিদ হবেন। তবে শুধু অঙ্ক নয়, সত্যেন্দ্রনাথ সব বিষয়েই ভালো ছিলেন। টেনিসন বা রবীন্দ্রনাথের কবিতা অনর্গল বলতে পারতেন, কালিদাসের মেঘদূত তাঁর কণ্ঠস্থ ছিল।
১৯০৮ সালে তাঁর স্কুলের শেষ পরীক্ষা দেওয়ার কথা, তখন সেই পরীক্ষার নাম ছিল এনট্রান্স। কিন্তু পরীক্ষার দু’দিন আগে চিকেন পক্স বা জলবসন্ত হওয়ার ফলে তাঁর সে-বছর আর পরীক্ষায় বসা হয়নি। পরের বছর এনট্রান্সে হলেন পঞ্চম। প্রথম হয়েছিলেন হিন্দু স্কুলেরই চণ্ডীদাস ভট্টাচার্য, কিন্তু তার পরের বছরেই তিনি মারা যান। সেই বছরের আরও কয়েকজন ছাত্রের নাম আমাদের গল্পে পরে আসবে। একজনের নাম সবাই জানো, তৃতীয় হয়েছিলেন মেঘনাদ সাহা। তিনি ছিলেন ঢাকার জুবিলি স্কুলের ছাত্র। ওই একবারই সত্যেন্দ্রনাথ কোনও পরীক্ষাতে প্রথম হননি।
হিন্দু স্কুল থেকে রাস্তা পেরিয়েই প্রেসিডেন্সি কলেজ, সত্যেন্দ্রনাথ সেখানে ভর্তি হলেন। তাঁর প্রেসিডেন্সি কলেজের সময়ের কথা সংক্ষেপে দেখে নিই। প্রথমে দুই বছরের ইন্টারমিডিয়েট সায়েন্স বা আইএসসি, যাকে আমরা এখন হায়ার সেকেন্ডারি বলি। তিনি বেছে নিয়েছিলেন বিজ্ঞান। পড়তে হত পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, গণিত, শারীরবিদ্যা এবং ইংরাজি। দু’বছরে পরে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষাতে প্রথম হয়েছিলেন সত্যেন্দ্রনাথ, দ্বিতীয় মেঘনাদ সাহা। তৃতীয় হয়েছিলেন প্রেসিডেন্সি কলেজেরই নিখিলরঞ্জন সেন।
এবার তিনি গণিতে অনার্স এবং পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নে পাস নিয়ে প্রেসিডেন্সি কলেজেই ভর্তি হয়েছিলেন। নতুন সহপাঠী পেলেন মেঘনাদ সাহাকে, তিনি এসেছেন ঢাকা থেকে। ১৯১৩ সালে বিএসসি পাস করলেন। প্রথম তিনজনের নাম যথাক্রমে সত্যেন্দ্রনাথ, মেঘনাদ ও নিখিলরঞ্জন। তারপরে তিনি প্রেসিডেন্সি কলেজেই মিশ্র গণিতে এমএসসি কোর্সে ভর্তি হয়েছিলেন। দু’বছর পরে পরীক্ষার ফল বেরোল। প্রথম সত্যেন্দ্রনাথ, দ্বিতীয় মেঘনাদ। নিখিলরঞ্জন সে-বছর পরীক্ষা দেননি। তাঁর সেই সময়ের নাম্বার রেকর্ড হয়ে আছে।
সত্যেন্দ্রনাথের এমএসসি পরীক্ষার মার্কশিট
সত্যেন্দ্রনাথের শিক্ষকদের মধ্যে কয়েকজনের নাম তোমরা সবাই জানো। পদার্থবিজ্ঞান পড়াতেন জগদীশচন্দ্র, রসায়ন বিভাগে ছিলেন প্রফুল্লচন্দ্র। সত্যেন্দ্রনাথ মোটেই একেবারে বাধ্য ছাত্র ছিলেন না। ক্লাসে চঞ্চল সত্যেনকে সামলানোর এক কায়দা বার করেছিলেন প্রফুল্লচন্দ্র। ক্লাসে যাওয়ার সময় বেয়ারা একটা টুল বয়ে নিয়ে যেত, প্রফুল্লচন্দ্রের ক্লাসে সত্যেনকে শিক্ষকের পাশে বসে থাকতে হত। প্রেসিডেন্সি কলেজে একবার এক শিক্ষক হ্যারিসন এক ছাত্রের উদ্দেশ্যে কটূক্তি করেছিলেন। ছাত্ররা প্রতিবাদ জানিয়েছিল, তাদের নেতাদের মধ্যে ছিলেন সত্যেন্দ্রনাথ। হ্যারিসন ক্ষমা চেয়েছিলেন।
