গল্পঃ কাকতাড়ুয়াঃ কৃষ্ণেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়


গগনবিহারী পাকড়াশী। নামটা শুনলেই এখনকার যেকোন লোকের ভুরু কুঁচকে ওঠে। কোন আদ্যিকালের নাম। আজ থেকে অন্তত দু-চারশো বছর আগেই এ-নাম বিলুপ্ত হয়ে গেছে। নেহাত গগনের দিদিমা সেই প্রাচীনযুগের মোহ ভুলতে পারেন না, তাই নাতির অমন একখানা নাম রেখেছিলেন।
তবে নামটা সেকেলে বটে, কাজে কিন্তু গগনবিহারী মস্ত লোক। দুঁদে ব্যারিস্টার। এই সৌরজগতের যে ক’টা গ্রহে আর উপগ্রহে মানুষের উপনিবেশ গড়ে উঠেছে, তার প্রায় সমস্ত কোর্টে আর এজলাসেই গগনবিহারীর দোর্দণ্ড প্রতাপ। তবে সেই প্রতাপ কি আর এমনি এমনি হয়েছে? বিভিন্ন গ্রহে উপগ্রহে বিদঘুটে আর অদ্ভুতুড়ে নানারকম মামলা জিতে তবে আজ গগনবিহারী এই জায়গায় এসে পৌঁছেছেন। আর সেসব মামলা কি একটা আধটা? কোথায় চাঁদের বুকে জাপানের কলোনিতে গিয়ে বলিভিয়া সরকার জোরজবরদস্তি করে একটা রেস্তোরাঁ খুলে বসেছে, তাই নিয়ে মামলা; কোথায় নেপচুনে একটা সেলুনের মালিকানা নিয়ে পেরু আর ব্রাজিলের দুই নাপিতের ঝগড়া; আবার এই তো সেদিন, শুক্রগ্রহের একটা পাহাড়ে আমেরিকা যে নতুন অবজারভেটরিটা বসিয়েছিল, সেখানে কোত্থেকে হঠাৎ একটা হনুমান ঢুকে পড়ে তার কলকব্জা দিয়েছে বিগড়ে, আর তাতে আমেরিকা সরকার মহাকাশ নিরাপত্তা কাউন্সিলে আরবের নামে রিপোর্ট করেছে যে, সেই হনুমানটা নাকি আসলে আরবেরই পাঠানো কোনও গুপ্ত রোবট-বোমা। ফলে আরব একটা মানহানির মামলা ঠুকে দিয়েছে আমেরিকার বিরুদ্ধে।
তা এসব মামলায় গগনবিহারীর অনায়াস দক্ষতা আছে। কী করে যেন তিনি অক্লেশে জিতে যান এসব মামলায়, আর ক্রমশই তাঁর নাম-যশ-খ্যাতি-প্রতিপত্তি আরও ছড়িয়ে পড়ে।
তবে এবারে বোধহয় গগনবিহারীর নাম-যশ আর অপ্রতিহত থাকবে না বলেই মনে হয়। কারণ, এইবারে গগন জোর ফাঁসান ফেঁসেছেন। গত চার মাস ধরে নাওয়া-খাওয়া তাঁর মাথায় উঠেছে। তিনটে পামটপে বারো হাজার মাইক্রো ফিল্ম আর বত্রিশ হাজার ফাইল ঘাঁটতে ঘাঁটতে তাঁর প্রাণান্ত অবস্থা। তবুও এত খাটাখাটনি করেও এখন পর্যন্ত গগন মামলার কোন কূলকিনারা খুঁজে পাচ্ছেন না।
এদিকে এই মামলার ক্লায়েন্ট আবার যে সে কেউ নয়, গগনের নিজের ভগ্নীপতি। ফলে বাড়ির অন্দরমহল থেকে প্রতিনিয়ত তাগাদায় গগন আর কোনওদিকে দেখার সময় পাচ্ছেন না। অথচ হাজার চেষ্টাতেও মামলার সমাধান হচ্ছে না। ফলে চাপ ক্রমাগত বাড়ছে, আর গগনবিহারীও তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উত্তেজিত হয়ে কখনও মাথার চুল ছিঁড়ছেন, কখনও নিজের মনে বিড়বিড় করছেন। মানে আধপাগল গোছের অবস্থা যাকে বলে।
কিন্তু এমন ঘটার কারণটা কী? আর গগনই বা এমন তেড়েফুঁড়ে লেগে পড়েছেন কেন?
