গল্প: অভাব পূরণ: সুস্মিতা রায়চৌধুরী

 

অভাব পূরণ


সুস্মিতা রায়চৌধুরী



“কী রে, খেলতে যাবি না আজ?”

মায়ের কথায় দু-দিকে ঘাড় নাড়িয়ে ক্যানভাসে রং আঁকে অন্বিত। ঈশানকোণে আকাশের রং আজ কালো। এখুনি ঝড় আসবে। মাথা উঁচু নারকেলগাছগুলো যেন অন্বিতের তুলিতে তোলপাড় আর নীচে বয়ে যাওয়া নীল নদী উচ্ছ্বল। সবুজ প্রান্তরে গরুবাছুর তাই ঘরমুখো। ঘরে ফিরছে পাখির দল একসঙ্গে।

মঞ্জীরার বারো বছরের অন্বিত বরাবরই খুব ভালো আঁকে। কিন্তু বিকেল পাঁচটায় তো ঘরে বসে থাকার ছেলে সে নয়! প্রথমে মনে হয়েছিল, যা গরম পড়েছে, তাই বুঝি ছেলে খেলতে যাচ্ছে না। কিন্তু পরপর ফুটবল ছেড়ে থাকলে যে স্বপ্নেও বলে লাথি মারে, তার হল কী!

তাই আজ মঞ্জীরা চেপে ধরল ছেলেকে। “কী, হয়েছে কী বুব্বা? ওঠো, খেলতে যাও। কেন ঘরে বসে আছ? তোদের না ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল? ঝগড়া হয়েছে কারোর সঙ্গে? ইউভানকে নিয়ে প্র্যাক্টিস করবি কবে থেকে?”

প্রায় অনেকবার জিজ্ঞেস করার পর উত্তর দিল ছেলে। “আমি আর খেলতে যাব না, ইউভান আমার বন্ধু নয়। ও সারাক্ষণ আমায় বলে ইংরেজিতে কথা বলতে। সবাই ওর কথাই শোনে। আমি ক্যাপ্টেনও থাকতে চাই না। ও হোক। আমি এত ইংরেজি বলতে পারি না। সবাই হাসে। ওরা সবাই সারাক্ষণ ইংরেজিতে কথা বলে। যাদের সঙ্গে ম্যাচ, তারাও তাই। আমি আর খেলতে যাবে না।”

মঞ্জীরাদের ফ্ল্যাটে দশটা ঘর। নিউ আলিপুরের এককোণে পাড়াটা বেশ সম্ভ্রান্ত। ফ্ল্যাটের আর ওই পাড়ার ক’টা বাচ্চা মিলেমিশে একটা ফুটবল টিম তৈরি করেছে। অন্বিত ছাড়া সবাই ইংরেজি মিডিয়ামে পড়ে। ইউভান আবার আন্তর্জাতিক স্কুলে। কিন্তু অন্য ধারায় মানুষ করার ইচ্ছায় মঞ্জীরা তার ছেলেকে ভর্তি করেছে রাবীন্দ্রিক ধারায় পড়াশুনা হওয়া বেশ নামকরা এক বাংলা মিডিয়ম স্কুলে। ভিন্ন ধারায় বড়ো হয়ে উঠছে অন্বিত প্রতিযোগিতার থেকে একটু দূরে নিঃশ্বাস নিয়ে বেঁচে থাকা একটা শৈশবে।

দারুণ মিড ফিল্ডার হয়ে সে আজ তার দলের ক্যাপ্টেন। পায়ে তার বেশ জোর। স্ট্রাইকার হিসেবে বেশ নামডাক। তাই সে দলের ক্যাপ্টেন।

এই ইউভান অন্বিতের টিমের সেরা প্লেয়ার। কত যে প্ল্যানিং ওদের। ইউভান বেশ দক্ষ ডিফেন্ডার। বয়সের থেকে একটু বড়সড় দেখতে ইউভান ওদের দলের স্টার প্লেয়ার।

এসব শব্দ মঞ্জীরা শিখেছে এই জেনারেশন থেকে। ম্যাগি আর আইসক্রিম সহযোগে যখন টিম মিটিং বসে ওদের বাড়িতে, তখন হয় এসব আলোচনা। কখন পাস দিতে হবে, কখন ড্রিবল, কখন মাঠ কী ছকে সাজানো হবে এসব আলোচনা তখন তুঙ্গে। কোচ ইউভানের বাবা। অন্বিত রোহিতকাকু বলতে অজ্ঞান।

মঞ্জীরা কাছে গিয়ে বসে ছেলের। জিজ্ঞেস করে, “হ্যাঁ রে, তোর বাংলা বলতে লজ্জা লাগে?”

