গল্পঃ ফুজু - সায়ন্তনী পলমল ঘোষ



মিমোকে তার মা পিহু দরজা লাগিয়ে খাওয়াচ্ছিল। নাহলে খেতে খেতেই এদিক সেদিক ছুটবে সে। মাত্র তিন বছর বয়স হলে কী হবে, দস্যিপনায় তার জুড়ি মেলা ভার। আজ তার মায়ের স্কুল ছুটি, তাই তার মনে ভারি আনন্দ। মুখের ভাতটা শেষ করে মিমো বিজ্ঞের মতো বলল, “মা, কেউ এসেছে মনে হচ্ছে।”
“হুম, আমারও মনে হচ্ছে, কিন্তু খাওয়া শেষ না করে তুমি বাইরে যেতে পারবে না।”
“মা, দাদাই কী বলছে? লোকটা কে?”
“তুই তাড়াতাড়ি খা, তবে তো শুনবি কী বলছে!”
মিমোর খাওয়া শেষ হতে পিহু বাইরে এসে দেখে ওদের ডাইনিং স্পেসে একটা বছর তিরিশের ছেলে দাঁড়িয়ে আছে। আসলে সে ওদের পুরনো ফ্রিজটাকে নিরীক্ষণ করছে। পিহু অবাক হয়ে গেল। ব্যাপারটা কী বুঝে উঠতে পারছে না।
“দিদি, শোন।”
বিহুর ডাকে পাশের রুমে গেল পিহু। বিহু যা বলল তাতে ওর মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল।
আসলে হয়েছে কী, পিহুদের এই পুরনো নীল রঙের ফ্রিজটা বিহুর জন্মের আগে কেনা। বিহু এখন মাস্টার্স করছে। ফ্রিজটার বয়স প্রায় তেইশ বছর। এতবছর ফ্রিজটা বলতে গেলে নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে গেছে। একবার বালবটা কেটে যাওয়ার জন্য পাঁচ টাকার একটা বালব এনে লাগানো ছাড়া ওর পেছনে একটা পয়সা খরচ করতে হয়নি। ওই ফ্রিজের কোম্পানিটাই উঠে গেছে, কিন্তু পিহুদের ফ্রিজ চলে যাচ্ছে। পিহুর বাবা-মা অকারণে দেখনদারি করার জন্য বাড়ির জিনিসপত্র পালটানোর পক্ষপাতি নন, তাই এতবছর তাঁরা ওই ফ্রিজটাই ব্যবহার করেছেন। ফ্রিজটা এতবছর থাকার কারণে পিহুদের সবার খুব প্রিয়। কিন্তু সাম্প্রতিক কালে ফ্রিজটায় কারেন্ট বেশি পুড়ছিল, গায়ের রংটাও চটে গেছে এক জায়গায়। তাছাড়া ফ্রিজটায় স্থান সংকুলানেও সমস্যা হচ্ছিল। এখন পিহুদের জীবনযাত্রার সাথে তাল মেলানোর জন্য আর একটু বড়ো ফ্রিজের দরকার হয়ে পড়েছিল। এইসব কারণে কয়েকদিন আগে আধুনিক প্রযুক্তির বড়ো একখানা ফ্রিজ কেনা হয়েছে বটে, কিন্তু তাতে ফুজুর