ধারাবাহিকঃ তুষার যুগ (৪র্থ‌ পর্ব) - অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়



চতুর্থ পর্ব


হিমালয়ের হিমবাহ  

হিমালয় পর্বতমালায় যে হিমবাহ দেখা যায়, তারা শেষ তুষার যুগে সৃষ্ট। ছোটোবড়ো নানারকম হিমবাহ এই অঞ্চলে দেখতে পাওয়া যায়, যার মধ্যে সবচাইতে বড়ো হিমবাহ হল ৭৪ কিলোমিটার লম্বা সিয়াচেন হিমবাহ। এটি পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম হিমবাহ। উত্তর ভারতের জম্মু-কাশ্মীর, উত্তরাখণ্ড ও হিমাচল প্রদেশ থেকে শুরু করে উত্তর-পূর্বে সিকিম, অরুণাচলপ্রদেশ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ পর্বতমালায় প্রায় দশ হাজারের বেশি হিমবাহ দেখতে পাওয়া যায়, যার মধ্যে সবচাইতে বেশি সংখ্যক হিমবাহ আছে জম্মু-কাশ্মীরে। কাশ্মীর অঞ্চলে নামজাদা হিমবাহের মধ্যে হল, পিণ্ডারি হিমবাহ ও গঙ্গোত্রী হিমবাহ। ভারতে যেসব বিভিন্ন সংস্থা নিয়মিত হিমবাহ পর্যবেক্ষণ করে থাকে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য, ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ স্টেশন, ডিপার্টমেন্ট অফ আর্থ সায়েন্স, জিওলজিকাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া ইত্যাদি। বিপুল এই হিমবাহ থেকে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য নদী, যাদের জল ভারত ভূখণ্ডকে করে তুলেছে সুজলা, সুফলা, শস্য-শ্যামলা। সবচাইতে বেশি হিমবাহ আছে লেহ লাদাকের সিয়ক নদীর অববাহিকায়। বিগত একশো বছরের গবেষণায় জানা গেছে, প্লিস্টসিন যুগে আজকের চাইতে তিন গুণ বেশি তুষারে ঢাকা পড়েছিল হিমালয় পর্বতমালা। সিয়াচেন হিমবাহ ছাড়া আর সব হিমবাহের পিছিয়ে যাওয়া লক্ষ করেছেন বিজ্ঞানীরা। উষ্ণায়নের প্রভাবে হিমবাহের পিছিয়ে যাওয়া দ্রুত হয়েছে, এ বিষয়ে গবেষকেরা একমত। অনেকের দাবি ছিল উষ্ণায়নের জন্য সিয়াচেন হিমবাহ পঞ্চাশ বছরেই গলে জল হয়ে যাবে। কিন্তু ১৮৪৮ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত এই হিমবাহের পিছিয়ে যাওয়ার কোনও লক্ষণ দেখা না যাওয়ায় পরিবেশ বিজ্ঞানীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ছেড়েছেন।

সিয়াচেন হিমবাহ

কুমায়ুন হিমালয়ের অতি উচ্চ অঞ্চলে, নন্দাদেবী পর্বতশৃঙ্গের দক্ষিণ-পূর্বে তিন কিলোমিটার লম্বা হিমবাহের নাম পিণ্ডারি হিমবাহ। এটি হচ্ছে পিণ্ডারি নদীর উৎস, যা গাড়োয়ালের অলকানন্দা নদীতে গিয়ে মিশেছে। কিন্তু এই হিমবাহের পিছিয়ে যাওয়া এবং এর এক বিরাট অংশ গলে জল হয়ে যাওয়া লক্ষ করা গেছে, যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক।
পিণ্ডারি ও গঙ্গোত্রী হিমবাহ

