বিজ্ঞানের পাঠশালাঃ যা দেখি, যা শুনি, তারই উত্তর খুঁজিঃ (৩য় পর্ব) কমলবিকাশ বন্দ্যোপাধ্যায়


কমলবিকাশ বন্দ্যোপাধ্যায়   

আগের পর্ব

তৃতীয় পর্ব




নিজেকে নিজে সুড়সুড়ি দেওয়া যায় না কেন?


যদি কাউকে হাসাতে চান বা নাচাতে চান তাহলে তাকে সুড়সুড়ি দিন। এমন অব্যর্থ অস্ত্র আর কিছু নেই। সুড়সুড়ি দেওয়াকে আমরা অনেক সময় কাতুকুতু দেওয়াও বলে থাকি। কারও কারও সুড়সুড়ির অনুভূতি বেশি। তাকে সুড়সুড়ি দিতে গেলেই শুরু করে দেয় চিৎকার আর লাফালাফি। আবার কেউ কেউ গা শক্ত করে রেখে ভান করে যে তার সুড়সুড়ি নেই। পায়ের পাতা, বাহুমূল ও ঘাড়ে সুড়সুড়ির অনুভূতি সবচেয়ে বেশি। এই প্রসঙ্গে সুকুমার রায়ের ‘কাতুকুতু বুড়ো’ কবিতার কথা মনে পড়ছে। সেখানে তিনি লিখেছেন —
“আর যেখানে যাও নারে ভাই সপ্তসাগরপার,
কাতুকুতু বুড়োর কাছে যেও না খবরদার!
সর্বনেশে বৃদ্ধ সে ভাই যেও না তার বাড়ি
কাতুকুতুর কুলপি খেয়ে ছিঁড়বে পেটের নাড়ি।”
কেউ সুড়সুড়ি দিতে চাইলে অন্যের গা হালকা করে ছুঁতে হবে। জোরে চেপে ধরলে কিন্তু সুড়সুড়ি লাগবে না। হঠাৎ করে এই আলতো স্পর্শে ব্রেনে অ্যালার্ম বাজা শুরু হয়ে যায়। আর তক্ষুনি শুরু হয়ে যায় হাসাহাসি, নাচানাচি। আমাদের ত্বকের নিচে যে স্নায়ু বা নার্ভ আছে, তার প্রান্তগুলো উত্তেজিত হয়। সেই সংবাদ প্রায় সঙ্গে সঙ্গে চলে যায় ব্রেনে। ব্রেনের দুটো অংশ আছে। একটা হলে সোমাটোসেন্সরি কর্টেক্স আর অপরটি হল অ্যান্টেরিয়র সিংগুলেটেড কর্টেক্স। স্নায়ুর মাধ্যমে সংবাদ এখানে পৌঁছোতেই শুরু হয়ে যায় বিচার-বিশ্লেষণ। প্রথম অংশে চলতে থাকে স্পর্শ ও চাপের ধরন নিয়ে বিশ্লেষণ। দ্বিতীয় অংশে সিগন্যাল পৌঁছোলে শুরু হয় অ্যালার্ম বাজা।
এ তো গেল অন্যকে সুড়সুড়ি দেওয়ার কথা। নিজেকে নিজে কখনও সুড়সুড়ি দিয়ে দেখেছেন, কী হয়? নাহ্‌, কিচ্ছু হয় না। এই অভিজ্ঞতা আমাদের প্রায় সকলেরই আছে। কিন্তু কারণটা অধিকাংশেরই জানা নেই, একথা আমি হলফ করে বলতে পারি।
আমাদের ব্রেনের পিছনে যে সেরেবেলাম আছে সেটা শরীরের নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করে। নিজেকে সুড়সুড়ি দেওয়ার চেষ্টা করলে সেরেবেলাম আগেই বুঝে যায় এবং সেকথা সে ব্রেনকে আগেভাগেই বলে দেয়। ব্রেনও সঙ্গে সঙ্গে সুড়সুড়ির অনুভূতি স্তিমিত করে চুপ হয়ে বসে থাকে। ভাবখানা যেন, হুঁ হুঁ যতই সুড়সুড়ি দাও না কেন, আমি কিছুই টের পেতে দেব না। আচ্ছা বলতে পারেন, ব্রেন এমন আচরণ করে কেন? ইন্দ্রিয়জনিত বা সংবেদন অপচয় রোধের জন্য আমাদের ব্রেন অপ্রয়োজনীয় তথ্যগুলোকে ছেঁকে ফেলে দেয়। শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় তথ্যগুলোকে সে কাজে লাগায়। নিজের হাতের ছোঁয়াকে সে অতটা প্রয়োজনীয় মনে করে না। ফলে আমাদের মন এই অনুভূতির কথা জানতেই পারে না। তাই আমরা নিজের হাতের সুড়সুড়ি টের পাই না। তবে এদিক ওদিক থেকে সুড়সুড়ি এলে সেরেবেলাম আগে থেকে বুঝতে পারে না, তাই ব্রেনকেও সেকথা জানাতে পারে না।
নিজের দেহে নিজে সুড়সুড়ি দেওয়া কি একেবারেই অসম্ভব? গবেষকদের মতে, মস্তিষ্ক মূল বিষয়টি পূর্বানুমান করতে না পারলেই এ অনুভূতি তৈরি করা সম্ভব হয়। সেক্ষেত্রে অবশ্য কিছু প্রযুক্তিগত কৌশলের সাহায্য নিতে হবে।

