গল্পঃ ব্যবস্থাঃ ঋজু গাঙ্গুলি



কাল রাতে ভদ্রলোক মাতাল ছিলেন। আজ ঠিকঠাক অবস্থায় থেকেও গোঁয়ার্তুমি কাটেনি তেনার। ‘লোকটা’কে নিকেশ করলে কেন পৃথিবী আরও সবুজ হবে, আকাশ আরও নীল হবে, ইত্যাদি আমাকে বোঝানোর চেষ্টা করেই চলেছেন উইন্টার্স। ভ্যালে হিসেবে এর উত্তরে, ‘যা বলেছেন স্যার।’ বলা ছাড়া আমার আর কীই বা থাকতে পারে?
মিস্টার উইন্টার্স পয়সাওয়ালা, বদমেজাজি এবং কাল রাত থেকেই রেগে আগুন। উক্ত লোকটা হল লিয়্যান্ডার ম্যাককালাম। গতরাতে ক্লাবে জিন রামি খেলার সময় উইন্টার্সের জোচ্চুরি তিনি ধরে ফেলেন। ফলশ্রুতি হিসেবে কথা কাটাকাটি এবং হাতাহাতি হয়।
“লোকটাকে মরতেই হবে, বুঝলে ক্ল্যারেন্স।” পারলে আমাকে দিয়েই সাধ মেটাবেন, এমন একটা ভঙ্গি করেন উইন্টার্স। “তুমি এর জন্য কিছু একটা ব্যবস্থা করো।”
“আমি কী করতে পারি, আর পারি না সেটা আপনি জানেন মিস্টার উইন্টার্স।” যথাসাধ্য শান্তভাবে বলি, “খুন করাটা আমার দ্বারা হবে না।”
“আহা,” সোজা হয়ে বসেন উইন্টার্স। “আমি কি বলেছি তোমাকেই... মানে তুমি নিজেই খুনটা করবে? আমি বলেছি, তুমি এমন কাউকে খুঁজে দাও যে এই কাজটা করবে। মানে কোনও পেশাদার খুনি। তেমন কাউকে খুঁজে বের করাই হবে তোমার কাজ। বুঝলে?”
“আজ্ঞে।” বলে আমি কথাটা মাথা থেকে বের করে দিই। মিস্টার উইন্টার্সের ভ্যালে তথা আপ্ত সহায়ক হিসেবে আমি বেশ ভালো মাইনে পাই, ভালোভাবেই থাকি, কিন্তু সারাদিন ধরে লোকটার খেয়াল রাখা যে কী পরিশ্রমের কাজ তা যদি জানতেন! গোটা দিনটা তাতেই কাটল, কিন্তু পরদিন সকালে আবার প্রসঙ্গটা উঠল।
“তাহলে ক্ল্যারেন্স,” কফির কাপটা নামিয়েই উইন্টার্স আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, “কাউকে পেলে?”
“কী ব্যাপারে, স্যার?”
“আরে তোমাকে বললাম না কাল!” রেগে ওঠেন উইন্টার্স।
“ওহ্‌!” আমি যথাসাধ্য নির্বিকার ভঙ্গিতে বলি, “পেশাদার খুনিরা ইয়েলো পেজে লিস্টেড থাকে না, স্যার। আমি তাদের মধ্যে কাউকে কীভাবে...”
“ক্ল্যারেন্স,” উইন্টার্সের গলাটা বরফের মতো হয়ে গেল শুনে আমি প্রমাদ গোনি। “আমি তোমাকে যথেষ্ট মাইনে দিই। তোমার কাজটা খুব কষ্টেরও নয়। নাকি তোমার আর এই চাকরিটা করতে ইচ্ছে করছে না?”
“করছে, স্যার।” আমি সসম্ভ্রমে বলি, “চমৎকার চাকরি। বস হিসেবে আপনিও আদর্শ।”
“তাহলে শুনে রাখো। আগামী শুক্রবারের মধ্যে তোমাকে একজন খুনি জোগাড় করে দিতে হবে আমার জন্য। কথাটা খেয়াল থাকবে তো? আগামী শুক্রবার। তার মধ্যে একজন পেশাদার খুনিকে জোগাড় করে দিতে না পারলে তোমার চাকরি...” নিজের গলার ওপর দিয়ে আঙুলটা আলতোভাবে আড়াআড়ি চালান উইন্টার্স।
ভ্যালে হিসেবে চাকরি করার ফাঁকে আমাকে নানা উদ্ভট কাজ করতে হয়েছে ঠিকই। কিন্তু খুনিকে ভাড়া করা? না, এ জিনিস আমি আগে করিনি। করার কোনও ইচ্ছেও নেই। এদিকে উইন্টার্সের মাথা ঠাণ্ডা না হওয়া অবধি কিছু একটা করে ওঁকে আটকাতে না পারলে সাধের চাকরিটি যাবে। কী করা যায়?
একটাই উপায়। আমাকে অভিনয় করতে হবে, যা থেকে মনে হবে যে আমি কোনও পেশাদার খুনির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পেরেছি।