উত্তরকাশীতে তিব্বত সীমান্তে আছে গঙ্গোত্রী হিমবাহ, গঙ্গা নদীর উৎস। তিরিশ কিলোমিটার লম্বা এই হিমবাহের উৎস মুখের সাথে গরুর মুখের সাদৃশ্য পেয়ে স্থানটির নাম হয়েছে গোমুখ। হিন্দু ভক্ত দর্শনার্থীদের কাছে গোমুখ একটি আকর্ষণীয় তীর্থক্ষেত্র। বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান সংস্থা ও আমেরিকান মহাকাশ বিজ্ঞান সংস্থা নাসার ষাট বছরের পর্যবেক্ষণ জানাচ্ছে, গঙ্গোত্রী হিমবাহ গড়ে প্রতি বছর ১৯ মিটার পিছিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সাম্প্রতিক অনুসন্ধান জানাচ্ছে, এই গড় হিসেব বছরে ২৫ মিটার হয়ে গেছে। আঞ্চলিক গড় তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়াই এর একমাত্র কারণ।

তুষার দেশের মানুষেরা

পৃথিবীর যেসব অঞ্চল তুষারে ঢাকা, সেখানে মানুষের জীবন বড়ো কঠিন। বছরের বেশিরভাগ সময় আঞ্চলিক তাপমাত্রা কম থাকায় এখানে তুষারপাত হয় মাঝেমাঝেই। দুর্গম স্থান হওয়ার কারণে এখানে জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক সম্পদের অভাব দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা বৃহত্তর জনজীবন থেকে বিছিন্ন হয়ে পড়ে। সভ্যতার চাকা এখানে গড়ায় ঢিমেতালে। প্রাকৃতিক বিস্ময় আর অফুরন্ত সময় জন্ম দেয় গল্পগাথা। কিছুটা সত্যি, কিছুটা কল্পনায় মেশানো প্রাচীন গল্পগুলি এখানকার সংস্কৃতির অঙ্গ। এক জেনারেশন থেকে আরেক জেনারেশনে ছড়িয়ে পড়ে জনশ্রুতি, নানা কাহিনি। স্থানীয় লোকসাহিত্যে লুকিয়ে থাকে অতীত পৃথিবীর চেহারার এক ইঙ্গিত। বিজ্ঞানী ও ঐতিহাসিকেরা এদিক ওদিক ছিটিয়ে থাকা গল্পের বিশ্লেষণ করে ঐতিহাসিক অনুসন্ধান চালিয়ে যান।
রাশিয়ার সাইবেরিয়াতে বৈকাল হ্রদ এমনই এক বিচিত্র জায়গা। বৈকাল হ্রদের ধারে দাঁড়িয়ে ভ্রমণকারীদের মনে হয়, যেন লক্ষ লক্ষ বছর আগের পৃথিবী হঠাৎ সামনে দাঁড়িয়ে। শীতকালে এখানে হ্রদের জল জমে যায়। পৃথিবীর প্রাচীনতম, গভীরতম আর দীর্ঘতম হ্রদ বৈকাল ঘিরে শতাব্দীর পর শতাব্দী জুড়ে জমে উঠছে অনেক গল্পগাথা।
এমনই এক লোককথায় আছে, অনেক অনেকদিন আগে এখনে সিংহরা বাস করত। তাদের গায়ে ছিল বড়ো বড়ো লোম, তাই তাদের মোটেই ঠাণ্ডা লাগত না। একদিন হঠাৎ এক সিংহের সাথে এক নেকড়ের দেখা হয়। নেকড়েকে ভয়ে ছুটে পালাতে দেখে সিংহ জিজ্ঞেস করে, “তুমি ভয়ে পালাচ্ছ কেন? ব্যাপারটা কী?”
নেকড়ে বলে, “এখানে এক মানুষ আছে, যে হাঁচি দিলে আমি মরে যেতে পারি, তাই পালাচ্ছি। ওর এমন হাঁচিতে আমার বাবা-মা সবাই মরে গেছে। এখন প্রাণ নিয়ে পালাতে পারলে বাঁচি!”
সেই কথা শুনে সিংহ বলে, “আমি হচ্ছি পৃথিবীর সবচাইতে শক্তিমান। তুমি আমার সাথে এসো। দেখাও কার ভয়ে তুমি পালাচ্ছ।”
পথে তাদের দু’জনের সাথে দেখা হয় এক মেষপালক বালকের। সিংহ তাকে দেখিয়ে নেকড়েকে জিজ্ঞেস করে, “এই ছেলেটা?”
নেকড়ে বলে, “না না, এ তো এখনও বড়োই হয়নি।”
এক বুড়ো ঘাসের জঙ্গলে বসে ভেড়াদের পাহারা দিচ্ছিল। সিংহ নেকড়েকে জিজ্ঞেস করল, “এই বুড়োটার কথা বলছিলে?”
নেকড়ে বলে, “না, এও নয়। এ তো এক নিরীহ বুড়ো মানুষ।”
ঘুরতে ঘুরতে তারা এক বিশাল মানুষের কাছে এসে পড়ে। গায়ে তার বিরাট লম্বা কোট, পায়ে চামড়ার শক্ত বুট, হাতে একটা বিরাট লাঠি। সিংহকে দেখেই লোকটা লাঠি উঁচিয়ে ধরল, আর লাঠির ভিতর থেকে আগুনের গোলা ছুটে এসে লাগল সিংহের গায়ে। তার গায়ের লোমে আগুন ধরে যেতে সব লোম পুড়ে গেল। সিংহ ভয়ে একছুট। নেকড়েও তার পিছন পিছন দৌড়ে পালিয়ে বাঁচল। ছুটতে ছুটতে তারা এক গুহায় ঢুকে গেল। নেকড়ে বলল, “এই লোকটাই আমার বাবা-মাকে মেরে ফেলেছিল। কিন্তু তুমি যে বলেছিলে তুমি সবচাইতে শক্তিমান! কাউকে ভয় পাও না!”
সিংহ বলে, “চুপ কর মূর্খ! দেখছিস না লোম-টোম পুড়ে গিয়ে আমি একেবারে ন্যাংটা! উরি ব্বাবা, কী শীত করছে রে! আমি আর এখানে থাকব না, চল্লাম মরুভূমিতে, সেখানে অনেক গরম। এখানকার মতো বিচ্ছিরি ঠাণ্ডা নেই।”
সেই থেকে নাকি সিংহেরা সব সাহারায় থাকে, সাইবেরিয়ায় নয়।

