ছোটো গল্পঃ সিরো - সায়ন্তনী পলমল ঘোষ


সিরো


সায়ন্তনী পলমল ঘোষ


আমার নাম সোমসুন্দর দে। সবাই আমায় ভালোবেসে ডাকে সিরো। জানো তো, বাবা ছাড়া আমার আর কেউ নেই এই দুনিয়ায়। আমার বাবা সোমরাজ দে একজন জিওলজিস্ট। বাবাকে মাঠেঘাটে, পাহাড়-পর্বতে ঘুরে বেড়াতে হয়। তবে তাতে আমার কোনও দুঃখ নেই কারণ, বাবার সঙ্গে সঙ্গে আমিও ঘুরে বেড়াই সব জায়গায়। আমি তো স্কুলে যাই না, তাই বাবার সঙ্গে ঘুরে বেড়াতে আমার কোনও অসুবিধা হয় না। বাবা যখন ব্যস্ত থাকে, তখন ন্যানি আমাকে দেখাশোনা করে। এখন আমি বাবার সঙ্গে কিলাগড় নামে একটা জায়গায় এসেছি। এখানে যারা বাবার সঙ্গে এসেছে, সবাই আমাকে আদর করছে। ন্যানি তো সবসময় আমাকে আগলে রাখছে। সবাই বলছে জায়গাটা রুক্ষ। দূরে ওই কালো কালো পাহাড়গুলো মাথা উঁচিয়ে আছে। লাল লাল পাথর ছড়ানো মাঠের মধ্যে ন্যাড়া ন্যাড়া গাছগুলো একলা একলা দাঁড়িয়ে আছে ঠিক আমার মতো।


***


তাঁবুর বাইরে পাতা ফোল্ডিং চেয়ার-টেবিলে বসে আছেন জিওলজিস্ট সোমরাজ দে, তাঁর সহকারী জিগর পাটিল ও বিবেক দুবে, আর একজন জাপানি বিশেষজ্ঞ মিস্টার আবে। সকলেরই বয়স চল্লিশের মধ্যে। অন্যান্য লোকজন আশেপাশেই আছে। মিস্টার আবে একদৃষ্টিতে সামনের দিকে তাকিয়ে আছেন।

“ওই প্রাসাদটাই অভিশপ্ত, তাই না মিস্টার দে?” প্রশ্ন করলেন আবে।

“সেরকমই তো শুনছি। তাই তো আমাদের থাকার ব্যবস্থা হয়েছে তাঁবুতে।” সোমরাজ উত্তর দিলেন।

“স্যার, ব্যাপারটা আমাদের একটু ডিটেলে বলুন না।” দুবে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।

একটু নড়েচড়ে বসে সোমরাজ বলতে আরম্ভ করেন, “তাহলে শুনুন। আমিও খুব বেশি কিছু জানি না। আমি মিস্টার রাওয়ের কাছ থেকে যেটুকু শুনেছি তাই বলছি।

“আমাদের সামনে যে প্রাসাদটা দেখছেন, এর নাম ছোটা হাভেলি। বড়া হাভেলি আছে কিলাগড়ের ভেতরে। আমরা কিলাগড়ের বাইরে তাঁবু ফেলেছি আমাদের কাজের সুবিধার জন্য। তো যা বলছিলাম, এই হাভেলিগুলো অনেক পুরনো। হাভেলির মালিক এখানকার জমিদার। এখন জমিদারি আর নেই, কিন্তু ওঁদের ঠাট-ঠমক সবই বজায় আছে। অনেক ব্যাবসা-ট্যাবসা আছে শুনেছি। স্থানীয় লোকজন এখনও ওই রাণা পরিবারকে এলাকার রাজা বলে মানে।

“যাই হোক, এই হাভেলি চত্বরে একটা শিবমন্দির আছে। প্রতিবছর শিবরাত্রির সময় এখানে বিশাল ধুমধাম করে মেলা বসত, উৎসব হত এই মন্দিরকে ঘিরেই। দূর দূর থেকে লোক আসত। তখন জমিদার বাড়ির সমস্ত লোকজন, আত্মীয়স্বজন সব বড়া হাভেলি ছেড়ে এই ছোটা হাভেলিতে কিছুদিনের জন্য চলে আসতেন। বছরের অন্য সময় প্রায় বন্ধই পড়ে থাকত বা ব্যাবসার প্রয়োজনে ব্যবহার হত। বাইরের লোকজন এলে অনেক সময় তাদের থাকার বন্দোবস্ত হত। এরকমই চলছিল।

