যুগ্ম ষষ্ঠ স্থানাধিকারি গল্পঃ ফুঁয়ের গুঁতোয়ঃ সুধাংশু চক্রবর্তী

ফুঁয়ের গুঁতোয়

সুধাংশু চক্রবর্তী



সুধাংশুবাবুর হয়েছে যত জ্বালা। বেশ কিছুকাল যাবত তিন্নির মা গজগজ করেই চলেছেন, “আজও গেলে না তুমি? রেশনকার্ডে তুমি সুধাংশু চক্কোত্তি থেকে হয়ে আছ ‘সুধাসু চকোতি’। আমি চরণবালা থেকে হয়ে আছি ‘মরণবালা’ーমরণ আর কী! তোমাকেও যে বাবার নাম ভুলিয়ে ছেড়েছে। মানুষটা জীবতকালে ছিলেন ‘বীতশোক চক্কোত্তি’ অথচ মৃত্যুর এতকাল বাদে হয়ে গেলেন ‘বিভীষণ চকোতি’! আর কবে নিজের সাথে আমাদের সঠিক নামগুলো ফিরিয়ে আনবে রেশন অফিস থেকে?”
সুধাংশুবাবু গড়িমসি করতে করতে কালহরণ করেই চলেছেন দেখে আজ সকালে তিন্নির মা রেশনকার্ডগুলো হাতে ধরিয়ে দিয়ে সুধাংশুবাবুকে একপ্রকার ঘাড় ধরে বের করে দিলেন বাড়ি থেকে। “আজই একটা হেস্তনেস্ত করে আসা চাই। নইলে ঘরে নয়, বাগানের ওই জলপাইগাছ তলায় তোমার ঠাঁই হবে বলে রাখলাম।”
সুধাংশুবাবু জানেন তিন্নির মা মুখে যা বলেন কাজেও করে দেখাতে পিছপা হন না। তাই তাঁর আদেশ অমান্য করার মতো বুকের পাটা নেই বলে সকাল সাড়ে নয়টা নাগাদ হাঁটতে হাঁটতে গিয়েছিলেন রেশন আধিকারিকের অফিসে। এখন এই ভরদুপুরে সেখান থেকে কাজ হাসিল করে হাঁটতে হাঁটতে ফিরছেন। দূরত্ব কম নাকি? বাড়ি থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে বলদেঘাটায় ওই অফিস। বাবা অনেক কাল আগেই স্বর্গত হয়েছেন। তাই বাবার হাত থেকে নিস্তার পেলেও তিন্নির মায়ের হাত থেকে কিছুতেই নিস্তার পেতেন না যদি না…
সুধাংশুবাবু একবার হাতঘড়িতে সময় দেখে নিলেন। দুপুর সাড়ে বারোটা বাজে। বাড়িমুখো হয়ে দ্রুত হাঁটতে থাকলেন রামপ্রসাদের ভিটের পিছনের পথ ধরে। আজ রোদের তাপ বড্ড রকমের বেশি। সূর্যের লকলকে জিভ লাগাতার চাঁদি চেটেই চলেছে। গিয়েছিলেন ছত্রপতি হয়ে। ফিরছেন ছত্রহীন হয়ে। কে যেন টুক করে পাশ থেকে ছাতাটা তুলে নিয়ে চম্পট দিল টেরও পাননি। তখন যে বেজায় তর্ক বেধেছিল তাঁর এবং রেশন অফিসের এক করণিকের সঙ্গে।
