জীবনের গল্পঃ পিটু আর বুলুঃ সৌম্যকান্তি জানা


রাত দশটা বাজতে চলল। গোটা পাড়া শুনশান হয়ে গেছে। বারান্দায় বসে মা আর আমার দু’জোড়া চোখ নির্নিমেষ খুঁজছে নিকষ অন্ধকারে সামনের রাস্তায় দ্রুত এগিয়ে আসা টর্চ লাইটের কোনও আলো। ঘরের ভেতর থেকে নবতিপর ঠাকুমার থেকে থেকে উৎকণ্ঠাভরা জিজ্ঞাসা, “বাবু এলো?” আসলে আমার বাবা তখনও বাড়ি ফেরেনি। সেই কাকডাকা ভোরে বাবা কলকাতায় রওনা দিয়েছিল উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার খাতা জমা দিতে। প্রত্যন্ত সুন্দরবনের এক অজ গাঁ থেকে আজ থেকে তেতাল্লিশ-চুয়াল্লিশ বছর আগে কলকাতায় গিয়ে সেই দিনেই ফিরে আসা ছিল খুবই দুঃসাধ্য। তিনটে বাস পালটে সড়কপথে একশো কিলোমিটারের বেশি পথ পেরিয়া যাওয়া, আবার কাজ মিটিয়ে সেই পথে ফেরা – আজকের প্রজন্মের মানুষের কাছে কল্পনাতীত ব্যাপার। কাকদ্বীপ থেকে ন’টার শেষ বাস ধরতে না পারলে বাড়ি ফেরার সব রাস্তা বন্ধ। আবার বাস থেকে আশ্রম মোড় স্টপেজে নেমে টানা পঁয়তাল্লিশ মিনিট হেঁটে এলে তবেই আমাদের বাড়ি পৌঁছোনো যায়। গ্রামের পথে আবার সাপ-খোপের ভয় তো আছেই। তাই বাবার জন্য আমাদের টেনশন হওয়াটা স্বাভাবিক।
অন্ধকারে কত মানুষই তো গ্রামের রাস্তায় টর্চ লাইট জ্বালিয়ে হাঁটে। কিন্তু টর্চের আবছা আলোয় পায়ের সঞ্চালন আর শরীর থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে রাস্তার উপর প্রতিফলিত আলো দেখে মা ঠিক বুঝে যেত ওই ব্যক্তি বাবা, নাকি অন্য কেউ। আমিও অনেক সময় বুঝতে পারতাম। সেদিনও মা ঠিক বুঝে গিয়েছিল। “ওই তো, তোর বাবা এসে গেছে!” কয়েক মিনিটের মধ্যেই বাবা সশরীরে উঠোনে। আমাদের উৎকন্ঠার শেষ। কিন্তু বাবার হাতে একটা খাঁচা কেন? ও মা! খাঁচার ভেতর একটা বাচ্চা টিয়াপাখি! মা, ঠাকুমা ও আমার কৌতূহল তখন ঝুঁকে পড়েছে খাঁচাটার উপর। বাবা বলল, “হাতিবাগান থেকে কিনে নিয়ে এলাম।”
বাবা টিয়াপাখিটার নাম দিয়েছে পিটু। কী সুন্দর মখমলের মতো নরম সবুজ পালক! ঠোঁটটা টুকটুকে লাল। আমাদের মাটির বাড়ির দালানে পিটুর স্থান হয়েছে। টিয়াপাখি ছোটো থেকেই আমি দেখে আসছি। ঝাঁক ঝাঁক টিয়া ধান পাকলে মাঠে এসে ধান খায়। গাছে পেয়ারা পাকলে ঠুকরে ঠুকরে পাকা পেয়ারা খায়। সবুজ পাতার আড়ালে ওদের সহজে দেখা না গেলেও ‘কিঁইয়াক কিঁইয়াক’ ডাক শুনেই বোঝা যেত ওরা হাজির। কলা, আপেল, পেয়ারা, ছোলা – নানারকম খাবার দেওয়া হচ্ছে পিটুকে। বাটি করে জলও দেওয়া হয়েছে খাঁচার ভেতর। জানতাম, টিয়াপাখি