জীবনের গল্পঃ রংরুটঃ দিগেন্দ্র চন্দ্র ব্যানার্জ্জী



এক

আর্থিক বিপর্যয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজা আমার জন্য যেদিন চিরতরে বন্ধ হয়ে গেল, সেদিনের সেই মানসিক অশান্তি আমার মতো যারা মধ্যবিত্ত ঘরে জন্মগ্রহণ করেছেন তারাই একমাত্র উপলব্ধি করতে পারবেন। মা ও ছোটো ছোটো ভাইবোনদের প্রতিপালনের দায়িত্ব আমাকে যে কৈশোরেই বহন করতে হবে এ-কথা নিশ্চিত হয়ে গেল। আমি তখন ঢাকায় আমার মামার বাড়ি থেকে পড়ছিলাম। নানা অফিসে ঘুরে ঘুরে চাকরির যখন কোনও সুবিধাই করতে পারলাম না তখন বাধ্য হয়ে জন্মভূমি ঢাকা ছেড়ে ময়মনসিংহে আমার এক জ্যাঠতুতো ভাইয়ের আশ্রয়ে এলাম। আমার উক্ত ভাই তখন পুলিশ বিভাগের একজন পদস্থ কর্মচারী। অনন্যোপায় হয়ে আমাকে পুলিশ বিভাগের একটি নিম্ন পদ গ্রহণ করতে হল। চাকরি পেলে সাধারণত মানুষ খুবই আনন্দিত হয়, আমার কিন্তু সেরকম কিছুই বোধ হল না। বরং জীবনের এই আকস্মিক পরিবর্তনে সমস্ত মনটা সেদিন হতাশায় পূর্ণ হয়ে গেল। জীবনের কত উচ্চ আশা, ছাত্রজীবনের যত রঙিন স্বপ্ন, সমস্ত যেন এক নিমেষে কোথায় মিলিয়ে গেল। আমি ঢাকার ছাত্র, ঢাকা তখন রাজনৈতিক আন্দোলনে অগ্রগামী। সেই আবহাওয়া যে আমার মনেও লাগেনি, এ-কথা স্বগত অস্বীকার করবার উপায় ছিল না। তারপর তখন একটি চলতি কথা ছিল যে ‘মারের শেষ ঝাঁটার বাড়ি, চাকুরির শেষ দারোগাগিরি’। এতেই বুঝে নিয়েছিলাম যে আমার জীবনের পরিণতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াল। এ-কথা ঠিকই যে আমার এছাড়া আর কোনও উপায়ও ছিল না। কিন্তু আমার যে তখন মাত্র উনিশ-কুড়ি বছর বয়স! যে আবেষ্টনীতে ঢাকায় ছাত্রজীবন কাটিয়েছি তাতে তো কোনওমতেই আমার এই চাকরি-প্রাপ্তি মানসিক শান্তি আনতে পারেনি। যদিও আর্থিক সমস্যার কিছুটা লাঘব হয়েছিল।
মনে আছে, কিছুদিন পর্যন্ত আমি যখন এক মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে ছিলাম তখন একদিন আমার এক অধ্যাপকের সঙ্গে দেখা হয়। তিনি মন দিয়ে আমার সব কথা শুনলেন ও খুব উৎসাহ দিয়ে বললেন, “দেখো, Service is not mean, unless the man himself is mean - কোনও চাকরিই তুচ্ছ নয়, মানুষ তার হীন আচরণে ছোটো করে ফেলে। তুমি যদি ভালো হও, তবে এই অবাঞ্ছিত ডিপার্টমেন্টের কিছু ভালো করতে পারবে। মনে রেখো, তোমার যখন পড়া আর এগোল না তখন এই ডিপার্টমেন্টকে তুমি মনে করো তোমার বিশ্ববিদ্যালয়। শুনেছি এখানেও বিদ্যালয়ের মতো প্রমোশনের ধাপ আছে।” সত্যিই বলতে বাধা নেই, এ কথাগুলো আমার সমস্ত মানসিক বেদনা তো দূর করেই ছিল, মনে এনেছিল প্রচুর শক্তি ও আনন্দ। এই শক্তি ও আনন্দ হয়েছিল আমার নতুন জীবনের চলার পথের পাথেয়। এই ধ্রুবতারা থেকে যে কোনওদিন লক্ষ্যভ্রষ্ট হইনি তার প্রমাণ আমার সুদীর্ঘ একটানা ঊনচল্লিশ বৎসর অন্তে এই অবাঞ্ছিত পুলিশ বিভাগের একটি উচ্চপদ থেকে সুনামের সঙ্গে অবসর গ্রহণ। যদিও এটা একটা আত্মপ্রশংসা হয়ে গেল আমার, কিন্তু বলার উদ্দেশ্য তা নয়। আমার কথা হল যে, আমার সেই অধ্যাপকের সদুপদেশ যে সত্যই আমার ভেতর মন্ত্রশক্তির প্রেরণা এনেছিল তা প্রকাশ করা এবং আমার মতো কোনও যুবক যদি এরূপ কোনও নৈরাশ্যজনক পরিস্থিতিতে পড়েন, তিনি হয়তো তাঁর কর্মজীবনে এর থেকে কিছু সাহায্য পাবেন, এই আশা।

