অণুগল্পঃ সংকেতঃ হীরক সেন


চাঁদনি থেকে মেট্রোতে উঠেই গগনবাবু বুঝলেন আজ ভিড়টা সাংঘাতিক। এটা চলবে উত্তমকুমার অবধি। তিনি নামবেন নেতাজী। কোনওরকমে ঠেলেঠুলে একটু ঢুকে আটকে গেলেন। যা চাপ, মানিব্যাগটা পকেট থেকে ব্যাগে ঢোকালেই ভালো হত, কিন্তু এখন আর সম্ভব নয়। একটা গন্ধ ওঠার পর থেকেই পাচ্ছিলেন, এখানে ওরা কেউ আছে। এতদিন পুলিশে কাজ করে চোর-ছ্যাঁচড়ের উপস্থিতি ভালোই বুঝতে পারেন গগনবাবু। উপায় না দেখে গলা খাঁকারিটা দিয়েই ফেললেন। সাথে সাথে ঠিক পিছন থেকে আরেকটা গলা খাঁকারি শোনা গেল। ঘাড় ঘোরানো যাচ্ছে না, কিন্তু তাও নিশ্চিন্ত বোধ করলেন গগনবাবু। যাক, আরও একজন আছেন এবং ঠিক পিছনেই।
গলা খাঁকারির ব্যাপারটা ওঁকে শিখিয়েছিলেন ওঁর প্রথম পোস্টিংয়ের বড়বাবু দিবাকর ঘোষ। তখন সদ্য এ.এস.আই হয়ে হেস্টিংস থানায় জয়েন করেছেন গগনবাবাবু। দিবাকরদা বলেছিলেন, “বুঝলি গগন, এমন এমন সময় আসবে, যখন মুখে বলতে পারবি না তুই পুলিশ। কার্ডও দেখাতে পারবি না। তখন এই গলা খাঁকারিটা দিবি। আমাদের লাইন তো বটেই, চোর-ডাকাতরাও বুঝে যাবে তোর পরিচয়। এটা আমাদের সাংকেতিক পরিচয়পত্র।” গলা ভারী করে, অর্ধেক কাশি, অর্ধেক হ্যা হ্যা মিশিয়ে এক অদ্ভুত আওয়াজ। তুলতে সময় লেগেছিল মাস খানেক। তবে নানা জায়গায় বেঁচেও এসেছেন এর জন্য। একবার তো দমদমে ইনফরমেশন জোগাড় করতে গাঁজার ঠেকে ঢুকেছেন, তখনই স্পেশাল ব্রাঞ্চের রেইড। ওই খাঁকারি শুনেই তাঁকে ছেড়ে অন্যদিকে গেল দলটা। ভিড় ট্রেনে-বাসেও খুব কাজ দেয় বোঝাতে, এদিকে নয়, অন্যদিকে যাও।
রবীন্দ্র সরোবরে আবার পিছন থেকে গলা খাঁকারি এল। এবার ঘাড় ঘোরানো যাচ্ছে। দেখলেন, নেমে যাচ্ছে অপর ব্যক্তি। নতুন ছোকরা, ভালো স্বাস্থ্য। বুঝিয়ে গেল আমি যাচ্ছি, আপনি সাবধান থাকুন।
ট্রেন ছাড়তেই পকেটে হাত দিয়ে থমকে গেলেন গগনবাবু। “কোনও এথিক্স রাখলি না রে তোরা। ছিঃ ছিঃ ছিঃ।”


_____

No comments:

Post a Comment