গল্পঃ শব্দ সন্ধানীঃ অরিন্দম দেবনাথ



“হ্যাঁ মামা, বুকাই বলছি। ...বাবা বলেছে বুঝি? ...না মামা, আমি শুধু হেল্প করি। ...কী বলছ, আজ সন্ধেবেলা আসবে? ঠিক আছে, আমি শমীককে আসতে বলব।”
ওহ্‌, বাবাকে নিয়ে আর পারি না! সবাইকে কালকের অনুষ্ঠান নিয়ে বলে বেড়াচ্ছে। ওরকম চমকে দেওয়া অনুষ্ঠান নাকি আগে কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। অনুষ্ঠানের শেষে সহযোগী হিসেবে শমীক আমার নাম ঘোষণা করতেই  বাবা লাফিয়ে উঠেছিল। মাকে বলেছিল, “দেখলে, আমি বলেছিলাম না ছেলেকে শমীকের সাথে ঘুরতে বাধা দিও না? ওরা তো খারাপ কিছু করছে না! দেখো, ওরা একদিন কিছু করে দেখাবে!”
যাই হোক, এই উপলক্ষে মামা আজ বহু বছর পর আমাদের বাড়ি আসতে চলেছে।
আমি আর শমীক ব্যারাকপুর সরকারি স্কুলে একাদশ শ্রেণীতে পড়ি। শব্দের পেছনে ঘুরে বেড়ানো শমীকের এক অদ্ভুত নেশা। আমরা যখন কেটে যাওয়া ঘুড়ি ধরতে লম্বা লাঠি নিয়ে দৌড়ে বেড়াই, সেও তখন আমাদের পিছু পিছু ছোটে একটা লম্বা লাঠি নিয়ে। তবে ও ঘুড়ির ধরবে বলে ছোটে না। ও ছোটে ঘুড়ির বাতাসে ভেসে মাটি ছোঁয়ার শব্দ ধরবে বলে। ওর লাঠির মাথায় বাঁধা থাকে একটা ঢাউস মাইক্রোফোন। যেটা ওর পিঠের ব্যাগের একটা রেকর্ডারের সাথে লম্বা তার দিয়ে জোড়া।
ফুটবল খেলার মাঠের পাশে দিনের পর দিন চুপ করে বসে বলে লাথি মারার কয়েকশো শব্দ ও ‘টেক’ করেছে। ঘাসের ওপর দিয়ে দৌড়ের যে আলাদা শব্দ হয়, কিছুদিন আগেও জানতাম না। ওর এই শব্দ সংগ্রহকে আমরা পাগলামি বলেই মনে করতাম। কিন্তু গতকাল পাড়ার পুজোর বিজয়া সম্মিলনীতে যখন ফুটবলে শট মারার রকমারি শব্দ শুনলাম তখন আমরা নিজের কানকেও বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। একেকটা শব্দ দুরন্ত সাউন্ড সিস্টেমে গর্জে উঠছিল, আর মনে হচ্ছিল যেন বসে আছি খেলার মাঠে। গোল হওয়ার আগের মুহূর্ত যখন বেজে উঠছিল, তখন আমি উত্তেজনা চেপে রাখতে পারছিলাম না। প্রথমে একটা হুইসেলের ছোটো তীক্ষ্ণ শব্দ। তারপর একরাশ নিস্তব্ধতা। খানিক পর ধপ করে একটা আওয়াজ। তারপর একটা লম্বা হুইসেলের শব্দ ছাপিয়ে হাজার লোকের চিৎকার গো-ল-ল-ল-ল...। বলতে নেই, অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই পাগলের মতো গোল বলে চিৎকার করে উঠেছিল। এর আগেও