গল্প: ধনপতির স্কুল যাত্রা: তরুণকুমার সরখেল


‘মহিষবাথান হাই স্কুল’-এর প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষ্যে স্কুল কমিটি অনেক ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এই মহিষবাথান হাই স্কুল থেকেই কত কৃতী ছাত্র পড়াশোনা করে এখন নিজের নিজের কর্মক্ষেত্রে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, উকিল, সরকারি দাপুটে অফিসার, অনেকেরই পড়াশোনার ঠিকানা ছিল এই মহিষবাথান হাই স্কুল।

স্কুল কমিটির সভাপতি নিখিলেশ দাশ অনেক কাঠ-খড় পুড়িয়ে সেইসব কৃতী ছাত্রদের একটি লম্বা তালিকা তৈরি করে ফেলেছেন। তবে তাঁর মতে তালিকা কিন্তু অসম্পূর্ণ। এই স্কুল থেকে পাশ দিয়ে বহু ছাত্র বিদেশেও পাড়ি দিয়েছেন। তাঁরা আর দেশে ফিরে আসেননি। তাই তাঁদের নাম এই তালিকায় পাওয়া যাবে না। তবে তালিকায় যাঁদের নাম আছে, স্কুল কমিটি তাঁদের প্রত্যেককে স্কুলের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দেবার আমন্ত্রণ জানাবে। স্কুলের প্রতিষ্ঠা দিবসের বিশেষ অনুষ্ঠানে সম্মাননীয় অতিথি হিসাবে জেলাশাসক মলয় হালদার স্বয়ং উপস্থিত থাকবেন বলে কথা দিয়েছেন। আমন্ত্রণ পত্রে তাঁর নামও উল্লেখ করা আছে। এতে পুরোনো কৃতী ছাত্ররা স্কুলের অনুষ্ঠানে যোগ দেবার ব্যাপারে বাড়তি উৎসাহ পাবে বলে নিখিলেশবাবু মনে করেন।

স্কুলের বর্তমান বাংলা শিক্ষক ভবানী মজুমদার একজন বিশিষ্ট কবি ও ছড়াকার। তাঁর সঙ্গে স্কুল কমিটির সভাপতি নিখিলেশবাবুর বেশ সখ্যতা আছে। এই সখ্যতা গড়ে ওঠার অবশ্য একটা কারণ আছে। সেটা হল, ভবানীবাবু মুখে মুখে ছড়া বলতে পারেন। একবার হলদিয়া থেকে একটি অনুষ্ঠান শেষে তাঁরা কয়েকজন ট্রেনে একসঙ্গে ফিরছিলেন। ট্রেনে ভবানীবাবু যা যা কথা বলেছিলেন সবই ছড়া কেটে নিখুঁত ছন্দ গেঁথে বলেছিলেন। আর সেইসব ছড়া বলার জন্য তিনি বাড়তি কোনো সময় নেননি। এই ব্যাপারটা নিখিলেশবাবুকে অভিভূত করেছিল। আসলে ভবানীবাবু একজন স্বভাব কবি। তিনি নিমেষের মধ্যে সুন্দর সুন্দর শব্দ চয়ন করে সেগুলিকে ছন্দের মোড়কে ঢেকে পরিবেশন করতে পারেন। আর পরিবেশনকালে তাঁর তৈরি ছড়ার মধ্যে একমাত্রারও এধার ওধার হয় না। এটা নাকি তাঁর কান ঠিক করে দেয়। ভবানীবাবু ছন্দ বা অলঙ্কার নিয়ে পড়াশোনা করেননি। এ ব্যাপারে নিজের কানদুটোই তাঁর সব।

নিখিলেশবাবু সেই ভবানীবাবুকে ডেকে বললেন, “দেখুন, আমি ভাবছি উৎসবের শেষদিন মূল মঞ্চে দু-ঘণ্টার একটি সাহিত্য সংস্কৃতি নিয়ে আলাদা অনুষ্ঠান করব। আর ওই অনুষ্ঠানের দায়িত্বে থাকবেন আপনি।”

