গল্পঃ অঙ্কিতার তুলিঃ অনন্যা দাশ



অঙ্কিতার বাবা তারাপদ কর্মকার আসলে কাঠের কারিগর, কিন্তু নিজের অবসর সময়ে সে অন্য একটা জিনিস বানাতে ভালোবাসে। দিনের কাজ শেষ হয়ে গেলে খেয়েদেয়ে সে তার ছোটো পুঁটুলিটা নিয়ে বসে। পুঁটুলিতে থাকে নানান আকারের কাঠーছোটো, বড়ো, লম্বা, বেঁটে সবরকম। সেইসব কাঠ দিয়ে সে তৈরি করে নানান রকমের তুলি। তারাপদ ছবি আঁকতে পারে না, কিন্তু শিল্পীদের কীরকম তুলি লাগে সেইসব তার নখদর্পণে। প্রতিটা তুলিকে অসীম যত্নে গড়ে তোলে তারাপদ। একেকরকম তুলির জন্যে একেকরকমের কাঠ আর লোম। সেইসব জোগাড় করে সে। আজকাল তো হাজার রকমের তুলি পাওয়া যায় বাজারে। কিন্তু তারাপদ বলে, ‘যারা সত্যিকরের শিল্পী, তারা আমার তৈরি তুলির কদর জানে। বাজারে তৈরি ওই নাইলনের চুলের তুলি কোনওদিন আমার তৈরি তুলিকে টেক্কা দিতে পারবে না।’ গ্রামের স্কুলের হেড মাস্টার মশাইয়ের কাছে গিয়ে নানান প্রশ্ন করে তারাপদ। জানতে চায় কীরকম জন্তুর লোম ব্যবহার করলে তার তুলি আরও ভালো হয়ে উঠবে। হেড মাস্টার সুবীর-স্যারের সাহায্যেই সে নানারকমের লোম আর কাঠ আনাতে পারে।
তারাপদর একটা মেয়ে। শখ করে সে মেয়ের নাম দিয়েছিল অঙ্কিতা। তারাপদর শখ ছিল অঙ্কিতা খুব বড়ো শিল্পী হবে। কিন্তু অঙ্কিতা যখন খুব ছোটো তখন একটা দুর্ঘটনায় সে তার হাতদুটো হারায়। খুব ছোটো ছিল অঙ্কিতা তখন। তাই হাত ছাড়াই সবকিছু করতে শিখে ফেলেছে এখন সে। একটা ভাই আছে অঙ্কিতার। তবে সে এখনও খুবই ছোটো, কিছুই করতে পারে না। সে মার সঙ্গেই লেপটে থাকে। অঙ্কিতা স্কুলে যায়, পড়াশোনা করে মন দিয়ে। বাবার স্বপ্নের কথা সে জানে। তাই নিজে-নিজেই পা আর মুখ দিয়ে পেনসিল, তুলি ইত্যাদি ধরে ধরে আঁকতে শিখেছে সে।
সুবীরবাবু একদিন অঙ্কিতার আঁকা দেখে বললেন, “শোনো তারাপদ, তোমার মেয়ের কিন্তু সত্যি প্রতিভা আছে। ওকে অলোক সামন্তর আঁকার স্কুলে ভর্তি করে দাও। নিজে নিজে যতটা ভালো করা যায় ও করছে, কিন্তু এবার ওর কিছুটা প্রশিক্ষণ দরকার।”
সেই নাম শুনে তো তারাপদর মাথায় হাত। অলোক সামন্তর সঙ্গে ওর ঝগড়ার কথা সবাই জানে। অলোক সামন্ত ওদের এলাকার সবচাইতে ভালো শিল্পী। চারদিকে বেশ নামডাক। সেই নামডাকের জন্যেই মনে হয় তিনি তারাপদর কাছে বেশ কয়েকটা তুলি নিতে চেয়েছিলেন বিনা পয়সায়। বলেছিলেন, “আমাকে তুলি দিলে তোর তুলির বিজ্ঞাপন হবে। তাই আমার কাছে তুলির জন্যে পয়সা চাওয়া তোর মানায় না।”
তারাপদ বলেছিল, “পারব না, স্যার। প্রতিটা তুলির পিছনে আমাকে অনেক সময় দিতে হয়। ভালো তুলি তৈরি করার জন্যে মাল আনতে হয় দূর দূর থেকে। সেই জিনিস আমি বিনি পয়সায় দিতে পারব না। আমার পরিশ্রমের দাম যদি আমি ছেড়েও দিই, অন্তত জিনিসের দামটা তো আমাকে তুলতেই হবে। তাছাড়া আজ আপনি চাইছেন, কাল অন্য কোনও বড়ো শিল্পী এসে চাইবে। তাহলে তো আমাকে সব তুলি বিনা পয়সাতেই বিলি করে দিতে হবে!”
