অণুগল্পঃ পিছুটানঃ শাশ্বতী চন্দ




জোরে ধাক্কা দিলেন গিন্নি কর্তাকে, “এই ওঠো। চোর এসেছে ঘরে!”
আচমকা ঘুম ভেঙে যেতে ক্ষিপ্ত কর্তা, “দুত্তোর। শান্তিতে দু’দণ্ড ঘুমাতেও দেবে না? সারাজীবন তাই করেছ। আমি ঘুমালেই তোমার ঝনর ঝনর করে বাসন মাজা, ঘসর ঘসর করে ঘর ঝাঁট দেওয়া, না হলে কটর কটর করে কথা বলা। এই তো অভ্যাস ছিল তোমার। তাই বলে এখনও তাই করবে?”
গিন্নি মুখ ভার করে বললেন, “তুমিও তো সারাজীবনের অভ্যাসই বজায় রেখেছ। কুম্ভকর্ণের মতো ঘুমিয়ে যাচ্ছ তো যাচ্ছই। এই ঘুমের ফেরে পড়েই তো কোনও কাজকারবারই করলে না। বাপ-পিতেমোর বিষয়সম্পত্তি ভাঙিয়ে খেয়েই চালিয়ে দিলে।”
“তাতে কোন মহাভারত অশুদ্ধ হয়েছে শুনি? ছেলে নেই, পুলে নেই। টাকা রেখে যেতাম কার জন্য? যাও তো। নিজে ঘুমাও, আমাকেও ঘুমাতে দাও।”
“আরে আবার ঘুমায়!” মরিয়া হয়ে চেঁচিয়ে ওঠে গিন্নি, “চোর যে সর্বস্ব চুরি করে নিয়ে যাবে গো!”
“হাসালে গিন্নি। কী আর নেবে চোর? সবই তো ভোলা আগেই নিয়ে গিয়েছে। আরে বাবা, তুই আমার একমাত্র ভাইপো। সব বিষয়সম্পত্তি তো তুইই পেতি। আমাদের মরা পর্যন্ত তর সইল না? বোকা ছেলে। কীসের পিছুটানে জেগে আছ গিন্নি? শান্তিতে ঘুমাও দেখি।”
খানিক চুপ করে থাকেন গিন্নি। তারপর বলেন, “ভাঁড়ার ঘরের মেঝের তলায় যে আমাদের হাড়গোড়গুলো আছে, সেগুলোর যদি খোঁজ পেয়ে যায় চোর! যদি নিয়ে যায়? পিছুটান কি আর সহজে যায় গো?”
_____

No comments:

Post a Comment