বিজ্ঞানের পাঠশালাঃ যা দেখি যা শুনি তারই উত্তর খুঁজিঃ কমলবিকাশ বন্দ্যোপাধ্যায়


পঞ্চম পর্ব


ডাবের জল কাপড়ে লাগলে দাগ ধরে যায় কেন?

ডাবের জল কার না প্রিয়। গরমে ডাবের জল পান করলে শরীর-মন চাঙা হয়ে ওঠে। কিন্তু জল পান করতে গিয়ে তা যদি জামাকাপড়ে লেগে যায় তো মেজাজ বিগড়ে যায়। তাই ডাবের জল পান করার সময় সাবধানে করতে হয়। তবে সত্যি কথা বলতে, ডাবের জলে কাপড়ে দাগ ধরে না। দাগ ধরার কারণ লোহার দা বা কাটারি যা দিয়ে ডাব কাটা হচ্ছে। ডাবের জলে সামান্য পরিমাণে ট্যানিক অ্যাসিড থাকে। ডাব কাটার সময় লোহার কাটারি যখন জলের সংস্পর্শে আসে তখন লোহা ও ট্যানিক অ্যাসিড এর মধ্যে একটা ছোট্ট রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে। তৈরি হয় কালো রঙের ‘ফেরোট্যানেট’ নামের এক যৌগ যা ডাবের জলে মিশে যায়। পরিমাণে সামান্য হওয়ায় ডাবের জলের মধ্যে এর উপস্থিতি চট করে বোঝা যায় না। এই ফেরোট্যানেট জামাকাপড়ে লাগলে তা কাপড়ের তন্তুকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে। ফলে দাগ ধরে যায়, সহজে উঠতে চায় না। লোহা ছাড়া অন্য কোনও পদার্থ দিয়ে তৈরি অস্ত্র দিয়ে ডাব কাটলে তার জল কাপড়ে লাগলেও দাগ ধরার সম্ভাবনা থাকে না।
কাঠ বা কয়লার উনুন ধরানোর সময় ধোঁয়া হয়, কিন্তু গ্যাসের উনুনে হয় না কেন?

কোনও কিছু পোড়ানোকে বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় বলে দহন। এই প্রক্রিয়ায় জ্বালানি বাতাসের অক্সিজেনের সঙ্গে তাপের সাহায্যে বিক্রিয়া করে। কাঠ, কয়লা, কেরোসিন, গ্যাস ইত্যাদি জ্বালানি যখন জ্বালানো হয় তখন তা থেকে যে গ্যাস বেরিয়ে আসে তা বাতাসের অক্সিজেনের সঙ্গে মিশে একটি সমসত্ব মিশ্রণ তৈরি করে। কঠিন বা তরল যেকোনও ধরনের জ্বালানিতে অগ্নিসংযোগ করলে সেখান থেকে নির্গত গ্যাসের একটি অংশ বাতাসের অক্সিজেনের সঙ্গে মিশে যে দাহ্য মিশ্রণ তৈরি করে, কিন্তু বাকি অংশ সৃষ্টি করে ধোঁয়া। গ্যাসীয় জ্বালানির ক্ষেত্রে যে দাহ্য মিশ্রণ তৈরি হয় তার সবটাই পুড়ে যায়। কোনও উদ্বৃত্ত গ্যাস পড়ে থাকে না। ফলে ধোঁয়া হয় না। তবে সেক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বাতাস বা অক্সিজেনের সরবরাহ থাকা দরকার। না হলে গ্যাসের কিছুটা অদাহ্য অংশ ধোঁয়া সৃষ্টি করবে। বাড়িতে ব্যবহৃত এল.পি.জি গ্যাসের বার্নারে যাতে পর্যাপ্ত বাতাস অর্থাৎ অক্সিজেনের সরবরাহ অব্যাহত থাকে তাই বার্নারের গায়ে কিছু ছিদ্র রাখা হয়।

ফোটানো জল পান করার সময় বিস্বাদ লাগে কেন?