অলোক সামন্ত হেসেছিলেন। “থাক তুই তোর জেদ নিয়ে। তোর ওই তুলি তৈরির কাজ কিছুদিন পর আর থাকবে না। মেশিন দিয়েই এখন যা সব তুলি তৈরি হচ্ছে তা বলবার নয়। আর দামও কম। তোর ওই ব্যাবসা লাটে উঠবে।”
তারাপদ মাথা নিচু করে বলেছিল, “সে তো হতেই পারে। তবে এখনও পর্যন্ত আমার তুলি পড়ে থাকে না কখনও। সবই বিক্রি হয়ে যায়। অনেকদূর থেকেও লোকে এসে আমার তৈরি করা তুলি কিনে নিয়ে যায়। তবে কে কত ভালো আঁকে সেই দেখে আমি তুলি বিক্রি করি না। আপনি কিনবেন কী কিনবেন না সেটা আপনার ইচ্ছে।”
অলোক সামন্ত তাতে খুব রেগে যান এবং তারাপদর কাছ থেকে কোনওদিন তুলি কেনেননি আর। তাই সুবীর স্যারের কথা শুনে তারাপদ কাঁদো কাঁদো স্বরে বলল, “আমার মেয়েকে শেখাতে কি উনি রাজি হবেন? তাছাড়া ওর তো হাত নেই! ও তো পা আর মুখ দিয়ে আঁকে!”
সুবীর স্যার শুনে বলেছিলেন, “আমার সঙ্গে অলোকের পরিচয় আছে কিছুটা। আমি ওর সঙ্গে কথা বলব।”
সত্যি সত্যি পরেরদিন সুবীর স্যার অলোক সামন্তর সঙ্গে কথা বললেন। অলোক সামন্ত শুনে বললেন, “আমার ঝগড়া তারাপদর সঙ্গে। ওর মেয়ে যদি আমার কাছে আঁকা শিখতে আসে তাতে আমার আপত্তি নেই। কিন্তু আমি প্রথমে ওর আঁকা ছবি দেখতে চাই। আমি যদি দেখি ওর মধ্যে প্রতিভা আছে তাহলেই ওকে শেখাতে নেব, না হলে নয়।”
সুবীর স্যারের সঙ্গে করে অঙ্কিতা গেল অলোক সামন্তর বাড়ি। সঙ্গে ছিল ওর আঁকা বেশ কিছু ছবি। খুব ভয় ছিল ওর মনে। বুকের মধ্যে ধুকপুকুনি। কী জানি কী বলবেন উনি ওর আঁকা দেখে। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে ওর আঁকা দেখলেন অলোক সামন্ত। তারপর বললেন, “ঠিক আছে। তুমি কাল থেকে এসো আঁকা শিখতে। আমার কাছে যারা আঁকা শেখে তারা সবাই আমাকে গুরুদেব বলে ডাকে। তুমিও তাই বলবে।”
ভীষণ খুশি হল অঙ্কিতা। লাফাতে লাফাতে বাড়ি ফিরে এসে সে মা-বাবাকে সব গল্প বলল। আর সেই গল্প শুনে অঙ্কিতার  চেয়েও বেশি খুশি হল তারাপদ। মেয়ের জন্যে সে বেশ কয়েকটা নতুন তুলি বানিয়ে দিল। অঙ্কিতা মুখ আর পা দিয়ে আঁকে বলে ওর ব্যবহারের তুলিগুলো স্বাভাবিক হাতে আঁকার তুলিগুলোর চেয়ে কিছুটা বেশি লম্বা। তাতে ওর আঁকতে সুবিধা হয়। প্রতিটা তুলিতে অঙ্কিতার নাম খোদাই করে দিল তারাপদ।