কথা বলতে শেখে। বাবা শেখাতে চেষ্টা করল – নমস্কার, আসুন। মা শেখাতে চেষ্টা করল – মা, খেতে দাও। ঠাকুমা শেখাতে চেষ্টা করল – হরেকৃষ্ণ, হরেকৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে, হরে রাম হরে রাম, রাম রাম হরে হরে। আমি শুধু শিস দিতাম ওর সামনে গিয়ে। পাড়ার অনেকে দেখতে এল। তারাও যে যার মতো কথা শেখানোর চেষ্টা করত।
ধীরে ধীরে পিটু বড়ো হয়ে উঠতে লাগল। সে তখন ফলমূল ছাড়াও ডাল-ভাত-সবজিতে বেশ অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। কথা শেখানোর অত্যাচারে মনে হয় সে কিছুই শিখতে পারেনি। আসলে সারাবছরের সিলেবাস একটা ক্লাসে শেষ করতে গেলে যা হয়। পিটু কিন্তু ইতিমধ্যে আমাদের পরিবারের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে উঠেছে। গলায় কোনও কালো বেড়ি দাগ তৈরি না হওয়ায় বাবা বলেছিল, এটা স্ত্রী টিয়া। ছোটোবেলায় টিয়ার স্ত্রী-পুরুষ বোঝা যায় না, একইরকম দেখতে হয়। পুরুষ টিয়া হলে দেড় বছর বয়সের মধ্যে গলায় কালো রঙের একটা বেড়ি দাগ তৈরি হত। অবশ্য পিটুর গলা ভালো করে লক্ষ করলে বোঝা যেত হালকা হলদেটে একটা বেড়ির মতো দাগ আছে। স্ত্রী টিয়ার এরকম হালকা দাগ থাকে। যাই হোক, সবার আদরে পিটু বেড়ে উঠছিল বহাল তবিয়তে। তবে সবার আদরে সে বাঁদর না হলেও তার আবদার মানা না হলে চিৎকার করে তার চাহিদা বুঝিয়ে দেয়। ছোটো ছিল বলে শরীরের উষ্ণতা দেওয়ার জন্য মা ওকে কোলের নিয়ে বসত। আর তখন সে ঠোঁট দিয়ে শাড়ি নাড়াচাড়া করে নিজেকে ঠিক শাড়ির ভাঁজের ভেতর লুকিয়ে নিত। মাও এতে খুব মজা পেত। আমরাও মজা পেতাম। আর এভাবেই দু’ফুট ব্যাসের খাঁচার বদলে পিটুর স্থান হয়ে গেল সাতশো স্কোয়ার ফুটের পুরো বাড়িটাই।
পিটুর খাঁচার দরজা সবসময়ই খোলা থাকত। সে তার ইচ্ছেমত খাঁচার ভেতরে যেত। কখনও খাঁচার ওপরেই বসত। আর বেশিরভাগ সময় সারা ঘর ঘুরে বেড়াত। বাড়িতে কোনও বেড়াল ছিল না, এটাই রক্ষে! মা যখন আনাজ কাটতে বসত পিটু গুটি গুটি পায়ে সেখানে গিয়ে থালা থেকে কাঁচা আনাজের টুকরো মুখে তুলে নিয়ে খেত। বাবা সকালে স্কুলে যাওয়ার আগে পিটুকে না খাওয়ালে চলতই না। ওর জন্য একটা ছোটো প্লেট ছিল। বাবা ভাত-ডাল-সবজি মেখে থালার পাশে ওর প্লেটে রেখে দিলে গুটি গুটি পায়ে এসে খেয়ে নিত। মায়ের কোলে ঘুমোনো ছিল ওর অভ্যেস। মা মাদুর বিছিয়ে মাটিতে শুলে ও ঠিক মায়ের কোলে শাড়ির মধ্যে এসে ঢুকতোই। মা তক্তপোশে শুলে রীতিমতো চেঁচামেচি শুরু করে দিত। আর তাই মা দুপুরবেলা যখন তক্তপোশে শুত তখন শাড়ির আঁচলটা মাটি পর্যন্ত ঝুলিয়ে দিত। পিটু আঁচল বেয়ে তক্তপোশে উঠে ঠিক মায়ের কোলে ঢুকে গুটিশুটি দিয়ে ঘুমোত। রাতে অবশ্য ও কোনওদিন খাঁচার ভেতর বা কোনওদিন খাঁচার উপরে বসে থাকত। শীতকালে রাতে ওর খাঁচার বাইরে কাঁথা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হত।