যে জল আমরা পান করি তাতে সাধারণত অক্সিজেন ও কার্বন-ডাই-অক্সাইডের মতো গ্যাস এবং কিছু ক্যালসিয়াম বা ম্যাগনেসিয়ামের কার্বনেট ও সালফেট জাতীয় লবণ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। এছাড়াও লোহার যৌগ বা অন্য কোনও ধাতুর লবণও থাকতে পারে। এই উপাদানগুলির উপস্থিতির জন্যই জলে স্বাদ পাওয়া যায়। যদিও জলে খরতার কারণ এই লবণগুলিই।
জল ফোটালে দ্রবীভূত গ্যাস যেমন বেরিয়ে যায় তেমন লবণগুলি ভেঙে গিয়ে কার্বনেট ও হাইড্রোক্সাইডের যৌগ তৈরি হয়। লোহার যৌগেরও পরিবর্তন ঘটে। এই যৌগগুলি অদ্রাব্য হওয়ায় পাত্রের তলদেশে থিতিয়ে পড়ে। তাই ফোটানো জল পান করার আগে ছেঁকে নিতে হয়। ফলে জলে দ্রবীভূত অবস্থায় থাকা ঐ উপাদানগুলি জল থেকে বেরিয়ে যায়। সেই সঙ্গে জলের চেনা স্বাদও হারিয়ে যায়। জলের খরতা কমে যায়, পরিণত হয় মৃদু জলে।


সৌরকোষে সূর্যের আলো পড়লে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয় কীভাবে?

দৈনন্দিন জীবনের কাজকর্মের জন্য আমরা বর্তমানে যেসব উৎস থেকে শক্তি সংগ্রহ করে থাকি তা একদিন শেষ হয়ে যাবে। কয়লা শেষের পথে। প্রাকৃতিক তেল ও গ্যাসও অফুরন্ত নয়। এরপরে আমাদের নির্ভর করতে হবে জল, বায়ু ও সূর্যের উপর। এদের মধ্যে সূর্য থেকে যে শক্তি পাওয়া যাবে তা অফুরন্ত। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, একদিন আসবে যখন শক্তির জন্য আমাদের পুরোপুরি সূর্যের উপর নির্ভর করতে হবে। কিন্তু কীভাবে সূর্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে তা আমাদের জানা ছিল না। ১৯৫৪ সালে তিন বিজ্ঞানী কালভিন ফুবার (Calvin Fubber), জিরাল্ড পিয়ারসন (Gerald Pearson) এবং দারুল চাপিন (Daryl Chapin) এঁরা প্রথম এই পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। বেল ল্যাবরেটারিতে তাঁরা অতি উচ্চমানের সিলিকনের (high quality silicon) সাহায্যে সৌরকোষ তৈরি করতে সমর্থ হন। এই সৌরকোষের সাহায্যে সৌরশক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। কীভাবে? পৃথিবীতে এক বর্গ কিলোমিটার জায়গায় সূর্যের বিকিরণ থেকে উৎপন্ন যে পরিমাণ শক্তি এসে পড়ে তা প্রায় ৪০০০ মেগাওয়াটের মতো। এই পরিমাণ শক্তির সাহায্যে যেকোনও একটি বড়ো শহর আলোকিত করা যায়। গবেষকরা দেখলেন কোনও ফটোভোলটাইক (photovoltaic) পদার্থের উপর আলো ফেললে ইলেকট্রন বেরিয়ে আসে। সৌরকোষের উপর সূর্যের আলো পড়লে এই একই ঘটনা ঘটে। আমাদের পরিচিত বিদ্যুতের সঙ্গে এই বিদ্যুতের কোনও তফাত নেই।


মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে ফিরে আসার পর অভিযাত্রীদের কিছুদিন আটকে রাখা হয় কেন?