অন্বিতের সপ্রতিভ জবাব, “না না। কিন্তু ইউভান বার বার আমায় বলে ইংরেজিতে কথা বলতে। আর নিজেও সবার সঙ্গে এমন করে কথা বলে। আমি সবসময় এত তাড়াতাড়ি বলতে পারি না। আমার কেমন লাগে একটা।”

মঞ্জীরা হেসে বলে, “সবাই তোর খেলা ভালোবেসে তোকে ক্যাপ্টেন করেছে। যত দল জিতবে তত সবাই ভালোবাসবে তোকে। এসব কোনো ব্যাপার নয়। ইংরেজি বলতে বললে শিখে নিবি, সে তো স্কুলেও শিখিস। জানবি, শিখতে কোনো লজ্জা নেই। এবার যা খেলতে।”

অন্বিত চেষ্টা করে মায়ের কথাগুলো বোঝার।

খেলতে যেতেই ইউভান এসে বলে, “হোয়ার ওয়ার ইউ? ক্যাপ্টেন কান্ট বি অ্যাবসেন্ট লাইক দিস। চল চল, খেলা শুরু কর।”

আবার শুরু হয় প্র্যাকটিস। ম্যাচ হবে সামনের পাড়ার ছোটোদের গ্রুপের সঙ্গে দু-দিন পর। ইউভানের ট্যাকল, কিগানের ড্রিবল, অর্চির শুট—দু-দিন ধরে চলে ছোটোদের দিবারাত্র জমজমাট অধ্যবসায়।


ম্যাচের আগের দিন সন্ধেবেলা রোহিতকাকু বলে, “হ্যাঁ রে, আমাদের টিমের নাম কী হবে?”

সবাই ভাবে, তাই তো! এটা তো ভাবা হয়নি। অন্বিত বলে ওঠে, “নাম হোক প্রবাহ।”

রোহিতকাকু বলে ওঠে, “দারুণ!”

কিন্তু ইউভান বলে, “হাউ অ্যাবাউট দ্য ইয়ং ওয়াল?”

সব ছেলেরা বলে ওঠে, “থ্রি চিয়ার্স ফর দ্য ইয়ং ওয়াল! হিপ হিপ হুররে!”

একটু বিমর্ষ হতেই মায়ের সঙ্গে চোখাচোখি হয় অন্বিতের। হেসে সবার সঙ্গে গলা মেলায় অন্বিত, “লেটস উইন টুগেদার টুমরো।”

রাত ফুরোলেই সব খেলার সেরা বাঙালির তুমি ফুটবল।


দুপুর বারোটায় খেলা শুরু হবে। দু-দল হাজির পাড়ার মাঠে। খেলা শুরু হতে বাকি আধঘণ্টা। দ্য ইয়ং ওয়ালের জার্সি সাদা টি-শার্ট নীল হাফ প্যান্ট। অন্য টিমের জার্সি হলুদ। সবার বাবা-মা হাজির মাঠে। কিন্তু ইউভান কই?

ওয়ার্ম আপে ব্যস্ত অন্বিতরা। রোহিতকাকু না পৌঁছানোয় অর্চির বাবা তদারক করছে সবটা।

পনেরো মিনিটের মাথায় পৌঁছায় ইউভান আর রোহিতকাকু। রোহিতকাকু এসেই সবাইকে চাঙ্গা করে তোলে। কিন্তু অন্বিত লক্ষ করে, ইউভান আজ বেশ মনমরা।

“কী হয়েছে তোর?”