শমীকের ঘরে বসে এই শব্দগুলো শুনেছিলাম। কিন্তু জোরালো সাউন্ড সিস্টেমে সেই শব্দগুলো যে এরকম জীবন্ত হয়ে উঠতে পারে তা ভাবতে পারিনি। রাতে খাবার টেবিলে বসে বাবা বলেছিলেন, “আহ্‌, শমীকের শব্দের খেলা মন ভরিয়ে দিল। মনে হচ্ছিল যেন ছোটোবেলাকার রেডিওর যুগে ফিরে গেছি। রেডিওতে কমেন্ট্রি শুনতে শুনতে আমরাও ঠিক আজকের মতো গোল বলে চিৎকার করে উঠতাম। ছেলেটাকে কিছু পুরস্কার দিতে ইচ্ছে করছে। ওকে জিজ্ঞেস করিস তো ওর কোনও ওয়াই-ফাই মাইক্রোফোন-টোন লাগবে কি না! সামনের মাসে অফিসের কাজে জার্মানি যাব। ওর জন্য একটা নিয়ে আসব’খন।”
শমীকের এই অদ্ভুত নেশাটার শুরু বছর খানেক আগে। আমেরিকাবাসী ওর এক দাদু ওকে একটা ঢাউস সাউন্ড রেকর্ডার দিয়ে বলেছিলেন, “দাদুভাই, তোমার জন্য একটা উপহার আছে। আমার শখ ছিল বিভিন্ন ধরনের শব্দ ধরে রাখা। এখন অনেক বয়স হয়ে গেছে, আর ছোটাছুটি করতে পারি না। দেখো এই নতুন আইডিয়া তোমার কেমন লাগে।”
সেই থেকে শমীকের শব্দের পেছনে ছোটা শুরু। ওর বাবাও ওকে খুব উৎসাহ দেন এই ব্যাপারে। কিছুদিন হল আমিও ওর সঙ্গ ধরেছি। আমার শব্দযন্ত্র নেই ঠিকই, কিন্তু শমীক আমাকে ওর শব্দযন্ত্র নাড়াচাড়া করতে বাধা দেয় না। বরং বলে, “তুই যদি আমার সাথে থাকিস তাহলে তো আমার সুবিধাই হয়। তুই আমার থেকে ভালো গাছে চড়তে পারিস। পাখির বাসার কাছে তুই গিয়ে মাইক্রোফোনটা ধরে বসে থাকবি। আর আমি নিচ থেকে বাচ্চার ডাকগুলো রেকর্ডারে তুলে নেব। আর জেনে রাখ, সেই শব্দ সংগ্রহের ক্রেডিটও তোকে দেব।”
শমীক ওর কথা রেখেছে। গতকালের বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠানে ও আমার নাম ওর সহকারী হিসেবে ঘোষণা করেছিল।
রাতে বাবা অনেককেই ফোন করে শমীকের আর আমার কীর্তির কথা জানাচ্ছিল। কিন্তু আমি জানি, আমার নাম জড়ানোর কোনও মানে নেই। আমার ভূমিকা প্রায় নেই বললেই চলে। কিন্তু বাবা তো বাবাই! আমাকেও কৃতিত্ব দিতে ছাড়বেন না।

সন্ধেবেলা টিউশন পড়ে শমীক আমাদের বাড়ি চলে এল। মামা খানিক আগেই এসেছেন। আমার আর শমীকের দু’জনের জন্যই মামা নিয়ে এসেছেন ‘পারফর্মেন্স গিফট’ দুটো টি-শার্ট।
আমার মামা কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বিভাগের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত উচ্চতম আধিকারিক। বছরভর দেশবিদেশে ঘুরে বেড়ান মামা। মামাকে হাতের কাছে পাওয়া আর পেলের পাশে বসে ফুটবল খেলা দেখা প্রায় সমান।