বৈকাল হ্রদ

আর্কটিক টেরিটরি বা উত্তর মেরু অঞ্চলের বরফে ঢাকা দুর্গম অঞ্চলে অনেক আদিম অধিবাসী বাস করে, পাঠ্য বইতে যাদের উল্লেখ করা হয় এস্কিমো বলে। এদের ইংরেজিতে বলা হয় ইনুক। এস্কিমো শব্দের অর্থ মাংসভোজী। এই শব্দ ব্যবহার করে তথাকথিত সভ্য মানুষেরা। ইনুকেরা কিন্তু এস্কিমো শব্দটি একেবারে পছন্দ করে না। কানাডা, উত্তর আলাস্কা ও গ্রিনল্যান্ডে এদের সবচাইতে বড়ো দল দেখতে পাওয়া যায়। প্রায় পাঁচ হাজার বছর ধরে এই অধিবাসীরা এখানে বাস করে। ইনুকদের বর্তমান সংখ্যা হাজার পঞ্চাশেকের কাছাকাছি।
মেরু অঞ্চলে বছরের প্রায় ছয় মাস রাত আর বাকি ছয় মাস দিন হয়। দিনের আলো থাকলেও তুষার ঝড় নিত্য সঙ্গী হওয়ার ফলে বেশিরভাগ সময় চারদিক অন্ধকারে ডুবে থাকে। প্রবল তুষারপাত ও বরফের চাদরে জমি ঢাকা থাকায় চাষ-আবাদ সম্ভব হয় না। তাই এখানকার মানুষের খাদ্য সিল, শ্বেত ভল্লুক, রেইন ডিয়ার, সিন্ধুঘোটকের মাংস ও চর্বি। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাজার বছরেও এদের খাদ্যাভ্যাসের বিবর্তন ঘটেনি।

উত্তরমেরুর বাসিন্দারা
(ওপর থেকে ঘড়ির কাঁটার পর্যায়ক্রমে সিন্ধুঘোটক, সিল মাছ, রেইন ডিয়ার ও শ্বেত ভল্লুক)