জিজ্ঞেস করতেই ইউভান জড়িয়ে ধরে তাকে। “আই অ্যাম লিভিং অনি। আই ডোন্ট ওয়ান্ট টু।”

কিছু বুঝতে পারে না অন্বিত। ওদিকে রেফারির প্রথম বাঁশি বেজে ওঠে মাঠে নামার। অন্বিত ইউভানকে জড়িয়ে ধরেই বলে, “আজ আমরা একসঙ্গে সবাই ম্যাচটা চল দাপিয়ে খেলি। তুই ঠিক বুঝতে পারবি উই আর অল হিয়ার টুগেদার। চল ইউভান, একসঙ্গে জিতে আসি।”

দলের কাছে যায় ওরা। কাঁধে হাত রেখে গোল করে দাঁড়ায় সবাই। তিনবার বলে ‘লেটস প্লে টু উইন, জিতবই আমরা।’

রুদ্ধশ্বাস খেলা চলতে থাকে দু-দলের মধ্যে। অন্বিতের মিড লাইন ট্যাকলে জুত করে উঠতে পারে না অন্যেরা। ইউভানের ডিফেন্সে তখন ধরাশায়ী অন্য পাড়া। তীক্ষ্ণ শুট, পাস, ড্রিবলে ইয়ং ওয়াল তখন টগবগিয়ে সারা মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। কিন্তু হঠাৎ অন্যদিক থেকে একটা গোলের প্রচেষ্টা। দারুণ সেভ করে গোল কিপার কিংশুক। আরো তেজে এগিয়ে আসে ওরা। কাম অন অন্বিত, কাম অন অর্চি। কাম অন ইউভান। ঠিক তখনই ইউভানের ফরোয়ার্ডে, অন্বিতের পারফেক্ট স্ট্রাইকে বল ঢোকে সোজা গোল পোস্টে। গো-ও-ও-ওল!

জিতে যায় কৈশোরের ফুটবল। সবাই যখন লাফালাফি করতে ব্যস্ত, অন্বিতের চোখ খোঁজে ইউভানকে। দেখে রোহিতকাকুর সঙ্গে হেঁটে চলে যাচ্ছে ও। মা এগিয়ে আসতেই অন্বিত মাকে জিজ্ঞেস করে, “ইউভানের কী হয়েছে মা?”

মঞ্জীরা ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে বলে, “ওরা দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে আমেরিকা।”

অন্বিতের স্টার প্লেয়ার, সুড়ুৎ করে ম্যাগি মুখে টানার পার্টনার, সরস্বতী পুজোয় একসঙ্গে প্যান্ডেল সাজানোর বন্ধু, দুগ্গাপুজোয় নাটকের মহড়াতে লিচু চোর, একসঙ্গে দাবা, বিকেলের আড্ডা এগুলো মনে পড়ছে অন্বিতের। চোখটা জলে ভিজে যাচ্ছে ওর। মায়ের সঙ্গে বাড়ির দিকে এগোয় অন্বিত। কোনোদিন বোঝেনি সে কবে ইউভান হয়ে গেছিল প্রিয় বন্ধু।

বাড়িতে ঢুকেই নিজের ঘরের প্রিয় কোণটায় ঢুকে যায় অন্বিত। যেখানে আছে পিয়ানো আর ডায়েরি। এই ডায়েরিটার কথা মাও জানে না।

ডায়েরিতে চলে পেন্সিল। অন্বিত লিখতে থাকে কেমন রোজ খুব রাগ হচ্ছিল ইউভানের ওপর আজকাল। ‘কী দেখাতে চায় যে বুঝতেই পারি না আমি। নামেই ক্যাপ্টেন আমি, সব ছেলেরা তো ওর কথাতেই সায় দেয়। শুধু খেলা কেন, এই তো সেদিন আমি বললাম, চল এবার রবিবারের বড়োদের আড্ডায় একটা বাংলা সিনেমার গানের মেডলি করি, কিন্তু অমনি ইউভান আর অর্চি বলল, না না, চল এডসেরান নিক জোন্স আর জাস্টিন বিবারের সঙ্গে বেকস্ট্রিট বইজ-এর একটা মেডলি করি। আমি শেষের জন ছাড়া অন্যদের গান শুনিইনি। অথচ বাজাতে হবে পিয়ানো। গিটার বাজাবে কিংশুক। বাংলা গান তো সবাই জানে, তাও এতেই সেদিন সবার সায়। ইউভান মজা করে বলেছিল, অন্বিত, লিসন টু সামথিং গ্রুভিং।’