“আজ থেকে প্রায় বছর চল্লিশ আগে যথারীতি শিবরাত্রির সময় জমিদারবাড়ির সকলে এখানে এসে উঠেছেন। তৎকালীন যিনি জমিদারই বলো আর পরিবারের কর্তাই বলো, তাঁর একটি সতেরো বছরের পাগলি মেয়ে ছিল। আমি যতদূর বুঝেছি, মেয়েটি জন্ম থেকেই অ্যাবনর্ম্যাল ছিল। শিবরাত্রির উৎসব নিয়ে সবাই যখন মত্ত তখন মেয়েটি কীভাবে যেন হাভেলির ছাদ থেকে পড়ে মারা যায়। অনেক সময় হয় না, সবচেয়ে দুর্বল সন্তান বাবা-মায়ের খুব আদরের হয়। তেমনি ওই বিন্দিয়া নামের মেয়েটি ওর বাবা নারায়ণ রাণার খুব প্রিয় ছিল। বাবা যেমন মেয়েকে ভালোবাসতেন, তেমনি ওই মেয়ে অ্যাবনর্ম্যাল হলেও বাবা বলতে অজ্ঞান ছিল। তো তারপর মনের দুঃখে নারায়ণ রাণা এই হাভেলিকে একপ্রকার পরিত্যক্তই করে দেন। রক্ষণাবেক্ষণ হত, কিন্তু আর কেউ এখানে কখনও বসবাস করত না বা এখানে কোনও কাজ হত না। শিবমন্দিরে ওই পুজোটুকু শুধু হত। নারায়ণ রাণা কিলাগড় গ্রামের ভেতর নতুন করে অনেক বড়ো মন্দির বানান এবং এখন ওই মন্দিরকে কেন্দ্র করেই শিবরাত্রির উৎসব হয়। এরকমই চলছিল।

“এভাবেই বছরের পর বছর কেটে গেছে। ধীরে ধীরে রাণা পরিবারের বংশধররা কিলাগড়ের স্থায়ী আবাস ছেড়ে শহরে চলে যায়। পালাপার্বণে বড়া হাভেলিতে এসে থাকে।

“এবার হল কী, আজ থেকে বছর পনেরো আগে নারায়ণ রাণা মারা যাবার পর ওঁর এক নাতি পরিবারের বাকি সদস্যদের কাছে প্রস্তাব দেয় যে ছোটা হাভেলি এতদিন ধরে শুধু শুধু পড়ে আছে, রক্ষণাবেক্ষণ করতে খরচ হচ্ছে কিন্তু একটা দিনের জন্যও ওখানে কেউ থাকে না, তাহলে বাড়িটায় হোটেল খুললে কেমন হয়। আপনাদের জানা আছে কি না জানি না, কিন্তু এই অঞ্চলে বেশ বিখ্যাত কিছু মন্দির আছে। শুধু তাই নয়, প্রাকৃতিক কারণেও ধারে-পাশের বেশ কিছু জায়গা বিখ্যাত। ফলে টুরিস্টরা এদিকে ঘুরতে আসে। সবকিছু মিলিয়ে ছেলেটি মানে সুরেন্দ্র রাণা নিজ দায়িত্বে বাড়িটাকে ব্যবসায়িক কাজে লাগাতে চায়। পরিবারের বাকি খুশি মনেই ওকে অনুমতি দেন।

“ছেলেটি বেশ করিৎকর্মা। অল্পদিনের মধ্যেই সব ব্যবস্থা করে ফেলল। সরকারি তরফেও ভালো যোগাযোগ করে ফেলেছিল ছেলেটি। ফলে প্রথমেই কিলাগড়ে যে ব্যাঙ্কটির শাখা তৈরি হচ্ছিল, সেই ব্যাঙ্ককে স্টাফ কোয়ার্টার হিসেবে ভাড়া দিয়ে দিল। ব্যাঙ্ক ম্যানেজার তাঁর স্ত্রী আর দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে এসে উঠলেন ওই হাভেলিতে। আরও দু’জন স্টাফ একসঙ্গে অন্য অংশে থাকতেন। একদিন হঠাৎ ম্যানেজারের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে উধাও হয়ে গেল ওই হাভেলি থেকে। তার কোনও খোঁজ পাওয়া গেল না। সবাই ভাবল ছেলেধরা ধরে নিয়ে গেছে। ম্যানেজার ট্রান্সফার নিয়ে চলে গেলেন এখান থেকে। পরবর্তী ম্যানেজার এলেন আর নতুন ক্যাশিয়ার এলেন পরিবার নিয়ে। ক্যাশিয়ারের একটি ছোটো বোন ছিল। সে ছুটিতে দাদার কাছে বেড়াতে এসেছিল। হঠাৎ একদিন সেই কিশোরী মেয়েটিও উধাও হয়ে যায়। আগের বারের মতো এরও কোনও খোঁজ পাওয়া গেল না। এবার আর কোনও ব্যাঙ্ক কর্মী ওই বাড়িতে থাকতে রাজি হয়নি। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ বাড়িটা ছেড়ে দেয়।