এভাবেই কেটে গেল প্রায় তিন বছর। ফাল্গুন মাসের শেষ। তখনও শীতের মিঠে রোদ গায়ে মাখতে নেশা জাগে। মাঠে মাঠে খেসারি-কলাই পাকতে শুরু করেছে। সকাল থেকেই মাঠে মাঠে গ্রামের মেয়েরা খেসারি-কলাইয়ের গাছ ওপড়াচ্ছে। সেদিন ছিল একটা রবিবার। আমাদের মাঠেও পাড়ার কয়েকজন মহিলাকে দিয়ে খেসারি-কলাই ওপড়ানো হচ্ছিল। ঠাকুমা গিয়েছিল পাশের পাড়ায় পিসিমার বাড়িতে। আমি, বাবা আর ভাইকে কোলে নিয়ে মা গিয়েছিলাম মাঠে কলাই গাছ ওপড়ানো দেখতে। পিটু ছিল বাড়িতেই, যেমন সবসময় থাকে। আধঘণ্টা পর আমরা বাড়ি ফিরে এলাম। মা উঠোনে পা দিয়েই চিৎকার করে উঠল, “সর্বনাশ হয়েছে!” দেখি মায়ের দৃষ্টি নিবদ্ধ মেঝেতে পড়ে থাকা দু’তিনটে সবুজ পালকের ওপর। স্থানুর মতো দাঁড়িয়ে রইলাম আমি আর বাবা। আমরা বাকরুদ্ধ। মায়ের চোখ দিয়ে গড়াতে লাগল অশ্রুধারা। বুঝতে বাকি রইল না, পিটু খাদকের খাদ্যে পরিণত হয়েছে। আমি, বাবা, মা সবাই বাড়ির আশেপাশে অনেক খুঁজলাম, যদি মৃত পিটুকেও পাওয়া যায়। কিন্তু না। পিটুর খাদক আমাদের জন্য ওই দু’তিনটে পালক ছাড়া আর কিছুই রেখে যায়নি। মা পিটুকে হারিয়ে সন্তান হারানোর যন্ত্রণায় কাঁদতে লাগল। তিন বছর ধরে আমাদের পরিবারের সবার প্রিয় সদস্য পিটুর জন্য ভেঙে পড়লাম আমরাও। আজও জানতে পারিনি সাপ, নাকি বেড়াল, নাকি অন্য কোনও প্রাণী ছিল পিটুর খাদক।
এরপর কেটে গেছে আরও দু’তিনটে বছর। পিটুর স্মৃতি মনের কোণে উজ্জ্বল থাকলেও তার জন্য শোকের ভার স্বাভাবিক নিয়মেই অনেক হালকা হয়ে গিয়েছে। ঠিক এই সময় মার্চ মাসের এক রোববারের বিকেলে আমার জ্যাঠতুতো দাদা গোপাল একটা টিয়াপাখি খাঁচায় ভরে নিয়ে হাজির হল আমাদের বাড়িতে। পিটুকে যখন বাবা কিনে এনেছিল তার থেকে এটা আর একটু বড়ো হবে। জানতে পারলাম, গাছের কোটরে বাসার ভেতর থেকে গোপালদা একে ধরেছে। পাখি পোষার প্রতি বাবার আগ্রহের কথা আত্মীয়স্বজনসহ পাড়ার সবাই জানত। আর তাই গোপালদা ওকে আমাদের কাছে বিক্রি করতে পারলে কিছু আয় হবে ভেবেই এনেছে। মুহূর্তে পিটুর স্মৃতি জ্বলজ্বল করে উঠল মনের মধ্যে। বাবা গোপালদাকে বকুনি দিল, “যা, এক্ষুনি একে বাসায় রেখে দিয়ে আয়।” মা বাধা দিয়ে বলল, “আহা, এনেইছে যখন, থাক না।” মায়ের সাথে আমিও বায়না জুড়লাম পুষব বলে। অগত্যা বাবা পাঁচ টাকা দিয়ে পাখিটাকে কিনে নিল। পিটুর খাঁচাটা গোয়ালঘরের মাচাতে তোলা ছিল। ঝুল ঝেড়ে সাফসুতরো করে পিটুর খাঁচাতেই স্থান হল এই নতুন সদস্যের। বাবা এর নাম দিল–বুলু।