অঙ্কের শিক্ষকদের মধ্যে দু’জনের নাম বলি, দেবেন্দ্রনাথ মল্লিক ও শ্যামাদাস মুখোপাধ্যায়। দেবেন্দ্রনাথ ছিলেন আপেক্ষিকতাবাদ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ। কলেজে পড়াকালীন সত্যেন্দ্রনাথ ওয়ার্কিং মেনস ইন্সটিটিউট নামে মানিকতলার একটি নাইট স্কুলে পড়াতেন, সেখানে গরিব বাড়ির বাচ্চারা পড়ত। স্কুলটা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বাংলার বিপ্লবীরা। দেবেন্দ্রনাথ ছিলেন স্কুলটির প্রধান। প্রেসিডেন্সি কলেজের উজ্জ্বল ছাত্র শ্যামাদাসের জ্যামিতি বিষয়ে গবেষণা দেশে বিদেশে সুনাম কুড়িয়েছিল। ১৯০৯ সালে তিনি ডিফারেনশিয়াল জ্যামিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপপাদ্য ‘Four Vertex Theorem’ প্রথম প্রমাণ করেছিলেন। সত্যেন্দ্রনাথের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল খুব ঘনিষ্ঠ। মিহিজামে শ্যামাদাসের একটি বাড়ি ছিল, দীর্ঘ ছুটির সময় সেখানে তিনি ছাত্রদের নিয়ে যেতেন। অঙ্ক আটকে গেলে তাদের বলতেন, “শনিবার সত্যেনকে বলিস।” অনেক শনিবার সেখানে যেতেন সত্যেন্দ্রনাথ, হাতে থাকত একটা ছড়ি। নদীর ধারে বালির উপরে ছড়ি দিয়ে অঙ্কগুলো কষে দিতেন তিনি।
শরীরবিজ্ঞানে অধ্যাপক ছিলেন সুবোধচন্দ্র মহলানবীশ, তিনি প্রশান্তচন্দ্র মহলানবীশের কাকা। তিনি ছিলেন সারা এশিয়ার প্রথম শরীরবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ। ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষাতে শরীরবিজ্ঞানে তিনি সত্যেন্দ্রনাথকে একশোতে একশো দিয়েছিলেন। ইংরাজি বিভাগে শিক্ষকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন হিউ মেলভিল পার্সিভাল। সত্যেন্দ্রনাথের খাতা দেখার পরে যা নাম্বার পেয়েছিলেন, তার সঙ্গে তিনি আরও অতিরিক্ত দশ নম্বর যোগ করে লিখে দিয়েছিলেন, “This Boy has originality.” দেশ ছাড়ার আগে তিনি সত্যেন্দ্রনাথকে ডেকে আশীর্বাদ করে গিয়েছিলেন।
কারা ছিলেন তাঁর শিক্ষক, কী বই তাঁকে পড়তে হত, এ-সমস্ত নিয়ে আরও বেশি জানতে চাইলে এই লেখাটা দেখতে পার।
মাস্টারমশাইদের কথা তো হল, এবার তাঁর কলেজের বন্ধুদের কয়েকজনের কথা বলি। মেঘনাদ সাহার কথা নিশ্চয়ই আলাদা করে বলতে হবে না। সাহা আয়নন সমীকরণের জন্য তিনি বিশ্ববিখ্যাত। নিখিলরঞ্জন সেন পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছিলেন। তাঁকে এদেশে ফলিত গণিতের জন্মদাতা বলা হয়। পদার্থবিদ্যা পড়েছিলেন স্নেহময় দত্ত ও শৈলেন্দ্রনাথ ঘোষ। দ্বিতীয়জনের কথা পরে আসবে। স্নেহময় দত্ত যৌগ অণুর বর্ণালী-বিশ্লেষণের বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ছিলেন। তিনি পরে প্রেসিডেন্সি কলেজে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান হয়েছিলেন। স্বাধীনতার পরে পশ্চিমবঙ্গের ডায়রেক্টর অফ পাবলিক ইনস্ট্রাকশন ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অর্থাৎ নিবন্ধকের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। জ্ঞানচন্দ্র ঘোষ ও জ্ঞানেন্দ্রনাথ মুখার্জি পড়েছিলেন রসায়ন, প্রফুল্লচন্দ্র তাঁর এই দুই প্রিয় ছাত্রকে ডাকতেন ‘বড়ো জ্ঞান’ আর ‘ছোটো জ্ঞান’। জ্ঞানচন্দ্র ঘোষ তড়িৎবিশ্লেষ্য বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসাবে সারা পৃথিবীতে পরিচিত ছিলেন। নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী ওয়াল্টার নার্নস্টের বইতে তাঁর সপ্রশংস উল্লেখ আছে। তিনি সি.