আদর একটুও কমেনি। মিমো ফ্রিজটাকে বলে ফুজু। ডাইনিং স্পেসের একপাশে সযত্নে রাখা আছে ফুজুকে। কিন্তু আজ পিহুর বাবা দেবেনবাবু ওই ছেলেটিকে ডেকে এনেছেন ফুজুকে বিক্রি করার উদ্দেশ্যে। টাকাটা কোনও ব্যাপার নয়, ওঁর বক্তব্য, শুধু শুধু ডাইনিং স্পেসে অনেকটা জায়গা জোড়া হয়ে আছে। দেবেনবাবুর এই সিদ্ধান্তে পিহুর মা বিভাদেবীর একটুও সমর্থন নেই। দেবেনবাবু তো আর জিনিসটা খুব একটা ব্যবহার করতেন না। বিভাদেবীর গৃহস্থালির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ ছিল ফ্রিজটা। পিহু আর বিহুরও ভীষণ মনখারাপ, কিন্তু প্রাক্তন ব্যাঙ্ক ম্যানেজার দেবেনবাবুকে বাধা দেওয়ার সাহস স্ত্রী বা মেয়েদের কারুর নেই, এমনকি জামাই অর্কও ওঁকে রীতিমতো ভয় পায়। একমাত্ৰ মিমোই ওঁকে তার বন্ধু গোত্রে ফেলে দেয়।
“দাদাই, ওই কাকুটা ফুজুকে নিয়ে চলে যাবে?” গম্ভীর স্বরে ভ্রূ কুঁচকে প্রশ্ন করে মিমো।
“হ্যাঁ, মিস্টার ন্যানো।”
“না না, ফুজুকে নিয়ে যাবে না।”
মিমো জন্ম থেকে এ-বাড়িতেই বড়ো হয়েছে। ওর ঠাকুমা-দাদুর অনেক বয়স হয়েছে। তাঁদের পক্ষে শহরে এসে ছেলে-বৌমা কাজে বেরিয়ে যাবার পর দুরন্ত নাতিটিকে সামলানো সম্ভব নয়, তাই পিহুরা এখানেই থাকে। মিমোও জন্ম থেকেই ফুজুকে দেখেছে। ফুজুর গর্ভে তার কত্ত চকোলেট থেকেছে। ফুজুর হ্যান্ডেল ধরে টানাটানি করে চকি বের করে খেয়েছে। ছেলেটা বিজ্ঞের মতো ফ্রিজটার দিকে তাকিয়ে আছে।
“দিদি দ্যাখ, এমন করে দেখছে যেন মস্ত ইঞ্জিনিয়ার!” ফিসফিস করে বলে বিহু।
“কাকু, এটা তো মনে হচ্ছে পাঁচ বছর আগেই গ্যাছে। এতদিন ধরে ফেলে রেখেছেন?”
বিভাদেবী আর থাকতে পারলেন না। “তুমি কী করে জানলে পাঁচ বছর আগে খারাপ হয়েছে? এই দশ দিন আগেও পুরোদমে চলেছে। নতুনটা আসার পর আমি জিনিসপত্র শিফট করলাম।”
“কী বলছেন, কাকিমা! দশ দিন আগেও চলেছে! হাসলেন আমাকে। এ হল বকুলকুমার বাতিলওয়ালার চোখ। একবার দেখব আর বলব মাল কতদিনের।” বত্রিশ পাটি দাঁত বের করে বলল ছেলেটি।
“বকুলকুমার বাতিলওয়ালা!”