পৃথিবীতে ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গে মহাকাশচারীদের কয়েকদিনের জন্য একটি নির্দিষ্ট জায়গায় সকলের থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়। এই সময় তাদের শারীরিক অবস্থার নানারকম পরীক্ষানিরীক্ষা করা হয়। দেখা হয়, মহাকাশচারীদের পোশাক এবং শরীরের সঙ্গে কোনও মহাজাগতিক ভাইরাস পৃথিবীতে চলে এসেছে কি না। মহাকাশচারীদের রক্তে কোনও অজানা ভাইরাস বাসা বেঁধেছে কি না তা জানার জন্য এই সময় তাদের রক্তও পরীক্ষা করা হয়। অনেকে মনে করেন মহাকাশ থেকে এমন কোনও ভাইরাস মহাকাশচারীদের সঙ্গে পৃথিবীতে চলে আসতে পারে যা হয়তো সমগ্র মানবজাতিকে ধ্বংস করে দিতে পারে। তাই এই সতর্কতা।


আধুনিক যুদ্ধ বিমান যখন আকাশে ওড়ে তখন ডানা দুটি লেজের দিকে ঘুরে যায় কেন?

পাখিকে আকাশে উড়তে দেখে মানুষের আকাশে ওড়ার ইচ্ছে হয়েছিল। কিন্তু মানুষের তো পাখির মতো ডানা নেই। তাহলে আকাশে উড়বে কীভাবে? অনেক পরীক্ষানিরীক্ষার পর তৈরি হল বিমান। কাঠামোর সঙ্গে লাগিয়ে দেওয়া হল দুটো ডানা। উড়ল আকাশে। অনেকটা পাখিরই মতো। ডানা দুটো কাঠামোর সঙ্গে নব্বই ডিগ্রি কোণ করে দু’দিকে মেলা থাকে। আমরা এই ধরনের বিমান দেখতেই বেশি অভ্যস্ত। তবে কিছু কিছু অত্যাধুনিক যুদ্ধ বিমানের চেহারা অনেকটাই পালটে গেছে। বিশেষ করে এর ডানা দুটি। যেমন মিগ-২৭ যুদ্ধ বিমানের ডানা দুটো কাঠামোর সঙ্গে যেমন লম্বভাবে রাখা যায় তেমন আবার প্রয়োজনে লেজের দিকে ঘুরিয়েও রাখা যায়। কেন এই ব্যবস্থা? যাত্রীবাহী বা মালবাহী বিমানের গতির চেয়ে যুদ্ধ বিমানের বেগ অনেক বেশি থাকে। ডানা দুটো যদি কাঠামোর সঙ্গে লম্বভাবে থাকে তাহলে এই দুরন্ত বেগ তোলা যায় না। যদি ডানা দুটো লেজের দিকে ঘোরানো থাকে তাহলে এই বেগ তোলা যায়। তবে একটা সমস্যা আছে। আকাশে ওড়ার আগে বিমান যখন মাটির উপর দিয়ে ছোটে তখন এর বেগ অনেক কম থাকে। ডানা দুটো লেজের দিকে ঘোরানো থাকলে কম বেগে ছুটে বিমান আকাশে উড়তে পারে না। আকাশ থেকে মাটিতে নেমে আসার সময়ও বিমানের বেগ কমাতে হয়। ডানা দুটো গোটানো থাকলে তখনও সমস্যায় পড়তে হয়। তাই আকাশে ওড়া এবং নামার সময় ডানা দুটো কাঠামোর সঙ্গে লম্বভাবে মেলা থাকে। একবার উড়তে শুরু করলে ডানা দুটো লেজের দিকে ঘুরিয়ে রাখা হয়। তখন পাইলটের পক্ষে বিমানের বেগ বাড়াতে বাড়াতে সুপারসনিক (supersonic) বেগে পৌঁছাতে অসুবিধা হয় না। শত্রুর আক্রমণ এড়াতে বা শত্রুর ছাউনিতে আঘাত হানতে যুদ্ধ বিমানগুলিকে এইরকম দুরন্ত বেগে ওড়াতে হয়। এছাড়াও ডানা দুটো লেজের দিকে গোটানো থাকলে শত্রুপক্ষের ছোড়া গোলাগুলির আঘাত তুলনামূলকভাবে এড়াতে সুবিধা হয়। তাই বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি যুদ্ধ বিমানগুলিতে ডানা সোজা-পিছনে (swing back) করার ব্যবস্থা থাকে।