“এরপর প্রায় পাঁচ বছর ছোটা হাভেলি পড়ে থাকে। তারপর আবার সুরেন্দ্র বাড়িটাকে ব্যবহারের চেষ্টা করে। ওর পরিচিত একদল টুরিস্ট আসে এখানে ঘুরতে। ওই দলে এক বৃদ্ধ ছিলেন। একদিন বিকেলের দিকে তিনিও উধাও হয়ে যান। আগের ঘটনাগুলোর মতো এবারও কোনও সূত্র পাওয়া যায় না। সবাই বলে পাগলি বিন্দিয়ার আত্মা এইসব কিছুর পেছনে রয়েছে।”

এতদূর বলে সোমরাজ থামলেন।

“মিস্টার দে, আপনি এগুলো বিশ্বাস করেন?” প্রশ্ন করেন মিস্টার আবে।

“আমার বিশ্বাস-অবিশ্বাসে কী এসে যায়? তিনটে মানুষ পেছনে কোনও সূত্র না রেখে বেমালুম গায়েব হয়ে গেছে, এটাই সত্যি। হয়তো আছে কিছু ওই হাভেলিতে।” উদাস হয়ে বললেন সোমরাজ।

“নমস্তে, আমি দিওয়ান গুলাব সিং। এই কিলাগড় এস্টেটের দিওয়ান। আপনাদের মতো পড়ালিখা  জানা মানুষদের সঙ্গে আলাপ করার লোভ সামলাতে পারলাম না।” শেরওয়ানি আর পাগড়ি পরিহিত দীর্ঘদেহী একজন মানুষ এসে দাঁড়ালেন সোমরাজদের কাছে।

সবাই প্রতি নমস্কার করলেন। গুলাব সিংয়ের বয়স প্রায় পঞ্চাশ, কিন্তু তাঁর ঋজু দেহের গড়ন দেখে তা বোঝার উপায় নেই। কাজের লোকদের একটা চেয়ার এনে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন সোমরাজ।

গুলাব সিং বেশ মিশুকে লোক। হাসতে হাসতে বললেন, “এখন তো আর এস্টেট নেই, তবুও আমাদের উপাধি দিওয়ান। ঠিক করে বলতে গেলে আমি এখানকার প্রাক্তন জমিদারদের বর্তমান ম্যানেজার। তাঁদের অনুপস্থিতিতে তাঁদের এখানকার সম্পত্তির দেখাশোনা করি।”

“ওঁরা কেউ এখানে থাকেন না?” জিগর প্রশ্ন করেন।

“নাহ্‌, সবাই শহরে শিফট করে গেছেন। অনেকে আবার বিদেশে। শহরেও বিশাল বড়ো বড়ো হাভেলি আছে ওঁদের।”

ধীরে ধীরে গল্প জমে উঠল। কথাবার্তা সব হিন্দিতেই হচ্ছিল। মিস্টার আবেও হিন্দি বুঝতে পারেন মোটামুটি।

“আচ্ছা মিস্টার সিং, আপনাদের এই ছোটা হাভেলির গল্পগুলো কি সত্যি? ওই লোকজনের নিরুদ্দেশ হওয়ার ব্যাপারটা…” বিবেক প্রশ্ন করেন।

“গল্প নয় সাহেব, সত্যি। আপনারা কি ঘটনাগুলো জানেন?”

“হুম। একটু আগে স্যার বলছিলেন।” বিবেক উত্তর দিলেন।

“আপনি সব জানেন স্যার?” সোমরাজের দিকে ঘুরলেন গুলাব সিং।

“হ্যাঁ, আমার একজন সহকর্মীর কাছে শুনেছি। শেষ যে বৃদ্ধ নিখোঁজ হয়েছিলেন উনি সম্পর্কে তাঁর ভাইপো হন।” সোমরাজ বললেন।

“তাহলে তো আপনার সবই জানেন। পাগলি বিন্দিয়ার আত্মা মানুষগুলোকে যে কোথায় টেনে নিয়ে যায় কেউ জানে না।” একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন গুলাব সিং।

“আজকের দিনে এসব ভূত-টুত আপনি বিশ্বাস করেন?” জিগর প্রশ্ন করেন।

“সাহেব, আপনারা পড়ালিখা জানা শহরের মানুষ। আপনাদের চিন্তাভাবনার সঙ্গে আমাদের তো দেহাতি মানুষদের অনেক তফাত। আমরা এসব শুধু বিশ্বাসই করি না, রীতিমতো ভয় পাই।” কথা বলতে বলতে গুলাব সিংয়ের নজর পড়ল একটা তাঁবুর দরজায়। “ইনি?”