তারপর থেকে শুরু হল অঙ্কিতার আঁকা শেখার পালা। নিজের পরিশ্রম আর অধ্যাবসায়ের জোরে অল্প দিনেই অনেক উন্নতি করে ফেলল অঙ্কিতা এবং সেই জন্যেই গুরুদেবের সবচেয়ে প্রিয় শিষ্য সম্পদের কুনজরে পড়ে গেল সে। আর যেদিন গুরুদেব ঘোষণা করলেন যে এবারে শহরে গিয়ে আঁকার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে সম্পদ আর অঙ্কিতা, সেদিন থেকেই নানারকম গোলমাল হতে শুরু করল। অঙ্কিতার সদ্য আঁকা ছবিটায় জল পড়ে গেল, ওর আঁকার খাতা হারিয়ে গেল, তারপর প্রতিযোগিতার আগের দিন অঙ্কিতা দেখল যে ও নিজের তুলির সেটটা আর খুঁজে পাচ্ছে না।
গুরুদেব বললেন, “সে কি অঙ্কিতা, তুমি আজ তুলি ছাড়াই আঁকতে চলে এসেছ?”
অঙ্কিতা মাথা নেড়ে বলল, “না গুরুদেব, আমি তুলির সেট এনেছিলাম। কিন্তু এখন আর খুঁজে পাচ্ছি না!”
“এনেছিলে যখন তখন কোথায় গেল তুলিগুলো?”
অঙ্কিতা সম্পদের দিকে তাকিয়ে দেখল সে মুখ টিপে হাসছে। তাই দেখে সাহস করে অঙ্কিতা বলল, “আমার মনে হয় সম্পদ আমার তুলিগুলোকে কোথাও লুকিয়ে রেখেছে, গুরুদেব!”
ব্যস। সেই কথা শুনেই গুরুদেব ভয়ংকর রেগে গিয়ে বললেন, “ওই কথা তুমি কী করে বলতে পারলে? তুমি কি সম্পদকে তুলি নিতে দেখেছ?”
লজ্জিত মুখে মাথা নাড়ল অঙ্কিতা।
“তাহলে?”
“ও যে হাসছিল, তাই আমার মনে হল।”
“হাসছিল মানে তো এই নয় যে ও তোমার তুলি সরিয়েছে! আমি সম্পদকে জিজ্ঞেস করে দেখছি। সম্পদ, তুমি অঙ্কিতার তুলি নিয়েছ?”
“না, গুরুদেব!”
“তাহলে তুমি হাসছিলে কেন?”
“ও, সে তো জগাই মুখভঙ্গী করছিল, তাই!”
“ঠিক আছে। আঁকা শিখতে এসে ওসব করবে না। আমার খুব অপছন্দ। অঙ্কিতা, তুমি তাহলে আজ বাড়ি যাও। তুলি ছাড়া তো কিছু হবে না।”
মনখারাপ করে অঙ্কিতা বাড়ির দিকে চলল। বাড়ি ফিরে তন্নতন্ন করে খুঁজেও কোথাও তুলিগুলোকে খুঁজে পেল না। সে তো জানত পাবে না কারণ, তুলিগুলোকে তো সে আঁকার ক্লাসে নিয়ে গিয়েছিল।
একটু পরে প্রমিলা, জগাই আর নারায়ণ এসে হাজির। তারাও অঙ্কিতার সঙ্গে আঁকা শেখে। ওরা বলল, “এই দেখ অঙ্কিতা, আমরা এটা রাস্তার ধারে পেয়েছি।”
অঙ্কিতা তাকিয়ে দেখল, ওর তুলির ভাঙা একটা টুকরো। তাতে অঙ্কিতা নামটার অর্ধেকটা এখনও বোঝা যাচ্ছে। কে যেন জোর করে ভেঙে দিয়েছে। মনের দুঃখে কাঁদতে শুরু করে দিল অঙ্কিতা। গুরুদেবকে বলে লাভ নেই কারণ, উনি বলবেন প্রমাণ ছাড়া কাউকে শাস্তি দেওয়া যাবে না। কিন্তু অঙ্কিতা তো জানে কার কাজ ওটা।
বাবাকে অঙ্কিতা বলল, “বাবা, আমার তুলিগুলো হারিয়ে গেছে আর কালকে আঁকার প্রতিযোগিতা। আমি কী করব?”