ভি. রমনের পরে ব্যাঙ্গালোরের ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ সায়েন্সের ডিরেক্টর হয়েছিলেন। স্বাধীন ভারতে প্রথম ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি অর্থাৎ খড়গপুর আইআইটির প্রথম ডিরেক্টর, তারপরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের প্ল্যানিং কমিশনের সদস্য হয়েছিলেন তিনি। জ্ঞানেন্দ্রনাথ মুখার্জি মৃত্তিকা ও কৃষিবিজ্ঞানে এদেশের পথিকৃৎদের মধ্যে একজন। তিনি ইন্ডিয়ান এগ্রিকালচারাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অধিকর্তা হয়েছিলেন। রুরকির সেন্ট্রাল বিল্ডিং রিসার্চ  ইনস্টিটিউটের তিনি প্রথম অধিকর্তা। ভাবতে অবাক লাগে, একটা কলেজে একটা বছরে এই সমস্ত ছাত্ররা ছিলেন যাঁদের প্রত্যেকেরই কৃতিত্ব সম্পর্কেই আলাদা আলাদা করে লেখা যায়!
তারকা সমাবেশ। বসে বাঁদিক থেকে মেঘনাদ সাহা, জগদীশচন্দ্র বসু ও জ্ঞানচন্দ্র ঘোষ।
দাঁড়িয়ে বাঁদিক থেকে স্নেহময় দত্ত, সত্যেন্দ্রনাথ বসু, দেবেন্দ্রমোহন বসু, নিখিলরঞ্জন সেন
জ্ঞানেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় ও এন.সি. নাগ
এমএসসি পাস করার পরে দু’জায়গায় চাকরির দরখাস্ত করেছিলেন, কিন্তু চাকরি তাঁর হয়নি। নিয়োগকর্তারা পরিষ্কার বলেন যে এত প্রতিভাধর কাউকে তাঁরা চান না। অল্প গৌরীপুর রাজ্যের রাজপুত্রকে পড়িয়েছিলেন সত্যেন্দ্রনাথ। সেই ছাত্র পরে ভারতীয় সিনেমাতে অভিনেতা ও পরিচালক হিসাবে বিখ্যাত হয়েছিলেন, তাঁর নাম প্রমথেশ বড়ুয়া।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান কলেজ ছিল বাংলার বাঘ স্যার আশুতোষের হাতে তৈরি। বিজ্ঞান কলেজের ইতিহাস তোমরা এখানে পড়তে পার। আশুতোষ কয়েকজন সদ্য পাস করা ছাত্রকে গবেষণার জন্য নিয়োগ করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সত্যেন্দ্রনাথ, মেঘনাদ, শৈলেন্দ্রনাথ। সত্যেন্দ্রনাথকে আপেক্ষিকতাবাদ, মেঘনাদ সাহাকে বিকিরণ তত্ত্ব এবং শৈলেন্দ্রনাথ ঘোষকে ধাতুর পাউডারের তড়িৎ পরিবাহিতা নিয়ে গবেষণার জন্য মাসে ১৫০ টাকা করে স্কলারশিপ দেয়া হয়। এছাড়া প্রথম দু’জনের বই কেনার জন্য ৫০০ টাকা এবং শৈলেন্দ্রনাথের গবেষণার যন্ত্রপাতি কেনার জন্য ২০০০ টাকা বরাদ্দ হয়। এঁরা সবাই স্বাধীনভাবে গবেষণা শুরু করেন।