পরদিন সকাল। উইন্টার্স গলা খাঁকরে আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললেন, “তারপর?”
“আমি একজনকে খুঁজে পেয়েছি, স্যার।” ঠাণ্ডা গলায় বললাম।
“অ্যাঁ!” কাপটা টেবিলে রাখার চেষ্টা করতে গিয়ে আরেকটু হলেই সেটা টেবিল থেকে ফেলে দিচ্ছিলেন উইন্টার্স। “তুমি... মানে... একজন সত্যিকারের পেশাদার খুনির সন্ধান পেয়েছ?”
“পেয়েছি, স্যার।” আমি গম্ভীর গলায় বললাম। “এটা মাথায় রাখতে হবে, যে মানুষ একবার খুন করেছে সে আবারও খুন করতে পারে। দরকার হলে সে বারবার খুন করতে পারে। আমরা আখছার কাগজে পড়ি, অমুক খুনি বারো বছর জেল খেটে ছাড়া পেয়েছে। গতকাল সন্ধেবেলা আপনি যখন ক্লাব থেকে বহিষ্কৃত হবেন কি না সেই নিয়ে কমিটির কাছে বক্তব্য পেশ করতে গেছিলেন তখন আমি ‘সর্বাধিক প্রচারিত প্রথম শ্রেণির সংবাদপত্র’-র অফিসটিতে হানা দিই। চিফ এডিটরকে ম্যানেজ করে আমি পুরনো ফাইলগুলো নিয়ে বসি। ওরকম ছাড়া পাওয়া খুনিদের নামগুলো নোট করি। টেলিফোন কোম্পানিতে আমার চেনাজানা কয়েকজনকে বলে চুপচাপ একটু খোঁজখবর নিই। তারপর একজনকে খুঁজে পাই, যাকে দিয়ে আমাদের কাজ চলবে।
ভালো কথা, কমিটি কী সিদ্ধান্ত নিল স্যার?”
“ওরা এখনও ব্যাপারটা খতিয়ে দেখছে।” মুখ কালো করে বলেন উইন্টার্স, “আচ্ছা, এই খুনির কী নাম?”
আমার মার পিসির পদবিটা মাথায় আসে। মনে মনে স্বর্গত মহিলার কাছে মাফ চেয়ে আমি বলি, “মার্শেটি।”
উইন্টার্স উঠে পড়েন। কিন্তু একটু পরেই ফিরে আসেন একটা টেলিফোন ডাইরেক্টরি নিয়ে। “এখানে তো ছ’জন মার্শেটি আছে দেখছি। তুমি কোন জনের কথা বলছ?”
“প্রথমজন।”
“এ. মার্শেটি।” ভ্রূ কুঁচকে বলেন উইন্টার্স, “এই ‘এ’ মানে কী?”
“এঞ্জেলো।” আমি নির্বিকার মুখে বলি।
“হুঁ।” উইন্টার্স গম্ভীর হন। “এ কি মাফিয়াদের সঙ্গে যুক্ত?”
“অবশ্যই।” জনৈক এঞ্জেলো মার্শেটি আমার কথা শুনলে কী করতেন জানি না, জানতে চাইও না।
“আমি চাই আগামী শুক্রবার রাত আটটা থেকে বারোটার মধ্যে যেন ম্যাককালাম খুন হয়।” একটা সিগার জ্বালিয়ে সুখটান দিয়ে বলেন উইন্টার্স। “বুঝলে?”
“আগামী শুক্রবার?” আমার গলাটা শুকিয়ে যায়। “কিন্তু স্যার, যা জেনেছি তাতে তাড়াহুড়ো করে কাজ করাটা এঞ্জেলোর দস্তুর নয়। ও শিকারের সম্বন্ধে খোঁজখবর নিয়ে তারপর প্ল্যান করে, তারপর এগোয়। ধরুন দু’-তিন সপ্তাহ তো লাগবেই।”
“অসম্ভব!” রেগে ওঠে উইন্টার্স। “টাকা যখন আমি দিচ্ছি, তখন খুনটা কখন হবে সেটাও আমি ঠিক করব। আগামী শুক্রবার টমসনের বিবাহবার্ষিকী, তাতে আমন্ত্রিত হিসেবে আমি ওই সময় হাজির থাকব। একগাদা লোক সাক্ষী দেবে, ম্যাককালামকে আমি খুন করিনি।
ভালো কথা, একে কত দিতে হবে?”
আমি মরিয়া হয়ে সুযোগটা কাজে লাগাতে চাইলাম। অসম্ভব একটা দর হাঁকলে হয়তো উইন্টার্স পিছিয়ে যাবেন।
“এক লাখ ডলার স্যার।”
“এক... লাখ!” উইন্টার্স যে রীতিমতো ধাক্কা খেয়েছেন, বেশ বুঝলাম। “তুমি এর চেয়ে সস্তায় কাউকে জোগাড় করতে পারলে না?”
“অত সময় আপনি আমাকে দেননি, স্যার।” ব্যাপারটাকে একটু খুঁচিয়েই দিই আমি। “আর এই পর্যায়ে এসে দরাদরি করলে ব্যাপারটা আপনার পক্ষে বিপজ্জনক হতে পারে, স্যার। বোঝেনই তো, এরা কেমন লোক হয়।”
“অবশ্য সবকিছুরই যা দাম আজকাল।” সিগারটা চিবোতে চিবোতে বললেন উইন্টার্স। “ঠিক আছে, ক্ল্যারেন্স। আমি রাজী।”

