কচিপাতাঃ গল্পঃ জম্বুর ডায়েরি - প্রবাহনীল দাস



জম্বুর ডায়েরি


প্রবাহনীল দাস



১৭ই জুলাই

আমি জম্বু। আজ আমি প্রথম ডায়েরি লিখছি। আমার বয়স আঠারো বছর। আমি সৌরমণ্ডলের পার্শ্ববর্তী প্রক্সিমা সেনটাউরির গ্রহ ‘কোল্টরন’-এর বাসিন্দা। আজ আমি বাংলায় ডায়েরি লিখছি, যদিও এটা আমার মাতৃভাষা নয়। সবচেয়ে বড়ো কথা, আমাদের গ্রহে কেউ এই ভাষার নামও শোনেনি। কিন্তু আমি এই ভাষায় কথা বলতে পারি, লিখতেও পারি; কিন্তু কীভাবে জানি না। আমাদের জ্যোতিষী বলেছেন আমি যেন বাংলাতেই এই ডায়েরি লিখি। কারণ, তাঁর মতে ভবিষ্যতে আমার এই ডায়েরি আমার কোনো বাঙালি বংশধরই পড়বে। ১৭, ১৮, ডায়েরি, সৌরমণ্ডল ও প্রক্সিমা সেনটাউরি; তিনি বলেছেন যাতে আমি এই শব্দগুলোই লিখি। এই কথাগুলো লিখলে যে এই ডায়েরি পড়বে, সে বুঝতে পারবে।


১৮ই জুলাই

আজ আমি জানলাম কেন আমি ডায়েরি লিখছি। আমাদের জ্যোতিষী জানিয়েছেন যে আমরা আর কিছুদিনের মধ্যেই বিলুপ্ত হয়ে যাব, কারণ আমাদের গ্রহের দিকে অসম্ভব গতিতে ধেয়ে আসছে এক উল্কা। তবে তিনি এও জানিয়েছেন যে জম্বু নামক এক ছেলে ও সুমা নামক এক মেয়ে নাকি সেই উল্কার টানে সেটির সঙ্গে গিয়ে পড়বে আমাদের পাশের সৌরমণ্ডলের পৃথিবী নামক এক গ্রহতে। সেখানকার ডাইনোসর প্রজাতির বিলুপ্তির সঙ্গেই আমাদের সভ্যতার শুরু হবে সেখানে—জম্বু ও সুমার হাত ধরে। জম্বু হলাম আমি ও সুমা হল আমাদেরই পাড়ার মেয়ে। আমরাই তবে সেই ভাগ্যবান, যারা এই গ্রহের সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আর আমার এই ডায়েরিই হল তার প্রমাণ।


***


আমি একজন প্রত্নতাত্ত্বিক। উপরে যে ডায়েরি থেকে অংশটি আমি তুলে দিলাম, সেটি আমি একটি পুরুষ ও একটি মহিলা রামাপিথেকাসের জীবাশ্মের সঙ্গে পাই। এরপরের পাতাগুলি আর নেই। আমি এটির কেমিকাল অ্যানালাইসিস করিয়েছি, কিন্তু এই ডায়েরিটি যে কী উপাদানে তৈরি তা জানা সম্ভব হয়নি। যদিও এটি বাংলা হরফে লেখা, তবুও এটির কার্বন ডেটিং বলছে যে এটির বয়স নাকি ৮০ লক্ষ বছর, যা কিনা পৃথিবীতে বাঁদরের আগমনেরও আগে। ডায়েরিটি পড়ে আমার মনে হল যে আমরা মানুষেরা, যারা কিনা ভিনগ্রহী জীব খুঁজে চলেছি, তারা এটা বুঝতে পারলে বিস্মিত হবেন যে আমরা নিজেরাই হয়তো ভিনগ্রহী!


প্রবাহনীল দাস

ষষ্ঠ শ্রেণী

একমে অ্যাকাডেমি


No comments:

Post a Comment