তারাপদর তো মাথায় হাত। একেকটা তুলি বানাতে তো অনেক সময় লাগে। একদিনে এতরকমের তুলি বানানো তো মোটেই সম্ভব নয়। তাছাড়া এগুলো তো সাধারণ তুলি নয়, কিছুটা বেশি লম্বা যাতে পা বা মুখ দিয়ে আঁকা যায়।
অঙ্কিতা তো মনের দুঃখে কেঁদে ফেলল। অনেক ভেবে তারাপদ বলল, “এক সেট তুলি আছে বটে আমার কাছে, কিন্তু সেটা একজন অর্ডার দিয়েছিল। ওটা আজ বিকেলে দেওয়ার কথা। ওদের বলি আমি তৈরি করতে পারিনি, আর টাকা ফেরত দিয়ে দিই। তারপর যা হয় হবে। আমার বদনাম হবে কিছুটা, তা হোক। ওটা দিয়ে কালকে আঁকতে তো পারবি।”
অঙ্কিতা নিতে চাইছিল না। কিন্তু বাবা-মা দু’জনেই জোর দিল। ওদের অনেকদিনের শখ অঙ্কিতা শহরের আঁকার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে। কী আর করবে অঙ্কিতা। ওই তুলিগুলোকেই নিয়ে আঁকা প্র্যাকটিস করল।
সেদিন বিকেলে যার তুলিগুলো নিয়ে যাওয়ার কথা সে এসে হাজির। বাবা তাকে বলল যে তুলি তৈরি হয়নি, আরও কিছুদিন সময় লাগবে। তাতে সে খুব রেগে গিয়ে খানিক চেঁচামেচি করল। কিন্তু কোনও ফল হচ্ছে না দেখে শেষমেশ চলে গেল। তারাপদ অবশ্য যে টাকা অগ্রিম নিয়েছিল সেটা ফিরিয়ে দিল।
পরদিন তারাপদ মেয়েকে নিয়ে গেল শহরে আঁকার প্রতিযোগিতায়। আঁকা প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার আগে বেশ কিছু বক্তৃতা ইত্যাদি হচ্ছিল। সেই সময় অঙ্কিতা চারদিকে তাকিয়ে সম্পদকে কোথাও দেখতে পেল না। সে মনে মনে ভাবল হয়তো পরে আসবে।
প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার জন্যে কাগজ বিতরণ হতে লাগল, কিন্তু তখনও সম্পদের দেখা নেই। তারপর গুরুদেবকে দেখতে পেয়ে তাঁকেই জিজ্ঞেস করল সম্পদের কথা। উনি শুধু বললেন, “সম্পদের শরীর ভালো নেই, তাই সে আসতে পারেনি।”
নিজের সব ক্ষমতাটুকু উজাড় করে দিয়ে আঁকল অঙ্কিতা। ওর জীবনের আঁকা শ্রেষ্ট ছবি।
সময় শেষ হতে সব ছবি জমা নিয়ে নেওয়া হল। তারপর শুরু হল অপেক্ষা। ইতিমধ্যে নাচ-গান ইত্যাদি করছিল কিছু ছেলেমেয়েরা, অঙ্কিতা সেই সবই দেখছিল।
অবশেষে এক ভদ্রলোক মঞ্চে উঠলেন বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করতে। তাঁকে চিনত না অঙ্কিতা। উনি স্টেজে উঠে বললেন, “নমস্কার। আপনারা আমাকে চিনবেন না। আমার নাম সাত্যকি বোস। আমি কে সেটা বলতে গেলে আর্নালফ এরিক স্টেগম্যানের কথা কছুটা বলতে হবে। আপনাদের মধ্যে কেউই মনে হয় আর্নালফ এরিক স্টেগম্যানের নাম শোনেননি। স্টেগম্যানের জন্ম ১৯১২ সালে জার্মানিতে। মাত্র দু’বছর