শমীক ঢুকতেই মামা ওকে গিফটটা দিয়ে বললেন, “ভাবছি, তোমাদের দু’জনের একটা অনুষ্ঠান এবার দিল্লিতে করাব। এরকম শব্দের খেল আমি দেশে বা বিদেশে কোথাও হয়েছে বলে শুনিনি।”
শমীক এমনিতেই কম কথা বলে। মামার কথাতে ও কোনও সাড়া দিল না।
“আচ্ছা শমীক, তোমার সংগ্রহে এরকম কোনও শব্দ আছে যেটা সচরাচর শোনা যায় না?” মামা বললেন।
“মহাজাগতিক শব্দের কথা বলছ নাকি হে?” বাবা দুম করে বলে বসলেন।
“না জামাইবাবু, আসলে ফটোগ্রাফারদের সংগ্রহে এমন ছবি থাকে যা সবাইকে চমকে দিতে পারে। এরকমই একটি ছবি আমি দেখেছিলাম একবার জাপানে একটা ফটোগ্রাফিক এগজিবিশনে। একটা বাঘকে শিংয়ে গেঁথে ঘাড়ে ফেলে ছুটছে এক হরিণ। ওদের শোতেও সেরকম কোনও চমক আনা যায় কি না ভাবছিলাম। ওই আমার আইডিয়া দিচ্ছিলাম আর কী।” মামা বললেন।
“মামা, একটা শব্দ আমার সংগ্রহে আছে, যেরকম শব্দ আমি আগে শুনিনি।” মুখ খুলল শমীক।
আমার মনটা খারাপ হয়ে গেল। শমীক তো আমাকে সব রেকর্ডিং শোনায়। তাহলে এটা শোনায়নি কেন? ও কি আমাকে আর সঙ্গে নিতে চায় না?
“শব্দটা আজকেই তুলেছি, মামা। সেই জন্য ঠিক আন্যালিসিস করে উঠতে পারিনি এখনও।”
খানিক শান্তি পেলাম। আজ সারাদিন আমার সাথে শমীকের দেখা হয়নি। বেচারা আমাকে শোনাবে কী করে? সেই সকালে একবার ফোনে কথা হয়েছিল মামার আসার খবরটা দিতে।
“কীরকম?” মামা বললেন।
“আওয়াজটা খুব ক্ষীণ, কেউ যেন কাঁদতে কাঁদতে বুক চাপড়াচ্ছে। কিন্তু শব্দটা মানুষের কান্নার মতো নয়। ক্লিপিংটা আমার মোবাইলেই আছে। শুনবেন?”
মোবাইলে শব্দটা বাজাল শমীক। অনেক পাখি ডাকছে। হাওয়ার শনশন আওয়াজ। তার মধ্যে একটা কান্নার শব্দ। কোনও জানোয়ার যেন রাগে গজরাচ্ছে, আর কাঁদছে। তারপর একটা ধপ ধপ করে কিছু পেটার শব্দ। আমার কেন জানি না মনে হল, কোনও বাড়ির টিভিতে অ্যানিম্যাল প্ল্যানেট চলছিল আর তার শব্দটাই ধরা পড়েছে শমীকের যন্ত্রে। নিজেকে আর চেপে রাখতে পারলাম না। বলে ফেললাম, “কোনও টিভির অনুষ্ঠানের শব্দ রেকর্ড করে ফেলিসনি তো, শমীক?”
“না রে, আজ বিকেলে যেখানে শব্দটা রেকর্ড করেছি তার ধারে কাছে কারও বাড়ি নেই।”
“কোথায় গেছিলি আজ? আমাকে ডাকিসনি তো!”