“হ্যাঁ, ম্যাডাম। বকুলকুমার বাতিলওয়ালা। লোকের বাতিল জিনিস কেনাই আমার কাজ। এই নিন আমার কার্ড।”
পিহুর হাতে একখানা কার্ড ধরিয়ে দিল ছেলেটি। বকুলকুমার বাতিলওয়ালা, নিচে লেখা পুরনো বাতিল ফ্রিজ, টিভি, যেকোনও ধরনের মেশিন সুলভ মূল্যে ক্রয় করা হয়। বিঃ দ্রঃ টিভি, ফ্রিজ মেরামতও করা হয়।
বকুল ফ্রিজের দরজা খুলে ভেতরটা দেখছিল। হঠাৎই আবিষ্কার করল, একটা দশ টাকা দামের চকলেটের নতুন প্যাকেট। জিনিসপত্র সরাবার সময় মিমোর এই চকলেটের প্যাকেটটা রয়ে গেছিল। প্যাকেটটা দেখে মনে মনে বলল, ‘উরি-ন্না, এরা তাহলে ঠিকই বলছিল, ফ্রিজটা চালু। তার মানে দম আছে কম্প্রেশারটায়।’ মুখে অবশ্য তাচ্ছিল্যের ভাব বজায় রাখল।
শেষপর্যন্ত বারোশো টাকায় মিমোর ফুজু বকুলকুমারের হয়ে গেল।
“ছেদি, এই ছেদি, চলে আয়।” সহকারীকে ডাক দিল বকুলকুমার।
টিং-টিংয়ে রোগা ছেদির গায়ে বেশ জোর আছে দেখা গেল। দু’জনে মিলে ফুজুকে গাড়ির পেছনে তুলে ফেলল। আরও একখানা ফ্রিজ আছে ওদের গাড়িতে।
“দিদিন, ওদের বকে দাও না, ওরা ফুজুকে নিয়ে চলে যাচ্ছে!” মিমোর কাতর উক্তি। বিহুর কোলে চড়ে ছলছলে চোখে তাকিয়ে আছে। “আমি ফুজুর মধ্যে আমার খেলনা রাখব, দিদিন।”
“সোনা, দাদাই ফুজুকে দিয়ে দিয়েছে ওই কাকুকে।” পিহু বোঝাবার চেষ্টা করে ছেলেকে।
“ও কাকু, ফুজু কিন্তু তোমাদের বাড়িতে চলবে না। ফুজু শুধু আমাদের বাড়িতে চলে। ফুজুকে নিয়ে গেলে আমি খুব রেগে যাব, আর ফুজুও রেগে যাবে।” মিমো তার সাধ্যে শেষ চেষ্টা করে।
শেষপর্যন্ত মিমো, পিহু, বিহু, বিভাদেবীর জলভরা চোখের সামনে দিয়ে ফুজু বকুলকুমারের গাড়িতে চেপে বিদায় নিল। দেবেনবাবুরও মনটা একটু ফাঁকা ফাঁকা লাগছিল। হাজার হোক এতবছর ছিল জিনিসটা।
গাড়িতে যেতে যেতে বকুল ছেদির উদ্দেশ্যে বলল, “যাই বল ছেদি, এমন আজব ফ্যামিলি আমি দেখিনি। ভাঙা ফ্রিজ বিক্রি করছে, না বাড়ির মেয়েকে শ্বশুরবাড়ি পাঠাচ্ছে! মা, মেয়ে সবাই যেন এই কাঁদে আর সেই কাঁদে। বাচ্চাটাও তেমনি! কেঁদেই ফেলল।”
বকুল আর ছেদি হাসতে লাগল।