“স্যারের ছেলের গভর্নেস মিস প্রিয়া।” বিবেক উত্তর দিলেন।

“ও, আপনার ফ্যামিলিও এখানে এসেছে? কী সৌভাগ্য আমাদের।”

গুলাব সিংয়ের কথার উত্তরে সোমরাজ মুখে কিছু না বলে চুপচাপ সেখান থেকে উঠে গেলেন।

“কী হল? স্যার কি কিছু মনে করলেন?” গুলাব সিং একটু অবাক হন।

“আসলে স্যারের ফ্যামিলি বলতে শুধু ছেলে। ছেলের জন্মের সময় স্ত্রী মারা গেছেন। ছেলেও পরিষ্কার করে কথা বলতে পারে না। জড়িয়ে জড়িয়ে বলে। অ্যাবনর্ম্যাল। তাই তো স্যার সঙ্গে নিয়েই সাইটে সাইটে ঘোরেন।” জিগর উত্তর দিলেন।

“ও। আমি সাহেবের মনে বোধ হয় দুঃখ দিয়ে ফেললাম। আচ্ছা আজ আমি উঠি।”


***


আমার ন্যানি ঘুমোচ্ছে। বাবারা ওই পাহাড়গুলোর কাছে গেছে। বাবা কী যেন সব খোঁজে পাহাড়ে, মাটির নিচে। এখন আমি একদম একা। আমার ঘুম আসে না। আমি তাঁবুর বাইরে বেরিয়ে এলাম। এখন শীতকাল, তাই ন্যানি আমাকে ফুল হাতা সোয়েটার, প্যান্ট, হনুমান টুপি, জুতো-মোজা আর গ্লাভসে ঢেকে রেখেছে। সামনের ওই মস্ত বড়ো বাড়িটাতে আমি যাব এখন। ন্যানি জেগে গেলে আর যাওয়া হবে না।

গুটি গুটি পায়ে আমি গিয়ে ঢুকলাম ওই বিশাল বাড়িটার চত্বরে। বিরাট উঁচু পাঁচিল, কিন্তু ছোট্ট একটা গেট খোলাই আছে। কোথাও কোনও লোকজন নেই। একদম নির্জন, নিস্তব্ধ। আমি বাড়িটার চারদিকে ঘুরতে লাগলাম। ঘুরতে ঘুরতে পেছন দিকে চলে এলাম। ওই ঝোপের পাশের বেদীটায় লাল ঘাগরা পরা একটা  দিদি বসে পা দোলাচ্ছে। ও আমাকে হাতছানি দিয়ে ডাকল, “আও ভাইয়া।”

আমি এগিয়ে গেলাম ওর দিকে।

“এ লো।”

ও আমাকে লাড্ডু দিচ্ছে, কিন্তু আমি তো খাই না। আমি মাথা নাড়লাম।

“লো না।”

আমি জড়িয়ে জড়িয়ে বললাম, “না।”

“খেলোগে মেরে সাথ?” মিষ্টি করে জিজ্ঞেস করল দিদিটা।

আমি মাথা ঝাঁকিয়ে ঝাঁকিয়ে ঘড়ঘড়ে স্বরে বললাম, “হুম।”

দিদিটা উঠে পড়ল। “আও ভাইয়া।” তার চোখদুটো চকচক করে উঠল।

সিঁড়ি দিয়ে আমি নেমে চলেছি দিদিটার সঙ্গে। বেশ অন্ধকার এখানে, কিন্তু আমার কোনও অসুবিধা হচ্ছে না। দিদিটা বলেছে, এখানে নাকি লুকোচুরি খেলা হবে।

মাটির নিচে একটা অন্ধকার ঘরে নেমে এলাম আমরা। দিদিটা একটা মোমবাতি জ্বালিয়ে দিল।

“ভাইয়া, হম অভি এক মজে করেঙ্গে।”

আমি ঘাড় নাড়লাম। আমাকে যে যা বলে আমি তাই করি। নিজে থেকে তো কিছু করতে পারি না।  সবাই বলে আমি অন্যদের চেয়ে আলাদা।

দিদিটা প্রথমে আমার হাতদুটো দড়ি দিয়ে বাঁধল। তারপর পা। আর তারপর আমার মুখে একটা টেপ আটকে দিয়ে বলল, “অভি হম চলতে হ্যায়। খেল খতম করনেকে লিয়ে ফির মিলেঙ্গে।”

হাসতে হাসতে দিদিটা চলে গেল।


আমি চুপচাপ একইভাবে বসে আছি। ঘরের এককোণে অনেকগুলো পেটি আছে। কী আছে তাতে আমি জানি না। মোমবাতিটা বহু আগেই নিভে গেছে। আমার কিন্তু একটুও ভয় লাগছে না। এখন নিশ্চয়ই অনেক রাত। এই ঘরের একটা ভারী লোহার দরজা আছে। সেটা ওই দিদিটা টেনে বন্ধ করে দিয়ে গেছে।