বরফের চাঁই খোলা জায়গায় রেখে দিলে সেটার গা থেকে ধোঁয়া বের হয় কেন?

বরফের চাঁই খোলা জায়গায় রেখে দিলে তা থেকে ধোঁয়ার মতো যেটা বেরোতে দেখা যায় সেটা কোনও গ্যাস নয়, জলীয় বাষ্প। এই জলীয় বাষ্প বরফ থেকেও তৈরি হয় না। এটা হল বরফের চারপাশে থাকা ঠাণ্ডা বাতাসে জমে যাওয়া জলীয় বাষ্প। বাতাস যখন খুব ঠাণ্ডা হয়ে পড়ে তখন তাতে উপস্থিত জলীয় বাষ্পের কিছু অংশ জমে ছোটো ছোটো জলবিন্দুতে রূপান্তরিত হয়। বাতাসের পরিচলন স্রোতের প্রভাবে এরা যখন ওঠানামা করে এদেরকে দেখতে ধোঁয়ার মতো লাগে। ফ্রিজ থেকে বরফের ট্রে বাইরে বের করলেও এমন ঘটনা ঘটতে দেখা যায়।


টেলিভিশনের রিমোট কন্ট্রোল কীভাবে কাজ করে?
রিমোট কন্ট্রোল বা দূরবর্তী নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তির সাহায্যে শুধু টিভি নয়, রেডিও, মাইক্রোওভেন, এক্স-রে মেশিন ইত্যাদি নানা গ্যাজেট দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এই ছোট্ট ডিভাইসটি টিভি অন-অফ ছাড়াও চ্যানেল পরিবর্তন এবং ভলিউম আপ-ডাউন করতে সক্ষম। রিমোট কন্ট্রোল মূলত বেতার সিগনালের সাহায্যে কাজ করে, যা ইলেক্ট্রো ম্যাগনেটিক তরঙ্গ নামে পরিচিত। তাই এই ডিভাইসটি তার ছাড়াই কাজ করে। যেটা কন্ট্রোল করার ইচ্ছা সেটার দিকে তাক করে বোতাম টিপলেই হল।
প্রথমদিকে রিমোট কন্ট্রোল শ্রবণোত্তর তরঙ্গের সাহায্যে কাজ করত। বর্তমানে আমরা যে রিমোট কন্ট্রোল ব্যবহার করি তা কাজ করে অবলোহিত রশ্মি বা ইনফ্রারেড (infrared) আলোর মাধ্যমে। এই ডিভাইসটির উপরের দিকে থাকে ছোটো আকারের একটি এল.ই.ডি বাল্ব। কোনও বোতাম টিপলে তা থেকে বেরিয়ে আসা অবলোহিত রশ্মি টেলিভিশন সেটের সঙ্গে যুক্ত একটি সেন্সরে ধরা পড়ে এবং কিছু ইলেকট্রনিক সার্কিট চালু হয়ে কাঙ্ক্ষিত কাজটি করে। এই যন্ত্রটির বিভিন্ন বোতাম টিপলে ভিন্ন ভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের অবলোহিত রশ্মি নির্গত হয়। আলোকসচেতন (Photo sensitive) সেন্সর সেই অনুযায়ী কাজ করে। অবলোহিত রশ্মি বা ইনফ্রারেড আলো মানুষের চোখে ধরা পড়ে না। তাই চোখের খুব কাছে এনে রিমোট টিপলেও কিছুই অনুভূত হয় না। এছাড়াও রিমোটে থাকা বিশেষ ধরনের বাইনারি (0 থেকে 1) কোড নির্দেশ পাঠাতে সাহায্য করে।
অবলোহিত রশ্মিতে চলা রিমোট কন্ট্রোল অর্থাৎ বর্তমানে আমরা যে রিমোট কন্ট্রোল ব্যবহার করি তাকে ‘আই আর’ রিমোট বলা হয়। বিভিন্ন টিভি সেট এবং সেটির রিমোট আলাদা আলাদা সিগন্যালের উপর কাজ করে। তাই ভিন্ন ভিন্ন মডেলের টিভির জন্য ভিন্ন ভিন্ন রিমোট কন্ট্রোল থাকে। এই রিমোট কন্ট্রোল অত্যন্ত অল্প পাওয়ারে ৪০ থেকে ৭০ ফুট দূরত্ব পর্যন্ত সিগন্যাল পাঠাতে পারে। তবে এটি টেলিভিশনের থেকে বেশি বিচ্যুত অভিমুখে ধরলে কাজ হয় না। তাই টেলিভিশন সেটের মোটামুটি বিপরীত দিক থেকে তাক করে বোতাম টিপতে হয়।
আরেক ধরনের রিমোট কন্ট্রোল আছে যা ‘রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি রিমোট কন্ট্রোল’ বা ‘আর এফ’ রিমোট কন্ট্রোল নামে পরিচিত। এই প্রযুক্তির সাহায্যে বাড়ির দরজা, হোম থিয়েটার, বিভিন্ন খেলনা, স্যাটেলাইট রিসিভার ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।