দমকা হাওয়ায় মোমবাতি নিভে যায় কেন?

লোডশেডিং হলে আমরা অনেকেই মোমবাতি জ্বালি। এছাড়াও নানা কারণে মোমবাতি জ্বালানো হয়ে থাকে। আমরা জানি, মোমবাতি যখন জ্বলে তখন বায়ুতে যে অক্সিজেন রয়েছে তা দহনে সাহায্য করে। স্বাভাবিকভাবে মনে হতে পারে অক্সিজেনের সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে মোমবাতি আরও উজ্জ্বল শিখায় জ্বলবে। অথচ দেখা গেছে জোরে বা দমকা হাওয়ায় মোমবাতির শিখা নিভে যায়। আমরা তখন হাত বা অন্যকিছু দিয়ে শিখা আড়াল করার চেষ্টা করি যাতে সেখানে বেশি হাওয়া (বা অক্সিজেন) না পৌঁছয়। এই ঘটনা আমরা প্রায়শই দেখে থাকি। কিন্তু কখনও ভেবেছি কি এমনটা কেন হয়?
শীতলিভবনের সূত্র অনুসারে আমরা জানি (১) কোনও গরম বস্তুর সঙ্গে তার চারপাশের তাপমাত্রার পার্থক্য যত বেশি হবে বস্তুটা তত তাড়াতাড়ি ঠাণ্ডা হতে থাকবে। এছাড়াও (২) কোনও গরম বস্তুর উপরিতলের ক্ষেত্রফল যত বেশি হবে বস্তু তত তাড়াতাড়ি ঠাণ্ডা হবে। তাই কোনও গরম বস্তু (গরম জল, গরম চা ইত্যাদি) তাড়াতাড়ি ঠাণ্ডা করতে হলে বস্তুর উপর বা চারপাশে পাখা বা অন্যকিছু দিয়ে বাতাস করা হয়ে থাকে। তরল বস্তু হলে চ্যাপটা পাত্রে ঢেলে উপরিতলের ক্ষেত্রফল বাড়িয়ে তাড়াতাড়ি ঠাণ্ডা করার ব্যবস্থা করা হয়।
মোমবাতি যখন জ্বলে তখন মোমের বাষ্পের তাপমাত্রা প্রজ্বলনবিন্দু বা তার কিঞ্চিৎ উপরে থাকে। কোনও কারণে এই তাপমাত্রা প্রজ্বলনবিন্দুর নিচে নেমে এলে মোমবাতি নিভে যাবে। জোরে হাওয়া বইলে শিখার চারধারের গরম হাওয়া সরে যায়। অপেক্ষাকৃত ঠাণ্ডা হাওয়ার বৃদ্ধি ঘটে। ফলে মোমের বাষ্পের তাপমাত্রা প্রজ্বলনবিন্দুর নিচে নেমে আসে। তাই মোমবাতি নিভে যায়।
জ্যামিতির নিয়মানুযায়ী, গোলাকার বস্তুর উপরিতলের ক্ষেত্রফল সবচেয়ে কম হয়। মোমবাতির শিখা গোলাকার নয়। তাকে ঘিরে থাকা মোমের বাষ্পও গোলাকার নয়। জোরে বাতাস বইলে শিখার সঙ্গে সঙ্গে বাষ্পের আকারের পরিবর্তন ঘটে এবং উপরিতলের ক্ষেত্রফল বৃদ্ধি পায়। ফলে চারপাশ দ্রুত শীতল হতে থাকে। এতে মোমের বাষ্পের তাপমাত্রা প্রজ্বলনবিন্দুর নিচে নেমে আসে। ফলে মোমবাতি নিভে যায়। জোরে হাওয়ার বদলে ফুঁ দিলেও এই একই কারণে মোমবাতি নিভে যায়।