দরজাটা খুলে গেল। দিদিটা আবার এসেছে। আলো নিয়ে এসেছে। সঙ্গে আরও দুটো ভয়ানক চেহারার লোক ঢুকল, আর সবার পেছনে একজন লম্বা মানুষ। এঁকে আমি চিনি। কাল বিকেলে বাবাদের সঙ্গে ইনি গল্প করছিলেন। খিকখিক হাসছেন উনি।

“সত্যিই, এবারের মতো এত সহজ শিকার আর পাইনি। আগের সব বারে শিকাররা এই হাভেলিতেই ছিল, কিন্তু তাদের ফাঁদে ফেলতে অনেক পাঁপড় বেলতে হয়েছিল। আর এবারে শিকার বাইরে থেকে নিজে পায়ে হেঁটে চলে এল।” আমার দিকে তাকিয়ে কথাগুলো বলার পরেই উনি লোক দুটোর দিকে ঘুরে হাসতে হাসতে বললেন, “আজ রাতেই এটাকে সরিয়ে ফেল। এবারে নাকি আরও জোরে তল্লাশি হবে। কাল সকালে পুলিশ পুরা হাভেলি তোলপাড় করবে এই জড় পদার্থটার জন্য। আস্ত একটা বড়ো মানুষ, ছটফটে একটা কিশোরী মেয়েকে উধাও করে দিলাম, আর এই পাগলটা... হুহ্‌। নিয়ে চল এটাকে।”

লোক দুটো এগিয়ে আসছে আমার দিকে। আমি উঠে দাঁড়ালাম। লোক দুটো বিস্ময়ে হাঁ হয়ে গেল, “বস, এর বাঁধন খুলল কী করে! হাত-পা সব খোলা!”

“কী বকছিস? যখন ঢুকলাম তখনও তো বাঁধা ছিল।” চিৎকার করে উঠল সেই লম্বা লোকটা।

আমি ততক্ষণে মুখের টেপটাও খুলে দিয়েছি। সবার চোখ দুটো যেন ঠেলে বেরিয়ে আসছে।

“ধর তাড়াতাড়ি! এ তো শয়তানের বাচ্চা আছে।” ফুঁসে উঠল লম্বা লোকটা।

অন্য লোক দুটো আমার একদম কাছে চলে এসেছে। ওরা আমার দিকে হাত বাড়াল আর আমিও ওদের দিকে বাড়িয়ে দিলাম আমার হাত দুটো। আমার দস্তানা ভেদ করে একটা করে আঙুল গিয়ে ঢুকল ওদের শরীরে। লোক দুটো আর্তনাদ করে উঠল।

“কী হল?” চেঁচিয়ে উঠল লম্বা লোকটা।

“বস, এ সত্যিই শয়তানের বাচ্চা!”

“আঁ আঁ আঁ।” সেই দিদিটা চিৎকার করে খোলা দরজা দিয়ে বেরিয়ে গেল। কিন্তু কয়েক সেকেন্ড পরেই আবার ছুটে এসে ঘরটায় ঢুকল। রীতিমতো কাঁপছে। “বস…” ভয়ে কথা বলতে পারছে না সে।

দরজা দিয়ে একে একে অনেক লোক ঢুকল। প্রথমে বিবেক আঙ্কেল আর জিগর আঙ্কেল, তারপর আমার বাবা, মিস্টার আবে, ন্যানি, আরও কয়েকজন। পুলিশের পোশাক পরা অনেকেও আছেন। প্রায় সবার হাতে পিস্তল।

“আপনার খেলা শেষ গুলাব সিং।” বিবেক আঙ্কেল বলে উঠলেন।

লম্বা লোকটার চোখ দুটো ধকধক করছে। “আপনারা এসব কী বলছেন? আমি আমার লোকজন নিয়ে দে সাহেবের ছেলেকে খুঁজে বের করলাম, আর আপনারা উলটোপালটা বলছেন!”

