বইকথাঃ চাঁদের পাহাড়ঃ অমৃতা বিশ্বাস সরকার




চাঁদের পাহাড়
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

গল্প পড়তে কার না ভালো লাগে বলো। আবার সেটা যদি হয় টানটান রোমাঞ্চ আর উত্তেজনায় ভরা ,তাহলে তো কোনও কথাই হবে না। আমি বরাবরেরই বই হ্যাংলা। লোভনীয় খাবার দেখলে যতটা না অস্থির হই ,ভালো বই দেখলে আমি তার থেকে অনেক বেশি এক্সাইটেড হয়ে পড়ি।

এখন আমি  তোমাদের  বলব আমার অন্যতম প্রিয় একটি বইয়ের কথা। আমি নিশ্চিত অনেকের কাছেই বইটি খুব প্রিয়। বইটি হল বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত রোমাঞ্চকর বাংলা উপন্যাস 'চাঁদের পাহাড়'।

চাঁদের পাহাড় বইটি এমন একটি বই যা সব বয়সের পাঠকের কাছেই সমান আকর্ষণীয়। পরবর্তীকালে এর গল্প অবলম্বনে সিনেমা তৈরি হলেও বই পড়ার আনন্দকে ম্লান করতে পারেনি। বইটা পড়তে পড়তে এতটাই একাত্ম হয়ে যাই যে, মনে হয় আমিও যেন গল্পের নায়ক শঙ্করের সাথেই হেঁটে চলেছি কাহিনির পথে।

উপন্যাসের গল্প বাংলার এক অজ পাড়াগাঁয়ের ছেলে শঙ্করের দক্ষিণ আফ্রিকা জয়ের গল্পকে অবলম্বন করে আবর্তিত। উপন্যাসের চরিত্রগুলি সব কাল্পনিক। তবে ভৌগোলিক অবস্থান বর্ণনার জন্য রচনাকার কয়েকজন প্রসিদ্ধ ভ্রমণকারীর পুস্তকের সহযোগিতা নিয়েছিলেন।

শঙ্কর সবে এফ.এ পাশ দিয়েছে, অমনি বাবার অসুস্থতার জন্য মা পীড়াপীড়ি শুরু করেছে পাটের কলে কাজ করার জন্য। কিন্তু শঙ্করের মতো ছেলে যে কিনা সাঁতার, বক্সিং, ফুটবলে পটু সে হবে শেষে পাটকলের বাবু! শঙ্করের আরেকটা গুণ ছিল যত রাজ্যের ম্যাপ ঘাঁটা আর বড়ো বড়ো ভূগোলের বই পড়া। একটা জায়গা ওর খুব মোহময় লাগত। সেটা হল আফ্রিকার একটা বড়ো পর্বত 'মাউন্টে‌ন অফ দ্য মুন'। সে প্রায়ই স্বপ্ন দেখত অজানা অভিযানের। তারপর একদিন সত্যিই সুযোগ এল পাড়াতুতো দিদি ননীবালার পূর্ব আফ্রিকা নিবাসী স্বামীর হাত ধরে। শুরু হল শঙ্করের অভিযান। এরপর কাহিনি যত এগিয়েছে, রোমাঞ্চ আর শিহরণ ততই জেগেছে। মানুষখেকো সিংহ, ব্ল্যাক মাম্বা, আলভারেজের সংস্পর্শ সব মিলিয়ে অনবদ্য বর্ণনা।

বইটি যতবার পড়ি, সাধ যেন মেটে না। আশা রাখি এই বইটি তোমরা পড়বে আর সাহিত্য-রস আস্বাদন করবে। দেখবে ভিডিও গেমের যুগেও বইয়ের পাতার গন্ধ কেমন মিষ্টি লাগে; একটা বইও মুহূর্তের মধ্যে কেমন পৌঁছে দিতে পারে মন ভালো করা এক রোমাঞ্চের দুনিয়ার, যার পরিপূরক আর কিছুই হতে পারে না।
____

No comments:

Post a Comment