যথারীতি পিটুর মতোই বুলুকে শেখানো-পড়ানো, খাওয়ানো শুরু হল। তবে পিটুর অকালমৃত্যু আমাদের শিক্ষা দিয়েছে, বুলুকে খাঁচার বাইরে ঘুরে বেড়ানোর শিক্ষা দেব না। দেড় বছর পরেও বুলু আমাদের বুঝিয়ে দিল যে সেও পিটুর মতো স্ত্রী টিয়া, কারণ গলায় কোনও কালোরঙা বেড়ি তৈরি হল না। পিটুর তুলনায় বেশি ছটফটে বুলু। বাবাই ওকে খাঁচার দরজা খুলে খাবার দিত। আমি ও মা খাবার দিতে গেলে আঙুলে ঠোক্কর দিত। খাবার দিতে গিয়ে মার আঙুলে কয়েকবার এমন ঠোক্কর দিয়েছিল যে রক্তপাত ঘটেছিল। তারপর থেকে বাবা ছাড়া আর কেউ ওকে খাবার দিত না। বাবা ছাড়া অন্য যে কেউ খাঁচার কাছে গেলে রেগে গিয়ে ঠোক্কর দেওয়ার চেষ্টা করত। কিন্তু অদ্ভুতভাবে বুলু বাবাকে ঠোক্কর দিত না। বরং বাবার বাম হাতে বসে ডান হাত থেকে খাবার খেত। কখনও কখনও বাবার হাত থেকে গুটি গুটি পায়ে বেয়ে কাঁধে উঠে যেত। বাবা ওকে বলতে শিখিয়েছিল, ‘খোকা, খেতে দাও।’ এক্কেবারে স্পষ্ট উচ্চারণ করত। যে কেউ শুনলেই বুঝতে পারত কী বলছে। অনেকক্ষণ পর বাবাকে দেখতে পেলে ‘খোকা খেতে দাও, খোকা খেতে দাও’ বলে চিৎকার করতে করতে খাঁচার ভেতর লাফালাফি শুরু করে দিত।
এভাবে বুলুকে নিয়ে নিশ্চিন্তে কেটে গেল প্রায় চার বছর। সারাবছর বুলু থাকত আমাদের দালানে চালা থেকে ঝোলানো খাঁচায়।। মে মাসের সেদিন বিকেল পর্যন্ত বুলু অন্যদিনের মতো ছিল স্বাভাবিক। বুলুকে নিয়ে আমাদেরও কোনও দুশ্চিন্তা ছিল না। সন্ধের আগে আকাশ কালো করে মেঘ ছেয়ে গেল দক্ষিণ-পূর্ব আকাশে। আকাশ চিরে দিতে লাগল মুহূর্মুহু বিদ্যুৎ। মেঘেদের গর্জন শুরু হল। হঠাৎই পুরো আকাশটা যেন আলোয় ভরে গেল। আর কিছু বুঝে ওঠার আগেই এক প্রবল গর্জনে পুরো আকাশ যেন ভেঙে খান খান হয়ে গেল। আমি, ভাই, বোন ও মা বাড়িতে ছিলাম। আমরা রীতিমতো ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। সবাই ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিয়ে বসে ছিলাম। কিছুক্ষণ পর মেঘেদের গর্জন কমে এল। ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি শুরু হল। মা দরজা খুলে বেরিয়েই আর্তনাদ করে উঠল, “বুলু মরে গেছে!”