“তাই নাকি? আপনি সিরোকে খুঁজে বের করেছেন!” বাবা ব্যঙ্গ করে বললেন।

“নাটক করে আর কোনও লাভ নেই মিস্টার সিং। এই পেটিগুলোতে কী আছে? ব্রাউন সুগার নিশ্চয়ই?” পুলিশের পোশাক পরা একজন বললেন।

“আপনাকে আর ধোঁয়াশায় রাখব না। সত্যিটা আপনাকে বলেই ফেলি।” জিগর আঙ্কেল বললেন।


***


শুধু ছোটা হাভেলি থেকে মানুষ উধাও হওয়াই নয়। ধীরে ধীরে এই অঞ্চলে ভালোমতো ড্রাগের চোরাচালান শুরু হয়েছিল। পুলিশ কিন্তু কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছিল না চোরাচালানকারী দলের পাণ্ডা কে বা কোথা থেকে এসব হচ্ছে। এদিকে সুরেন্দ্র রাণা কিন্তু বসে ছিল না। সে খুব একরোখা, জেদি আর আত্মসম্মান বোধ প্রবল। সে নতুন করে ছোটা হাভেলি খুলেছিল, আর সেখান থেকেই জলজ্যান্ত তিনটে মানুষ উধাও হয়ে গেল এটা সে কিছুতেই মেনে নিতে পারছিল না। বহুবছর ধরে সে এই রহস্য সমাধানের জন্য সরকারি মহলে গোপনে যোগাযোগ করে চলছিল। এদিকে মাস ছয়েক আগে এক পুলিশ অফিসার এদিকের চোরাচালানকারী দলকে সনাক্ত করার ব্যাপারে গোপন অভিযানে অনেকটা এগিয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু অল্পদিন চাকরিতে যোগ দেওয়া অফিসারটি অতি উৎসাহে কিছু ভুল পদক্ষেপ নিয়ে ফেলেন। ফলে চোরাচালানকারীরা শুধু সাবধানই হয়ে যায় না, তাঁকে খুনও করে।  অফিসারটি কাউকে কিছু জানিয়ে যাওয়ার সুযোগটুকুও পাননি। শুধু তাঁর এক সহকর্মীকে একবার জানিয়েছিলেনযে ছোটা হাভেলির ব্যাপারগুলো নিয়ে তাঁর ঘোরতর সন্দেহ হচ্ছে। কিছুদিনের মধ্যেই তিনি তাঁর সন্দেহের সাপেক্ষে প্রমাণ জোগাড় করে ফেলবেন, কিন্তু সে সুযোগ আর তিনি পাননি।

ছোটা হাভেলির পেছনের পাহাড়গুলোতে আকরিক পাওয়ার সম্ভাবনা আছে, তাই এদিকে সার্ভের ব্যাপারে চিন্তাভাবনা শুরু হয় আর সেই সময়ই এখানকার ব্যাপারে সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা গোপন তদন্ত শুরু করার কথা ভাবে। এদিকে আকরিক উত্তোলনের জন্যও উপযুক্ত পরিবেশ চাই। জলজ্যান্ত মানুষ নিখোঁজ হওয়া, খুন এসব চলতে থাকলে কেউ এখানে কাজ করতে চাইবে না। সরকারি টাকা জলে যাবে। আর এদিকে সুরেন্দ্র রাণাও বসে নেই। ছোটা হাভেলির রহস্য ভেদ তাকে করতেই হবে। বিভিন্নভাবে গোপনে সরকারি বিভিন্ন বিভাগে যোগাযোগ হয়ে একটা পরিকল্পনা করা হয়। জিওলজিস্ট সোমরাজ দে এখানে আসেন, কিন্তু ওঁর সহযোগী রূপে এখানে যাঁরা আসেন তাঁরা সবাই গোয়েন্দা অফিসার। এমনকি সিরোর ন্যানি পর্যন্ত। লোকের চোখে ধুলো দিতে স্থানীয় কিছু মজুরও কাজে নেওয়া হয়েছিল, আর সবার স্থির বিশ্বাস ছিল যে এদের মধ্যে চোরাচালানকারী দলের চরও থাকবে কারণ, এই অঞ্চলে এত বড়ো কর্মকাণ্ড তাদের স্বার্থ বিরোধী। লোকজনের সামনে তাই সোমরাজরা এমনভাবে কথাবার্তা, গল্পগুজব করতে থাকেন যে কারুর মনে কোনও সন্দেহের উদ্রেক হয়নি। এক-দুই দিনের মধ্যে নিজেদের উদ্দেশ্য সিদ্ধ না হলে লোকের মনে সন্দেহ হত কারণ, সোমরাজ ছাড়া বাকিরা কেউ জিওলজিস্ট নন। তাই এখানে আসার দ্বিতীয় দিনেই সিরোকে দিয়ে ফাঁদ পাতা হয় এবং এতদিনের এতসব কর্মকাণ্ডের নায়ক গুলাব সিং সেই ফাঁদে খুব সহজেই পা দেয়। গুলাব সিংয়ের পূর্বপুরুষও রাণাদের দিওয়ান ছিল। সেই থেকেই গুলাব সিং কোনোভাবে জানতে পারে যে  এই ছোটা হাভেলির কোথাও একটা গোপন সুড়ঙ্গ আর তার নিচে গোপন ঘর আছে। আর তৈরি হবার পর থেকে ওই সুড়ঙ্গ আর ঘর কখনও ব্যবহার হয়নি। রাণারা স্থায়ীভাবে ওই হাভেলীতে  থাকতেনও না, তাই কালের নিয়মে রাণা বংশের লোকেরা ওই সুড়ঙ্গ আর পাতালঘরের কথা ভুলেই গিয়েছিলেন বা বলা ভালো বর্তমান প্রজন্মের কেউ ওই ঘরের কথা জানেনও না। রাণারা তো দীর্ঘদিন ছোটা হাভেলির পথ মাড়ায়নি। সব দায়িত্ব ছিল গুলাব সিংয়ের ওপর। সেই সুযোগে গুলাব সিং পেছনের পাঁচিলের গায়ের পরিত্যক্ত কিছু ঘরের মধ্যে মাটির তলার ঘরে যাবার রাস্তা আবিষ্কার করে এবং জাঁকিয়ে নিজের অবৈধ ব্যাবসা শুরু করে। কিন্তু মুশকিলে পড়ে যায় সুরেন্দ্র আবার এই হাভেলির ব্যাপারে মাথা ঘামাতে শুরু করায়। সরাসরি তাকে নাও বলতে পারেনি, আবার কোনোভাবে সুরেন্দ্রর ক্ষতি করলে ব্যাপারটা অন্যদিকে মোড় নিয়ে নিতে পারে, তাই কিছু না বলে গুলাব সিং অন্য পথ ধরল। বিন্দিয়ার আত্মার গল্প ছড়াল। আজকে যেমন একটি মেয়েকে দিয়ে সিরোকে ধরে এনেছিল, তেমনি করেই ভরদুপুরে যখন বাড়ি ফাঁকা, শুধু ব্যাঙ্ক ম্যানেজারের স্ত্রী মেয়েকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। কিন্তু বাচ্চা ছেলেটি না ঘুমিয়ে উঠে পড়ে এবং বাইরে বেরিয়ে আসে। তাকে ভুলিয়ে ভালিয়ে ঘুমের ওষুধ মেশানো চকোলেট খাইয়ে অজ্ঞান করে ওই ঘরে নিয়ে গিয়ে শ্বাস রোধ করে মেরে ফেলে। সুযোগ বুঝে মৃতদেহ অনেক দূরে নিয়ে গিয়ে এমন জায়গায় পুঁতে দেয় যে কেউ খোঁজ পায় না। এ অঞ্চল হাতের তালুর মতো চেনা গুলাব সিংয়ের। ক্যাশিয়ারের বোনের ক্ষেত্রেও প্রায় একইরকমভাবে ভরদুপুরে কাজ সারে। গুলাব সিংয়ের উদ্দেশ্য সফল হয়েছিল। ছোটা হাভেলি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু আবার কয়েক বছর পর সুরেন্দ্র টুরিস্ট পার্টিকে থাকতে দিল। আবার গুলাব সিং তক্কে তক্কে রইল। সেদিন বাকিরা সবাই ঘুরতে গিয়েছিল, কিন্তু শরীর খারাপ লাগায় একজন বয়স্ক মানুষ রয়ে যান। যখন দুপুর গড়িয়ে আসছিল, শরীর ভালো লাগায় তিনি হাভেলির বাইরের চত্বরে একটু ঘুরতে বেরোন। কাজের জন্য যে দু-চারজন লোক ছিল, তারাও সেই সময় বিশ্রাম নিচ্ছিল। তাদের মধ্যেও অবশ্য গুলাব সিংয়ের লোক ছিল। তাছাড়া এত বড়ো হাভেলি চত্বর। ব্যস, গুলাব সিংয়ের লোকজন তৈরিই ছিল। বৃদ্ধও নিরুদ্দেশ হয়ে গেলেন। লাশগুলো এমন জায়গায় সরাত যে কেউ হদিস পেত না। ছোটা হাভেলিতে আবার তালা পড়ল আর গুলাব সিংয়ের ব্যাবসার শ্রীবৃদ্ধি ঘটতে লাগল। কিন্তু আবার গুলাব সিংয়ের বাড়া ভাতে ছাই পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হল। এখানে আকরিক উত্তোলন শুরু হলে লোকজনের ভিড় বাড়বে। গুলাব সিংয়ের ব্যাবসার খুব অসুবিধা হয়ে যাবে। এদিকে সার্ভের টিম তো হাভেলির বাইরে তাঁবুতে আছে, তাই অবস্থা বুঝতে গুলাব সিং ভালো মানুষ সেজে আলাপ করতে গেল। সেখানে সিরোর সম্বন্ধে জেনে প্ল্যান করতে লাগল। গুলাব সিংয়ের লোক গোপনে নজর রাখতে লাগল সার্ভে টিমের তাঁবুর ওপর। পরেরদিন যখন সিরো নিজে থেকে হাভেলিতে এল, গুলাব সিং আনন্দে নেচে উঠল। কিন্তু সে বুঝতেও পারেনি যে এবার সে শিকারি নয়, শিকার।


***


“ওয়েল ডান সিরো।” একসঙ্গে বাবা আর মিস্টার আবে বলে উঠলেন। আমি ভাষাহীনভাবে তাকিয়ে রইলাম।

“সত্যিই সিরো অসাধারণ কাজ করেছে। ওকে নিয়ে আসা সার্থক হয়েছে। আপনার ট্রেনিং লাজবাব মিস্টার আবে।” জিগর আঙ্কেল উচ্ছ্বসিত হয়ে বললেন।

“থ্যাঙ্কস।” মিস্টার আবে আমার দিকে তাকিয়ে তৃপ্তির হাসি হাসলেন। আমি চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলাম। গুলাব সিং আমার দিকে জ্বলন্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, কিন্তু আমাকে ভস্ম করার ক্ষমতা ওর নেই।


আমার নাম সিরো। এইচ এম থ্রি সিরিজের একদম অন্যরকম রোবট আমি। বাকি রোবটদের চেয়ে একদম আলাদা। আমার সাইজ একটা বাচ্চা ছেলের মতো, কিন্তু আমার কর্মক্ষমতা বাকিদের চেয়ে অনেক বেশি। আমার সৃষ্টিকর্তা মিস্টার আবে আমাকে নিয়ে ইন্ডিয়া নামের একটা দেশে এসেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল আমার সঙ্গে সবার পরিচয় করান। তারপর কী যেন সব ব্যাপার হল। মিস্টার আবে আমার মেমোরিতে নতুন কিছু জিনিস, কিছু তথ্য ফিড করালেন। একটা নতুন আইডেন্টিটি আমার মেমোরিতে ঢুকিয়ে দিলেন। আমাকে সেই অনুযায়ী আচরণ করার নির্দেশ দিলেন। বেশ সুন্দর একটা ইন্ডিয়ান নাম পেলাম, সোমসুন্দর। আমি জানি সুন্দর মানে নাইস। আমার যান্ত্রিক কন্ঠস্বর লুকোতে আমাকে একটা অ্যাবনর্মাল বাচ্চার পরিচয় দেওয়া হল যে ভালো করে কথা বলতে পারে না। খুব কম কথা বলে। আমার প্রায় পুরো শরীর শীত-পোশাকে মুড়ে দেওয়া হল যাতে কেউ আমার ধাতব শরীর দেখতে না পায়। আমি ইন্সট্রাকশন ফলো করে করে কাজ করে গেলাম। ঠিকঠাক ইন্সট্রাকশন ফলো করার ব্যাপারে আমার জুড়ি পাওয়া দুষ্কর। তারপর আর কী? ওই দুষ্টু লোকটা হাতেনাতে ধরা পড়ে গেল। ও তো আর জানত না যে আমার চোখদুটো আসলে অত্যন্ত শক্তিশালী ক্যামেরা। কোথায় যাচ্ছি, কী করছি সব মিস্টার আবের ল্যাপটপের পর্দায় ভেসে উঠছে, রেকর্ড হয়ে যাচ্ছে সবকিছু আর  প্রয়োজনমতো মিস্টার আবের নির্দেশ পৌঁছে যাচ্ছে আমার কৃত্রিম মগজে। কারুর বোঝার উপায় নেই বাইরে থেকে যে আমার মগজে প্রতিনিয়ত প্রয়োজনীয় নির্দেশ চলে আসছে। সবাই আমার কাজের খুব প্রশংসা করছিল। দরকার ছিল না। কারণ, ইন্সট্রাকশন ফলো করে কাজ করার জন্যই তো আমাদের সৃষ্টি।

কাল আমি ইন্ডিয়া থেকে চলে যাব। মিস্টার সোমরাজ, মিস্টার জিগর, মিস্টার বিবেক আর মিস প্রিয়া আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। আমি আর ওঁদের ড্যাড, আঙ্কেল কিংবা ন্যানি বলে ডাকব না। কারণ, সেই স্মৃতি মুছে দেওয়া হয়েছে আমার মগজ থেকে। ওঁরা আমাকে আদর করলেন আমি চলে যাচ্ছি বলে। ওঁদের প্রতিক্রিয়া দেখে মনে হল একেই বোধ হয় আবেগ বলে। আমি সিরো, একজন না-মানুষ। নাহলে হয়তো আমার এই কৃত্রিম চোখের কোণেও জল জমা হত। ওঁদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো বুকের ধাতব খাঁচায় স্পন্দন তুলত।

___


অঙ্কনশিল্পীঃ মৈনাক মজুমদার

No comments:

Post a Comment