সন্ধেবেলা আমার ডাক পড়ল। আশেপাশে কেউ নেই নিশ্চিত করে উইন্টার্স তাঁর ব্রিফকেসটা খুলে আমাকে দেখালেন, “এই যে। ছোটো ছোটো নোটে এক লাখ ডলার। এবার এটা দিয়ে ব্যাপারটা পাকা করো।”
আমি ব্রিফকেসটা নিয়ে নিজের ঘরে গেলাম। টাকাগুলো বের করে গুনলাম। হ্যাঁ, পুরো এক লাখ ডলারই বটে।
আমি কি টাকাটা নিয়ে পালিয়ে যাব?
না, সেটা নিরাপদ নয়। ওই টাকায় আমি হয়তো বছর দুয়েক কাটাতে পারব, কিন্তু আমার প্রতিনিয়ত ভয় হবে। চোরের ভয়। চোর বলে ধরা পড়ার ভয়। সঙ্গে এই আরামের চাকরিটাও যাবে।
তাহলে আমি কী করব? আমি কি টাকাটা উইন্টার্সকে ফেরত দিয়ে সত্যি কথাটা বলব, যে অ্যাঞ্জেলো মার্শেটি বলে কোনও খুনির সঙ্গে আমি যোগাযোগ করিনি? তারপর কী হবে? আমার চাকরিটা যাবেই। তাতে আমার সর্বনাশ হবে না ঠিকই, কিন্তু অসুবিধা হবে।
তাহলে?
আচ্ছা, আমিই কি এক লাখ ডলার নিয়ে খুনটা করে আসব?
তার চেয়েও বড়ো কথা, আমি কি এক লাখ ডলার পেলে মানুষ খুন করতে পারি?
মিনিট পাঁচেক লাগল উত্তরটা খুঁজে পেতে।
এক লাখ ডলার পেলে আমি অতি অবশ্যই মানুষ খুন করতে পারি।