শীতকালে গায়ে তেল মেখে ঠাণ্ডা জলে স্নান করলেও ঠাণ্ডা কম লাগে কেন?

শীতকালে ঠাণ্ডার হাত থেকে বাঁচার জন্য আমরা পশমের জামা গায়ে দিই। পশম তাপের কুপরিবাহী। তাই শরীর থেকে তাপ বেরিয়ে যায় কম। আমাদের ঠাণ্ডাও লাগে কম। গায়ে তেল মাখলে শরীরের চামড়ায় তেলের আস্তরণ পড়ে। এই অবস্থায় ঠাণ্ডা জলে স্নান করলেও শরীর থেকে তাপ বেরোয় কম। ফলে ঠাণ্ডা বোধ কম হয়। এছাড়াও তেল মাখার ফলে গা পেছল থাকে। গায়ে জল ঢাললে সেই জল শরীরে আটকে না থেকে দ্রুত গড়িয়ে যায়। ঠাণ্ডা কম লাগার এটাও একটা কারণ। তেল মাখার সময় হাতের ঘষায় শরীরের চামড়ায় রক্ত চলাচলের মাত্রা বেড়ে যায়। এতে চামড়ায় তাপ বৃদ্ধি পায়। ফলে স্নানের সময় ঠাণ্ডা কম লাগে।

সমুদ্রের জল নোনা কেন?

বিজ্ঞানীদের অনুমান, সৃষ্টির শুরুতে সমুদ্রের জল নোনা ছিল না। জল নোনা হয়েছে পরে ধীরে ধীরে। বৃষ্টির ফোঁটা আকাশ থেকে মাটিতে পড়ার সময় তাতে বাতাসের কার্বন-ডাই-অক্সাইড দ্রবীভূত হয়ে কিছুটা আম্লিক হয়। এই অম্লধর্মী বৃষ্টির জল ভূপৃষ্ঠে অবস্থিত শিলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় সামান্য হলেও তা ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং তার লবণগুলি জলে দ্রবীভূত হয়। জলে গুলে যাওয়া লবণ সমুদ্রে এসে জমা হতে থাকে। এইভাবেই সমুদ্রের জল নোনা হয়ে যায়।

নভোমণ্ডলের জ্যোতিষ্কগুলি গোলাকার কেন?

আকাশের দিকে তাকালে আমরা যে গ্রহ এবং নক্ষত্রগুলি দেখতে পাই সেগুলি সবই গোলাকার। দূরবীনে চোখ রেখে দূরের জ্যোতিষ্কগুলি দেখলে সেগুলোও গোলাকারই দেখতে লাগে। আমরা যে গ্রহে বাস করি, অর্থাৎ পৃথিবী, সেটাও গোলাকার। যে নক্ষত্রজগতে আছি, অর্থাৎ সূর্য, সেটাও গোলাকার। আমরা কখনও ভেবে দেখেছি কি আকাশের সব গ্রহ, উপগ্রহ এবং নক্ষত্রেরা আকারে গোলাকৃতি কেন? এবারে নিশ্চয়ই প্রশ্নটা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে? তাহলে শোনো।
পদার্থবিজ্ঞানের সূত্র অনুযায়ী, বিশ্বের সব প্রাকৃতিক পদ্ধতি সর্বাধিক স্থিতিশীলতা অর্জন করতে সর্বদা সর্বনিম্ন শক্তির স্তরে থাকার চেষ্টা করে। আমরা জানি, একই আয়তনের বিভিন্ন আকারের বস্তুর মধ্যে গোলকের তলীয় ক্ষেত্রফল সবচেয়ে কম। তার ফলে গোলাকার বস্তুসমূহের পৃষ্ঠশক্তি হয় সবথেকে কম। সর্বনিম্ন শক্তিস্তরে আসতে গিয়ে এবং সর্বাধিক স্থিতিতে থাকার জন্য মহাজাগতিক বস্তুগুলি গোলাকৃতি আকার ধারণ করার চেষ্টা করে। এই কারণেই নভোমণ্ডলের জ্যোতিষ্কগুলি সকলেই গোলাকার।