দুই

যা হোক কাজ তো একটা মিলল, কিন্তু এই কর্মজীবনের প্রারম্ভিক প্রস্তুতি তো ভয়াবহ। সাধারণ লাগামহীন যে জীবন এতদিন যাপন করেছি, তার সঙ্গে তো এর কোনও মিল নেই। এ-কথা অক্ষরে অক্ষরে বুঝতে পারলাম যেদিন ট্রেনিং স্কুলে যোগ দিলাম। ১৯৩৬ সালের জুন থেকে ডিসেম্বর মাস অবধি ছিল আমার ট্রেনিং পিরিয়ড। এই ভরসা ছিল যে আমি একা নই, আরও আমার মতো বলির সংখ্যা প্রায় শতেকের উপর। সমস্ত চলাফেরা কঠোর নিয়মশৃঙ্খলাধীন। সে নয় প্রথম প্রথম কষ্ট হবে। সবচেয়ে অসুবিধা হয়েছিল অশিক্ষিত হাবিলদারদের অশুদ্ধ ইংলিশ কমান্ড। দু-চারটি বললেই বোধহয় সমস্তটা আন্দাজ করতে কষ্ট হবে না। লাইন করে আমাদের ইনচার্জ একটি Water tank-এর কাছে নিয়ে এসে বললেন, “ইয়ে অভরকা ট্যাঙ্কি। ইয়ে অরিনালーরাত কা ওয়াস্তে।” অর্থাৎ urinal শুধু রাত্রেই যাওয়া চলবে, দিনে নয়। দিনে যেখানে যেতে পারা যাবে তা দেখে খুবই দুশ্চিন্তা হয়েছে, ততক্ষণে লক্ষ্যস্থল পর্যন্ত যাওয়া যাবে কি না খুবই সন্দেহ হয়েছিল।
সে যা হোক, সবকিছুতেই বিনা অপরাধে উত্তীর্ণ হওয়া গেল। একদিনের দুর্ভোগের কথা না বলে পারছি না। কারণ, সেদিন ইনচার্জের ইংরেজি কমান্ড না বুঝতে পেরে অত্যন্ত ভয় পেয়ে পেছনদিকে তাকিয়ে আমাদের সাংঘাতিক অপরাধ করার দরুন একঘণ্টা বেশি ড্রিল করতে হয়েছিল। ব্যাপারটা হল, আমাদের ইনচার্জ সাহেব প্যারেড গ্রাউন্ডে হঠাৎ কমান্ড দিলেন ‘বাগ পিছে’ অর্থাৎ ব্যাক মানে যদি ‘বাগ পিছে’ হয় তাহলে তো ভয়েরই কথা।