আর মিনিট পাঁচেকের পথ হাঁটলেই বাড়ি পৌঁছে যাবেন সুধাংশুবাবু। একবার বাড়িতে ঢুকে পড়তে পারলে নিস্তার পাবেন এই চাঁদি ফাটানো রোদের হাত থেকে। এতটা পথে হেঁটে আসছেন বলে ঘেমেনেয়ে একশা হয়ে আছেন। ক্লান্ত, ঘার্মাক্ত সুধাংশুবাবু পথের ধারেরই একটা সজনেগাছের ছায়ায় দাঁড়িয়ে আনমনে পকেট থেকে রুমাল বের করে কপালের ঘাম মুছলেন। তারপর পকেটে রাখতে যাবার সময় রুমালটা দেখেই চমকে গেলেন। তিনি সর্বদা সাদা রুমালই ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু আজ যে পকেট থেকে লাল রুমাল! তার মানে তাড়া খেয়ে বেরোনোর সময় ভুল করে তিন্নির মায়েরই রুমাল পকেটে ঢুকিয়েছে আলনা থেকে নিয়ে! তিন্নির মা জানতে পারলে কি রক্ষে থাকবে? তাঁকে ঠিক বেঁধে রাখবেন বাগানের জলপাইগাছের সাথে।
সুধাংশুবাবু ফাঁপরে পড়ে গিয়ে নিজের মনে বিড়বিড় করলেন, ‘এ হে হে, কাজটা ভালো হল না। এখন এই ঘেমো রুমাল কি তুলে দেওয়া ঠিক হবে তিন্নির মায়ের হাতে? দিলেই কুরুক্ষেত্র বেধে যাবে।’ তাই ধুত্তোরি বলে রুমালখানা ছুড়ে ফেলে দিলেন রাস্তার ধারেরই একটা ঝোপের ভিতর। রুমাল ফেলে দিয়ে নিশ্চিন্ত হয়ে আবার হাঁটতে শুরু করলেন বাড়িমুখো হয়ে।
রামপ্রসাদের ভিটেকে পিছনে ফেলে কিছুটা এগোলে এই রাস্তারই একধারে দুটো বিশাল বাঁশঝাড় রয়েছে। দিনদুপুরেও এলাকার সকলে রামনাম জপ করতে করতে বাঁশঝাড় দুটোর পাশ কাটিয়ে যায়। সবাই বলে দুটোই নাকি ভূতের আস্তানা। সুধাংশুবাবু অবশ্য কোনোকালেই ভূত-টুত মানেন না। মানেন না বলে ভয়ও পান না ওদের। তাও আবার এই ভরদুপুরে! রাত হলে নাহয় ভয়ের ব্যাপারটা নিয়ে একটু ভেবে দেখতেন। তাঁর যত ভয় যে তিন্নির মায়ের ওই রণচণ্ডী মূর্তিকে!
যাই হোক, রোদে চাঁদি ফাটাতে ফাটাতে সুধাংশুবাবু যেই চলে এসেছেন বাঁশঝাড়ের কছে অমনি বাঁশঝাড় থেকে একটা মানুষ ভুস করে উদয় হল তাঁর সামনে। উদয় হয়ে তাঁর দিকে তাকিয়ে এক ঝাঁক মুলোর মতো দাঁত বের করে হেসে উপদেশের সুরে বললেন, “ছাতা নিয়ে বেরোলেই পারতেন। তাহলে খামোখা রোদে পুড়ে পোড়া কাঠ হতেন না।”
“না মানে, ছাতা মাথায় দিয়েই বেরিয়েছিলাম। কিন্তু রেশন অফিসে কোন এক অলপ্পেয়ে... দূর ছাই, কাজের সময় অন্যকিছু মনে থাকে নাকি? থাকে না বলে... ব্যাটাকে একবার ধরতে পারলে কেলিয়ে মণ্ড পাকিয়ে ছাড়তাম।”
“মাথায় থাকে না বলছেন? তাহলে একবার মাথাটা নামান দেখি।”
কেন? গাঁট্টা মারবেন?”
“ছিঃ-ছিঃ, যা ঘেমো মাথা আপনার! গাঁট্টা মেরে খামোখা হাত নোংরা করতে যাব কোন দুঃখে?”