১৯১৬ সালে এমএসসি ক্লাস শুরু হবে বিজ্ঞান কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে। দু’বছর আগে নিযুক্ত হয়েছিলেন দুই অধ্যাপক। তাঁদের একজন সি.ভি. রমন কেন্দ্রীয় সরকারের চাকুরে, তখনও বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের ছাড়পত্র পাননি। অন্যজন দেবেন্দ্রমোহন বসু উচ্চশিক্ষার জন্য জার্মানিতে গিয়েছিলেন। বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়াতে আটকা পড়েছেন। ছাত্রদের পড়াবে কে? দুই বন্ধুর সম্পর্কে আশুতোষ খবর নিয়েছেন। গণিতের ছাত্র হলে কী হবে, তারা যে পদার্থবিদ্যা পড়াতে পারবে সে-বিষয়ে তিনি নিশ্চিত। সত্যেন্দ্রনাথ ও মেঘনাদকে ম্যাথামেটিকাল ফিজিক্স পড়ানোর ভার দিলেন। এজন্য তাদের স্কলারশিপের পরিমাণ বেড়ে হল ২০০ টাকা। সত্যেন্দ্রনাথ তাছাড়াও জেনারেল প্রপার্টিস ল্যাবরেটরিতে ছাত্রদের প্র্যাকটিকাল করাতেন। প্রথমে ফলিত গণিত বিভাগে যোগ দিলেও সেই বিভাগের প্রধান অধ্যাপক গণেশ প্রসাদের সঙ্গে মনোমালিন্যের কারণে দু’জনেই পুরোপুরি পদার্থবিদ্যা বিভাগে চলে আসেন। শৈলেন্দ্রনাথকে আশুতোষ দায়িত্ব দিয়েছিলেন ল্যাবরেটরি তৈরি করার। কিন্তু তিনি বিপ্লবীদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার জন্য পুলিশের নজরে পড়েন এবং অল্পদিনের মধ্যেই আশুতোষেরই পরামর্শে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। পদার্থবিদ্যা বিভাগের প্রথম যুগের গল্প এই লেখাতে পাওয়া যাবে।
এমএসসি সিলেবাসে কোনও বইয়ের নাম ছিল না, ধরেই নেওয়া হয়েছিল যে মৌলিক গবেষণাপত্র থেকে পড়ানো হবে। তোমরা বড়ো হয়ে দেখবে বিংশ শতাব্দীর প্রথম পঁচিশ বছর হল পদার্থবিজ্ঞানে কোয়ান্টাম বিপ্লবের যুগ, কয়েকবছরের মধ্যে সত্যেন্দ্রনাথ নিজেও তার এক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করবেন। তখন আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান সবে জন্ম নিচ্ছে, তার বই বিশেষ লেখা হয়নি। যা ছিল তাদের অধিকাংশই জার্মান ভাষায়। দুই বন্ধুই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্মান শেখার ক্লাসে ভর্তি হন। মেঘনাদ অবশ্য ভাষাটা কিছুটা জানতেন। ভেবেচিন্তে দুই বন্ধু সাহস করে চিঠি লিখলেন আইনস্টাইনকে, অনুমতি চাইলেন তাঁর আপেক্ষিকতা সংক্রান্ত গবেষণাপত্রগুলো অনুবাদ করে ছাপার। অনুমতি দিলেন আইনস্টাইন। আইনস্টাইন ও হেরম্যান মিনকাওস্কির আপেক্ষিকতা সংক্রান্ত গবেষণাপত্রগুলোর ইংরাজি অনুবাদ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯১৯ সালে প্রকাশিত হয়। ভূমিকা লিখেছিলেন প্রশান্তচন্দ্র মহলানবীশ। এটিই আইনস্টাইনের গবেষণাপত্রগুলোর পৃথিবীতে প্রথম ইংরাজি অনুবাদ।
দুই বন্ধু হাতড়াচ্ছেন গবেষণার পথ। গ্যাসের অবস্থার সমীকরণ সংক্রান্ত একটি গবেষণাপত্র লিখে ফেললেন - তাঁদের দু’জনের একত্রে প্রথম পেপার। এই বিষয়ে আরও একটি পেপার তাঁরা লিখেছিলেন এই সময়। এই গবেষণা তাপগতিবিদ্যার সঙ্গে যুক্ত। তাপগতিবিদ্যার আণুবীক্ষণিক ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করে স্ট্যাটিসটিকাল মেকানিকস। সাহা সমীকরণ ও বোস-আইনস্টাইন সংখ্যায়ন দুইই স্ট্যাটিসটিকাল মেকানিকসের মধ্যে পড়ে, তাই সেই যৌথ গবেষণাকে তাঁদের ভবিষ্যৎ পথে প্রথম পদক্ষেপ মনে করা যেতে পারে। সত্যেন্দ্রনাথ এই সময় আরেকটি গবেষণা পত্র লেখেন পরমাণুর শক্তি স্তর বিষয়ে কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রয়োগ। ১৯১৩ সালে নিলস বোর এ-বিষয়ে তাঁর গবেষণাটি প্রকাশ করেছিলেন। কলকাতায় থাকার সময় আরও দুটি গবেষণাপত্র লিখেছিলেন তিনি, সেগুলো গণিত বিষয়ে।