অণুগল্পঃ ঘুড়িঃ বিভাবসু দে


এক যে ছিল রাজা। রাজার গায়ে মুকুট নাই, রাজবস্ত্র নাই, কোমরে তলোয়ারটাও নাই। রাজা বড়ো সাদাসিধে, বড়ো সাধারণ। একজোড়া আলখাল্লা আর দুইজোড়া রুটিতেই জীবনধারণ। রাজা নাকি জনকরাজার নাতির নাতি, তাই দরবারে বসেন কাঁধে থার্মোকলের লাঙল লয়ে। কাঠেরগুলা বেজায় ভারী। রাজা কুঁড়েঘরে থাকেন। লোকে দেখে ধন্যি মানে। শুধু কিছু নিন্দুকে কানে কানে কয়, “ছাউনিটা যে সোনার আর দেয়ালগুলো রুপোর!” যতসব মুখপোড়া, হিংসুটে, পাজি।
তা সেই রাজার রাজ্যে আজ এক হুলুস্থূল কাণ্ড। রাজা আজ পায়রা ওড়াবেন। ময়দান লোকে লোকারণ্য। গিজগিজ করছে পোকার মতো। মুহূর্মুহূ জয়ধ্বনি উঠছে, “জয় মহারাজের জয়!” এমন কাণ্ড কেউ কখনও দেখিনি। কাশ্মীর থেকে আনানো হয়েছে সাদা পায়রা, একেবারে দুধের ফেনার মতো সাদা। শান্তির দূত। রাজা পায়রা ওড়াবেন, সেই পায়রা উড়ে উড়ে যাবে দেশবিদেশে।
চারপাশ থেকে আরও জোরে ধ্বনি উঠল, “জয় মহারাজের জয়!”
রাজা এসে দাঁড়ালেন উঁচু মঞ্চে, সঙ্গে মন্ত্রী, সেনাপতি, অমাত্যদল। মন্ত্রীর হাতে ইয়াব্বড় খাঁচা। লোকে গলা উঁচিয়ে দেখল, খাঁচার ভেতর সোনার মাচা, তাতে পায়রা আছে সাচা!
রাজা আস্তে আস্তে পায়রাটাকে বের করলেন।
“জয় মহারাজের জয়!”
“যা পাখি, যা উড়ে; আমরা শান্তির দূত, বলিস ঘুরে ঘুরে।” রাজা পায়রার গায়ে হাত বুলিয়ে উড়িয়ে দিলেন আকাশে। ফরফর করে উড়তে উড়তে ওপরে উঠে গেল সেই ধবধবে সাদা পাখি।
“জয় মহারাজের জয়! জয় জয় মহারাজের জয়!” রাজার জয়জয়াকারে ফেটে পড়ল ময়দান। সবাই খুশি। সবাই পুলকিত। সবার রোমাঞ্চিত তনু-মন-প্রাণ, কম্পিত কলেবর, শিহরে পরাণ!
শুধু ব্যাটা পোড়ামুখো নিন্দুকটা ফিসফিসিয়ে বলল, “রাজার আলখাল্লার খোপে নাটাই কেন?”


_____

No comments:

Post a Comment