“গাঁট্টা মারলে হাত নোংরা হয়! জানা ছিল না তো।”
“নোংরা হয় না বলছেন? ঠিক আছে, মেরে দেখুন আমার মাথায় একটা গাঁট্টা। দেখে নিন হাত নোংরা হয় কি না।”
“সে নাহয় দেখে নেব’খন। তার আগে বলুন তো মশাই, মাথা নামাতে বলছেন কেন? কী করবেন? ক’টা পাকা চুল গজিয়েছে গুনে দেখবেন? পাকা চুল গজানোর আর দোষ কী? তিন্নির মায়ের শাসনে থাকলে যেকোনও মানুষেরই কাঁচা চুল পেকে যেতে সময় নেবে না।”
ধুস, ক’টা চুলই বা অবশিষ্ট আছে আপনার ওই মাথায়? প্রায় সবটাই তো উপড়ে নিয়েছেন আপনার তিন্নির মা। বাকি যে ক’টা আছে…”
ঠিক আছে, ঠিক আছে।” স্ত্রীর হাতে হেনস্থা হবার ব্যাপারটা ধরা পড়ে যাওয়ায় সুধাংশুবাবু আমতা আমতা করে শুধোলেন, “তাহলে কী করবেন শুনি?”
“একটু ফুঁ দেব আপনার ওই ঘেমো চাঁদিতে।”
“খামোখা ফুঁ দেবেন কেন? ফুঁ দিয়ে চাঁদি ঠাণ্ডা করে দেবেন? নাকি ফুঁ দিয়ে বাকি চুলগুলো…” সুধাংশুবাবু অবাক গলায় বললেন।
“হেঁ হেঁ হেঁ, আমার ফুঁয়ে যাদু আছে মশাই। একবার যদি ফুঁ দিই আপনার ওই চাঁদিতে, এই জীবনে কোনও কিছুই আর ভুলবেন না। সবকিছুই গল্পের বইয়ের পাতা হয়ে জমতে থাকবে আপনার মগজে। ইচ্ছে হলেই টুক করে পড়ে নিতে পারবেন দু-চার পাতার গপ্পো। তবে মশাই, আগে থেকে একটা ব্যাপার বলে রাখি আপনাকে। ফুঁ দেবার সময় একদম মাথা নাড়াবেন না। তাহলে কিন্তু ঠিক এর উলটোটাই ঘটবে। তখন এক পলক আগে ঘটে যাওয়া ঘটনাও আপনার আর মনে থাকবে না। তাই আগাম সাবধান করে দিলাম। হেঁ হেঁ হেঁ।”
“তাহলে দিন ফুঁ। কথা দিলাম, একচুলও নড়ব না।” বলে ফুঁ নেবার জন্য মাথা নত করলেন সুধাংশুবাবু।
মানুষটা যেই মুহূর্তে মাথায় ফুঁ দিয়েছেন, সুধাংশুবাবুও ঠিক তখনই লাল পিঁপড়ের পেল্লায় কামড় খেলেন পায়ের পাতায়। তাতেই ‘উরে বাবা’ বলে সামান্য নড়ে যেতেই মানুষটার ফুঁ এসে পড়ল তাঁর মাথার ডানদিকে, একেবারে ডান কানের পিছনে। মানুষটাও অমনি এক লাফে দশ হাত পিছিয়ে গিয়ে বললেন, “এত করে সাবধান করে দিলাম, তবুও মাথা নাড়িয়ে ফেললেন তো! মারাত্মক ভুল করে বসেছেন মশাই। এরপর যা যা ঘটবে তার দায় কিন্তু আমি নেব না। এখন থেকে ঠিক উলটোটাই ঘটবে আপনার জীবনে যেমনটা একটু আগে বললাম।”
অবাক কাণ্ড! সুধাংশুবাবু নিমেষেই ভুলে গেলেন কোথায় যাচ্ছেন, কেন যাচ্ছেন। শুধু দেখছেন, তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে একটা মানুষ নিজের মুণ্ডু দেখিয়ে লাগাতার ঘ্যানঘ্যান করে চলেছেন, “নিন মশাই, এবার আমার মাথায় গাঁট্টা মেরে পরখ করে দেখে নিন হাত নোংরা হয় কি না। কই মশাই, মারুন গাঁট্টা! একবার মেরেই দেখুন না মশাই।”