ব্যাপারটা তাহলে খুলেই বলি।
অতিমানব দত্ত, মানে গগনের ভগ্নীপতি কয়েক বছর হল মঙ্গলে খানিকটা জমিজায়গা কিনে চাষবাস শুরু করেছেন। আর সেখানেই তাঁর পাঁচ বিঘের গম-ক্ষেতে কিছুদিন যাবত এক উপদ্রব শুরু হয়েছে। কীসে যেন এসে তাঁর ক্ষেতের সব গম খেয়ে চলে যাচ্ছে। সাধারণত পাখিতেই গম খায়। কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপার, এখানে কোনও পাখির টিকি, না টিকি নয়, ডানার পালকও দেখা যাচ্ছে না। অথচ গমের শীষ থেকে গম ঠিক উধাও হয়ে যাচ্ছে।
মাস খানেক এরকম চলার পর বাধ্য হয়ে অতিমানব একটা এজেন্সি থেকে সিকিউরিটি রাখার বন্দোবস্ত করলেন, এমনকি সিসিটিভিরও ব্যবস্থা করা হল। কিন্তু ফলাফল যে কে সেই। কোনও সমাধানই হল না।
আর ঠিক এমন সময় আসল ব্যাপারটা জানা গেল। অতিমানবের এক চিরশত্রু, যিনি থাকেন শনির বৃহত্তম চাঁদ টাইটানে, সেই মাতারা কাচুমাচুই নাকি কাণ্ডটা ঘটাচ্ছেন। আসলে বহুদিন ধরেই এই জাপানি ব্যবসায়ীর সঙ্গে অতিমানবের একটা আদায় কাঁচকলায় সম্পর্ক। বহুবারই নানা ব্যাপারে তাঁদের দু’জনের টক্কর লেগেছে, এমনকি কোর্টেও দু’জনের মুখোমুখি দেখা হয়েছে বহুবার। কখনও অতিমানব জিতেছেন, কখনও মিঃ কাচুমাচু। কিন্তু তাঁদের উৎসাহে ভাটা পড়েনি কখনও। বরং তারপর আরও বেশি উদ্যম নিয়ে দু’জনে একে অপরের বিপক্ষে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।
তা সেই বাদ-বিসংবাদ তো গত বছর খানেক ধরে মোটামুটি চুপচাপই ছিল। সকলেই ভাবছিল, বয়েস বাড়ছে তো, তাই এবার বুঝি দু’জনেই খানিকটা ঠাণ্ডা হচ্ছেন। ও হরি! এই গমক্ষেতের ব্যাপারটা যখন ঘটতে শুরু করল, আর অতিমানব কোনওদিকেই রহস্যের কোনও কূলকিনারা খুঁজে পাচ্ছেন না, এমন সময় একদিন হঠাৎ অতিমানবের কাছে বিশ্বস্ত সূত্রে খবর এল যে, এই গম উধাও রহস্যের পেছনে নাকি আসলে মিঃ কাচুমাচুর হাত রয়েছে। তিনিই অতিমানবের সর্বনাশ করার জন্যে কোনও এক অজানা প্রক্রিয়ায় এই চালটি চেলেছেন। আর সেই সঙ্গে অতিমানবকে ওপেন চ্যালেঞ্জও জানিয়েছেন যে, তিনি পারলে প্রমাণ করুন যে এর পেছনে মিঃ কাচুমাচুর হাত আছে।
ব্যস! আগুনে ঘৃতাহুতি। অতিমানব তো ক্ষেপেই উঠলেন প্রায়। নানাদিক থেকে নানারকম চেষ্টাচরিত্র করে অবশেষে একদিন গগনবিহারীর কাছে এসে কেঁদে পড়লেন। গোটা ইতিহাস খুলে বললেন তাঁকে। আর তার শেষে একটাই কথা, ‘ওহে ভায়া, আমি তো আর কোনও রাস্তা দেখতে পাচ্ছি না। এখন আমার মান-ইজ্জত রাখার ভার সবটাই তোমার ওপর। ওই কাচুমাচুর দফারফা না করা অবধি আমার তো বসতে খেতে শান্তি নেই ভায়া।’
সে আজ থেকে প্রায় চার মাস আগের কথা। সেদিন গগনবিহারী বেশ নিশ্চিন্তেই আশ্বস্ত করেছিলেন তাঁর ভগ্নীপতিকে। আসলে নিজের ওপর কনফিডেন্স ছিল তো। কিন্তু সেই কনফিডেন্স বুঝি আজ ধুলোয় লুটিয়ে যায়। গগনের মতো দুঁদে ব্যারিস্টারও ঘোল খেতে বসেছেন। কিছুতেই কিছু করা যাচ্ছে না। কাচুমাচুকে পাকড়ানো তো দূরের কথা, রহস্যটারই ল্যাজামুড়ো কিছু খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি। শুধু একটা ব্যাপারেই নিশ্চিত হতে পেরেছেন। ওই গমের শীষ নিয়ে ল্যাবে পরীক্ষা করিয়ে তিনি জানতে পেরেছেন যে, পাখিতেই ওই গম খেয়ে যাচ্ছে রোজ। কিন্তু তা-ই বা হয় কী করে? পাখিগুলো আসছে কখন? আর কীভাবেই বা সকলের সতর্ক দৃষ্টির আড়ালে ঠিক নিয়ম করে প্রতিদিন গম খেয়ে যাচ্ছে?
