অণুগল্পঃ রূপকথায় রবি ঠাকুরঃ রূপসা ব্যানার্জী


রূপসা ব্যানার্জী

স্কুল থেকে ফিরেই হৈ-চৈ বাধিয়ে দিল ক্লাস ফোরের রনি আর ক্লাস টু-এর রিয়া। “কী মজা! কাল স্কুল ছুটি!”
ঠাম্মি একটু হেসে জিজ্ঞেস করলেন, “কেন ছুটি, তা জানিস কি?”
“হ্যাঁ-অ্যা-অ্যা।” মাথা দুলিয়ে রিয়া বলে উঠল, “কাল গ্রেট পোয়েট রবীন্দ্রনাথের বার্থডে।”
ঠাম্মি আবার হাসেন, “শুধু পোয়েট? আর কিছু না?”
“উনি নোবেল প্রাইজ পেয়েছিলেন। আমার জি.কে বইতে আছে।” বেশ বিজ্ঞের মতো বলে উঠল রনি।
“সে তো বুঝলাম, কিন্তু তিনি যে কবিতা ছাড়াও কত গল্প লিখেছেন, গান লিখেছেন জানিস?” ঠাম্মি তাকালেন রনির দিকে।
“সে হয়তো লিখেছেন, কিন্তু বাবা বলেছে ওসব লেখা এখন একদম ব্যাক-ডেটেড।”
রনির কথায় একটু গম্ভীর হয়ে গেলেন ঠাম্মি। তখনই ছটফট করে উঠল রিয়া। “ক’টা বাজে? তিনটের সময় ডিজনি চ্যানেলে রাপাঞ্জেল মুভি হবে।”
“এসব গল্প তো কতদিন আগে লেখা হয়েছে। তোদের ব্যাক-ডেটেড মনে হয় না?” ঠাম্মি এবার জিজ্ঞেস করেন রিয়াকে।
রিয়া ব্যাক-ডেটেড শব্দের মানে ঠিকমতো না বুঝেই বলল, “না তো! এই মুভিগুলো একদম ফ্যান্টাস্টিক লাগে।”
ঠাম্মি এবার বেশ রহস্যময় গলায় বলে উঠলেন, “জানিস তো? এই রাপাঞ্জেল রাজকন্যার জন্য রবি ঠাকুর কী সুন্দর একটা গান লিখে গেছেন!”
দুই ভাইবোন অবাক। রাপাঞ্জেলের জন্য রবীন্দ্রনাথের গান!
ঠাম্মি বললেন, “রাপাঞ্জেলকে তো বিশাল উঁচু টাওয়ারে বন্দী করে রেখেছিল ডাইনি হেলগা। বেচারি রাজকন্যা তখন মস্ত বড়ো চুল এলিয়ে গান গাইত। আর সেই গানটা হল, ‘ভেঙে মোর ঘরের চাবি নিয়ে যাবি কে আমারে? ও বন্ধু আমার…’।”
দুই ভাইবোন মন দিয়ে শুনতে থাকে ঠাম্মির গান। শেষ হবার পর দু’জনেই হাততালি দিয়ে ওঠে। রনি এবার ঠাম্মির কাছ ঘেঁষে বসে আদুরে গলায় বলে উঠল, “আর আমার ফেভারিট হিরোর জন্য গান লেখেননি রবি ঠাকুর?”
ঠাম্মি হাসিমুখে বললেন, “তোর ফেভারিট তো সেই সিংহটা। কী নাম যেন... সিম্বা! হ্যাঁ হ্যাঁ, ওর জন্যও গান আছে। সেই যে দুষ্টু সিংহ স্কার সিম্বার বাবাকে মেরে ওদের রাজ্য কেড়ে নিয়ে সিম্বাকে তাড়িয়ে দিল; তারপর তো অনেকদিন বাদে বড়ো হয়ে আবার ফিরে এল সিম্বা। কাকা স্কারের দিকে তাকিয়ে চোখ পাকিয়ে দাঁত খিঁচিয়ে সে গেয়ে উঠল, ‘বিধির বাঁধন কাটবে তুমি এমন শক্তিমান, তুমি কি এমনি শক্তিমান / আমাদের ভাঙাগড়া তোমার হাতে এমন অভিমান তোমাদের এমনি অভিমান…’।”
রনি আর রিয়া পুরো গানের মানে না বুঝলেও আসল কথাটা ঠিকই বুঝে নিল। ঠাম্মি বললেন, “এবার তোরা হাতমুখ ধুয়ে নে। পরে আবার অন্য চরিত্রদের নিয়ে গান শোনাব। দুটো গান গেয়ে একদম হাঁপিয়ে গেছি। এই বয়সে পারি নাকি অত!”
দু’পাশ থেকে তাঁকে জড়িয়ে ধরে দুই নাতি-নাতনি বলে উঠল, “আমাদের শিখিয়ে দিও। আমরা শোনাব তোমায় রবি ঠাকুরের গান।”

_____

No comments:

Post a Comment