সুধাংশুবাবু শুনেও যেন শুনতে পেলেন না মানুষটার কথা। শুনতে না পেয়ে মানুষটার কথায় এতটুকুও আমল না দিয়ে আপন মনে হাঁটতে শুরু করলেন উলটো পথ ধরে। এখন সবকিছু কেমন যেন অচেনা লাগছে তাঁর। হাঁটতে হাঁটতে ভাবছেন, এ কোন জায়গায় এলাম! এখানে কি বেড়াতে এসেছি? নাকি অফিসের কাজ নিয়ে? তাই বা কেন হবে? হাতে তো তেমন কিছুই নেই যে যা দেখে বুঝতে পারব অফিসের কাজে এসেছি। যাক গে, মরুক গে, এগোতে থাকি সামনের দিকে। একসময় ঠিক মনে পড়ে যাবে বেড়াতে এলাম, নাকি অফিসের কাজ নিয়ে।
ভাবনা ছেড়ে সুধাংশুবাবু হাঁটায় মন দিলেন। অচেনা অজানা স্থানে এসে সব মানুষেরা যা করে থাকেন, সুধাংশুবাবুও ঠিক সেটাই করলেন। এখানকার সাইনবোর্ডে লেখা গলির নাম, রাস্তার নাম, দোকানের নাম পড়তে পড়তে হাঁটতে থাকলেন সামনের দিকে। বারেন্দ্রগলি, রামপ্রসাদের স্নানের ঘাট, হালিশহর পৌরভবন, হাপুইয়ের আটা চাক্কি, ‌বাঁধা ঘাট, ঘন্টুর মার্বেল প্যালেসーএকটানা হেঁটেই চলেছেন নাক বরাবর। কোথায় যাচ্ছেন, কেন যাচ্ছেন সেসব এখনও মনে করতে পারেননি।
যখন বলদেঘাটা দিয়ে আপন মনে হেঁটে যাচ্ছেন তখনই কেউ একজন ছুটে এসে তাঁকে পথের মাঝে দাঁড় করিয়ে একটা ছাতা ধরিয়ে দিয়ে করুণা দেখিয়ে বলল, “আহা রে, খামোখা এতটা পথ তেতেপুড়ে ফিরে আসতে হল আপনাকে। এই নিন আপনার ছাতা। যা ভুলোমনা আপনি! ফেলে এসেছিলেন রেশন অফিসে।”
সুধাংশুবাবু কিছু বলার আগেই লোকটা ধাঁ করে মিলিয়ে গেল রেশন অফিসের ভিতর। অগত্যা ছাতা হাতে হাঁটতে থাকলেন সামনের দিকে। তিনি খেয়াল করেননি, বাঁশঝাড়ের কাছে উদয় হওয়া সেই মানুষটাও চলছে তাঁর সঙ্গে সঙ্গে। একসময় মানুষটার দয়া হতে সুধাংশুবাবুকে ধরে ঘুরিয়ে দিলেন আবার উলটোদিকে। সুধাংশুবাবু তার কিছুই টের পেলেন না। তিনি ক্রমাগত হেঁটেই চলেছেন সাইনবোর্ড পড়তে পড়তে। বলদেঘাট, ঘন্টুর মার্বেল প্যালেস, বাঁধা ঘাট, হাপুইয়ের আটা চাক্কি, হালিশহর পৌরভবন, রামপ্রসাদের স্নানের ঘাট, বারেন্দ্রগলি…
বাঁশঝাড়ের কাছে এসে থমকে দাঁড়িয়ে পড়লেন। চেনা চেনা লাগছে না! খানিকক্ষণ চেনার চেষ্টা করে একসময় ফিক করে হেসে ফেললেন নিজেরই নির্বুদ্ধিতায়। ধুস, সব বাঁশঝাড়ই তো একরকম দেখতে। কথাটা ভেবে আপন মনে হাসতে হাসতে আবার হাঁটতে থাকলেন। রাস্তার ডানদিকে নাম না জানা একটা বড়ো পুকুর, ইট-বালির গোলা, দোলতলা বারোয়ারি ক্লাব,  আধ বোজানো ডোবা…