মানুষের গলার স্বর পৃথক কেন?
প্রত্যেক মানুষের গলার স্বর আলাদা আলাদা। কারও মিহি, কারও শ্রুতিমধুর, কারও শ্রুতিকটু, আবার কারও বা হেঁড়ে। কেন এমন হয়? এমনটা হওয়ার কারণ স্বরের কম্পাঙ্ক। প্রতিটি মানুষের গলার স্বরের একটা নির্দিষ্ট কম্পাঙ্ক থাকে। তাই ব্যক্তিটিকে না দেখেও শুধু গলার স্বর শুনেই আমরা বলে দিতে পারি কে কথা বলছেন বা গান গাইছেন।
মানুষের গলার স্বরকে ছয় ভাগে ভাগ করা যায়—মন্দ্র, উদাও, সপ্তম, স্ত্রী মন্দ, মন্দ্র সপ্তক এবং উচ্চ সপ্তক। প্রথম তিনটি ভাগ পুরুষদের গলার স্বরের জন্য এবং পরের তিনটি মেয়েদের গলার স্বরের জন্য। এর মধ্যে উচ্চ সপ্তক গলার স্বর যাঁদের তাঁরা অত্যন্ত ঝাঁঝালো স্বরে কথা বলেন। যাঁদের অনুরণন সৃষ্টি করার ক্ষমতা বেশি তাঁদের গলার স্বর সুরেলা হয়। এক্ষেত্রে নাক, নাসিকা গহ্বর এবং মুখগহ্বর স্বরকে নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়াও শারীরিক গঠনের উপরও গলার স্বর নির্ভর করে। যেমন শ্বাসকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা, নাসিকা গহ্বরের গভীরতা, দাঁতের গঠন ও বিন্যাস, তালু ও ওষ্ঠদ্বয়ের আকৃতি ইত্যাদি। জিহ্বার নড়াচড়া গলার স্বর পরিবর্তনে সাহায্য করে। এই প্রত্যঙ্গগুলির গঠন সবার সমান নয়। কিছু না কিছু স্বাতন্ত্র্য থাকেই। আর এই কারণেই প্রতিটি মানুষের গলার স্বর পৃথক। সমকোষী যমজের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য সহজে বোঝা যায় না।


চলবে

No comments:

Post a Comment