তারপর আলোচনা শেষে ঠিক হল, দু-ঘণ্টার মধ্যে একঘণ্টার একটি তাৎক্ষণিক ছড়া-গড়া প্রতিযোগিতা ও পরের একঘণ্টায় একটি ক্যুইজ প্রতিযোগিতা হবে। দুটি অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেই পুরোপুরি দায়িত্বে থাকবেন ভবানীবাবু।

শিমূলবেড়া গ্রামের ধনপতি মুদিও মহিষবাথান হাই স্কুলের ছাত্র ছিল। শিমূলবেড়া থেকে মহিষবাথান হাই স্কুল বেশ দূরে। ধনপতি সেই স্কুলে ক্লাস সেভেন পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিল। তারপর তাকে স্কুল ছেড়ে দিতে হয়। চাষবাসের কাজকর্ম নিয়েই এখন তার দিন কাটে। তবে সেভেন পর্যন্ত পড়লেও এ যাবৎ সে বাংলা পাঠ্য বইয়ের যে ক’টি কবিতা পড়েছে, এখনো প্রায় সবই তার মুখস্থ। ধনপতি ভোরবেলা মাঠে যেতে যেতে সেইসব কবিতা উদাত্ত কণ্ঠে আবৃত্তি করে। এটা তার একটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।


আজ সকাল থেকেই আকাশ মেঘলা। তবে বৃষ্টি এখনো শুরু হয়নি। ধনপতি বাড়ির কাজকর্ম সেরে মহিষবাথান হাই স্কুলে যাবে বলে বেরিয়ে পড়েছে। গ্রামের ছেলে প্রহ্লাদের কাছে সে জেনেছে আজ স্কুলে উপস্থিত থাকবেন জেলাশাসক মলয় হালদার মহাশয় স্বয়ং। স্কুলের প্রাক্তন কৃতী ছাত্রদের তিনি সংবর্ধনা দেবেন। এরকম একটি অনুষ্ঠানে যোগ না দিয়ে কি সে থাকতে পারে?

প্রথমে কিছুক্ষণ গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হল। ধনপতি হাঁটার গতিবেগ বাড়িয়ে দিল। তারপর বৃষ্টি ঝিমঝিম করে নেমে যেতেই সে একটা ঝাঁকড়া তেঁতুলগাছের নীচে দাঁড়িয়ে পড়ল। তখনই তার নজরে পড়ল, একটি পুরোনো তাপ্পি মারা ছাতা তেঁতুলগাছের গায়ে ঠেস দিয়ে রাখা আছে। কাছাকাছি কেউ নেই। ছাতাটা রাখল কে? ধনপতি গাছের উপরে চোখ চালিয়ে দেখল, না, কেউ নেই।

ছাতাটা হাতে নিয়ে একবার ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখে নিল সে। চার-পাঁচ জায়গায় ছাতার কাপড় ছিঁড়ে গেছে। রাংতা দিয়ে উপরের ছেঁড়া জায়গায় তাপ্পি মারা হয়েছে। তবে ছাতাটা মাথায় দিলে মাথাটা বৃষ্টি থেকে দিব্যি বেঁচে যাবে মনে হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে খামোখা গাছের নীচে দাঁড়িয়ে না থেকে ধনপতি ছাতা মাথায় দিয়ে হনহন করে হাঁটতে লাগল। বৃষ্টির ঠান্ডা আমেজে তার মুখ দিয়ে কবিতা বেরিয়ে এল। তার জানা সব কবিতাই আজ সে আবৃত্তি করবে। মেঘলা দিনেই তার কবিতা আবৃত্তি করতে ভালো লাগে। ছাতার রাংতা দেওয়া জায়গায় বৃষ্টির ফোঁটা এসে পড়লে বেশ চিড়িং চিড়িং করে আওয়াজ হচ্ছে। তবে ধনপতির সেদিকে খেয়াল নেই। তাকে যেন আজ নেশায় পেয়েছে। অনেক ভুলে যাওয়া কবিতাও আজ সে গড়গড় করে বলে যেতে লাগল। মহিষবাথান হাই স্কুল ঢোকার মুখে তার আবৃত্তি বন্ধ হল।