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক পদ সত্যেনের জুটল না। আশুতোষের সঙ্গে তাঁর বনিবনা হচ্ছিল না। একবার আশুতোষের করা প্রশ্নপত্রে একটা অঙ্কের ভুল নিয়ে দু’জনের তর্ক হয়ে গেল। ১৯২১ সালে যোগ দিলেন নতুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যার রিডার পদে। আশুতোষ অবশ্য তখন বেশি মাইনে দিয়ে কলকাতায় রাখতে চেয়েছিলেন সত্যেন্দ্রনাথকে, রাজী হননি তিনি। ঢাকা থেকে মেঘনাদকে চিঠিতে লিখলেন সত্যেন, ‘মাসখানেকের উপর তোমাদের দেশে এসেছি। এখানকার কাজ এখনও আরম্ভ হয়নি। তোমাদের ঢাকা কলেজে জিনিস অনেক ছিল, কিন্তু অযত্নে তাদের যে দুর্দশা হয়েছে তা বোধহয় নিজেই জানো।’ ১৯৪৫ সালে সত্যেন্দ্রনাথ ঢাকা থেকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে যাবেন, হবেন খয়রা অধ্যাপক।
এমএসসি পড়াকালীন সত্যেন্দ্রনাথের বিয়ে হয় সেই সময়ের বিখ্যাত ডাক্তার যোগীন্দ্রনাথ ঘোষের মেয়ে ঊষাবতীর সঙ্গে। তখন এইরকম অল্প বয়সে বিয়ে হওয়াটাই ছিল রীতি। সত্যেন বিয়ের সময় দুটো শর্ত করেছিলেন। প্রথমত, তাঁর বিয়েতে কোনও পণ নেওয়া যাবে না। দ্বিতীয় শর্ত ছিল, তাঁর বিয়েতে তাঁর সঙ্গে যাবে তাঁর দুশো ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
সত্যেন্দ্রনাথের বন্ধুর সংখ্যা সেই সময়েই কিংবদন্তীতে পরিণত হয়েছিল। তাঁকে এক সময় বলা হত আড্ডার রাজা। নিজের বাড়ির থেকে তিনি বন্ধুদের বাড়িতে বেশি সময় কাটাতেন। অধিকাংশ সময় কেটে যেত সাহিত্য ও সঙ্গীত চর্চায়। সত্যেন্দ্রনাথ খুব ভালো এসরাজ ও বাঁশি বাজাতে পারতেন। কলেজের বন্ধুদের মতোই কলেজের বাইরের বন্ধুরাও অনেকেই পরবর্তী জীবনে বিখ্যাত হয়েছিলেন। কয়েকজনের নাম তোমাদের বলি। দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ছেলে বিখ্যাত গায়ক দিলীপ রায়, শিল্পী যামিনী রায়, সাহিত্যিক প্রমথনাথ বিশী ও ধূর্জটি প্রসাদ মুখোপাধ্যায়, নাট্যকার ও অভিনেতা অমৃতলাল বসু, কবি অমিয় চক্রবর্তী ও বিষ্ণু দে, ভাষাতাত্ত্বিক সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, ঐতিহাসিক সুশোভন সরকারের মতো মানুষ ছিলেন তাঁর বন্ধু। ঢাকাতে সত্যেন্দ্রনাথরা বারো জন মিলে ‘বারো জনা’ নামের একটা ক্লাব বানিয়েছিলেন। এই ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র মজুমদার, পদার্থবিজ্ঞানী সতীশরঞ্জন খাস্তগীর প্রমুখ।