বৃহস্পতিবার সন্ধেবেলায় উইন্টার্স ক্লাবে একটা মিটিং সারতে বেরিয়ে গেলেন। আমি একা একা মদ্যপানের বিরোধী, কিন্তু সেদিন দু’পাত্তর চড়িয়েই ফেললাম। আর তখনই আমার মাথায় আইডিয়াটা এল।
খুনটা যদি কালকের বদলে আজকেই হয়?
আমি যখন মনস্থির করেই ফেলেছি, তখন শুভ কাজে বিলম্ব কেন?
উইন্টার্স আজ মাঝরাতের আগে ফিরবেন না। তাঁর অ্যালিবাই থাকবে একেবারে পোক্ত। এদিকে আমার হাতেও আর কোনও কাজ নেই।
উইন্টার্সের অস্ত্রশস্ত্রের সংগ্রহের পরিচর্যা আমাকেই করতে হয়। একটা রিভলভার নিলাম, গুলি ভরলাম, ডাইরেক্টরি ঘেঁটে ম্যাককালামের ঠিকানা জোগাড় করলাম। তারপর রওনা দিলাম।

শহরের ও-মাথায় একটা দশতলা বাড়িতে থাকে ম্যাককালাম। ফ্ল্যাট নম্বর ৭০৬। আমি চুপচাপ উঠে ঘরের বেল বাজালাম। ম্যাককালাম নিজেই দরজা খুলল।
মিস্টার উইন্টার্সের ভ্যালে হিসেবে আমাকে এর আগে ক্লাবের কিছু কিছু অনুষ্ঠানে যেতে হয়েছিল। ম্যাককালাম তখন আমায় দেখেছিল। তবে নিজেকে অদৃশ্য করে রাখাটা আমাদের কাজের অঙ্গ, তাই ম্যাককালাম আমাকে চিনে ফেলবে বলে মনে হয়নি। তাই হল। দরজা খুলে ম্যাককালাম চোখ কুঁচকে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, “কাকে চাই?”
কোটের পকেটে হাত দিয়ে গুলিভরা রিভলভারটাই নাড়াচাড়া করছিলাম এতক্ষণ। কিন্তু ম্যাককালামের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বুঝতে পারলাম, গুলি চালানো তো দূরের কথা, রিভলভারটাই আমি পকেট থেকে বের করতে পারছি না।
একটা মানুষ খুন করা... না, আমার দ্বারা ওটি হবে না।
“এটা কি মিস্টার গ্যারিবল্ডির ফ্ল্যাট?” নার্ভাস হলেই আমি যে কেন ইটালিয়ান নাম ভাবি, কে জানে! আমার স্বর্গত মা এটা জানতে পারলে…
“না।” বিরক্ত গলায় বলে দরজা বন্ধ করে দিল ম্যাককালাম।