সন্ধেবেলা অর্ক ফিরতেই মিমো তার কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ে অভিযোগ জানাল, “বাবা জানো, দাদাই একটা দুষ্টু কাকুকে দিয়ে দিল ফুজুকে।”
এখানেই ক্ষান্ত হলো না সে। বাড়িতে ফোন করে ঠাকুমা, দাদু, জেঠু, জেঠিমা সবাইকে তার মনখারাপের কথা জানাল। রাতে মায়ের গায়ে লেপটে শুয়ে মিমো বলল, “মা, ওই দুষ্টু কাকুটার বাড়িতে একা একা ফুজুর ভয় করবে তো! আচ্ছা মা, ফুজুরও কি আমার জন্য মনখারাপ করছে?”
ছেলের এই অবোধ প্রশ্নের উত্তর দিতে অক্ষম পিহু।

বেশ আয়েশ করে ঘুমোচ্ছিল বকুল। কয়েকদিন ধরে দোকানেই ঘুমোচ্ছে সে। তার মাটির ঘরটা ভেঙে পাকা বাড়ি বানাচ্ছে। বিয়ে করে নতুন বউকে মাটির ঘরে তুলতে রাজি নয় সে। কষা মাংসের তীব্র সুগন্ধ নাকে এসে লাগতে ঘুমটা ভেঙে গেল তার। প্রথমে ভাবছিল স্বপ্ন দেখছে, কিন্তু একটু পরে নিশ্চিত হল স্বপ্ন নয়, বাস্তব। তার দোকানের মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে গন্ধটা। অবাক হয়ে বকুল গন্ধটার উৎস সন্ধান করতে করতে পৌঁছল আজকেই কিনে আনা নীল রঙের ফ্রিজটার কাছে। ফ্রিজটার সামনেটা গন্ধে ম ম করছে। বিস্ময়াবিষ্ট বকুল ফ্রিজের দরজা খুলতেই কঁকর-কক, কোঁকর-কক। ফ্রিজের মধ্যে বেশ গাবদা গাবুস একখানা লাল ঝুঁটিওয়ালা জ্যান্ত মুরগি। দড়াম করে দরজাটা লাগিয়ে দিয়ে এক লাফে নিজের বিছানায় উঠে বসলো বকুল। তার মাথা ঘোরাচ্ছে। এ কী অদ্ভুতুড়ে ব্যাপার! বিনা কারেন্টে ফ্রিজের লাইট জ্বলছে! সবচেয়ে বড়ো কথা, খালি বন্ধ ফ্রিজের মধ্যে জ্যান্ত মুরগি! একটু ধাতস্থ হবার পর বকুলের মনে হল সবটাই তার মনের ভুল নয় তো? মনে হচ্ছে পেটে বেশ বায়ু জন্মেছে, তাই ভুলভাল দেখছে। সাহস সঞ্চয় করে বকুল আবার ফ্রিজটার কাছে গেল। ইষ্টদেবতার নাম নিয়ে ফ্রিজের হাতল ধরে মারল হ্যাঁচকা টান। নাহ্‌, মুরগির কোনও অস্তিত্ব নেই, শুধু থরে থরে সবজি সাজানো আছে এবার। বকুলের হৃৎপিণ্ডটা মনে হল গলার কাছে আটকে গেছে। রামনাম জপ করে বাকি রাতটা নিজের বিছানায় জেগে কাটিয়ে দিল।
সারাটা দিন কাজকর্মে কেটে গেল। যদিও কাজের ফাঁকে ফাঁকেই বকুল ফ্রিজটার দিকে আড়চোখে তাকাচ্ছিল আর ঠাকুরকে ডাকছিল। বকুল কাল রাতের অদ্ভুতুড়ে অভিজ্ঞতার কথা কাউকে বলতে পারেনি। জানে বললেই সবাই ওকে নিয়ে হাসাহাসি করবে।
সন্ধে নামতেই তার বুক ঢিপঢিপ করতে আরম্ভ করল। একবার ভাবল আজ আর দোকানে না শুয়ে বাবা-মার ঘরে যা হোক করে শুয়ে যাবে। কিন্তু তাতেও মুশকিল, সবাইকে কারণ বলতে হবে। দাদা, বউদি, বাবা, মা সবাই জিগ্যেস করবে কেন সে দোকানে শোবে না। কী করবে ভাবতে ভাবতে ছেদির দিকে চোখ পড়ল বকুলের।
“ওই ছেদি, এদিকে আয়।”
“বলো, গুরু।”
পকেট থেকে টাকা বের করে ছেদির হাতে দেয় বকুল।
“যা, বটার দোকান থেকে মাংস কিনে আন। আজ আমাদের ঘরেই রাতে খেয়ে লিবি। তারপর আমার সাথে দোকানে ঘুমি যাবি।”
ছেদি চলে গেল। কিছুটা নিশ্চিন্ত মনে দোকানের পেছনে বাড়িতে রান্নার কথা বলতে গেল বকুল।

