ছড়াঃ সেই যে ভূতের ছানাঃ পিয়ালী বসু




অনেক রাতে ভূতের ছানা ফিসফিসিয়ে বলে,
মাছ কি কিছু আছে বাকি মাঝপুকুরের জলে?
রুই কাতলা সব তো গেল বিয়েবাড়ির ভোজে,
আনচান এই পরাণ এখন মাছ বিনে কি মজে!
অবাক হয়ে বলি তাকে, ওরে ভূতের পো
শুঁটকি ছেড়ে টাটকা মাছে নজর দিলি গো!
মিন্তিপিসির ভাঁড়ারে যা, দেখ না কৌটো খুলে
পেতেও পারিস শুঁটকি অনেক যত্নে রাখা তুলে।
না না না না, শুঁটকিতে আর মন লাগে না ভাই
ভূত বলে কি আমার কোনও প্রেস্টিজ জ্ঞান নাই?
রুই কালিয়া, কাতলা মুড়ো, পার্শে বাটার ঝাল
না খেয়ে কি করব এবার ঝরঝরে পরকাল?
রোস তাহলে একটু মারি রান্নাঘরে উঁকি,
বাসি কিছু জোটে কি না তোর কপালে দেখি।
এই না বলে যেই খুলেছি ঘরের দরজাখানি,
মিঁয়াও বলে গটমটিয়ে এল ফুলকি রানি।
শব্দ পেয়ে মা, পিসিমা দৌড়ে এল ছুটে
ওরে মেয়ে, ঘুমের চোখে আবার বেড়ায় হেঁটে?
ফুলকি ছিল ভাগ্যি ভালো, মিঁয়াও বলে ডেকে
আজকে রাতে বিপদ থেকে বাঁচিয়ে দিল তোকে।
কালকে রাতেও ঠিক এমনি পুকুরপাড়ে এসে,
ছিপটি ফেলে ধরছিলি মাছ ঘুম চোখেতে বসে!
যতই বলি, ভূতের ছানা মাছের জন্য কাঁদে
তাই তো তাকে মাছ দিতে চাই, কাঁচা কিংবা রেঁধে।
মা বলল, একদম চুপ, সবকথা আজগুবি
এখন থেকে আমার ঘরেই চুপটি করে শুবি।
ভূতের ছানা আর আসে না, মনটা আমার ভার
তোমরা যদি দেখো তাকে বল একটিবার।
মায়ের কানেও ফিসফিসিয়ে বলো এসব কথা,
মাছ না খেয়ে বেচারি সে পাচ্ছে প্রাণে ব্যথা।
মা শুনলে ঠিকই ওকে যত্ন করে বসে,
রুই কাতলা পার্শে বাটার ভোজ খাওয়াবে কষে।
আমার মায়ের দয়ার শরীর, একটু যা খুব বকে
ভূতের ছানার পেলে দেখা বুঝিয়ে বলো তাকে।

_____

No comments:

Post a Comment