ঢাকাতে থাকাকালীন সত্যেন্দ্রনাথ তাঁর যুগান্তকারী গবেষণা করেছিলেন, সেই কাহিনি আমাদের গল্পের শুরুতেই বলেছি। তাঁর সেই কাজ তাপগতিতত্ত্বের সঙ্গে যুক্ত। এর থেকেই কোয়ান্টাম স্ট্যাটিসটিকসের জন্ম দেয় যা ১৯০০ সালে আবিষ্কৃত ম্যাক্স প্লাঙ্কের কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ সংক্রান্ত কোয়ান্টাম তত্ত্বকে ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করে। অধ্যাপক দেবেন্দ্রমোহন বসু ১৯১৯ সালে জার্মানি থেকে ভারতে ফেরার সময় কিছু নতুন জার্মান বই নিয়ে আসেন। প্লাঙ্কের লেখা তাপগতিতত্ত্ব বইটা তিনি সত্যেন্দ্রনাথকে দিয়েছিলেন।
আলোর কণা ফোটনের পরিসংখ্যান তাঁর এই বিখ্যাত গবেষণাপত্রটি তিনি প্রথম ইংল্যান্ডের ফিলজফিকাল ম্যাগাজিনে পাঠিয়েছিলেন। সম্ভবত তাঁরা এর তাৎপর্য বুঝতে পারেননি। তখন সত্যেন্দ্রনাথ সেটা পাঠালেন আইনস্টাইনকে। আইনস্টাইনের সঙ্গে সঙ্গে এর গুরুত্ব বুঝতে পেরে নিজেই সেটা জার্মান ভাষায় অনুবাদ করে ছাপানোর ব্যবস্থা করেন। প্রবন্ধের শেষে আইনস্টাইন লিখেছিলেন, ‘আমার মতে প্লাঙ্কের সূত্রকে বোস যেভাবে প্রতিষ্ঠা করেছেন, তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এক অগ্রগতি।’ সত্যেন্দ্রনাথের গবেষণা ছিল ফোটন বা আলোর কোয়ান্টাম সম্পর্কে, আলোর কণার স্থিরভর শূন্য। আইনস্টাইন ভরবিশিষ্ট কণাদের জন্য এই পরিসংখ্যানকে প্রসারিত করেন।
আইনস্টাইনকে লেখা সত্যেন্দ্রনাথের সেই বিখ্যাত চিঠি
সত্যেন্দ্রনাথের সেই যুগান্তকারী আবিষ্কার ব্যাখ্যা করাটা খুব সহজ নয়, তাই তার বিশদ আলোচনায় না গিয়ে মূল কথাগুলো দেখে নিই। প্রথমত, সত্যেন্দ্রনাথের আগে পর্যন্ত প্লাঙ্কের সূত্র ব্যাখ্যা করতে গিয়ে একই সঙ্গে আলোর তরঙ্গ ও কণিকা ধর্ম ব্যবহার করতে হত। সত্যেন্দ্রনাথ প্রথম ফোটনকে পুরোপুরি কণা ধরে সূত্রটা প্রমাণ করেন। দ্বিতীয়ত, বোসের হিসাব অনুযায়ী একই কম্পাঙ্কের আলোর দুটি ফোটনের মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই। এখন আমরা জানি যে সমস্ত মৌলিক কণাই এই নীতি মেনে চলে, যেমন দুটো ইলেকট্রন অবিকল একরকম। তৃতীয়ত, একটা শক্তিস্তরে একসঙ্গে কতগুলো ফোটন থাকতে পারবে তার কোনও সীমা নেই। পরে বোঝা গিয়েছিল যে ইলেকট্রন প্রোটনের ব্যাপারটা উলটো, একটা শক্তিস্তরে একটার বেশি কণা থাকতে পারে না। যে সমস্ত কণা বোসের সূত্র মেনে চলে অর্থাৎ একটা শক্তিস্তরে যত খুশি থাকতে পারে, তাদের নাম দেওয়া হয়েছে বোসন। ইলেকট্রন প্রোটনের মতো কণাদের বলে ফের্মিয়ন, তারা এনরিকো ফের্মি ও পল ডিরাকের পরিসংখ্যান মেনে চলে। মহাবিশ্বে দুইরকম মৌলিক কণা পাওয়া যায়, বোসন আর ফের্মিয়ন।
বোসন নামের পেছনে একটা গল্প আছে। ১৯৫৭ সালে পল ডিরাক কলকাতায় এসেছিলেন। সত্যেন্দ্রনাথ তাঁকে আনার জন্য বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন, সঙ্গে বেশ কয়েকজন ছাত্র। ডিরাককে তিনি বললেন, “আমরা দু’জন গাড়ির সামনে বসি, ছাত্ররা সবাই পেছনে।”
ডিরাক অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, “অত জন ছাত্র গাড়ির পেছনে ধরবে কেমন করে?”
