অণুগল্পঃ মাইন্ড চেঞ্জারঃ সুদীপ চ্যাটার্জী



“হাত-পা ছুড়ো না তিন্নি, টিভি চলবে না। খেয়ে নাও।”
মায়ের কথা পাত্তাই দিল না তিন্নি। স্কুল থেকে ফিরে ডোরেমন না দেখলে মাথা গরম হয়ে যায় তার। ভারী ব্যাগটা খামচে মায়ের দিকে ছুড়ে তিন্নি তার কান্নার সুর সপ্তমে চড়িয়ে দিল। কিছুতেই সে খাবে না।
অদিতি অনেক চেষ্টা করেও মেয়েকে চুপ করতে পারলেন না। বিরক্ত হয়ে শেষে চলে আসার আগে বললেন, “যা খুশি কর।”
গজগজ করতে করতে অদিতি বেরিয়ে এলেন। এই এক ডোরেমন হয়েছে। সারাদিন চলছে। কী যে ছাইপাঁশ দেখায়। রেগেমেগে তিনি আজ চ্যানেলটাই ব্লক করে দিয়েছেন।
তিন্নি ততক্ষণে কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়েছে। ঘুমের মধ্যে সে দেখল ডোরেমন এসে বসেছে তার পাশে। সঙ্গে ভীতু চশমা পরা নোবিতা, বদমাশ সুনিও, মোটকা জিয়ান আর মিষ্টি মেয়ে সুজুকা। ভালো ছেলে দেকিসুকিও আছে।
ডোরেমন জিজ্ঞেস করল, “কাঁদছ কেন, তিন্নি?”
তিন্নি বলল, “দেখো না, মা আমাকে তোমাদের দেখতে দিচ্ছে না। টিভি বন্ধ করে দিচ্ছে।”
“কেন?” সুজুকা বলল।
“ডোরেমন নাকি বাজে গল্প। কী করি বলো?”
কিছুক্ষণ ভেবে ডোরেমন লাফিয়ে উঠে বলল, “আইডিয়া!” তারপর পেটের ভিতর থেকে একটা জিনিস বের করে বলল, “মাইন্ড চেঞ্জার। এর ভিতর তোমার একটা চুল দিতে হবে। ব্যাম্বু-কপ্টার করে উড়ে ঘুমন্ত মায়ের মাথায় লাগিয়ে দিলেই তার মন বদলে তোমার মতো হয়ে যাবে। তারপর দেখবে মজা।”
সেই হল। তিন্নির চুল নিয়ে সকলে উড়ে গিয়ে অদিতির মাথায় লাগিয়ে এল মাইন্ড চেঞ্জার যন্ত্র।
অদিতি ততক্ষণে কাজকর্ম সেরে ‘বাজে তোমার আলোর বেণু’ দেখতে বসেছেন। রোজ না দেখলে তাঁর দিনটা অসমাপ্ত রয়ে যায়। এমন সময় মাথায় কী যেন পোকা নড়ে উঠল, তিনি সোজা হাঙ্গামা টিভি লাগিয়ে দিয়ে ডোরেমন দেখতে শুরু করলেন। জাপানের শহর, পুঁচকে নোবিতার কাছে ভবিষ্যৎ থেকে একটা বেড়ালের রোবট এসেছে তাকে পড়াশুনা করতে সাহায্য করতে। কিন্তু তার জাদুযন্ত্র ব্যবহার করে নানা দুষ্টুমি করে ছেলেটা। পরে ডোরেমনকে তাকে উদ্ধার করতে হয়। দেখতে দেখতে অদিতির মুখে হাসি ফুটে উঠল। ছোটো মেয়ের মতো হিহি করে হেসে গড়াগড়ি দিতে লাগলেন।
হাসির শব্দ শুনে তিন্নির ঘুম ভেঙে গেল। বাইরে এসে সে দেখল, মা ডোরেমন দেখছে আর হাসছে। অদিতি বললেন, “দেখ কী করছে মোটকা জিয়ান।”
তিন্নি মায়ের আঁচল ধরে নাচতে নাচতে বলল, “থ্যাঙ্ক ইউ ডোরেমন!”


_____

No comments:

Post a Comment