ফলে এই অকূল অনন্ত রহস্যের সন্ধানে গগনবিহারীর চোখে ঘুম নেই। সারাদিন হাজার হাজার ফাইল ঘাঁটছেন আর কেবলই আকাশপাতাল ভেবে চলেছেন।
সেদিন সারা দুপুর সেরকমই পাহাড়প্রমাণ ফাইলপত্র ঘাঁটার পর বিকেলে গগনবিহারী ঠিক করলেন, নাহ্‌, আর নয়। বোঝাই যাচ্ছে এ রহস্যের সমাধান তাঁর দ্বারা হবার নয়। অতএব সোজাসুজি একাজ থেকে অব্যাহতি নেওয়াই ভালো। অতিমানব বরং পারলে কোনও স্পেস ডিটেকটিভের সাহায্য নিন। এই ভেবে তিনি বোনের বাড়ি যাবার জন্য প্রস্তুত হতে লাগলেন। ওরা খুব একটা দূরে থাকে না। এই তো কাছেই, ব্রাজিলের আমাজন নদীর অববাহিকায়। সেখানে অতিমানব কিছুদিন আগে একটা অ্যান্টি-গ্র্যাভিটি বাড়ি তৈরি করেছেন, সেখানেই থাকেন। গগন তৈরি হয়ে ছাদে গেলেন। তারপর চিলেকোঠা থেকে তাঁর এয়ারকারটা বার করে এনে তাতে চেপে বসলেন। গাড়িটা চলে রকেটের টেকনোলজিতে, পৌঁছতে ঘণ্টা খানেকের বেশি লাগবে না।
গগনবিহারী যখন অতিমানবের বাড়ির ছাদে গিয়ে নামলেন, ওখানে তখন সকাল সাড়ে আটটা। গগনের বোন আকাশলীনা ডিজিটাল কুকারে রান্না বসিয়েছে। ঘরে ঢুকতে ঢুকতেই সেই সুবাস গগনের নাকে গেল। একবার “আহ্‌” বলে গগন ঘরে ঢুকেই দেখলেন, অতিমানব একটা ইজিচেয়ারে আধশোয়া অবস্থায় বসে। তাঁর মাথার ওপর ভেসে আছে একটা গোল যন্ত্র, আর তা থেকে চারটে তুলো লাগানো হাত বেরিয়ে অতিমানবের ঘাড়ে মাথায় বিলি কাটছে। অর্থাৎ অতিমানব এখন ম্যাসাজ নিচ্ছেন। আর পাশের টেবিলে নানারকম যন্ত্রপাতি ছড়িয়ে গগনের ভাগনি ফিকা পড়তে বসেছে। ওর ভালো নাম হল স্পেসিফিকা। সে এখন পড়ছে চুয়ান্ন স্তরে।
একটা চেয়ার টেনে অতিমানবের মুখোমুখি বসলেন গগনবিহারী। তারপর একথা সেকথা বলতে বলতে আসল কথায় এলেন। শুনেই তো হা হা করে উঠলেন অতিমানব। গগনের কোনও কথাই শুনতে চাইলেন না। গগন যতবারই বোঝানোর চেষ্টা করেন, অতিমানবের সেই এক কথা, “কী, বলছ কী ভায়া? ওটি হবে না। ওই কাচুমাচুকে জব্দ করতে আর কেউ পারবে না তুমি ছাড়া। কাজেই ওসব পালিয়ে যাবার ধান্দা ছেড়ে আদাজল খেয়ে লেগে পড়ো।”
মহা মুশকিল! অসহায়ের মতো এদিক ওদিক দেখতে গিয়ে হঠাৎ চোখ পড়ে যায় ভাগনির দিকে। ভাগনি দিব্যি আড়চোখে মামার দিকে চেয়ে চেয়ে ফিচেল হাসি হাসছে। তার মানে গগনের অবস্থাটা রীতিমতো তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করছে। দেখেই গগন চেয়ার থেকে উঠে ফিকার দিকে তেড়ে যাওয়ার মুহূর্তেই তার টেবিলের দিকে চোখ পড়ে যায় গগনের। ফিকার সামনের টেবিলে মনিটরে দিগন্তবিস্তৃত ফসলের জমি। ফুরফুরে হাওয়ায় দুলছে গাছের শীষগুলো। কিন্তু জমির মাঝে মাঝে অদ্ভুতুড়ে টাইপের ওগুলো কী?