বুলুর শোকে সেদিনও আমরা খুব কেঁদেছিলাম। বাবা-মা তো বুলুর শোকে কয়েকদিন ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া করতে পারেনি। আমাদের অসতর্কতায় যেভাবে পিটুর প্রাণ গিয়েছিল, সেভাবে আমাদের অজ্ঞতায় প্রাণ গেল বুলুর। বজ্র-বিদ্যুতের বিপদ থেকে বাঁচতে আমরা ঘরের মধ্যে আশ্রয় নিলাম, অথচ বুলুর কথা মাথাতেই এল না। সে রয়ে গিয়েছিল দালানে। বজ্রনাদের দুর্দম অভিঘাত সহ্য করার ক্ষমতা ওইটুকু ছোট্টো পাখির ছিল না।
এরপর থেকে আমরা আর কখনও কোনও পাখি বাড়িতে পুষিনি। তবে টিয়াদের ঝাঁক বেঁধে ধানক্ষেতে বসা বা উড়ে যাওয়া প্রায়শই দেখতাম। ধানক্ষেতে টিয়াপাখি তাড়ানোর জন্য ক্যানেস্তারা পেটানো হত। সে ছিল ভারি মজার অভিজ্ঞতা। ক্ষেতের মাঝে একটা বাঁশ পুঁতে তাতে একটা টিনের পাত্র ঝুলিয়ে দেওয়া হত। টিনের পাত্রের সাথে একটা দড়ি বাঁধা থাকত, আর দড়ির প্রান্ত থাকত বাড়িতে। মাঝে মাঝে ওই দড়ি ধরে টান দিলে বাঁশের সাথে টিনের আঘাতে বেশ জোরে শব্দ তৈরি হত। আর তাতেই ভয় পেয়ে টিয়ার দল উড়ে পালাত।
ক্ষেতের ফসলে ভাগ বসায় বলে চাষির কাছে খুব অপছন্দের পাখি হল টিয়া। ফলবাগানের মালিকদেরও অপছন্দ। ফল যত না খায় তার থেকে বেশি আঁচড়ে-কামড়ে নষ্ট করে। ভারতীয় টিয়ারা খুব সহজে পোষ মানে বলে বাড়িতে পোষার জন্য টিয়ার বাসা থেকে বাচ্চা চুরি করার ঘটনা প্রায়শই ঘটে। ফাঁদ পেতেও পরিণত টিয়া ধরা হয়। তাছাড়া ফসল চাষে কীটনাশকের বহুল ব্যবহারের ফলে বিষক্রিয়ায় টিয়া মারা যাচ্ছে বা বন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে। নগরায়নের জন্য জঙ্গল ধ্বংস ও বৃক্ষচ্ছেদন কেড়ে নিয়েছে টিয়াপাখিদের থাকার জায়গা। আর তাই দিন দিন টিয়াপাখির সংখ্যা কমছে। আমাদের সুন্দরবন এলাকায় গত ত্রিশ-চল্লিশ বছর আগে যত টিয়া দেখা যেত এখন আর তত দেখা যায় না।
তবুও মাঝে মাঝে যখনই কোনও টিয়ার ঝাঁক উড়ে যেতে দেখি মনে হয় ওদের মধ্যে আমাদের পিটু আর বুলুও উড়ে যাচ্ছে। যখনই কোথাও ‘কিঁইয়াক কিঁইয়াক’ শব্দ শুনি, তখনই সেই শব্দ অনুসরণ করে চোখ পাতার আড়ালে খোঁজ করতে থাকে আমাদের পিটু ও বুলুকে। মনে হয় এই বুঝি কানে ভেসে আসবে সেই চেনা ডাক, ‘খোকা খেতে দাও।’


_____

No comments:

Post a Comment