ছেদির কান ফাটানো চিৎকারে ঘুম ভেঙে গেল বকুলের। তাড়াতাড়ি করে উঠে দেখে, ছেদি ওর জন্য বরাদ্দ দড়ির খাটটাতে নেই। বকুলের মন একদিকেই ছুটল। নীল ফ্রিজটার সামনে গিয়ে দেখে ছেদি দাঁত খিঁচিয়ে হাত-পা ছড়িয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে। বকুলের আর বুঝতে বাকি থাকে না কী ঘটেছে।
অনেক কষ্টে ছেদির জ্ঞান ফেরার পর ছেদি জানায়, মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যেতে তার নাকে খাসি মাংসের গন্ধ এসে লাগে। অবাক হয়ে সে গন্ধের উৎস সন্ধান করতে থাকে। যেহেতু আজ তিন বছর সে এই দোকানে কাজ করছে, তাই দোকানের অলিগলি তার সব জানা। সেজন্যই অবাক হলেও সে বকুলকে ডাকেনি। যথারীতি নীল ফ্রিজটার কাছে এসে সে পৌঁছায় এবং ফ্রিজের দরজা খুলতেই এক ইয়া বড়ো ছাগল তার গায়ে লাফ মারে।
“গুরু, এ কী ভূতুড়ে কাণ্ড গো? ছাগলটা তো দোকানের কোথাও নেই!”
“তোকে একটা কথা বলা হয়নি, ছেদি।”
“কী কথা, গুরু?”
বকুলের অভিজ্ঞতা শুনে ছেদি বলে, “তাই তুমি সারাদিন কেমন আনমনা ছিলে?”
“হ্যাঁ রে।”
“গুরু, একটা কথা বলব?”
“বল।”
“আমার মনে হয়, এই নিজ্জীব মালটারও জান আছে। ওই ফ্যামিলির লোকগুলানের যেমন মালটার জন্য মনখারাপ হচ্ছিল, তেমনি মালটারও মন খারাপ।”

“বিহু, দেখ তো কে এল।”
দরজা খুলে বিহু অবাক।
“কে এল রে?”
বিহু কিছু বলার আগেই দেবেনবাবু শুনতে পেলেন, “স্যার, আমি বকুলকুমার বাতিলওয়ালা।”
“তুমি হঠাৎ!”
“স্যার, আপনাদের জিনিস আপনাদেরই ঘরে থাক।”
“মানে?”
"দাদাই, ওই দ্যাখো ফুজু!” মিমো কোন ফাঁকে বেরিয়ে এসেছে আর তার ছোট্ট ছোট্ট চোখগুলো দিয়ে বড়ো বড়ো করে দেখছে বকুলের ভ্যানে রাখা ফুজুকে।
“স্যার, ও-ফ্রিজ আপনাদের ঘর ছাড়া থাকবেনি। আমার ঘুম উড়ি দিয়েছে। আমার জিনা হারাম করে দিয়েছে। ওটাকে দেখলেই ভয় লাগছে। আপনার মাল আপনি রাখুন।”
“আমি তো তোমার কথা কিছুই বুঝতে পারছি না!”
বকুল আর ছেদি গড়গড় করে যা ঘটেছে সব বলে দেবেনবাবুর সম্মতির অপেক্ষা না করেই ফ্রিজটা রেখে চলে যাচ্ছিল। টাকাটাও ফেরত নিতে চাইছিল না। দেবেনবাবু জোর করে টাকা ফেরত দিলেন।

*****

“মা, আমার এই মডেলটা ফুজুর মধ্যে ঢুকিয়ে রাখছি। তাহলে আর ভাঙার চান্স নেই।”
“হুম, তাই রাখ।”
মেয়ে আর নাতির কথোপকথন শুনতে শুনতে দেবেনবাবু ফ্রিজটার দিকে তাকালেন। অর্ক এটাকে রং করিয়ে দিয়েছে। বিগত দশ বছর ধরে এটা মিমোর দখলে। সেই বকুলকুমার ফেরত দিয়ে যাবার পরই মিমোর দিদিন এটার মালিকানা হস্তান্তর করেছিলেন মিমোকে। ফ্রিজটা কিন্তু এ-বাড়িতে কোনও অদ্ভুতুড়ে কার্যকলাপ করেনি। শান্ত ছেলের মতো আছে। দেবেনবাবুর হঠাৎ মনে হল, ফ্রিজটা তাঁর দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসল।
_____

অঙ্কনশিল্পীঃ মৈনাক দাশ

No comments:

Post a Comment