কৌতূহলী গগন ফিকার দিকে হাঁ করে তাকিয়ে বললেন, “এটা কীসের ছবি রে? আর ঐগুলোই বা কী?” জিনিসটার দিকে আঙুল তুলে দেখালেন গগন।
ফিকা অবাক হয়ে বলল, “সে কি গো মামা! এগুলো তো কাকতাড়ুয়া। বিংশ শতাব্দীর জিনিস। সেই সময় জমির ফসল যাতে পাখিতে খেয়ে না নেয়, সেইজন্যে জমিতে রাখা হত। আমি তো এখন একটা প্রোজেক্ট করছি বিংশ শতাব্দীর কৃষিবিদ্যা নিয়ে, সেখানে…”
ব্যস, ফিকার বাকি কথাগুলো আর কিছুই কানে ঢুকল না গগনের, তিনি তখন একমনে সেই কাকতাড়ুয়ার ছবি আর তার পাশে লেখা তথ্যগুলো দেখতে ব্যস্ত। ছবিগুলো দেখতে দেখতেই কী যেন ভর করল তাঁর মাথায়। তড়াং করে লাফিয়ে উঠে অতিমানবকে বললেন, “দাদা, আমি এখন চললাম। তোমার মামলাটার নিষ্পত্তি এবার বোধহয় করেই ফেলব। চিন্তা কোরো না।”
অতিমানব হতভম্ব হয়ে বললেন, “সে কী ভায়া! দুপুরের লাঞ্চটা সেরে যাবে না?”
গগন দরজার বাইরে থেকে চেঁচিয়ে বললেন, “ভেবো না। কাচুমাচুর মুণ্ডপাত করে সেলিব্রেট করতে আসব’খন। লীনাকে তৈরি থাকতে বোলো।”


পরেরদিন সকালেই অতিমানবের গমের ক্ষেতের মাঝে মাঝে কয়েকটা অদ্ভুতুড়ে মূর্তি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেল। বিংশ শতাব্দীর কাকতাড়ুয়ার মতোই তাদের দেখতে, কিন্তু এগুলো সেই পুরাকালের মতো নিষ্প্রাণ নয়। গতকাল রাত্রেই গগনবিহারী তাঁর বৈজ্ঞানিক বন্ধু স্বয়ম্ভূ শর্মার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। সব কথা শুনে স্বয়ম্ভূ রাতের মধ্যেই তৈরি করে ফেলেছিলেন একটি কাকতাড়ুয়া রোবট। তারপর তা থেকে ক্লোন করে আরও গোটা দশেক একই রোবট তৈরি করা আর কতক্ষণের ব্যাপার?