অনেকদিন ব্যবহারের পর টিউবলাইটের দু’প্রান্ত কালো হয়ে যায় কেন?

টিউব লাইট বা ফ্লুরোসেন্ট বাতি আসলে মারকারি ভ্যাপার ল্যাম্প-এর সহোদর ভাই যা গ্যাস ডিসচার্জ প্রযুক্তিতে চালিত হয়। টিউব লাইটের গঠনগত উপাদান হল একটি বায়ুরোধী কাঁচনল যার মধ্যে থাকে হালকা চাপে সামান্য পরিমাণ পারদবাষ্প এবং ভিতরের কাচের দেওয়ালে থাকে ফসফরাস জাতীয় একধরনের প্রতিপ্রভ প্রলেপ। এজন্য কাঁচের নলটি সাদা দেখায়। নলটির দুই প্রান্তে থাকে দুটি  ইলেকট্রোড যার সাহায্যে এর মধ্যে তড়িৎক্ষেত্র সৃষ্টি করা হয়। এই ইলেকট্রোডদুটো আবার একটি তড়িৎবর্তনীর সঙ্গে যুক্ত থাকে। এই তড়িৎবর্তনীতে সাধারণত থাকে স্টার্টার সুইচ ও ব্যালাস্ট। এই বর্তনী যুক্ত থাকে মেইন এসি সাপ্লাই-এর সঙ্গে। সুইচ টিপলে স্টার্টার-বর্তনীতে হঠাৎ করে তড়িৎপ্রবাহ শুরু হয়। পরক্ষণেই অবশ্য স্টার্টার নিজে থেকে বর্তনী বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এর ফলে কাঁচের নলটির ভিতরে আকস্মিক সার্জ ভোল্টেজ তৈরি হয়। যার ফলে তড়িৎদ্বার থেকে ইলেকট্রন বেরিয়ে আসে এবং পারদবাষ্পকে আয়নিত করে সেই সঙ্গে পারদ-অণুকে আঘাত করে অতিবেগুনি রশ্মি সৃষ্টি করে। এই অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিপ্রভ প্রলেপে আঘাত করে সাদা আলোতে রূপান্তরিত হয় এবং চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
টিউব লাইটের দুই প্রান্তের তড়িৎদ্বারের নিকটবর্তী প্রতিপ্রভ প্রলেপের আস্তরণ দীর্ঘ ব্যবহারের ফলে উত্তাপের দরুন নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়াও ইলেকট্রনের ক্রমাগত আঘাতে প্রতিপ্রভ প্রলেপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সাধারণত এই কারণগুলির জন্যই দীর্ঘ ব্যবহারের পর টিউবলাইটের দুই প্রান্ত কালো হয়ে যায়।

বল পয়েন্ট পেন দিয়ে মসৃণ কাগজে লেখা যায় না কেন?