স্কুল-মাঠে প্রবেশ করে ধনপতির অবাক হবার পালা। পুরো মাঠ জুড়ে সামিয়ানা টাঙানো। ভেতরে সার সার দিয়ে চেয়ার পাতা। চেয়ারে বসে রয়েছেন মাননীয় অতিথিরা। যাঁরা একদিন স্কুলের ক্ষুদে সদস্য ছিলেন, তাঁরাই এখন কেউকেটা। কেউ উকিল, কেউ ডাক্তার কেউ বা বিজ্ঞানী হয়েছেন। নামিদামি গাড়িতে করে তাঁরা স্কুলে এসেছেন। তাঁদের সাজপোশাক দেখে ধনপতি কিছুটা সংকোচ বোধ করল। যদিও সে এই স্কুলেরই ছাত্র ছিল, কিন্তু তাকে তো আর কেউ চেনে না। ক্লাস সেভেনের অ্যানুয়াল পরীক্ষা না দিয়েই তাকে স্কুল ছাড়তে হয়েছিল। তবে খুব ভালো করে সে লক্ষ করে দেখল, মঞ্চে সাদা ধুতি আর পাঞ্জাবি পরে বসে রয়েছেন অঙ্কের গণেশ-স্যার আর ইতিহাসের জহরবাবু। ধনপতিকে গণেশ-স্যার মাঝেমধ্যেই বিদ্যাপতি বলে ডাকতেন। তাকে কেউ চিনুক বা না চিনুক সে তো ওই দুজন মাস্টারমশাইকে চেনে।

গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছেই। স্কুল-মাঠের বাঁদিকে বেশ কিছু লোক ছাতা মাথায় দিয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে অনুষ্ঠান দেখছে। তারা কেউ ভেতরে যাবার সাহস করেনি। ছাতা গুটিয়ে তারা তো চেয়ারে বসে পড়লেই পারে। ধনপতি দেখল সামনে বেশ কয়েকটি চেয়ার ফাঁকা পড়ে রয়েছে। ধনপতিও চেয়ারে বসল না। ছাতা মাথায় দিয়ে সেও ওই লোকগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে রইল। মঞ্চে ‘আদ্রা আবৃত্তি পরিষদ’-এর ছেলেমেয়েদের আবৃত্তি চলছে। ধনপতি একমনে আবৃত্তি শুনতে লাগল।

কুড়ি-পঁচিশ মিনিট পরে ভবানীবাবু মঞ্চে উঠে তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শুরু করলেন। তিনি মাঝে মঝেই ছড়া কেটে কথা বলছেন। সেই ছড়া শুনে শ্রোতারা হো হো করে হেসে উঠছেন। ধনপতিও হাসছে। ভবানীবাবু বলছেন, “আমরা অনেকেই অঙ্ক কষতে ভালোবাসি, অনেকেই ইতিহাসের গল্প শুনতে ভালোবাসি। পাশাপাশি কিছু ছাত্র কবিতা পড়তে ও আবৃত্তি করতেও ভালোবাসে। কোনো ছাত্র অঙ্কের জটিল ফর্মুলা নিমেষে মস্তিষ্কে ঢুকিয়ে নিতে পারে, কিন্তু সেই ছাত্রটিই সারা জীবনে একটি কবিতাও মুখস্থ বলতে পারে না। আমি লক্ষ করে দেখেছি, স্কুলের মধ্যে এরকম দু-একজন ছাত্র থাকে যারা খুব সহজেই বড়ো বড়ো কবিতা মুখস্থ বলে দিতে পারে। কবিতাকে মনেপ্রাণে ভালো না বাসলে কিন্তু এটা করা সম্ভব নয়।”