কাকতাড়ুয়ার দল ক্ষেতের মধ্যে দাঁড়িয়ে রয়েছে। মাঝে মাঝে হাওয়ায় দুলছে তাদের গায়ের জামাকাপড়। সেই হাওয়া বয়ে যাচ্ছে ক্ষেতের ওপর দিয়ে। নুয়ে পড়ছে গাছগুলো। কিন্তু কী আশ্চর্য! আজ আর শীষ থেকে একটা গমের দানাও উধাও হয়ে যাচ্ছে না। এ যেন ম্যাজিকের মতো ব্যাপার।
সকাল থেকে দুপুর। তারপর দুপুর পেরিয়ে বিকেলের দিকে গড়াল সময়। এমন সময় মঙ্গলের আকাশে দেখা গেল একটা আকাশযান। গগনের এয়ারকারের মতোই দেখতে, তবে আরেকটু বড়োসড়ো। তা থেকে নেমে ক্ষেতের দিকে এগিয়ে এলেন একজন লোক। ছোট্টখাট্টো চেহারা, নাকমুখ থ্যাবড়া গোছের। ক্ষেতের পাশে এসে কিছুক্ষণ হতভম্বের মতো কাকতাড়ুয়াগুলোর দিকে তাকিয়ে রইলেন তিনি। আস্তে আস্তে তাঁর মুখচোখ কুঁচকে উঠল। ভীষণ একটা রাগে যেন থমথম করতে লাগলেন। যেন এক্ষুনি ধ্বংস করে ফেলবেন সবকিছু। পরক্ষণেই ক্ষেতের ভেতর দিয়ে দৌড়ে এলেন কাকতাড়ুয়াগুলোর দিকে। তারপর যেই না প্রথম কাকতাড়ুয়াটার দিকে হাত বাড়িয়েছেন, তার দু’পাশ থেকে দুটো কাকতাড়ুয়া এগিয়ে এল তার দিকে। মুখ থেকে ঢাকনা সরিয়ে তারা বলল, “মিঃ কাচুমাচু, স্পেস-পুলিশের তরফ থেকে আপনাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। আপনার খেলা শেষ।”
এক মুহূর্ত হতভম্বের মতো তাকিয়ে থেকেই তেড়ে উঠলেন মিঃ কাচুমাচু, “তার মানে? আমার অপরাধটা কী?”
সামনের দিকে গমের ক্ষেতটা খানিকটা ফাঁক হয়ে গেল। সেখান থেকে এবার গায়ের ধুলো ঝাড়তে ঝাড়তে বেরিয়ে এলেন গগন আর অতিমানব। গগন বললেন, “না না, আপনার তেমন কিছুই অপরাধ নেই। শুধুমাত্র নিজের গায়ের ঝাল মেটাবার জন্য অকারণে একজনের ক্ষতি করার চেষ্টা করেছেন, এটাই আপনার অপরাধ। ওই অদৃশ্য পাখিগুলো কোত্থেকে পেলেন জানি না, হয়তো কোনও বিজ্ঞানীকে দিয়ে তৈরি করিয়েছেন। তা যাই হোক, সেগুলো পাঠিয়ে দিনের পর দিন এই গমের ক্ষেতের সর্বনাশ করতে চেয়েছেন আপনি। কিন্তু অদৃশ্য হলেও সেগুলো পাখি, তাই চিরকালের নিয়মমতো তারা কাকতাড়ুয়াকে ভয় পায়। আজও পেয়েছে। তাই আজ তারা গমের ক্ষেতের কাছে এসেও ঢুকতে পারেনি, ফিরে গেছে। আমি জানতাম, আজ আপনার মিশন ফেল করবেই, আর তার কারণটা জানতে আপনি নিজে ছুটে আসবেন। সেই বুঝেই ফাঁদ পেতেছিলাম। আর শেষপর্যন্ত তাই হল। আপনি ধরা পড়ে গেলেন।”
অতিমানব হাততালি দিয়ে খিলখিল করে হেসে উঠে বললেন, “ঠিক হয়েছে। ঠিক হয়েছে। কেমন মজা! আর পেছনে লাগবে? এবার যাও, অন্য গ্যালাক্সিতে গিয়ে পচে মরো।”
মিঃ কাচুমাচুর গোলগোল চোখদুটো লাল হয়ে উঠেছিল। সেগুলো ঘূর্ণির মতো করে তিনি একবার গগনের দিকে, আর একবার অতিমানবের দিকে তাকাচ্ছিলেন। কিন্তু সেটা পাত্তা না দিয়ে শালা-ভগ্নীপতি দু’জনে হাত ধরাধরি করে ফিরে চললেন তাঁদের পৃথিবীর বাড়ির দিকে। গগনের খাওয়াটা পাওনা রয়েছে। সুতরাং আজ রাতের খাওয়াটা বোনের বাড়িতেই হবে।


_____


অঙ্কনশিল্পীঃ বিশ্বদীপ পাল

No comments:

Post a Comment