সত্যেন্দ্রনাথ বলেছিলেন যে ছাত্ররা বোস-আইনস্টাইন পরিসংখ্যান মেনে চলে, ওরা সবাই এক জায়গায় থাকতে পারবে। ডিরাক এরপরে বোসন শব্দটা মেনে তৈরি করেন।
পল ডিরাক ও সত্যেন্দ্রনাথ (১৯৫৭)
সত্যেন্দ্রনাথের ১৯২৪ সালের এই কাজ মৌলিক কণা সম্পর্কে আমাদের সমস্ত চিন্তাভাবনাকে পালটে দিয়েছিল। কিন্তু তা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে এই লেখা আর শেষ হবে না। পরবর্তীকালে অতিপরিবাহিতা বা সুপারকন্ডাক্টিভিটি, অতিপ্রবাহী বা সুপারফ্লুইড, বোস-আইনস্টাইন ঘনীভবন ইত্যাদি যে সমস্ত আবিষ্কার নোবেল পুরস্কার পেয়েছে, তাদের ব্যাখ্যা করতে বোস-আইনস্টাইন পরিসংখ্যানকে প্রয়োজন হয়।
নিজের নাম প্রচারে সত্যেন্দ্রনাথ একেবারেই আগ্রহী ছিলেন না। তাই বিজ্ঞানী মহলের বাইরে সাধারণের মধ্যে তাঁর বিশেষ পরিচিতি ছিল না। ১৯৩০ সালে রবীন্দ্রনাথ যখন আইনস্টাইনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন, তখন আইনস্টাইন তাঁকে বোসের খবর জিজ্ঞাসা করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথ প্রমথ চৌধুরী বা অমিয় চক্রবর্তীর মতো সত্যেন্দ্রনাথের বন্ধুদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন, অথচ তাঁর সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। রবীন্দ্রনাথ তাঁর সম্পর্কে খবর নেন ও পরবর্তীকালে তাঁর ‘বিশ্বপরিচয়’ গ্রন্থটি সত্যেন্দ্রনাথকে উৎসর্গ করেন।
সত্যেন্দ্রনাথের জীবনের অধিকাংশটাই আমাদের আলোচনার বাইরে রয়ে গেল, তা নিয়ে পরে লেখার ইচ্ছা রইল। কেমন মানুষ ছিলেন তিনি তা বোঝাতে একটা গল্প বলে শেষ করি।
১৯২৪ সালে প্লাঙ্কের সূত্র ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সত্যেন্দ্রনাথ ধরে নিয়েছিলেন যে ফোটন কণাদের স্পিন বা নিজস্ব কৌণিক ভরবেগ আছে। আইনস্টাইন অনুবাদের সময় স্পিন কথাটা বাদ দিয়ে আলোর দুইধরনের পোলারাইজেশন বা সমবর্তনের কথা বলেন। তরঙ্গের সমবর্তন হয়, কিন্তু কণিকার সমবর্তনের কোনও অর্থ নেই। সত্যেন্দ্রনাথের তত্ত্বে কিন্তু আলোকে তরঙ্গ নয়, কণা ধরা হয়েছিল। মৌলিক কণার স্পিনের কথা তখনও পর্যন্ত কেউ জানত না। একবছর পরে জর্জ উলেনবেক ও স্যামুয়েল গোল্ডস্মিট প্রথম ইলেকট্রনের স্পিনের কথা বলেন। অনেক বছর পরে সত্যেন্দ্রনাথকে যখন এ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেন স্পিন আবিষ্কার হয়েছে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ,  কে প্রথম সেকথা বলেছিল সে ব্যাপারটা নিতান্তই গৌণ। এইরকম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক আবিষ্কারের দাবি স্বচ্ছন্দে ছেড়ে দিতে পারেন এমন মানুষ পৃথিবীতে সত্যি বিরল।

_____

No comments:

Post a Comment