অণুগল্পঃ নীল আকাশঃ বনশ্রী মিত্র


গভীর জঙ্গলের মধ্যে একটা চিতাবাঘ ধেয়ে আসছে। পালাতে গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়ল নীল। কিছুতেই উঠতে পারছে না সে। বুকের ওপর ভর দিয়ে চেষ্টা করছে এগিয়ে যাওয়ার। কিন্তু চিতাবাঘটা একদম ওর সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। চোখদুটো জ্বলজ্বল করছে।
সারা শরীর ঘামে ভেসে যাচ্ছে নীলের। গোঁ গোঁ শব্দে সিলিং ফ্যানটা একটানা ঘুরে চলেছে। বিছানার পাশে নুড়ি ঘেউ ঘেউ করে উঠতেই নীলের ঘুম ভেঙে গেল। জানালার সামনে গিয়ে  দাঁড়াল সে। শরীরটা আনচান করছে তার।
একটা রিক্সা গেটের বাইরে এসে থামল। বাবা না?
“মা! মা! বাবা টিভি কিনে এনেছে!” উত্তেজনায় চিৎকার করে ওঠে নীল।
পরের সপ্তাহে ওয়ার্ল্ড কাপ শুরু হচ্ছে। অনেকদিন ধরেই নতুন টেলিভিশনের বায়না ধরেছিল নীল।
“আচ্ছা বাবা, চিতাবাঘ অনেক জোরে দৌড়োয়। তাই না?” রাতে খেতে বসে নীল বাবাকে প্রশ্ন করে।
ছেলের প্রশ্নে সুকুমার হালদার খানিকক্ষণ চুপ করে থেকে বলেন, “হ্যাঁ, অনেক জোরে। তবে তোমাকে আমি একজন অ্যাথলিটের গল্প বলি শোনো। আর্টিফিশিয়াল লিম্ব নিয়ে তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় দৌড়োন। কী করে পারেন বলো তো? মনের জোর নিয়ে। ইচ্ছে থাকলে সব পারা যায়।”
সেদিন রাতে ঘুম আসে না নীলের। চোখের সামনে সে দেখতে পায় জঙ্গলে কাঁটা গাছ সরিয়ে একজন মানুষ খুব জোরে দৌড়োচ্ছে। তার চোখদুটো জ্বলছে, যেন চিতাবাঘ! তার নিজের পা নেই। আর্টিফিশিয়াল লিম্ব নিয়ে সে দৌড়োচ্ছে। মুখটা খুব চেনা চেনা লাগছে। এ কি! সে মানুষটা তো নীল! অন্য কেউ নয়। নীল বড়ো হয়ে গেছে। অনেক বড়ো। জঙ্গলের ওপাশ থেকে নীলের বাবা চিৎকার করছেন, “সাবাশ নীল! সাবাশ!”
আস্তে আস্তে চোখে ঘুম নেমে আসে নীলের। খাটের গায়ে নীলের ক্রাচদুটোর পাশে নুড়িও ঘুমিয়ে পড়ে। বাইরে সকাল হয়ে গেছে। নীল আকাশে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি ডানা মেলেছে।


_____

No comments:

Post a Comment