আজকাল তাই কিছুই যেন ভালো লাগত না। কিন্তু মন পড়ে থাকত ইউভানের কাঁধে হাত রেখে আম-মাখা খাওয়ায়। মায়ের সেদিন বোঝানোর পর কেমন একটা নতুন লেগেছিল নিজেকে। ক্যাপ্টেনসিই যেন মাথায় গেড়ে বসেছিল নিজের। মা বলেছিল, “এটা ভুলো না, ক্যাপ্টেন কিন্তু নিজের দক্ষতায় তুমি হয়েছ। আর সেটা ওরা দেখেছে বলেই হয়েছ। প্রমাণ নিজেকে করো, কিন্তু প্রশংসা সবাইকে করতে দাও। কখনো ভেবো না তুমি শ্রেষ্ঠ। জানবে, যত শিখবে তত বড়ো হবে। শ্রেষ্ঠ হয়ে গেলে ভারি জ্বালা রে বুব্বা, আর শিখতে পারবি না নতুন কিচ্ছু। আর নতুন না শিখতে পারলে যে জীবন আর এগোবে না।”

মা এসে ডাকছে তাকে। “চল খেয়ে নিবি।”

অন্বিত বলে, “মা, ইউভান একদম পিৎজা-বার্গার খেতে পারে না। ও-দেশে ও চিকেন রোল পাবে? আমি একবার ওর বাড়ি যাব এখন। প্লিজ, খুব দরকার।”

মঞ্জীরা বলে, “দাঁড়া, ইউভানের প্রিয় কচুর লতি করেছি, নিয়ে যা।”


সারা ঘর প্রায় ফাঁকা। দু-দিন পর ওরা রওনা দিচ্ছে আমেরিকা। চারদিকে অনেকগুলো বাক্স রাখা। ফুটবলটাও পড়ে আছে এককোণে। ইউভানের বোনটা খুব ছোটো। তাকে নিয়ে কাকিমা নাজেহাল। তাই বেশি আসা হত না ওদের বাড়ি। কচুর লতি দেখেই লাফিয়ে ওঠে ইউভান, “আই লাভ দিস বাডি!”

ওর ঘরে ঢুকে কথা হল অনেক। আজ কেউ তাড়া দিচ্ছে না। উঠতে যেতেই ইউভান আটকায় অন্বিতকে। “এই বাক্সটা তোর জন্য।”

অন্বিত শুধোয়, “কী আছে এতে?”

“গল্পের বই।” উত্তর দেয় ইউভান।

আরো এক বাক্স নিয়ে যাচ্ছে ওরা। আর জায়গা নেই।

“আমি ইংরেজি গল্প তেমন পড়ি না রে।” মাথা নিচু করে বলে অন্বিত।

ইউভান বলে, “দু-বাক্স বাংলা গল্পের বই।”

একটা নিয়ে যাচ্ছে, একটা অন্বিতের কাছে গচ্ছিত রেখে যাচ্ছে।

ইউভান বলতে থাকে, “জানিস অন্বিত, আমি বাংলা বই পড়তে খুব ভালোবাসি, কিন্তু আমাদের স্কুলে একেবারে চর্চা নেই। কিছুতেই বুঝতে পারতাম না। কতবার ভেবেছি তোর সঙ্গে বসি। কিন্তু যদি তুই আমায় বোকা ভাবিস, তাই বলিনি কিছু। বাবা কিনে দিত এসব। আর বোধ হয় শেখাই হবে না রে বাংলা। তাই বোধ হয় এই দেশটা থেকেই চলে যেতে হচ্ছে। কিন্তু খুব ইচ্ছে করত তোর মতন করে বাংলা ছড়া বলতে, বাংলা লিখতে। তোর কাছে বইগুলো ভালো থাকবে।” চোখ মুছে বসে পড়ে ইউভান।

বাক্সে রয়েছে চাঁদের পাহাড়, সুকুমার রায় সমগ্র, বাংলায় অলিভার টুইস্ট, ফটিকচাঁদ, বাংলায় ২০০০০ লিগ আন্ডার দি সি, ফেলুদা, ঠাকুমার ঝুলি...