ধনপতি অবাক হয়ে ভবানীবাবুর কথাগুলো শুনে যেতে লাগল।

এরপর ভবানীবাবু একটি ছন্দোবদ্ধ কবিতার লাইন মাইকে ঘোষণা করলেন। বললেন, “এই কবিতার প্রথম লাইনটির সঙ্গে বাকি সাতটি লাইন যোগ করে একটি সুন্দর কবিতা আপনাদের তৈরি করতে হবে। ছাত্ররাও এতে অংশ নিতে পারো। আমাদের কর্ডলেস মাইক্রোফোন ইচ্ছুক ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে যাবে। আপনারা নিজের নিজের জায়গায় বসে শুধু হাত তুলবেন।”

মঞ্চের খুব কাছাকাছি একটি ছাত্র ঝট করে হাত তুলে ফেলল। ভবানীবাবু তাকে মঞ্চে ডেকে নিলেন। মঞ্চে উঠে ছেলেটি প্রথম দুটি লাইন মোটামুটিভাবে বলে গেল, তারপর তিন নম্বর লাইনে এসে হোঁচট খেয়ে থেমে গেল। ভবানীবাবু নিরুপায় হয়ে ছাত্রটিকে নীচে নেমে যেতে বললেন। এরপর পিছনদিক থেকে সিড়িঙ্গে মতন একটি লোক উঠে কর্ডলেস চেয়ে নিল। সে একটুখানি নিজের পরিচয় দিয়ে কবিতায় চলে এল। মোটামুটিভাবে ছ’টি লাইন বলে গেলেও ধনপতি লক্ষ করল, দুটি লাইনে একটি করে মাত্রা বেশি পড়ল। তাছাড়া অন্ত্যমিলটাও ঠিক জমল না। অনেকটা জোড়াতালি দেওয়ার মতো হল। শেষ দু-লাইন বলতে না পারলেও চটাপট করে হাততালি পড়ল।

ধনপতি কোনোদিনই কবিতা লেখেনি। সে শুধু কবিতা আবৃত্তি করেছে। কিন্তু এখন তার মনে হচ্ছে সে খুব সহজেই প্রথম লাইনের সঙ্গে সাতটা লাইন জুড়ে দিতে পারে।

ভবানীবাবু দর্শক বা শ্রোতাদের মধ্যে থেকে আর কেউ হাত তুলছেন কি না সেটা লক্ষ করতে লাগলেন। ধনপতি দেখল মাঠে আর কোনো প্রতিযোগী নেই। অন্তত তিনজন প্রতিযোগী না থাকলে প্রথম দ্বিতীয় তৃতীয় নির্বাচন করা হবে কীভাবে?

ধনপতি বাঁহাতে ছাতা ধরে ডানহাতটা উপরে তুলে দূর থেকে জানাল, সে কবিতা বলবে। একটি ছেলে সেটা দেখতে পেয়ে কর্ডলেস ধরিয়ে দিল ধনপতির হাতে। ধনপতি একটুও না থেমে, না ঢোঁক গিলে ছন্দ ও মাত্রা টানটান রেখে, উপযুক্ত শব্দ চয়ন করে গড়গড় করে কবিতা বলে গেল। সে এমনিতেই খুব জোরে জোরে কবিতা আবৃত্তি করে। এখন হাতে কর্ডলেস আছে বলে তার কবিতা গম গম করতে লাগল। মাঠের সমস্ত শ্রোতা তাই সুন্দরভাবে পুরো কবিতা শুনতে পেল। ভবানীবাবু পর্যন্ত আনন্দে হাততালি দিয়ে উঠলেন। সঙ্গে সঙ্গে স্কুল-মাঠের সমস্ত লোকজনও হাততালি দিয়ে উঠল।