তিন

দেশ বিভাগের পূর্বে যারা পুলিশ ডিপার্টমেন্টে ঢুকেছিলেন তাদের সবাইকে ট্রেনিংয়ে যেতে হত অধুনা বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার অন্তর্গত সারদা নামক একটি স্থানে। পদ্মানদীর তীরে বিস্তীর্ণ ভূখণ্ড নিয়ে এই শিক্ষাশিবির। আশেপাশে কোনও গ্রাম নেই বললেই চলে। খাবার স্টল, দোকান-বাজার সবই নিজস্ব। কঠোর নিয়মশৃঙ্খলার অধীন থেকে জীবন যখন হাঁপিয়ে উঠত, তখন সারদার প্রাকৃতিক দৃশ্য কর্মব্যস্ততার ফাঁকে ফাঁকে মাতৃস্নেহের মতন মনপ্রাণ ভরে দিত। তাই বিদায়ের দিনে এ হেন যায়গা ছেড়ে আসতে মনে খুব ব্যথা বোধ হয়েছিল। যে জায়গায় প্রথম প্রথম একদিনও থাকতে ইচ্ছা হত না, তাই শেষের দিকে মনে হয়েছিল খুবই মনোরম। পুলিশ ট্রেনিংয়ের এই শিক্ষাপদ্ধতির প্রশংসা না করে থাকা যায় না। দলে দলে কতকগুলি নিয়মশৃঙ্খলাহীন যুবকদের নানারূপ শিক্ষার ভেতর দিয়ে গড়েপিটে মানুষ করে পুলিশ বিভাগের মাধ্যমে দেশবাসীর সেবার জন্য পাঠিয়ে দিত। সে উদ্দেশ্য যে কতখানি সফল হত তা সকলেই জানেন। জেলায় ফিরে এদের যখন নানা স্থানে পোস্টিং করা হত তখন জনগণের মধ্যে শৃঙ্খলা আনার পরিবর্তে এরা নিজেরাই হয়ে উঠত অত্যন্ত বেপরোয়া ও উচ্ছৃঙ্খল। দেশসেবকের পরিবর্তে এরা হয়ে উঠত জনগণের প্রভু। জনগণ এদের ভালোবাসা দূরের কথা, দেখলেই আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে উঠত। আমার কর্মজীবনে অবশ্য এর প্রত্যেক জিজ্ঞাসার উত্তর পেয়েছিলাম।
ট্রেনিংয়ে থাকতে আমাদের দৈনন্দিন জীবনধারা কীভাবে চলত তার একটা রেখাচিত্র আঁকা যেতে পারে। শুধু রবিবার, বৃহস্পতিবার আর ছুটির দিন ছাড়া আমাদের ভোর চারটেয় ঘুম থেকে উঠতে হত। প্রথমদিনের কথা মনে পড়ে। শুনলাম সকাল ছ’টায় ‘ফল ইন’ অর্থাৎ প্যারেড আরম্ভ হবার আগে লাইন দিয়ে মাঠে দাঁড়াতে হবে। ইন-চার্জ হাবিলদার রাতের রোল কলের সময় বজ্র নির্ঘোষে জানিয়ে দিলেন যে ভোর সাড়ে পাঁচটায় তৈরি হওয়া চাই। অতএব আমাদের বুঝে নিতে দেরি হল না যে পাঁচটাই হবে আমাদের সময়। সে তো হল। কিন্তু ভোর তিনটেয় না উঠতে পারলে তো কোনওমতেই সব কাজ সেরে তৈরি হওয়া সম্ভব হবে না। সকলেই এক দুশ্চিন্তা নিয়ে শুতে গেলাম। পরস্পর আলোচনা করে ঠিক করলাম, খুব করে জল খাওয়া হবে আর যে আগে উঠবে সে ব্যারাকের সবাইকে দেকে দেবে।