“না মানে, মামা তোদের বাড়িতে সন্ধেবেলা আসবেন বলে আর ডাকিনি।”
“কোথায় শুনেছ শব্দটা?” মামা বললেন।
“আমাদের পাড়ার শেষে বিশাল একটা পাঁচিল-ঘেরা বাড়ি আছে। অনেক গাছগাছালি ওই বাড়িটায়। ওই বাড়ির মালিকের খুব পাখি পোষার শখ। সারাদিন বাড়ির ভেতর থেকে পাখির আওয়াজ ভেসে আসে। একদিন গিয়ে আমি কয়েকটা পাখি দেখেও এসেছি। তবে সব পাখি দেখতে পাইনি। আরও অনেক বড়ো বড়ো খাঁচা কাপড়ের পর্দার আড়ালে ছিল। বাড়ির মালিক এখানে থাকেন না। একদিন দারোয়ানকে বলেছিলাম, ‘আমাকে পাখির ডাক রেকর্ড করতে দেবে?’ দারোয়ান উত্তর দিয়েছিল, ‘কারও বাড়িতে ঢোকার পারমিশন নেই। ঠিক আছে, একবার চট করে গিয়ে এক ঝলক দেখে এস। তবে ওই রেকর্ড-টেকর্ড করেতে যেও না। পাখির কিপার দেখলে মালিককে বলে আমার চাকরি খেয়ে নেবে। মালিক এলে তখন এসে ভালো করে দেখো।’ গত দু’দিন ধরে ওই বাড়িতে পাখিগুলো খুব চিৎকার করছে। তাই ভেবেছিলাম পাঁচিলের বাইরে থেকে লাঠির মাথায় মাইক্রোফোন ধরে পাঁচিলের ওপাশে ঝুলিয়ে শব্দ সংগ্রহ করব...”
মামার মোবাইলটা বেজে উঠল। “ইয়েস। হোয়াট? আর ইউ শিওর? ডু ইউ হ্যাভ অ্যানি প্রুফ? ...ওকে কামিং।”
ফোনটা পকেটে পুরে উঠে দাঁড়ালেন মামা। “সরি, আমাকে এখুনি যেতে হবে।”
হাঁ হাঁ করে উঠলেন মা। “যাবি মানে? এত খাবার যে তোর জন্য বানালাম? না খেয়ে কোথায় যাওয়া হবে না!”
“সরি দিদি, জানো তো আমার কাজটাই এরকম। সামাজিকতা বজায় রাখা খুব টাফ। তুমি বরং আমাকে কিছু খাবার প্যাক করে দাও। অফিসে বসে খেয়ে নেব। শমীক, তোমার শব্দের গল্পটা খুব ইন্টারেস্টিং। ওই রেকর্ডিংটা আমায় দিতে পারবে, পরে অফিসে বসে ভালো করে শুনব?”
“হ্যাঁ মামা, ব্লু-টুথে পাঠিয়ে দিই?”
“হ্যাঁ হ্যাঁ, আমি অন করছি ব্লু-টুথ। তুমি পাঠিয়ে দাও। আর শব্দগুলো কী যেন বলছিলে! হ্যাঁ, আন্যালিসিস। আন্যালিসিস করে কীসের শব্দ জানলে, আমাকে ফোনে জানিও। আমার জানার উৎসাহ রইল।”
পকেট থেকে একটা কার্ড বের করে শমীকের দিকে এগিয়ে দিলেন মামা। তারপর মার হাত থেকে টিফিন কৌটো নিয়ে দ্রুত বেরিয়ে গেলেন।
মামা চলে যেতেই শমীক উত্তেজিত হয়ে উঠল। “তোর কম্পিউটারে বসা যাবে? একটা জিনিস মাথায় এল। চেক করতাম।”
“চল, আমার ঘরে চল। মাকে বলি আমার ঘরেই টিফিন পাঠিয়ে দিতে। দাঁড়া, আগে কম্পিউটারটা অন করি।”
“নেট কানেকশন লাগবে।”
“বাবাকে বলছি ওয়াই-ফাই অন করে দিতে। কানেকশন পেয়ে যাবি।”
“তোর ডেটা ক্যাবলটা দে তো, একটা সাউন্ড ফাইল মোবাইল থেকে তোর কম্পিউটারে নেব।”
“ক্যাবল লাগবে না। ব্লু-টুথ দিয়ে নিয়ে নে।”
“ঠিক আছে।”
ওয়েবে একের পর এক সাইট দেখে চলেছে শমীক। আমি অতশত জানি না। বাবা না থাকলে আমি নেট দেখার সুযোগ পাই না। বাবা বলেছেন, কলেজে উঠলে স্বাধীনভাবে নেট দেখতে দেবে। শমীককে গতবছর থেকে ওর বাবা নেট কানেকশন দিয়ে দিয়েছেন। শব্দ সংগ্রহ শুরু করার পর থেকে একটা স্মার্ট ফোনও কিনে দিয়েছেন। ওর কাছে সাউন্ড এডিটিংয়ের সফটওয়্যার আছে। এই সফটওয়্যার দিয়ে শমীক শব্দের গুণমান অনেক বাড়ায়। ও এসব করে পড়াশুনা করার পর। তাই ওকে ওর বাবা-মা কিছু বলেন না। আর আমি? হোম-ওয়ার্কই শেষ করে উঠতে পারি না!