পরদিন সকালে নিজের চাকরি খোয়ানোর এবং নতুন করে কাজ খোঁজার মানসিক প্রস্তুতি নিয়েই নিজের ঘর থেকে নামলাম। মিস্টার উইন্টার্স ব্রেকফাস্ট করছিলেন। আমি ব্রিফকেসটা হাতে নিয়ে তাঁর কাছে উপস্থিত হলাম।
“তাহলে ক্ল্যারেন্স,” কফির কাপটা নামিয়ে বললেন উইন্টার্স, “মার্শেটির সঙ্গে দেখা করতে বেরোচ্ছ বুঝি? তার আর দরকার হবে না। আমি ঠিক করেছি, খুনটা আর করাব না।”
আমি অতিকষ্টে ব্রিফকেসটা নিজের আলগা হাত থেকে পড়ে যাওয়া ঠেকালাম।
“হ্যাঁ।” গলা খাঁকরে বলেন উইন্টার্স। “ম্যাককালাম আমার বিরুদ্ধে নালিশ করেছে এই বলে যে আমি জোচ্চুরি করছিলাম। আমি বলেছি, আমি ওসব কিচ্ছু করিনি। আর কোনও সাক্ষী নেই, কোনও প্রমাণ নেই। তাই ক্লাব কর্তৃপক্ষ ঠিক করেছে, আমার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়। তাই আমিও ভাবলাম, ম্যাককালামকে মেরে ফেলার আর কোনও দরকার নেই।”
“ভাবলেন?” আমার গলাটা বোধহয় অনিচ্ছাসত্বেও একটু অন্যরকম হয়ে গেছিল, কারণ উইন্টার্সকে বেশ চমকে উঠতে দেখলাম। “আপনার কি মনে হয়, অ্যাঞ্জেলো ব্যাপারটা ভালোভাবে নেবে? তাছাড়া আছে মাফিয়ার প্রশ্ন। এসব পেমেন্টের অর্ধেকটাই মাফিয়া নিয়ে নেয়। সেই টাকাটা এভাবে মার গেলে ওরা কী ভাববে, সেটা ভেবেছেন?”
“তা অবশ্য ঠিক।” উইন্টার্সের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে ওঠে। বুঝি, মোক্ষম জায়গায় চেপে ধরেছি লোকটাকে। “ঠিকই তো। শেষমুহূর্তে এভাবে ব্যাপারটা বাতিল করলে যেকোনও পেশাদারেরই খারাপ লাগবে, আর এরা তো... আচ্ছা বেশ। তুমি ওদের টাকাটা দিয়ে দাও, আর বলে দাও যে খুনটা আর করার দরকার নেই। তাহলে নিশ্চয় ওরা কিছু মনে করবে না?”
“পেনাল্টির কী হবে?”
“পেনাল্টি? কীসের পেনাল্টি?”
“অ্যাঞ্জেলো এরকম একটা কেসের কথা আমাকে বলেছিল, স্যার। এরকম হলে মাফিয়া ব্যাপারটাকে খুব বাজেভাবে নেয়। ওরা মনে করে, আপনি খুনের ব্যাপারটা নিয়ে যথেষ্ট আন্তরিক ছিলেন না। আপনার কাছে এটা একটা খেলা ছিল। তার চেয়েও বড়ো কথা, ওরা ভাবতেই পারে, আপনি এসবের মাধ্যমে আসলে ওদের নিয়ে খোঁজখবর করছেন, হয়তো একটা বই লেখার জন্য!”
“হুঁ।” ঢোঁক গিললেন উইন্টার্স। “পেনাল্টি কত হতে পারে?”
“আরও এক লাখ ডলার, কমপক্ষে।”
“বেশ বেশ!” ঘাম-টাম মুছতে গিয়ে রুমালটা ভিজিয়েই ফেলেন উইন্টার্স। “মোট দু’লাখ ডলারই সই। কিন্তু এর চেয়ে এক পয়সাও বেশি আমি দিতে পারব না। হুঁহ্‌! খুনই হল না, এদিকে এতগুলো টাকা গচ্চা গেল। তুমি ব্যাপারটা মিটিয়ে দিও, বুঝলে ক্ল্যারেন্স!”
বুঝলাম আমি।
দু’’লাখ ডলারের শোক ভুলতে উইন্টার্সের কমপক্ষে একবছর লাগবে। তদ্দিন অপেক্ষা করি। টাকাটাও ব্যাঙ্কে একটু বড়ো হোক। তারপর এই তল্লাট থেকে কেটে পড়া যাবে, কী বলেন?

[মূল কাহিনিঃ দ্য ফেব্রিকেটর, লেখকঃ জ্যাক রিচি,
মে ২০০৯-এর ‘আলফ্রেড হিচকক’স মিস্ট্রি ম্যাগাজিন’-এ প্রকাশিত]

_____

No comments:

Post a Comment