হঠাৎ একটা গোলমালে আমার ঘুম ভেঙে গেল। দেখলাম, অধিকাংশ শিক্ষানবীশের তৈরি হওয়া আরম্ভ হয়ে গেছে। বিউগলের মর্মভেদী করুণ শব্দ বেজে চলছে। তখন আমার মনে হয়েছিল, বিউগল যেন বলছে, ‘ওঠো, জাগো, আজকের কাজ এখন থেকে শুরু হবে।’ ট্রেনিং ক্যাম্পে যারা এরূপ শিক্ষায় ছিলেন তারা নিশ্চয়ই স্বীকার করবেন যে এই বিউগলের মর্মভেদী শব্দ সারাদিনের কাজে কীরূপ উৎসাহ ও প্রেরণা যোগাত। এরই গানে তৈরি হওয়া শুরু, প্যারাড আরম্ভ, সাময়িক বিশ্রাম, প্যারাড শেষ, আইনের ক্লাশে যাওয়া ইত্যাদি। প্রত্যেক সময়ের এই বিউগলের শব্দের একটি করে নাম আছে এবং এর সাথে পরিচিত হতে না পারলে প্রতি পদেই অসুবিধা। ভোর চারটেয় যে বিউগল বাজে তার নাম ‘রিভেলিーতখন ফ্ল্যাগ ওঠানো হত। সন্ধেয় যেটা বাজে তার নাম ‘রিট্রিট’ーফ্ল্যাগ নামানোর সময়। সারাদিনের কর্মসূচি এমনিভাবে তৈরি বিউগলের শব্দ সব সময়ে আতঙ্কের সৃষ্টি করত।
যা হোক ক্রমে সবই অভ্যাস হয়ে গেল। চলাফেরা, কথা বলা সবই নিয়মশৃঙ্খলার দড়ি দিয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা। আমি ১৯৩৬ সালের কথা বলছি। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ আরম্ভ হবার তিনবছর আগের কথা। আমাদের প্রত্যেক কাজ লাইন দিয়ে করতে হত। এত ভিড়, এত লোক, কিন্তু এতটুকু কোনও গণ্ডগোল নেই। সবই যেন ভিন্ন জগতের ব্যাপার। এখানে আসার আগে তো এরূপ দেখিনি। ছাত্রজীবনে, সমাজ-জীবনে যেন সব কাজেই একটা বিশৃঙ্খলা দেখে এসেছি। তাই এত শৃঙ্খলার অধীনে থেকে সব সময়ে একটু গর্ব অনুভব করতাম।
কলেজে পড়বার সময়ে County Cricket Match নামে একটি প্রবন্ধ পড়েছিলাম। তার একটি কথা আমার মনে পড়ল। সেখানে ছিল To be one of numerous body, অর্থাৎ দলের একজন হওয়া আর To have the authority to say – WE, অর্থাৎ একটি দলের হয়ে কিছু করা বা বলার অধিকার যে কত গর্ব আর আনন্দের জিনিস তা প্রতি পদক্ষেপে অনুভব করতাম। তবে সব উৎসাহ উবে যেত পিটি বা ফিজিক্যাল ট্রেনিংয়ের দিন। একঘণ্টা চলত খালি পায়ে ও স্যান্ডো গেঞ্জি গায়ে। সে নাচাকোঁদা যেন শেষ হতে চাইত না। মাঘ মাসের শীতে পদ্মার ঠাণ্ডা কনকনে বাতাস যখন আমাদের অনাবৃত শরীরে হাজার মৌমাছির হুল ফোটাত তখন মনে হত বোধহয় এখান থেকে আর ফিরে যেতে পারব না। এইজন্যেই কি প্রথম মাসের সকালে প্রতিদিনই Quinine Parade হত! অর্থাৎ, লাইন করে নিয়ে গিয়ে হাসপাতালের মাঠে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হত। তারপর ভীমাকৃতির কালো রঙের একজন লোক এসে প্রত্যেককে ওষুধের গ্লাসে করে এক গ্লাস তরল পদার্থ গলায় ঢেলে দিত। তার প্রচণ্ড তেতো স্বাদ আজও যেন গলায় লেগে আছে।