একমনে নেট ঘেঁটেই চলেছে শমীক। আমি আর কী করি, একটা ছবি আঁকতে শুরু করলাম।
“না রে এখানে হচ্ছে না, সাউন্ড ক্লিপিংটা একটু কারেকশন না করলে সিমিলার সাউন্ড খুঁজে পাচ্ছি না। আমাকে আমার মেশিনেই বসতে হবে। আমি চললাম।”
“যাবি মানে! না খাইয়ে মা তোকে ছাড়বে নাকি?”
“না না, খেয়েই যাব। কাকিমাকে বলছি আমাকে এখুনি খেতে দিতে।”

পরদিন খুব সকালে মাঠে ফুটবল খেলছি। দেখি, একটা সাদা গাড়ি এসে দাঁড়াল। আর তার থেকে নেমে এলেন পুরোদস্তুর পুলিশের পোশাক পরা আমার মামা। এত সকালে মামাকে দেখে আমি অবাক হয়ে গেলাম। আমাকে হাত দিয়ে ইশারায় ডেকে বললেন, “শমীকদের বাড়িটা কোনটা বল তো।”
“কেন মামা, কোনও প্রবলেম?”
“আরে না। শমীকের বাড়ি আমি যাব একটা সুখবর দিতে।”
“দিল্লির প্রোগ্রাম ঠিক হয়ে গেছে, মামা?”
“শুধু প্রোগ্রাম! এবার শমীক রাষ্ট্রপতি পুরষ্কার পেতে চলেছে ওর অসাধারণ সাহসিকতার জন্য।”
“শমীক আবার এমন কী সাহসিকতা দেখাল, মামা?”
“শোন, শমীক কাল রেকর্ডিংটা শুনিয়ে বলেছিল না, যে আওয়াজটা একটা জন্তুর রাগে গর্জানোর মতো লাগছে? মনে হচ্ছে কেউ যেন বুক চাপড়াচ্ছে। সেটা একদম ঠিক। ওর এই আওয়াজের ওপর নির্ভর করেই গতকাল গভীর রাতে বেআইনি পথে লুকিয়ে নিয়ে আসা দুটো গরিলা সহ আরও কিছু জন্তু উদ্ধার হয়েছে ওই পাঁচিল-ঘেরা বাড়ির ভেতর থেকে। আমাদের কাছে দেশের মধ্যে দিয়ে অন্য দেশে বেআইনি পশু পাচারের খবর বেশ কিছুদিন ধরেই ছিল। কিন্তু আমরা নিশ্চিত ছিলাম না। কাল তোদের বাড়ি থাকাকালীন একটা ফোন এসেছিল মনে পড়ে? সেটা ছিল এই পশু পাচার সংক্রান্ত। শমীকের ভার্সন নিশ্চিন্ত করে লোকেশন। আর আমরাও ওর ‘সাউন্ড-ক্লিপিং’ অ্যানালিসিস করে নিশ্চিন্ত হই যে ওটা বানর জাতীয় প্রাণীর শব্দ। আর ধপ ধপ শব্দটা যে গরিলার বুক পেটানোর শব্দ, সেই আভাসটা রাতে ফোন করে শমীকই আমাকে জানায়। তোরা মাঠেই থাক, আমি বরং শমীকের বাড়িতে ওর বাবা-মায়ের সাথে কথা বলে আসি। সকাল থেকে এক কাপ চাও খাওয়া হয়নি।”
_____
অঙ্কনশিল্পীঃ সুকান্ত মণ্ডল

1 comment: