ছোটো গল্পঃ আইরিস আর ঝুমকোলতা - অনন্যা দাশ



আইরিস আর ঝুমকোলতা


অনন্যা দাশ


আমার নাম ঝুম। আসলে ঝুমকোলতা, কিন্তু সবাই ঝুম বলেই ডাকে। ওই ঝুমকোলতা নামটা আমার ঠাকুমা দিয়েছিলেন। বাগানের ঝুমকোলতা গাছটা ঠাকুমার খুব প্রিয় ছিল, তাই সেটার নামেই আমার নাম। এখন অবশ্য সেই বাগানও নেই, আর সেই গাছও নেই। বাবারা সব ভাইবোন মিলে পৈতৃক বাড়িটাকে প্রোমোটারের হাতে তুলে দিয়েছিলেন সেখানে পাঁচতলার ফ্ল্যাট হবে বলে। তাই হয়েছে। দোতলায় দুটো ফ্ল্যাট জুড়ে আমরা থাকি এখন। জেঠু আর পিসি এখানে থাকেন না, তাই ফ্ল্যাট নেননি। এত কথা হয়তো না বললেও চলত, কিন্তু আমার আর আইরিসের কথা বলতে গেলে প্রথম থেকে বলাই ভালো।

আইরিস আমার পিসির মেয়ে। পিসেমশাই ফরেন সার্ভিসে কাজ করেন, তাই সেই সূত্রে তিন বছরের জন্যে পাকিস্তানে বদলি হয়েছেন। আইরিসকে নিয়ে যেতে চান না সেখানে, তাই ঠিক হয়েছে ওই তিনটে বছর আইরিস আমাদের সঙ্গে থাকবে। আইরিস আমাদের বাড়িতে আসার আগের দিন মা-বাবা দু’জনে মিলে আমাকে প্রচুর জ্ঞান দিলেন一আইরিস কোনোদিন মা-বাবাকে ছেড়ে থাকেনি, ওর সঙ্গে ভালো ব্যবহার করবে। মিলেমিশে থাকবে।

এমন আরও কত কী।

আইরিসের সঙ্গে আমার শেষ দেখা অনেকদিন আগে। তাই আমার খুব একটা কিছু তেমন ভালো করে মনে ছিল না। পিসিরা গত তিন বছর নিউ ইয়র্কে ছিলেন, আর আইরিস ওখানকার একটা স্কুলেই পড়ত। এখানে অবশ্য আমাদের স্কুলেই ভর্তি হবে। বাবা কথা বলে রেখেছেন। এমনিতে ওরা কাউকে নিতে চায় না, কিন্তু নিউ ইয়র্কের স্কুল থেকে আসছে শুনে এককথায় রাজি। আমাদের সেকশনের অনুপমা চলে গেছে, তাই মনে হয় আমাদের সেকশনেই আসবে আইরিস।

যেদিন আইরিসের আসবার কথা, সেদিন সকাল থেকেই আমাদের বাড়িতে সাজসাজ রব। আগেরদিনই মা আমার ঘর থেকে বড়ো খাটটা বার করিয়ে দুটো সিঙ্গেল খাট আর দুটো পড়ার টেবিল ঢুকিয়েছেন। আমি আলমারির দুটো তাক খালি করেছি আইরিস নিজের জিনিস রাখবে বলে। উত্তেজনায় সারারাত ভালো করে ঘুমোতে পারিনি আমি।

যথাসময়ে পিসি আর পিসেমশাই আইরিসকে নিয়ে এলেন। আইরিসকে দেখে আমার ভারি ভালো লাগল। কী সুন্দর দেখতে তাকে, ধবধবে ফর্সা গায়ের রঙ, গালগুলো লালচে লালচে, আর ফুরফুরে বাদামি চুল। ওকে দেখে ভারতীয় বলে মনেই হচ্ছিল না। কী দারুণ ইংরেজি বলে সে (বাংলা কথায় অবশ্য বেশ টান আছে)।

আমার সঙ্গে আলাপ হতে বলল, “ঝুম? সেটা আবার কীরকম নাম?”

ঝুমকোলতা শুনে বলল, “এ মা, কী সেকেলে নাম! তবে আমাদের দু’জনের নামই ফুলের নামে, কী মজা না? আমি তো লন্ডনে জন্মেছি। তখন আমরা যে বাড়িটাতে থাকতাম সেটার বাগানে প্রচুর আইরিস ফুল হত। কী সুন্দর দেখতে বেগুনি হলদে মেশানো, আমি ছবি দেখেছি। তাই আমার নাম আইরিস, কী কিউট না?”

আমি হাঁ করে শুনে মাথা নাড়লাম। আমার সঙ্গে ঘর শেয়ার করতে হবে শুনেই নাক সিঁটকালো আইরিস। মাকে আবদারের সুরে বলল, “মামিমা প্লিজ! আমার না, একা একা একটা ঘরে থাকার অভ্যাস। অন্য কেউ ঘরে থাকলে আমার একদম ঘুম আসে না।”

পিসিও বললেন, “হ্যাঁ, ও বরাবর ছোটবেলা থেকেই একা একটা ঘরে থেকে অভ্যস্ত।”

আইরিস চট করে সব ঘরগুলো দেখে এসে বলল, “ওই যে ওপাশের ঘরটা, যেটাতে বড়ো একটা খাট রয়েছে, ওটা হলেই আমার হবে। ওই ঘরটাই আমার পছন্দ হয়েছে।”

মা বললেন, “ওই ঘরটায় তো আমার ভাই এসে থাকে মাঝে মাঝে। ওকে টুরে এখানে আসতে হয় প্রায়ই। তা ঠিক আছে। ঝুমের ঘরে দুটো সিঙ্গেল বেড রয়েছে যখন ও এলে ঝুমের ঘরে থেকে যাবে। আমি কালকেই ভোলাকে দিয়ে ওই ঘরে তোমার জন্যে পড়ার টেবিল চেয়ার দিয়ে দেব।”

তাই শুনে আইরিস মাকে জড়িয়ে ধরে বলল, “থ্যাঙ্ক ইউ মামিমা, আই লাভ ইউ!”

খেতে বসে একগ্রাস মুখে দিয়েই উহ্‌ আহ্‌ করে লাফালাফি জুড়ে দিল আইরিস। ঢকঢক করে এক গেলাস জল খেয়ে ফেলে বলল, “বাপ রে কী ঝাল! মুখ পুড়ে গেল যে!”

মা লজ্জায় লাল হয়ে বললেন, “আহা রে, খুব কষ্ট হয়েছে বুঝি? কাল থেকে শম্ভুর মাকে তরকারিতে ঝাল দিতে বারণ করে দেব।”

পিসি বললেন, “আসলে নিউ ইয়র্কে স্কুলের খাবার খেয়ে খেয়ে ওর ঝালমশলা খাবার অভ্যেসটা একেবারে চলে গেছে। ও কিছু হবে না। দু’দিনে আবার ঠিক হয়ে যাবে।”

পিসি-পিসেমশাই সেদিন রাতটা থেকেই চলে গেলেন।

আইরিস আমার সঙ্গে স্কুলে যাওয়া শুরু করল। ওর ইংরেজিটা খুব ভালো বলে ইংলিশ টিচার ম্যাডাম ঘোষের খুব প্রিয় পাত্রী হয়ে উঠল সে অল্প দিনেই। বাংলা আর হিন্দির জন্যে স্পেশাল টিউশন নিয়ে ওই দুটোকেই রপ্ত করে ফেলল কিছুদিনের মধ্যেই। আইরিস আমার বোন আর বন্ধু বলে আমার নিজেকে বেশ গর্বিত লাগত।

একমাত্র খিঁচ হল আমার প্রাণের বন্ধু রাধিকার আইরিসকে একদম পছন্দ হল না। রাধিকা মুখে কিছু বলল না বটে, কিন্তু ওর হাবভাবেই আমি বুঝতে পারলাম।

আইরিসও বুঝল। সে ঠোঁট বেঁকিয়ে বলল, “হিংসে, বুঝলি? স্রেফ হিংসে। ও আমাকে হিংসে করে।”

আমি রাধিকার পক্ষ নিয়ে বললাম, “বা রে, ও তো তোকে চেনেই না, তাহলে হিংসে করতে যাবে কেন?”

আইরিস একটা রহস্যময় হাসি হেসে বলল, “তুই ওর সঙ্গে না মিশে আমার সঙ্গে মিশছিস, তাই ওর হিংসে হচ্ছে।”

আমার কেন জানি না কথাটা ঠিক ভালো লাগল না।

আইরিস বেশ স্মার্ট আর চটপটে। তাই অল্প দিনে ক্লাসের সবার সঙ্গেই ওর বন্ধুত্ব হয়ে গেল একমাত্র রাধিকা ছাড়া।

স্কুল কামাই আমি বড়ো একটা করি না। আইরিসের কিন্তু মাঝে-মাঝেই সকালে ঘুম থেকে উঠে মাথাব্যথা, পেটে ব্যথা হয়一আর সেই জন্যে স্কুল কামাই হয়। তাতে এমনি কোনও অসুবিধা হয় না, কারণ ক্লাস-ওয়ার্ক, হোম-ওয়ার্ক সবকিছুই আমার কাছ থেকে জেনে যায়।

আমি মাকে কিছু বললে মা বলেন, “ঝুম, ওর হয়তো মা-বাবার জন্যে মনকেমন করে। স্কুলে যেতে ইচ্ছে করে না। কয়েকদিন যাক, সব ঠিক হয়ে যাবে।”

বাবাও কোনও কথা না বলে ওর জন্যে ছুটির অ্যাপ্লিকেশন পাঠিয়ে দেন স্কুলে।

সেবার জেঠু-জেঠিমারা যখন বেড়াতে এলেন, তখন জেঠিমা আমাদের দু’জনকে দোকানে নিয়ে গিয়ে জামা কিনে দিলেন। আইরিস একটা ক্যাটক্যাটে সবুজ রঙের জামা পছন্দ করে নিল আর আমি একটা হালকা গোলাপি জামা নিলাম। ফেরার পথে সারাটা সময় আইরিস জামাদুটোকে নিয়ে নাড়াচাড়া করতে থাকল।

জেঠিমারা চলে যেতেই আইরিস মাকে ধরে ঝুলে পড়ল, “মামিমা, ঝুমের ওই পিঙ্ক জামাটা আমার এখন বেশি ভালো লাগছে। দোকানের আলোতে কেন জানি না এই সবুজটাকে ভালো লাগছিল। তুমি ওকে বলো না প্লিজ আমার সঙ্গে অদলবদল করবে!”

মা হেসে বললেন, “তুইই বল না ওকে। তোদের ব্যাপার আমি কী বলব?”

আইরিস এমন প্লিজ প্লিজ করতে লাগল যে মা বাধ্য হয়ে আমার কাছ থেকে গোলাপি জামাটা নিয়ে ওকে দিয়ে দিতে বাধ্য হলেন। ওই ক্যাটক্যাটে সবুজ জামা তো আমি মরে গেলেও পরব না, তাই দুটো জামাই আইরিসের হয়ে গেল। আমি মনের দুঃখে একটু কাঁদলাম, তাই মার কাছে বকুনিও খেলাম, “ছিঃ ঝুম! কী ভয়ানক স্বার্থপর তৈরি হয়েছ! ও একা একা মা-বাবাকে ছেড়ে এখানে আমাদের সঙ্গে রয়েছে না? একটা জামার জন্যে ওইরকম করতে হয়?”

ম্যাডাম ঘোষ, আমাদের ক্লাস টিচা‌র, আইরিসের ওপর খুশি হয়ে ওকে ক্লাসের মনিটর করে দিলেন। টিচার ক্লাসে না থাকলে সবাই কথা বলে এটা কে না জানে। কিন্তু কে কথা বলছিল সেই লিস্টে বেশিরভাগ সময় রাধিকার নাম আসতে লাগল। আমি বুঝতে পারছিলাম আইরিসের রাধিকার ওপর রাগ, কারণ রাধিকা ক্লাসে ফার্স্ট হয়।

ও আমাকে খালি বলে, “তুই কেন রাধিকার সঙ্গে কথা বলিস? ও ভালো মেয়ে নয়। কী অহংকারী!”

ক্রমে আমি দেখলাম আমার আশেপাশের সবাই কেমন যেন আইরিসের হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। ক্রাফট প্রোজেক্টের জন্যে ক্রাফটটা মা ওকে করে দিল। সায়েন্স প্রোজেক্টটা বাবাকে দিয়ে করিয়ে নিল। আমি নিজে-নিজেই করলাম আমার প্রোজেক্টগুলো। সত্যিই তো, আইরিস তো মা-বাবাকে ছেড়ে রয়েছে।

আমি সবকিছুই মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু তারপর যেটা হল সেটার জন্যে ওকে আমি কোনোদিন ক্ষমা করতে পারব কি না জানি না। আচ্ছা, ব্যাপারটা না হয় খুলেই বলি।

আমাদের স্কুলে প্রতিবছর প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে অনেকগুলো কম্পিটিশন হয়। তার মধ্যে একটা হল গল্প লেখা প্রতিযোগিতা। আমি মাঝে মাঝে নিজের মনেই গল্প লিখি। কাউকে খুব একটা দেখাই না অবশ্য। তবে গল্প লেখা প্রতিযোগিতায় গত দু’বার সেকেন্ড হয়েছি। এবারেও একটা লিখেছিলাম, কিন্তু যেদিন গল্প জমা দেওয়ার দিন সেদিন সারা বাড়ি তন্ন তন্ন করে খুঁজেও গল্পটা কিছুতেই পেলাম না। তাই এবার আর আমার গল্প জমা দেওয়া হল না। আজ গল্প লেখা প্রতিযোগিতার রেজাল্ট বেরোতে জানা গেল আইরিস প্রথম হয়েছে। সেটা শুনে বেশ খুশিই হলাম আমি। ও ফার্স্ট হতেই পারে।

প্রথমে কিছুতেই রাজি হচ্ছিল না আইরিস, কিন্তু তারপর ম্যাডাম ঘোষের অনুরোধে শেষপর্যন্ত গল্পটা ক্লাসে পড়ে শোনাতে রাজি হল সে। গল্পটা শুনে আমি তো থ! এটা তো অবিকল আমার গল্পটা! শুধু নামগুলো আর ভাষাটা একটু বদল করা হয়েছে। আইরিসই তার মানে আমার খাতাটা সরিয়েছিল যাতে আমি আর গল্প জমা না দিতে পারি? রাগে দুঃখে আমার চোখ ফেটে জল আসছিল, কিন্তু আমি কিছু বলতে পারছিলাম না। আমার কাছে তো কোনও প্রমাণ নেই যে গল্পটা আমার। সবাই ভাববে আমি হিংসের চোটে বলছি।

লাঞ্চ ব্রেকে সবাই বাইরে চলে গেল। আমি গুম হয়ে ক্লাসে বসে রইলাম। চোখ ফেটে জল আসছিল, কিন্তু কেউ দেখে ফেলবে সেই ভয়ে কাঁদতেও পারছিলাম না।

“ওই গল্পটা তোর লেখা, আমি জানি।” পিছন থেকে কে একজন বলল।

আমি পিছন ফিরে দেখলাম রাধিকা এসে দাঁড়িয়েছে।

“তুই কী করে জানলি?”

“আমি পড়েছিলাম। তোর ওই খাতাটা একদিন ভুল করে আমার সঙ্গে চলে গিয়েছিল। মানে যখন তুই আমার পাশে বসতিস তখনকার কথা।”

“আমার কী করা উচিত বুঝতে পারছি না। খাতাটা তো হারিয়েছে, সঙ্গে গল্পটাও।”

“তোকে কিছু করতে হবে না। চুরি করে একবার জেতা যায়, বারবার তো নয়। এই নে, এটা তোর জন্যে। তোর যখন প্রতিভা আছে, তুই আরও অনেক গল্প লিখবি।” বলে রাধিকা একটা খাম আমার দিকে এগিয়ে দিল।

আমি খুলে দেখলাম একটা চিঠি। স্কুলের ম্যাগাজিনের সম্পাদকের। আমার লেখা একটা কবিতা এবারে স্কুলের বার্ষিক ম্যাগাজিনে ছাপা হবে। কিন্তু কী করে? আমি তো ওঁদের কিছু দিইনি!

রাধিকা বলল, “তুই তো লজ্জায় দিবি না, তাই আমিই ওই খাতা থেকে দুটো কবিতা কপি করে ওদের দিয়েছিলাম তোর নামে। আসলে কবিতা তো ছোটো, তাই কপি করা সহজ ছিল। গল্পগুলো তো বড়ো, তাই ওগুলো কপি করতে আর ইচ্ছে করল না। তোর জন্যে অনেক কিছু করতে পারি, কিন্তু ওই সাত-আট পাতা লেখা কপি করতে আর ইচ্ছে করল না।” বলে রাধিকা ফিক করে হেসে ফেলল।

আমি কিছু বলছি না দেখে রাধিকা বলল, “কী রে? কিছু বলছিস না যে? ভালো খবর দিলাম, আইসক্রিম খাওয়াবি তো?”

আমি বললাম, “খাওয়াব, তবে আমার পছন্দের ফ্লেভার খেতে হবে কিন্তু।”

হঠাৎ আইরিস ক্লাসে এসে ঢুকল। আমাদের দু’জনকে হাসতে দেখে গম্ভীর মুখে বলল, “কী ব্যাপার? তোরা অমন দাঁত বার করে হাসছিস কেন?”

রাধিকা যেন ভাজা মাছটি উলটে খেতে জানে না এমন করে বলল, “ও কিছু না, ইন্ডিয়া ওয়ান ডে ম্যাচ জিতেছে তো তাই। তবে তুই বুঝবি না। আমেরিকায় ক্রিকেট খেলা হয় না তো তাই।” বলে আমার হাত ধরে হিড়হিড় করে টেনে নিয়ে চলল।

ক্লাস নাইনের দিদিরা প্রিন্সিপালের ঘরের বাইরের নোটিস বোর্ডটা সাজাচ্ছে। একজন দিদি একটা বড়ো সোনালি রঙের তারা বোর্ডে পিন দিয়ে আটকে দিল। রাধিকা আঙুল দিয়ে সেটার দিকে দেখাতে আমি দেখলাম তারাটার গায়ে বড়ো বড়ো করে লেখা রয়েছে, ‘অল দ্যাট গ্লিটার্স ইজ নট গোল্ড’, যা চকচক করে তা সবসময় সোনা হয় না, কেবল সোনালিই হয়। 


অঙ্কনশিল্পীঃ রাখি পুরকায়স্থ


No comments:

Post a Comment