অন্বিত বলে, “আসছি। বাবা এসে নিয়ে যাবে এগুলো।”


পরের দু-দিন কাটে ওদের সবার সঙ্গে। সবাই কিছু না কিছু দিচ্ছে ইউভানকে। আগামীকাল রাতে ওদের প্লেন। সবাই চলে গেলে ওরা বসে দুজনে। আজ রাতে অন্বিতের বাড়িতেই ওদের খাওয়াদাওয়া। মা রেঁধেছে মাছের ডিমের বড়ার ঝাল, ডালের বড়া দিয়ে মোচার ঘণ্ট, মাছের ডাকবাংলো, চিংড়ির কোপ্তা, মাংসের আলু-পেঁপে দিয়ে ঝোল। আরো কত কী। ইউভান আজ চেটেপুটে খেয়ে আবার কাল দু-বেলা খেয়ে রওনা দেবে।

ঘুমোতে যাওয়ার আগে অন্বিত ইউভানের হাতে তুলে দেয় ওর গিফট। স্কাইপের পাসওয়ার্ড। অন্বিত বলে, “শোন, অনেক তো বললি সেদিন, আর তোর নিস্তার নেই। প্রত্যেক সপ্তাহে শনিবার করে আমি তোকে বাংলা শেখাব। পড়া হবে গল্পের বই। আর তার ওপর আমাদের আলোচনা। দেখি তুই কেমন আবার না ফিরিস এখানে। তার বিনিময়ে তুই আমায় একটা করে ইংরেজি গান বলবি, আমি পিয়ানোয় তুলব।”

জড়িয়ে ধরে দুজন দুজনকে। এত সহজ ভুলে যাওয়া! ভাষার সেতুতে নতুন হবে বন্ধুত্ব। দেখা হবেই আবার। আর সেদিন সকার আর ফুটবল মিলেমিশে কাঁপাবে ভূষণ্ডির মাঠ।


***


“কবে আসছিস বললি? পরের মাসের পনেরো তারিখ? ব্যাপক তো! ভাই, পাক্কা দু-মাস। তার ওপর দুগ্গাপুজো। দ্য ইয়ং ওয়াল কিন্তু এবার ট্রফি পাবেই।” রে রে করে উঠল বন্ধুর দল স্কাইপে।

কেটে গেছে দেড় বছর। একদিনও মিস যায়নি বাংলা আর পিয়ানোর ক্লাস। কখনো তুলকালাম ঝগড়া, কখনো সারাদিন আড্ডা। এসেছে নতুন বন্ধুত্ব, কিন্তু মজবুত হয়েছে পুরোনো বন্ধুত্বের ভিত। কখনো বাবা-মা মিলে সবাই একসঙ্গে বসে রবীন্দ্র-নজরুল, কখনো পয়লা বৈশাখ। কখনো দু-দেশের ‘ভিন্ন অর্থ’ ফুটবল নিয়ে স্ট্রাটেজি ডিসকাশন। দ্য ইয়ং ওয়াল এখনো ইউভানকে নিয়েই খেলে। আর শেখে খটোমটো আমেরিকান ফুটবল। বাংলাটা আজকাল দিব্য বলে ইউভান। এদিকে পিয়ানোতে ভুল করলে অন্বিতের আর রক্ষে নেই।

মা বলে বই পড়ার অভ্যাস না ছাড়তে, তা সে যেমন গল্প হোক। কমিক্স থেকেও শেখা যায়। এইভাবে দু[দেশের ভবিষ্যৎ বাঁচিয়ে রাখে বই পড়ার, গল্প শোনার অভ্যাস।

অন্বিতের লুকনো ডায়েরিতে এখন ইউভানকে পড়ানোর নোটস আর নিজের দেশের গণ্ডির বাইরে অজানাকে জানার মূলসূত্র।


___

অঙ্কনশিল্পীঃ সুকান্ত মণ্ডল


No comments:

Post a Comment