বরফের দিয়ে যেসব ঘর তৈরি করে তারা বাস করে, তাদের বলা হয় ইগলু। ইগলুর ভিতরে কিন্তু ঠাণ্ডা লাগে না। বরফ তাপ অপরিবাহী হওয়ার জন্য ঘরের ভিতরের উত্তাপ বাইরে বেরোতে পারে না, আর বাইরের প্রবল ঠাণ্ডাও ভিতরে ঢুকতে পারে না। অনেকে সিল বা ভল্লুকের চামড়া দিয়ে তাঁবু তৈরি করে বাস করে। কেউ কেউ ইগলু আর তাঁবুর মিশ্রণে ঘর বানায়। বরফে ঢাকা অঞ্চলে পায়ে হেঁটে চলাফেরা করা সম্ভব হয় না, কারণ বরফ পিচ্ছিল। ইনুকেরা বরফের উপর যাতায়াত করবার জন্য কাঠ ও সিল মাছের হাড় দিয়ে তৈরি স্লেজ ব্যবহার করে। স্লেজ টেনে নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবহার হয় তাগড়াই সব পোষা কুকুর। সমুদ্রে যাতায়াতের জন্য ব্যবহার হয় সরু নৌকো, যাকে বলা হয় কায়াক। ঘরে আলো জ্বালানো হয় ভল্লুক আর সিলের চর্বি পুড়িয়ে। ঠাণ্ডা থেকে বাঁচবার জন্য ইনুকেরা ভল্লুক, সিন্ধুঘোটক বা সিল মাছের চামড়া দিয়ে তৈরি পোশাক ব্যবহার করে। জংলি পশুদের হাত থেকে নিজেদের বাঁচানোর জন্য তারা শিকার করা পশুদের হাড় দিয়ে বর্ম তৈরি করে পরিধান করে।