এই ফিজিক্যাল ট্রেনিংয়ের একদিনের ঘটনা মনে করলে এখনও আমার রক্ত ঠাণ্ডা হয়ে যায়। অনেকগুলো কঠিন শরীরচর্চার মধ্যে কেবল দুটোর কথা আমি বলব। একটি হল দশ ফুট উঁচু কংক্রিটের দেওয়াল টপকানো (Wall jumping), আর আরেকটা পঞ্চাশ ফুট দড়ি বেয়ে ওঠা আর নামা (Rope climbing)। এসব কিন্তু নিজের ইচ্ছামতন করলে চলবে না। ইন-চার্জ হাবিলদারের কমান্ড মতন চলত ক্রমপর্যায়ে। শীতের সকালে যখন ব্যায়াম করতে করতে এই দেওয়ালের কাছে আসতাম তখন ভয়ে বুক ঢিপ ঢিপ করতে থাকত। শীতের শিশিরসিক্ত এই দেওয়ালের বুকে লাথি মারতে গেলেই অধিকাংশ সময়ে পা পিছলে বুকে ও নাকে আঘাত লেগে যাওয়ার খুব বেশি সম্ভাবনা থাকত।
একদিন সত্যিই একটা দুর্ঘটনা ঘটে গেল। এরূপভাবে লাথি মারতে গিয়ে আমাদের একজন পা হড়কে হঠাৎ বুকে ও মুখে সাংঘাতিকভাবে আঘাত পাওয়ার জন্য তার নাকমুখ দিয়ে রক্ত ঝরতে লাগল এবং কিছুক্ষণের মধ্যে অজ্ঞান হয়ে গেল। শেষপর্যন্ত কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাকে স্থানান্তরিত করতে হয়েছিল। পরে শুনেছিলাম ট্রেনিং নেওয়ার মতন শারীরিক যোগ্যতা সে আর ফিরে পায়নি ও কাজেই এই চাকরিও তাকে আর করতে হয়নি। তার কথা মাঝে-মাঝেই আমার মনে হত। পরে পরিচিত অনেকের কাছে তার খোঁজ নিয়েছি, কিন্তু কোনও সংবাদই আর জানতে পারিনি। শুনেছি Rope climbing-এও এরূপ দুর্ঘটনা হত। পরে অবশ্য এই দুটিই উঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
আমাদের আইনের ক্লাসের একজন ইনস্পেক্টর শিক্ষক ছিলেন। ঘোড়া থেকে পড়ে তার ডানপায়ে চোট লাগে এবং শেষপর্যন্ত পা কেটে বাদ দিতে হয়। Field work-এর অনুপযুক্ত হওয়ার জন্য উনি হয় আইন ক্লাসে পড়াতেন, নয়তো পুলিশ কোর্টের মামলা পরিচালনা করতেন।
ঘোড়া হতে আরম্ভ করে মেথর পর্যন্ত সকলেই আমাদের শিক্ষক ছিল। কারোর আদেশ বা নির্দেশ অমান্য করা চলত না। যা হোক এ হেন ট্রেনিং করে জেলা হেড কোয়াটার্সে ফিরে এলাম বিচিত্র অভিজ্ঞতা নিয়ে। তখন মনে হয়েছিল সত্যিই তো প্রকৃত যুবক তৈরি হতে হলে এরূপ ধরনের শৃঙ্খলা, নিয়মানুবর্তিতা শিক্ষার সুযোগ দেশের প্রত্যেক যুবকের প্রয়োজন। আজ দেশ স্বাধীন। আমার মনে হয়, এরূপ ট্রেনিং বাধ্যতামূলক হলে দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ভালোই হত।
সব হাবিলদারই যে অশুদ্ধ উচ্চারণ করত তা নয়। ক্রমে এদের সবরকম কমান্ড আমাদের আয়ত্ত হয়ে গিয়েছিল আর আমরাও এদের শিক্ষক হিসেবে ভালোবাসতে শিখেছিলাম। ট্রেনিং কলেজের প্রধান অধ্যক্ষ ও প্রধান ড্রিল শিক্ষক, সুবাদার প্রভৃতি উর্দ্ধতন সম্প্রদায় থেকে আমাদের আগলে রাখতে তাদের চেষ্টা দেখেছি। ফাইনাল প্যারেডে যখন কৃতকার্য হয়ে বেরিয়ে এলাম তখন আমাদের চেয়ে তাদের গর্বই বেশি ছিল।

_____

No comments:

Post a Comment