বয়সে ভয়ংকর পোলিয়ো রোগে আক্রান্ত হয়ে নিজের দুটি হাত খুইয়ে ফেলেন স্টেগম্যান। কিন্তু তাতে কী হবে? শিল্পীর প্রতিভাকে তো আর দমিয়ে রাখা যায় না। মুখে তুলি ধরে দুর্ধর্ষ সব ছবি আঁকতে শুরু করেন তিনি। ১৯৫৩ সালে তিনিই প্রথম সৃষ্টি করেন ‘লজ অফ মাউথ অ্যান্ড ফুট পেইন্টিং আর্টিস্ট’ সংস্থার। পরে সেটাই ‘অ্যাসোসিয়েশন অফ মাউথ অ্যান্ড ফুট পেইন্টিং আর্টিস্টস’ নামে গড়ে ওঠে। আমি সেই সংস্থার একজন অধ্যক্ষ। আমাদের সংস্থার কাজই হল পৃথিবীর যেখানে যারা মুখ এবং পা দিয়ে আঁকছে তাদের সবাইকে স্কলারশিপ দেওয়া, তাদের আঁকাগুলোকে বিক্রির ব্যবস্থা করা। সেই সংস্থার তরফ থেকেই আমি আজ ঘোষণা করছি যে অঙ্কিতা কর্মকারকে আজকের প্রতি্যোগিতায় প্রথম পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে এখন থেকে কলেজে পড়া পর্যন্ত ওর পড়াশোনার সব খরচ আমাদের সংস্থা দেবে। এছাড়া ও যাঁর কাছে আঁকা শিখতে চায় তাঁর কাছেই শিখতে পারবে, সেই খরচও আমরা বহন করব। আরেকটা ভালো খবর হল আজকের প্রতিযোগিতার প্রথম পাঁচজনের আঁকা ছবিকেই আমাদের তৈরি কার্ডে ব্যবহার করা হবে।”
সেই কথা শুনে তারাপদ মেয়েকে জড়িয়ে ধরল। ওর চোখে জল।
সবশেষে সুবীর স্যার ধন্যবাদ জ্ঞাপনের জন্যে মঞ্চে উঠে বললেন, “অঙ্কিতার গর্বে আমরা সবাই আজ গর্বিত। অথচ গতকালও অঙ্কিতা জানত না সে এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারবে কি না। কারণ, ওর তুলি হারিয়ে গিয়েছিল। ওর তুলি তো আর সাধারণ তুলি নয় যে যেখানে সেখানে পেয়ে যাবে, ওগুলো অনেকটাই আলাদা। তবে এটা বলে রাখি, ওর তুলি চুরি করে নিয়ে নষ্ট করে দেওয়ার কাজটা যে করেছিল তাকে ওদের আঁকার স্কুলে কোনও শাস্তি দেওয়া হয়নি বলেই ভগবান তাকে শাস্তি দিয়েছেন। পড়ে গিয়ে ডানহাত ভেঙে গেছে তার, তাই সে আজকে আসতে পারেনি ছবি আঁকতে। আমার মনে হয় ও যদি অঙ্কিতার তুলি চুরি করার গর্হিত কাজটা না করত তাহলে ওই শাস্তি ওকে পেতে হত না।”
সুবীর স্যারের কথায় হাততালিতে ফেটে পড়ল চারপাশ। অঙ্কিতার অবশ্য সেদিকে ভ্রূক্ষেপ নেই। সে অলোক সামন্তর কাছে গিয়ে ওঁকে প্রণাম করে বলল, “গুরুদেব, আপনার জন্যেই আমি আজ ওই ছবিটা আঁকতে পেরেছি। আপনার কাছেই আমি আঁকা শিখে যেতে চাই।”
ওর কথা শুনে অলোক সামন্ত ওকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। অঙ্কিতার গলায় ঝোলানো সোনার মেডেল কখন আলোয় ঝলমল করছে।


_____


অঙ্কনশিল্পীঃ পুষ্পেন মণ্ডল

No comments:

Post a Comment