লেখালেখির কাজে ব্যবহৃত একটি প্রধান উপকরণ কলম। একসময় এই কাজের জন্য ব্যবহৃত হত ফাউন্টেন পেন বা ঝর্না কলম। বল পয়েন্ট পেন যাকে চলতি কথায় বলা হয় ডট পেন বা বল পেন বাজারে আসার পর ঝর্না কলম এখন বিলুপ্তির পথে। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই এখন লেখার কাজে বল পেন ব্যবহার হয়ে থাকে। এটি ব্যবহারে যেমন অনেক সুবিধা পাওয়া যায় তেমন দামেও কম। কলমের জগতে এটি এক যুগান্তকারী আবিষ্কার।
ফাউন্টেন পেন দিয়ে চামড়ার উপর লিখতে অসুবিধা হত বলে ১৮৮৮ সালে চামড়া ব্যবসায়ী জে.জে.লাউড নিজেই নতুন ধরনের একটা কলম বানালেন। এই কলমের ভিতরে ছিল একটা ছোটো খোপ যাতে কালি ভরা থাকত আর কলমের মুখে নিবের পরিবর্তে লাগানো হয়েছিল এক ঘূর্ণিগোলক। লেখার সময় এই গোলকটি ঘুরতে থাকত আর সেই সঙ্গে কালি বেরিয়ে আসত। বল পেনের জন্ম এভাবেই হয়েছিল বলা যেতে পারে। যদিও কোনও এক অজ্ঞাত কারণে এই কলম লাউড বেশিদিন ব্যবহার করেননি বা বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনও করেননি। ফলে বল পেনের চলার পথ এখানেই থেমে যায়।
প্রায় পঞ্চাশ বছর পরে হাঙ্গেরি প্রদেশের দুই ভাই–এল বিরো এবং জর্জি প্রায় একই প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে নতুন করে বল পেন আবিষ্কার করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ায় তাঁরা তাঁদের আবিষ্কৃত বল পেন বাজারজাত করতে পারেননি। কারণ তাঁদের দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছিল। চলে এসেছিলেন আর্জেন্টিনায়। সেখানে এসে তাঁরা তাঁদের আবিষ্কৃত প্রযুক্তির পেটেন্ট নিলেন। তারপর সেটা তাঁরা ফ্রান্সের বিখ্যাত ব্যবসায়ী বিককে চড়া দামে বিক্রি করে দিলেন। ব্যস, শুরু হল পথ চলা। আর ফিরে তাকাতে হয়নি কলমের জগতে আসা এই নতুন সদস্যকে। সারা বিশ্বে এই কলম বল পেন বা ডট পেন নামে পরিচিত হলেও ইংল্যান্ডে এই কলমকে লোকে আজও ‘বিরো’ পেন নামেই চেনে।
বল পয়েন্ট কলম দিয়ে যে কাগজের উপর লেখা হয় সেটা একটু খসখসে হতে হয়। মসৃণ হলে তার উপর লেখা পড়ে না। কাচ বা প্লাস্টিকের উপরও লেখা যায় না। কিন্তু কেন? বল পয়েন্ট কলম কাজ করে পদার্থবিদ্যার অন্তর্গত ‘ঘর্ষণ বল’ এবং তার ধর্মের উপর ভিত্তি করে। এই কলমের মুখে বা ডগায় থাকে 0.৭ – ১.২ মি.মি আকারের পিতল, ইস্পাত বা টাংস্টেন কার্বাইডের তৈরি একটি ছোট্ট শক্ত বল। এই বলটি একটি সকেটের ভিতর থাকে এবং কালিভর্তি এক সরু নল বা রিফিল এর সঙ্গে যুক্ত থাকে। সামান্য খসখসে কাগজ বা কোনও তলের উপর লেখার সময় ঘর্ষণ বলের দরুন বলটি ঘুরতে থাকে। বলের এই ঘূর্ণনের জন্য নল থেকে কালি বেরিয়ে আসে এবং কাগজের উপর পড়ে লেখা ফুটিয়ে তোলে। কিন্তু উলটোটি হলে? অর্থাৎ কাগজ বা তলটি যদি খুব মসৃণ হয়? সেক্ষেত্রে কলমের ডগার বল এবং কাগজ বা তলের মধ্যে ঘর্ষণ বলের মান খুব কম হয়। ফলে বলটি ঐ মসৃণ কাগজ বা তলের (কাচ, প্লাস্টিক ইত্যাদি) ঠিকভাবে ঘুরতে পারে না। আর সেই কারণেই কালিভরা নলটি থাকে কালি বেরিয়ে আসতে পারে না, লেখাও পড়ে না। মসৃণ কাগজের উপর বল পয়েন্ট কলম দিয়ে লিখতে অসুবিধা হওয়ার এটাই কারণ।


(চলবে)

No comments:

Post a Comment