কুকুরে টানা স্লেজ

উত্তর মেরু অঞ্চলের মতো দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে মানুষের বসবাস নেই। তাই এখানে ইনুকদের মতো উপজাতি পাওয়া যায় না।
ইনুকদের মুখে মুখে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে গড়ে উঠেছে নানা সুন্দর সুন্দর গল্প। ঠাণ্ডার দেশে শুধু জীবনযাপনের জন্য শিকার করা ছাড়া আর বিশেষ কোনও কাজ না থাকায় বয়স্করা বাচ্চাদের গল্প শোনায়। সেইসব গল্প শুনতে শুনতে ক্লান্ত হয়ে বাচ্চারা ঘুমিয়ে পড়ে।
ইগলু
পাহাড়ে যেমন ইয়েতির গল্প চালু আছে, তেমনই উত্তর সমুদ্রের কালোপেলিং-এর গল্প প্রসিদ্ধ। এই বিচিত্র প্রাণীটি নাকি মানুষের মতো দেখতে, কিন্তু তার পায়ের দিকটা সিল মাছের মতো। সাদা রঙের পেট নাকি অনেকটা হাঁসের মতো, আর তার গায়ের জ্যাকেটের মাথায় লাগানো মস্ত টুপি। উত্তর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া লোকেদের মধ্যে উপকথা চালু আছে–কায়াক ডুবে গেলে কালোপেলিং ডুবন্ত মানুষকে উদ্ধার করে তাঁর টুপির নিচে লুকিয়ে রাখে।
কালোপেলিং-এর অন্যতম জনপ্রিয় গল্পের একটি হল–
এক ইগলুতে বাস করত এক বুড়ি আর তার ছোট্ট নাতি। পরিবারের আর সবাই শিকার করতে গিয়ে ভল্লুকের পেটে চলে যায়। থুত্থুড়ে বুড়ি আর বাচ্চা ছেলেটির শিকার করার ক্ষমতা ছিল না। বুড়ি চেয়েচিন্তে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে মাংস চেয়ে এনে নিজে খেত আর নাতিকে খাওয়াত। একদিন প্রচণ্ড বরফপাত হতে থাকায় বুড়ি খাবারের জোগাড় করতে পারে না। খিদের জ্বালায় বাচ্চা ছেলেটি জোরে জোরে কাঁদতে শুরু করে। নাতির কান্নায় ঘুম ভেঙে গেলে খুব রেগে গিয়ে বুড়ি চিৎকার করে বলে, “কালোপেলিং, এসো তো! এই ছেলেটাকে ধরে নিয়ে যাও।”
আর অমনি ঘরের দরজা ঠেলে বিশাল চেহারার কালোপেলিং ছেলেটিকে তার টুপির মধ্যে পুরে নিয়ে চলে যায়।
এদিকে দু’দিন যেতে না যেতে বুড়ির নাতির জন্য মন কেমন কেমন করতে লাগল। পাড়া-প্রতিবেশী বুড়ির দুঃখে কাতর হয়ে তাদের ভাঁড়ার থেকে মাংস-টাংস দিয়ে বুড়িকে সাহায্য করে অনেক সান্ত্বনা দিল। বুড়ির মনে হতে লাগল, ঘরে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খাবার। আহা রে, খিদের জ্বালায় নাতিটা কত কষ্ট পাচ্ছে, আর বুড়ির এক মুহূর্তের রাগের জন্য ব্যাটা কালোপেলিং কচি ছেলেটাকে ধরে নিয়ে গিয়েছে। কে জানে সে আর বেঁচে আছে কি না। এই ভাবতে ভাবতে বুড়ি চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে নাতির নাম ধরে ডাকতে লাগল।
বুড়ির দুঃখে কাতর হয়ে এক শিকারি দম্পতি ছুটে এল। তারা বুড়িকে আশ্বাস দিল, সিল মাছ শিকারে গিয়ে তারা অবশ্যই বুড়ির নাতিকে খুঁজে বার করবে।
এই দম্পতি ছিল নিঃসন্তান। তারা একদিন দেখে বরফের চাঙড়ের উপর জলে পা ঝুলিয়ে বসে বুড়ির নাতি সেই ছেলেটি পাখিদের সাথে খেলা করছে। যেই না সে শিকারিদের দেখতে পেয়েছে, অমনি সে টুপ করে জলের তলায় ডুব মেরেছে। শিকারি দম্পতি হার মানবার পাত্র ছিল না। তারা রোজ শিকারে যায়, আর তক্কে তক্কে থাকে কখন ছেলেটাকে হাতেনাতে ধরা যায়। আর একদিন তারা ছেলেটাকে বরফের টিলায় বসে থাকতে দেখে যেই না ধরতে গেছে, ছেলেটা জোরে জোরে চেঁচাতে শুরু করে, “কালোপেলিং, ওই দেখো দুটো মানুষ আমাকে ধরতে এসেছে। ওরা আমাকে ঠাম্মার কাছে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। আমি যাব না, আমার এখানে অনেক বন্ধু, খেলার সাথী। আমি আর ঘরে ফিরে যাব না।”
কিন্তু শিকারি দম্পতি তাকে বুঝিয়ে শুনিয়ে ফিরিয়ে আনে। কিন্তু ছেলেটি আর তার ঠাকুমার কাছে ফিরে যায়নি। সে শিকারি দম্পতির সন্তান হয়ে বড়ো হয়ে উঠে নিজেই একদিন উত্তর সমুদ্রের সবচাইতে দক্ষ শিকারি হয়ে ওঠে।

পরিশিষ্ট

প্রকৃতির নিয়মের অধীন মানুষ। তুষার যুগ পৃথিবীর বুকে যেমন এসেছে, জাঁকিয়ে বসেছে, আবার শেষ হয়েও গেছে। মধ্যে রেখে গেছে তার চিহ্ন। জীবজগতের সৃষ্টি হয়েছে, আবার নির্মমভাবে চলেছে তার ধ্বংসলীলা। সভ্য মানুষের উচিত পরিবেশ দূষণ কম রেখে তুষার যুগের অন্তিমকালকে আরও নিকটবর্তী না করা।

তথ্যসূত্র
  1.  “Frozen Earth: The Once and Future Story of Ice Ages”, by McDougall, Douglas. University of California Press, 2013.
  2.  “An Introduction to the Ice Ages” – National University of Singapore.
  3. “The Ice Age”, by Ehlers, Jürgen, et al., John Wiley & Sons, 2015.
  4. “Global Warming: A Very Short Introduction”, by Mark Maslin, Oxford University Press, 2004.
  5. “Journey to the Ice Age: Discovering an Ancient World”, by Storck, Peter L, UBC Press, 1977.

No comments:

Post a Comment