এরপর ভবানীবাবু আর একটু শক্ত গোছের অন্ত্যমিল যুক্ত একটি লাইন ঘোষণা করলেন। বলাই বাহুল্য, ধনপতি সেই লাইনটা শোনামাত্র অত্যন্ত সাবলীলভাবে সুন্দর একটি কবিতা বানিয়ে ফেলল। এটা ঠিক কী করে হল সেটা অবশ্য ধনপতির মাথায় ঢুকল না। সে একজন স্কুল ছেড়ে দেওয়া অল্প শিক্ষিত মানুষ। সে তো কোনোদিন কবিতা লেখেনি। তাহলে? সে কীভাবে এটা করতে পারল?

কর্ডলেস মাইক নিয়ে ছেলেটি তার সামনেই দাঁড়িয়ে আছে। সে জেনে গেছে, ভবানীবাবু যত শক্ত কবিতাই তৈরি করতে বলুন না কেন, ধনপতি সেটা ঠিক তৈরি করে ফেলবে।

এরপরের ঘটনার জন্য ধনপতি মোটেই প্রস্তুত ছিল না। সে দেখল, সামনের সারিতে যে ছাত্ররা বসে ছিল, তারা একসঙ্গে হৈ হৈ করতে করতে এসে ধনপতিকে কাঁধে তুলে নিল। ধনপতির শতচ্ছিন্ন ছাতা ছাত্রদের প্রবল উচ্ছাসে কোথায় ছিটকে পড়ল। মান্যগণ্য প্রাক্তন কৃতী ছাত্ররা উঠে দাঁড়িয়ে ধনপতিকে সাবাসি দিতে লাগলেন। ভবানীবাবু মঞ্চ থেকে নেমে এসে ধনপতিকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন।

ধনপতি ভবানীবাবুর বাহুবন্ধন থেকে নিজেকে মুক্ত করে মঞ্চে উঠে গণেশবাবু আর জহরবাবুকে প্রণাম করে বলে উঠল, “স্যার, ভালো আছেন তো? আমি ধনপতি, না না, বিদ্যাপতি। আমায় চিনতে পারছেন?”

গণেশবাবু ও জহরবাবু দুজনেই ধনপতিকে জোর করে পাশে বসিয়ে দিলেন।

সেদিন সন্ধ্যাবেলায় শিমূলবেড়া গ্রামে হৈ হৈ পড়ে গেল। ধনপতি স্বয়ং জেলাশাসকের কাছ থেকে পুরস্কার নিয়ে গ্রামে ফিরেছে শুনে সকলেই অবাক হয়ে গেছে। সে প্রথম পুরস্কার জয় করে এনেছে, তাও আবার কবিতা বলে। এত গুণ ছিল ধনপতির! গ্রামের ছেলেছোকরার দল খবর পেয়ে ব্যান্ডপার্টি সহযোগে ধনপতিকে নিয়ে রাত্রে গ্রাম পরিক্রমায় বের হল।

ধনপতি অনেক রাত্রে আবিষ্কার করল, তার কবি হয়ে ওঠার পেছনে নির্ঘাৎ ওই ম্যাজিক ছাতাটাই ছিল। ওই ছাতা মাথায় দিয়েই গড়গড় করে কবিতা বলতে পেরেছে। ওই ছাতার কারণেই সে আজ ভবানীবাবুকে অবাক করে দিয়েছে। এ নির্ঘাত ‘গুপি গাইন বাঘা বাইন’-দের ভূতের রাজার ছাতাই হবে। তা না হলে এমন ভূতুড়ে কাণ্ড হবে কী করে! তবে যার কল্যাণে আজ সে এতটা বাহবা পেয়েছে, সেই ছাতাটা কি আর খুঁজে পাওয়া যাবে? কে জানে!


___


No comments:

Post a Comment