তিন্নির মা এতক্ষণ ঘরবার করছিলেন। মানুষটা এখনও ফিরে কেন এল না! সেই কোন সকালে বেরিয়েছেন রেশন কার্ড নিয়ে।
ঠিক তখনই সুধাংশুবাবু ওই পথ দিয়েই আরও এগোচ্ছিলেন সামনের দিকে। তিন্নির মা দেখেই ছুটে এসে তাঁকে ধরে করে থামিয়ে দিয়ে বলে উঠলেন, “এই তপ্ত দুপুরে কি বুড়োর মর্নিং ওয়াকের শখ হয়েছে! এই কড়া রোদে লোকে ঘর থেকে বেরোতে ভয় পাচ্ছেন আর উনি কি না… রেশন কার্ড সংশোধন করে এনেছ? চলো চলো, ঘরে গিয়ে পাখার তলায় বসে আগে জিরিয়ে নাও তুমি। তারপর সবটা খুলে বোলো আমাকে। আহা রে, মানুষটা তেতেপুড়ে ঘেমেনেয়ে একশা হয়ে আছে।” বলা শেষ করে তাঁকে টানতে টানতে নিয়ে ঢুকে পড়লেন একটা বাড়ির ভিতর।
সুধাংশুবাবু ভাবছেন, একজন অচেনা মহিলা তাঁর হাত ধরে আচমকা টানাটানি জুড়ে দিলেন কেন? এর পিছনে কোনও মতলব নেই তো! মহিলাটির সঙ্গে যাওয়াটা কি ঠিক হবে? এসব ভাবতে ভাবতে তিন্নির মায়ের সবল হাতের টানে একসময় ঢুকেও গেলেন বাড়ির ভিতর। ঘরে ঢুকিয়ে এনে সোফায় বসিয়ে সিলিং পাখা চালিয়ে দিলেন তিন্নির মা। সুধাংশুবাবু হাঁ করে দেখছেন তাঁকে। মহিলাটিকে চেনা চেনা লাগছে অথচ কেন মনে করতে পারছেন না কোথায় দেখেছেন, কবে দেখেছেন! তারপর ভাবলেন, নিশ্চয়ই চেনাজানা কেউ হবেন। নইলে খামোখা হাত ধরে টানতে টানতে এই বাড়িতে ঢুকিয়ে এনে এত আদরযত্ন করবেন কেন?
তিন্নির মা রান্নাঘরে গিয়েছিলেন এক গেলাস মিছিরির শরবত আনতে। সুধাংশুবাবু হাওয়া খেতে খেতে ঘরের সর্বত্র চোখ বোলাচ্ছিলেন। আচমকা চোখ আটকে গেল দেয়ালে ঝোলানো একটা ছবির ওপর । ছবিতে এই মহিলাটি রয়েছেন। বসে আছেন যার পাশে তিনি যে হুবহু তাঁরই মতো দেখতে! তাই বলি, মহিলাটি নিশ্চয়ই ভুল করে তাঁকে ধরে এনেছেন রাস্তা থেকে। ভাবনায় ডুবে থেকে সুধাংশুবাবু দেখেন, মহিলাটি হাসি হাসি মুখ করে একটা গেলাস এগিয়ে ধরলেন তাঁর দিকে। সুধাংশুবাবু অবাক চোখে তাকিয়ে আছেন দেখে তিন্নির মা এবার স্বমূর্তি ধারণ করলেন। “অমন হাঁ করে তাকিয়ে না থেকে গেলাসটা ধরো। নাও, ধরো বলছি! নইলে আমি কিন্তু…”
কে আপনি?” সুধাংশুবাবু আর চুপ করে থাকতে পারলেন না।
তিন্নির মা রাগে দাঁত কড়মড় করতে করতে জবাব দিলেন, “তোমার যম।”

_____

অলঙ্করণঃ মৈনাক দাশ

No comments:

Post a Comment